BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

পশ্চিমা সহায়তা ছাড়া ইসরাইল টিকতে পারবে?

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:২১ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:২১

রামজি বারৌদ

আরও পড়ুন:

গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা ও পাশবিকতা এবং তাতে আমেরিকা-সহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো কীভাবে সমর্থন দিয়ে চলেছে, সে বিষয়ে ক্ষুরধার বিশ্লেষণ করেছেন ‘প্যালেস্টাইন ক্রনিক্যাল’-এর সম্পাদক রামজি বারৌদ।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি গণহত্যা এবং তা থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধ দুটি ভয়াবহ সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথমত, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে অবজ্ঞা করছে। দ্বিতীয়ত, পশ্চিমাদের সহায়তা সমর্থন ছাড়া ইসরাইল একা টিকে থাকতে সক্ষম নয়।
এই দুটি বিষয় আলাদা মনে হলেও বাস্তবে একটি অন্যটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কারণ, যারা সামরিক, রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে ইসরাইলকে টিকিয়ে রেখেছে, তারা সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে মধ্যপ্রাচ্য আর বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে না। টানা সাড়ে সাত দশক ধরে ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে আছে মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
কঠিন বাস্তবতা হল ইসরাইল যদি গাজা থেকে সরে যায় এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত ও গণহত্যার শিকার গাজা উপত্যকা যদি স্থিতিশীল হওয়ার অবকাশ পায়, তাহলেই পার্থক্য প্রকাশ্যে আসবে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি নৃশংসতায় প্রায় ৬০ হাজার গাজাবাসী তথা ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিশু এবং অন্তত ২৮ হাজার নারী রয়েছেন। গাজার নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হলে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
‘যার শক্তি, সেই সঠিক ও ন্যায্য’ — আগামীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ থেকে এই ঘৃণ্য নীতি সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সামনে এখন সময় এসেছে, তারা যেন সদর্থক ভূমিকা নেয়। তারা যেন নিজেদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ও জনগণকে সাহায্য করে এবং নিশ্চিত করে যে, ইসরাইল আর তাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারবে না।
ইসরাইল বহু বছর ধরেই একদল সমর্থকের আনুকূল্য ও সাহায্য নিয়ে চলছে। পশ্চিমারা ইসরালকে সর্বাত্মক সাহায্য দেওয়াকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক স্বার্থরক্ষার ঘাঁটি হিসেবে দেখে থাকে।
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার রক্ষায় বিশ্ব এগিয়ে এলে হয়ত কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।
ইসরাইলের দৃষ্টিতে এই দাবি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, এমনকি চিন্তার বাইরে। বোঝা যায়, তাদের এই নীতি তাদের ঔপনিবেশিক অবস্থানের কারণেই। কেন?
প্রখ্যাত গবেষক প্যাট্রিক উলফ বলেছিলেন, ‘আক্রমণ কেবল কোনো ঘটনা নয়, এটি একটি কাঠামো।’ এই গভীর বক্তব্যটি বুঝিয়ে দেয়, ১৯৪৮ সালের নাকবা বা ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ইসরাইলের সব যুদ্ধ ও দখলদারিত্ব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি নিরবচ্ছিন্ন শক্তি কাঠামোর অংশ। তাদের এসবের পিছনে মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় বা আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।
তাই ৭ অক্টোবরের পর ইসরাইলের আচরণকে শুধু প্রতিশোধ বলেই মনে করা ভুল, বরং এর পিছনে সুস্পষ্ট কৌশল ছিল। গাজার রোমহর্ষক ও বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড দেখে আমরা হয়ত প্রথমে বিষয়টা বুঝতে পারিনি। কারণ, গাজায় প্রতিদিনের নৃশংসতা থেকে ইসরাইল আনন্দ নিচ্ছে এবং নিজেদেরকে শক্তিশালী বলে দাবি করছে এবং সব ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধকে জাহির করছে।
তবে ইসরাইল নিজেই তাদের আসল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেছে। দেশটির উগ্রবাদী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর বলেছিলেন, ‘আমরা গাজাকে জনশূন্য দ্বীপে পরিণত করব।’ নেতানিয়াহুর এই উম্মত্ত বক্তব্য ইসরাইলের ঔপনিবেশিক কাঠামোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং যতক্ষণ না এটিকে থামানো যায়, ততক্ষণ তার থেকে মুক্তি নেই। কিন্তু কে বা কারা ইসরাইলকে থামাবে? অর্থাৎ বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?
গাজায় প্রায় ২১ মাসের অসহনীয় গণহত্যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এক কঠিন সত্য। সেটা হল ইসরাইল হচ্ছে আসলে একটা ‘সামন্ততান্ত্রিক রাষ্ট্র’ (যে দেশ অন্য কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত)। ইসরাইল এমন এক রাষ্ট্র, যে নিজে যুদ্ধ করতে পারে না, নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি নিজ দেশের অর্থনীতি চালাতেও পারে না। ইসরাইলও ঠিক তেমনই। মার্কিন বা পশ্চিমা সহায়তা ছাড়া সে কোনো কিছু করতে পারে না, কোনো কিছু চালাতে পারে না। গাজায় নৃশংস হামলা শুরুর আগে কিছু ইসরাইলি নেতা মাঝে মধ্যে বলতেন, ‘ইসরাইল স্বাধীন দেশ। এই দেশ মার্কিন পতাকার আরেকটি তারকা নয়।’ এখন অবশ্য সেসব কণ্ঠ বা এমন কথাবার্তা একরকম থেমে গেছে। বরং এই রাষ্ট্রকে এসব কথা বলার পরিবর্তে এখন কেবল মার্কিন সহায়তার জন্য অনুনয়-বিনয় করতে শোনা যাচ্ছে।
২০২২ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, ‘মার্কিন ও ইসরাইলি জনগণের সম্পর্ক রক্ত-মাংসের মতো গভীর। আমরা অভিন্ন মূল্যবোধে ঐক্যবদ্ধ। ধর্মীয় বিশ্বাসে খ্রিস্টান হলেও আমরা যায়নবাদী।’
বাইডেনের এই তথাকথিত ‘অভিন্ন মূল্যবোধ’ যে গণহত্যাকে সমর্থন করে, সে বিষয়ে প্রশ্ন না তুলেই বাইডেন আসলে স্বীকার করেছিলেন, ইসরাইল-আমেরিকা সম্পর্ক কেবল রাজনীতির বিষয় নয়; বরং গভীর আদর্শিক ও কৌশলগত বন্ধন।
পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য নেতাও ইসরাইল সম্পর্কে অন্ধভাবে একই কথা বিশ্বাস করেন এবং একই কথা বলে থাকেন। তবে গাজায় ইসরাইলের চলমান এই নৃশংস গণহত্যা বহু দেশকে, বিশেষ করে কিছু পশ্চিমা ও বেশিরভাগ অ-পশ্চিমা দেশকে সাহসের সঙ্গে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য করেছে।
নেতানিয়াহু ও তাঁর চরমপন্থী মতাদর্শের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো এতটা জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়নি। স্পেন, ইতালি, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়ার মতো দেশ প্রমাণ করেছে, পশ্চিমা ‘বন্ধন’ চিরকাল অটুট থাকবে না। তাদের সমর্থন ইসরাইলের প্রতি একচেটিয়া বা নিরঙ্কুশ নয়। কিন্তু কেন কিছু দেশ ইসরাইলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস করছে, আবার কিছু দেশ শত অন্যায় সত্ত্বেও চুপ থাকছে?
পশ্চিমাদের সঙ্গে ইসরাইলের এই মধুচন্দ্রিমা ভেঙে দেওয়া এখন জরুরি। এটি শুধু ন্যায়ের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নয়; বরং ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। ফিলিস্তিনিরা বরাবরের মতো সাহসের সঙ্গে দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা এবং একইসঙ্গে কট্টর যায়নবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই করছে। এই অবস্থায় যারা আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও শান্তিতে বিশ্বাস রাখে, তাদের দায়িত্ব হল, সেইসব দেশের সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো, যারা আজও ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তাকে টিকিয়ে রাখছে।
ইউরোপের দেশ স্পেন-সহ কিছু দেশের সরকার যা করছে, তা কয়েক বছর আগেও অকল্পনীয় ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ স্পষ্ট বলছেন, ২০০০ সাল থেকে চালু ইইউ-ইসরাইল বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করতে হবে। কারণ, গাজার ‘গণহত্যা পরিস্থিতি’ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্পেনের মতো আরও কিছু দেশ একইভাবে নির্ভীক ও আপসহীন অবস্থান নিলে অন্তত ইসরাইলের পশ্চিমা অর্থ ও অস্ত্র পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যেসব অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে তারা গাজায় বর্বরতা চালাচ্ছে।
এই সময়ে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব হল, সেই সাহসী কণ্ঠগুলোর পাশে দাঁড়ানো। শুধু ইসরাইল নয়; বরং যারা এই বসতি-উপনিবেশিক কাঠামোকে বজায় রাখতে সাহায্য করছে, তাদের সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder