অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান

দৈনিক জনকণ্ঠ, জঙ্গিপুর: দলীয় কোন্দল ও কাউন্সিলরদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অবশেষে চরম পরিণতি। অনাস্থা ভোটে জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারিত হলেন মফিজুল ইসলাম। সোমবার দুপুরে এই বিশেষ সভায় উপস্থিত ১৯ জন কাউন্সিলরের সকলেই চেয়ারম্যানকে সরানোর পক্ষে ভোট দেন। তবে ভোটাভুটির আইনি প্রক্রিয়ার মাঝেই পদত্যাগের দাবি করে নাটকীয় মোড় আনার চেষ্টা করেন বিদায়ী পুরপ্রধান।
দীর্ঘদিন ধরেই পুর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল। চলতি মাসের শুরুতেই তাঁর কাজের ধরনে অসন্তোষ প্রকাশ করে পুরসভার ১১ জন কাউন্সিলর লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরপ্রধানকে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হত। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল নয় বুঝে সে পথে আর হাঁটেননি তিনি। এরপরই পুর আইনের বিধি মেনে তড়িঘড়ি অপসারণ সভা আহ্বান করেন ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী। সোমবারের অনাস্থা সভায় একে একে হাজির হন ১৯ জন কাউন্সিলর। তবে অনুপস্থিত ছিলেন বিদায়ী চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পিঙ্কি হালদার। সভায় উপস্থিত সব প্রতিনিধিই একযোগে মফিজুল সাহেবকে পদ থেকে অপসারণের পক্ষে রায় দেন।
ভোটাভুটির পরই অবশ্য জলঘোলা শুরু হয়। স্বঘোষিত পদত্যাগের দাবি তুলে বিদায়ী চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, “অনাস্থা সভার আগেই সকালে প্রতিনিধি মারফত জঙ্গিপুর মহকুমা শাসকের দফতরে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। এমনকী সরকারি গাড়িও ফেরত দেওয়া হয়েছে। এসব আর ভাল লাগছে না, তাই সভায় যোগ দিইনি।” যদিও পুরসভায় এই টানাপড়েন নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বেও মফিজুল ইসলামকে পদ থেকে সরাতে অনাস্থা আনা হয়। তবে রাজনৈতিক প্রভাব ও কৌশলে শেষ পর্যন্ত তিনিই বহাল থাকেন। এদিনের এই অনাস্থা পর্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিক্ষুব্ধ ও বিরোধী শিবির। পুরসভার বিরোধী দলনেতা সুবীর রায় খোঁচা দিয়ে বলেন, “জঙ্গিপুর পুরসভায় এমন অচলাবস্থা নজিরবিহীন। বিগত কয়েক মাস ধরে পুর পরিষেবা শিকেয় উঠেছে, সাধারণ মানুষ হয়রান হচ্ছেন। পুরনো চেয়ারম্যান অপসারিত হয়েছেন ভাল কথা, এবার নতুন যিনিই আসুন না কেন, অন্তত নাগরিক পরিষেবাটুকু স্বাভাবিক করুন।”
অনাস্থা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ চৌধুরী বলেন, “সভায় উপস্থিত ১৯ জন কাউন্সিলরই সর্বসম্মতভাবে অপসারণের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দ্রুত অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হবে।” সব মিলিয়ে, জল কোন দিকে গড়ায় এবং জঙ্গিপুরের নতুন অভিভাবক হিসেবে কে দায়িত্ব নেন, সেদিকেই এখন নজর শহরবাসীর।













































































































