গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা

দৈনিক জনকন্ঠ, মুহাম্মদ শাহবাজ: গ্লাসগোর কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের অ্যাথলিটরা অসাধারণ ছন্দে রয়েছেন। ইতোমধ্যেই দেশের ঝুলিতে একাধিক পদক জমা হয়েছে। তবে গ্লাসগোর ময়দানে শুধু খেলার জয় নয়, লেখা হচ্ছে আত্মত্যাগ, আবেগ ও কামব্যাকের এক অসাধারণ গল্প। এই গল্পের মূল দুই নায়ক ২২ বছর বয়সি উঠতি বক্সার যদুমণি সিং মানদেংবাম এবং ২৬ বছর বয়সি ভারোত্তোলক রাজা মুখুপান্ডি।
২৬ জুলাই দিনটি পুরো ভারতের কাছে এক বিশেষ আবেগের দিন, ‘কারগিল বিজয় দিবস’। ১৯৯৯ সালের এই দিনে কারগিল যুদ্ধে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন ভারতের বীর সেনানিরা। আর ঠিক এই দিনেই গ্লাসগোর বক্সিং রিংয়ে পা রেখেছিলেন ২২ বছর বয়সি তরুণ বক্সার যদুমণি সিং। পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগের ‘রাউন্ড অফ ১৬’-এ যদুমণির মুখোমুখি ছিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বক্সার সুমামা রহমান। রিংয়ের লড়াইয়ে কোনো সুযোগই দেননি ভারতীয় এই তরুণ। দূরন্ত পারফরম্যান্স ও ক্ষিপ্রতায় ৫-০ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে একতরফা আধিপত্য বজায় রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে অর্থাৎ শেষ আটে জায়গা করে নেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেলেই ভারতের আরও একটি পদক নিশ্চিত হয়ে যাবে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সংস্থা এ.এন.আই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবেগে ভেসে গিয়ে যদুমণি বলেন, “পাকিস্তানের বক্সারকে হারানোর অনুভূতিই একদম আলাদা। তবে আমি আমার এই বিশেষ জয় কারগিল যুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করছি। খুব ভালো লাগছে। তবে লড়াই এখনও বাকি, কোয়ার্টার ফাইনালে আরও ভালো খেলে দেশকে সোনার পদক এনে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য।”
অন্যদিকে ভারোত্তোলনের মঞ্চেও রচিত হলো আর এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পুরুষদের ৬৫ কেজি বিভাগে ভারতের ঝুলিতে চতুর্থ পদক এনে দিলেন ২৬ বছর বয়সি রাজা মুখুপান্ডি। রাজার এই রূপোর পদক জেতার পথটি কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। এর নেপথ্যে রয়েছে চরম ধৈর্যের এক কামব্যাক স্টোরি। ২০১৯ সালে কনুইতে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন তিনি। চোটের কারণে দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকতে হয় তাঁকে। এরপর মহামারীর (করোনা) কারণে তাঁর রিহ্যাবপ্রসেসও পিছিয়ে যায়। সমস্ত বাধা কাটিয়ে, কঠোর অনুশীলনের পর অবশেষে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেন তিনি। প্রতিযোগিতায় স্ন্যাচ বিভাগে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ১২৬ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৬০ কেজি মোট ২৮৬ কেজি ওজন তুলে রূপোর পদক নিশ্চিত করেন রাজা। মীরাবাই চানুর সোনার হ্যাটট্রিকের পর ভারোত্তোলনে ভারতের এই ধারাবাহিক সাফল্য বজায় থাকে।
তবে রূপো পেয়েও রাজার মুখে ছিল এক মিশ্র অনুভূতি। চোখে ছিল সোনার পদক না পাওয়ার এক হালকা হতাশা ও আক্ষেপ। তিনি বলেন, “কোচ বিজয় শর্মা আমার ওপর ভীষণ ভরসা রেখেছিলেন। ভেবেছিলেন আমি সোনা নিয়ে ফিরব। সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সোনা মিস হয়ে গেল। তবে এই পদক আমি আমার বাবা-মা এবং কোচ বিজয় শর্মাকে উৎসর্গ করছি। এই ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে কোচের নির্দেশ মেনে আরও কঠোর পরিশ্রম করে যাব।”
যদুমণি সিং মানদেংবাম (বক্সিং – ৫৫ কেজি) ২৬ জুলাই রাউন্ড অফ ১৬-এ পাকিস্তানের সুমামা রহমানকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছান। জয়টি কারগিল যুদ্ধের শহীদদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন এবং দেশবাসীকে গ্লাসগো থেকে সোনা জেতার প্রতিশ্রুতি দেন। কোয়ার্টার ফাইনাল জিতলেই ভারতের আরেকটি পদক নিশ্চিত।
রাজা মুখুপান্ডি (ভারোত্তোলন – ৬৫ কেজি) মোট ২৮৬ কেজি (স্ন্যাচ ১২৬ কেজি ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ১৬০ কেজি) তুলে ভারতকে চতুর্থ পদক হিসেবে রূপো এনে দেন। ২০১৯-এর কনুয়ের চোট ও করোনাকালীন বাধা কাটিয়ে দারুণ কামব্যাক করেন। সোনা না পাওয়ায় কিছুটা হতাশ হলেও রূপোর পদকটি নিজের বাবা-মা এবং কোচ বিজয় শর্মাকে উৎসর্গ করেন।






































































































