বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি

দৈনিক জনকণ্ঠ, এজাজ আহম্মেদ, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার শাহজাদপুর অঞ্চলের অন্তর্গত জীবন্তি হল্ট থেকে নতুনপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। জল-কাদায় ভরা ওই রাস্তায় সাইকেল-বাইক তো দূরের কথা, হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই। ফলে স্কুলছুট হচ্ছে পড়ুয়ারা, চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেও। দীর্ঘদিন ধরে বারবার অভিযোগ জানিয়েও রাস্তা মেরামত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার রাস্তা মেরামতের দাবিতে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং শাহজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন দেন ভুক্তভোগীরা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিগত তিন-চার বছর ধরে রাস্তা নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও পঞ্চায়েত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। পূর্বতন প্রধান যেমন উদাসীন ছিলেন, তেমনই বর্তমান প্রধান ও সদস্যরাও রাস্তার দিকে ফিরে তাকাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। এদিন অঞ্চল কার্যালয়ের সামনে কিছুক্ষণ ধরনায় বসে পঞ্চায়েত প্রধানকে বিস্তারিত অভিযোগ জানান বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভে উপস্থিত আঙ্গুরা বিবি বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু জল জমে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েরা বাড়ি থেকে বেরোতে পারে না, স্কুলে যাওয়ারও উপায় থাকে না। রাস্তায় এত জল জমে যে কোনও বাচ্চা পড়ে গেলে ডুবে মৃত্যুরও আশঙ্কা রয়েছে।” তিনি অবিলম্বে রাস্তা পাকা করার দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান জানান, “রাস্তার পাশাপাশি এলাকার টিউবওয়েলও খারাপ হয়ে পড়ে আছে, অথচ আগের বা বর্তমান কোনও প্রধান-মেম্বারই এ বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেননি।”
যদিও রাস্তার সমস্যার কথা স্বীকার করে শাহজাদপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বন্দিতা মণ্ডলের স্বামী পরিতোষ মণ্ডল জানান, “রাস্তার সত্যিই বেহাল দশা এবং আমরা বহুবার পরিদর্শন করে অভিযোগ জানিয়েছি। তবে অঞ্চলের হাতে থাকা টাকা সীমিত হওয়ায়, সরকার থেকে রাস্তার স্কিম পাশ হলেই মেরামতের কাজ করা হবে।” পাশাপাশি রাস্তার বেহাল দশার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি প্রতিনিয়ত মালবোঝাই ট্র্যাক্টর ও ট্রাক চলাচলের কথাও উল্লেখ করেন, যার ফলে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান।















































































































