সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস

তারৌবা (ত্রিনিদাদ): জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২১১ রান। হাতে ছিল গোটা দিন। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারল না পাকিস্তান। জেডেন সিলসের পাঁচ উইকেটের ধাক্কায় মাত্র ১২০ রানে গুটিয়ে গেল বাবর আজমদের দ্বিতীয় ইনিংস। ৯০ রানে টেস্ট জিতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের টানা টেস্ট হারের সংখ্যা বেড়ে হল আট। পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের প্রধান কারিগর সিলস। মাত্র ১৮ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন ক্যারিবিয়ান পেসার। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করেন কেমার রোচ এবং জাস্টিন গ্রিভস। এই টেস্টে দুই দলের পেসাররাই দাপট দেখিয়েছেন। ম্যাচের ৪০টি উইকেটই গিয়েছে জোরে বোলারদের দখলে।
২১১ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। রোচ এবং সিলস নতুন বলে এমন আঁটসাঁট বোলিং করেন যে, প্রথম সেশনেই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। ইমাম-উল-হক, আজান আওয়াইস এবং সলমন আঘা দ্রুত ফিরে যান। প্রথম ইনিংসে আঙুলে চোট পাওয়া অধিনায়ক শান মাসুদও স্বাভাবিক জায়গায় ব্যাট করতে নামতে পারেননি। এক প্রান্তে অবশ্য লড়াই চালিয়ে যান বাবর। বাকিরা যখন একে একে ফিরছেন, তখন উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকেন তিনি। টেস্ট কেরিয়ারের ৩২তম অর্ধশতরানও পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন বাবর। কিন্তু অন্য প্রান্তে কাউকেই বেশিক্ষণ পাননি।
শেষ দিকে মহম্মদ আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন বাবর। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ পাকিস্তানের হাতের বাইরে। সিলস আব্বাসকে এলবিডব্লিউ করতেই ১২০ রানে শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। ১৮ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছিল ৩১১ রান। শাই হোপ ৯২ এবং কাভেম হজ ৮৪ রান করেন। পাকিস্তানের মহম্মদ আলি নেন চার উইকেট। জবাবে পাকিস্তান তোলে ২৮২। অধিনায়ক মাসুদের ব্যাট থেকে আসে ১০৯ রান, ইমাম করেন ৬৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২৭ রানে পাঁচ উইকেট নেন গ্রিভস।
দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংও ধাক্কা খায়। একটা সময় তাদের স্কোর ছিল ৯৩/৭। সেখান থেকে শামার জোসেফ এবং রোচের গুরুত্বপূর্ণ জুটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অষ্টম উইকেটে তাঁরা ৬১ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮১ রানে অলআউট হলেও পাকিস্তানের সামনে ২১১ রানের কঠিন লক্ষ্য রাখতে পারে। আব্বাস ২২ রানে পাঁচ উইকেট নেন। সেই লক্ষ্যই শেষ পর্যন্ত পাহাড় হয়ে দাঁড়াল পাকিস্তানের সামনে। বাবরের অপরাজিত অর্ধশতরান ছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে বলার মতো প্রতিরোধ এল না কারও ব্যাট থেকে। ৯০ রানের জয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিরিজ হারার আশঙ্কাও দূর করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উল্টো দিকে পাকিস্তানের বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতার ছবিটা আরও প্রকট হল। দেশের বাইরে টানা আটটি টেস্টে হারল তারা।











































































































