BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

তসলিমা থেকে তিলোত্তমা সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:২৫ | আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:২৫

মনিরুল ইসলাম তপন

আরও পড়ুন:

তিলোত্তমা মজুমদার নামে এক লেখিকার সাম্প্রতিক চরম মুসলিম বিদ্বেষী কিছু মন্তব্যে পরিবেশ উত্তপ্ত। বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক চলছে। এই বিতর্কের শিকড় অনেক পুরনো। মুসলমান সমাজকে সন্দেহের চোখে দেখা, অ-বাঙালি বানানো, অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়া, কখনও পাকিস্তান, কখনও বাংলাদেশে পাঠানোর নিদান — এই সাম্প্রদায়িক খেলা বহুদিন আগে সাহিত্যেও ঢুকে পড়েছিল। বেশ কিছু বছর আগে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত তসলিমা নাসরিন সেই ছককে নাস্তিকতার নামে বাজারজাত করেন। আজ তিলোত্তমা সেই একই ছককে বিজেপির ভাষার সাথে মিলিয়ে বাংলার পরিবেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন।
তিলোত্তমার বক্তব্য কোনো সাহিত্যিকের ভাষা নয়, বুদ্ধিজীবীর কথা নয়, কোনো সুস্থ মানুষের ভাষা নয়, এ ভাষা হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের ভাষা। অসমে যেমন মুসলমানদের রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী, অনুপ্রবেশকারী, বহিরাগত ইত্যাদি বলা হয়; তিলোত্তমার কথাও একই সুরে বাঁধা। এ ভাষা কোনো রুচিশীল লেখিকার ভাষা নয়, এটা সরাসরি গোবলয়ের হিন্দুত্ববাদী ন্যারেটিভের বাংলা সংস্করণ।
মুসলমানকে ‘অপর’করার এই ন্যারেটিভ আজকের নয়। এ রোগ অনেক পুরোনো। ঊনিশ শতকের ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাবে বাংলা সাহিত্যের কিছু অংশে মুসলিম চরিত্রকে দীর্ঘদিন খল হিসেবে দেখানো হয়েছে। গবেষকরা লিখেছেন, ব্রিটিশরা “হিন্দু সোনার যুগ বনাম মুসলিম অন্ধকার যুগ”এই ভ্রান্ত ইতিহাস আমাদের মগজে চাপিয়ে দিয়েছিল, যার প্রভাব বঙ্কিমচন্দ্রের রচনাতেও পড়েছিল। “আনন্দমঠ”, “রাজসিংহ” বা “দেবী চৌধুরাণী”-র মুসলিম শাসকরা তাই প্রায়শই বর্বর, বিদেশি, দখলদার হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। বিষাক্ত ইতিহাস আর কলঙ্কিত সাহিত্য চর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠা তিলোত্তমার মুখের ভাষায় আজ সেই পুরনো ছকই প্রতীয়মান। হুবহু সেই সন্দেহ, সেই ঘৃণা, মুসলিমকে সেই ভিনদেশী বলে তুচ্ছ করার ভয়ংকর প্রবণতা।
বাংলার মুসলমানরা এই মাটির অন্তর্গত রক্তধারা। বাংলা সংস্কৃতির মূল সুর তাঁদের কণ্ঠে বেজেছে। লালন, আব্বাসউদ্দিন, বাউল-ফকির, হাসন রাজা — এই বাংলার আত্মাকে গড়েছেন। বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রক্তও ছিল মুসলমান বাঙালির রক্ত। বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে যে জীবনগুলি উৎসর্গ হয়েছে, সেখানেও বাঙালি মুসলমানদের নাম।
শতাব্দীর সেরা বাঙালিদের তালিকায় শীর্ষে থাকা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন মুসলমান বাঙালি। যাদের কণ্ঠ, যাদের সিদ্ধান্ত, যাদের সাহস না থাকলে আজ বাঙালি জাতি দাঁড়াতই না। মুসলমানরাই তো বাঙালিয়ানার সবচেয়ে উজ্জ্বল স্তম্ভ। হিন্দুত্ববাদীর চশমা পরিহিতা তিলোত্তমারা এসব বুঝেও না বোঝার ভান করেন। সাম্প্রদায়িকতার চশমা পরে ছদ্মবেশি সেকুলার তিলোত্তমাদের মুসলিমাতঙ্ক। মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখতেই ওঁরা ভালবাসেন। এদের সবথেকে বড় সীমাবদ্ধতা হল, সত্যিটা দেখেন না বা দেখতে চান না। ওঁরা মুসলমানদের শুধু দোষ দেখাতেই ব্যস্ত। কিন্তু বিশ্ব ইতিহাসে ধর্মীয় সন্ত্রাসের সবথেকে ভয়ঙ্কর উদাহরণগুলো মুসলমানদের নয়, বরং অমুসলিম রাষ্ট্র এবং সমাজের।
তিলোত্তমার সাম্প্রতিক মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য কেবল একজন লেখিকার ‘ব্যক্তিগত মতামত’-এর প্রতিক্রিয়া নয়। এটি সেই বিদ্বেষেরই নতুন সংস্করণ, যেটি বহু বছর আগে তসলিমা নাসরিনের কলমে ফুটে উঠেছিল। তীব্র মুসলিম বিদ্বেষী তসলিমা একসময় নাস্তিকতার ছদ্মবেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কলম ধরে যে ঘৃণার বীজ বপন করেছিলেন, তিলোত্তমা সেই বীজকেই বিজেপির জল, হাওয়া আর রাজনৈতিক সার মিশিয়ে পুষ্ট করছেন। নারী নির্যাতন, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস — এসব সব ধর্মেই আছে; কিন্তু তসলিমা, তিলোত্তমাদের নজর শুধু মুসলিমদের দিকেই।
তিলোত্তমা তাঁর যথার্থ পূর্বসূরীর পথেই হাঁটছেন। তাঁর মুখে শোনা গেল সরাসরি বিজেপির ভোট রাজনীতির প্রতিধ্বনি। তাঁর ভাষা কট্টর বিজেপি নেতাদের কপি—পেস্ট। “মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী”— এ ধারণা আসলে হিন্দুত্ববাদী প্রচারের প্রতিধ্বনি। ইতিহাস পরিক্রমায় দেখা যায়, ধর্মের সঙ্গে সন্ত্রাসের যোগসূত্র নেই, আবার সন্ত্রাসবাদীদের কোনো ধর্ম হয় না। রাজনীতির কারবারীদের একাংশ ভোটের স্বার্থে সন্ত্রাস করে বিশেষ জাত, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেয়। অতীত বলছে, সবথেকে ভয়াবহ সন্ত্রাস ঘটেছে অমুসলিমদের হাতেই। বিশেষ করে খ্রিস্টান ও ইহুদীদের দ্বারা।
মায়ানমারে বৌদ্ধ সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেটি একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ। শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ উগ্রবাদীরাও একই পথ অনুসরণ করেছে। তিব্বতে বৌদ্ধ মঠে সন্ন্যাসিনীদের উপর রোমহর্ষক যৌন নির্যাতনের খবর বহুবার এসেছে। ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর ইসরাইল বা যায়নবাদীরা যে ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালাচ্ছে, সেসব কি সন্ত্রাস নয়? ৯/১১ এর পর মিথ্যা অভিযোগ ও অজুহাতে ডজন খানেক মুসলিম দেশের ওপর কথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যেভাবে কবরস্থান ও এতিম, বিধবার দেশে পরিণত করেছে পশ্চিমা ন্যাটো জোট, তা কি সন্ত্রাস নয়? খ্রিস্টান ইউরোপে ক্রুসেডের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় খ্রিস্টান মিশনারীরা আদিবাসীদের জোর করে ধর্মান্তর করেছে, উপাসনালয় ভেঙেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “কু ক্লুক্স ক্ল্যান”নামে সাদা চামড়ার চরমপন্থী খ্রিস্টান সংগঠন শতাব্দীর পর শতাব্দী কৃষ্ণাঙ্গদের হত্যা করেছে, মুসলমান ও ইহুদিদের উপর নারকীয় প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ ও ইউরোপীয় সৈন্যরা নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে।
যায়নবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল সাড়ে সাত দশক ধরে ফিলিস্তিনে প্রতিদিন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। নারী ও শিশু হত্যা, হাসপাতাল ধ্বংস, গাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, সাংবাদিক হত্যা — এসব বিশ্বজুড়ে মানুষ চোখের সামনে ঘটছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তিলোত্তমাদের চোখে এসব সন্ত্রাস ধরা পড়ে না। গুজরাত দাঙ্গা, দিল্লি দাঙ্গা, মুজফফরনগর, খারগোন, হরিয়ানা, মণিপুর — সর্বত্র সংখ্যালঘু ও দলিতদের উপর হামলা হয়েছে, নারীরা গণধর্ষিত হয়েছে, ঘর বাড়ি জ্বালানো হয়েছে। কিন্তু এসব দেখেও তিলোত্তমারা চুপ থাকেন। তাঁদের ঘৃণা কেবল মুসলমানদের প্রতিই।
কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা গোরক্ষার নামে অসংখ্য দলিত ও মুসলমানকে প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করেছে, লাভ জিহাদের নামে মুসলিম যুবকদের নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারছে, জয়শ্রী রাম স্লোগান না দেওয়ায় প্রহার, দাড়ি কেটে নেওয়া, মসজিদের সামনে গিয়ে হনুমান চাল্লিশা, নামাযের সময় তারস্বরে মাইক বাজানো, আপত্তি করলে ইমাম মুয়াজ্জিন সহ সবার ওপর হামলা, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মুসলমানদের ঘরবাড়ি, দোকান, মসজিদ বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে – এসব কি সন্ত্রাস নয়?
আজ যেসব মিডিয়া গোষ্ঠী তিলোত্তমাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তারাও এই সাম্প্রদায়িক খেলায় অংশীদার। তিলোত্তমার বক্তব্যে বাংলাদেশি মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা উগরে পড়েছে। তিলোত্তমা যে ভাষায় কথা বলছেন, সেই বাংলা ভাষার জন্য সর্বপ্রথম ওপারের মুসলমানরাই শহীদ হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত মুসলমান বাঙালিদের আত্মত্যাগেই আজকের বাংলার মর্যাদা দাঁড়িয়ে আছে।
তিলোত্তমাদের উদ্দেশ্য বিজেপির মন জয় করা, হয়ত আসন্ন নির্বাচনে টিকিট নেওয়া। এই স্বপ্নে তাঁরা মুসলমানদের অপমান করে নিজের অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখতে চান।
তসলিমা নাসরিন স্বদেশ থেকে বিতাড়িত, আজও তাঁকে বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। একটা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাময়িক জনপ্রিয়তা পাওয়া গেলেও মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা পাওয়া যায় না। তিলোত্তমাদেরও শেষ পরিণতি হবে ইতিহাসের কলঙ্কিত পৃষ্ঠায়। তিলোত্তমা ওপার বাংলার মুসলমানদের সঙ্গে নিজেদের কোন মিল খুঁজে পান না। অথচ ওপারের মুসলমানেরা শুধু বাংলায় কথা বলেন না, বাংলা সংস্কৃতির প্রাণভোমরা তাঁরা। আজ যারা মুসলমানকে সন্দেহের চোখে দেখেন, শুধু অনুপ্রবেশী, সন্ত্রাসী ভাবতে ভালবাসেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবে ঘৃণার রাজনীতির এজেন্ডা চালাচ্ছেন।
তসলিমাও সেই নীতিতে ভর করে একসময় প্রচারের আলোয় এসেছিলেন। নিজের দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আপাতত বিজেপি সরকারের স্নেহচ্ছায়ায় এদেশে বহাল তবিয়তে বসবাস করছেন। তিলোত্তমাও হয়ত অদূর ভবিষ্যতে বড় কোন সরকারি দাক্ষিণ্য পেয়ে যাবেন। তসলিমা থেকে তিলোত্তমা – মুসলিম বিদ্বেষের সেই ট্র্যাডিশন যেন একই সুতোয় গাঁথা।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder