BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয়

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, রাত ৯:১২ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬, সকাল ৮:৩৩

আবু হায়াত বিশ্বাস: মার্চ মাস। সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব তখন সবে শুরু হয়েছে। দিল্লির সংবিধান সদনে দলীয় অফিসে বসে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী নেতা সাংবাদিকদের সামনে বুক ঠুকে দাবি করেছিলেন, বাংলায় তৃণমূলের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। ২০০-র বেশি আসন নিশ্চিত। বিজেপিকে রুখতে কারও প্রয়োজন নেই। ‘একাই যথেষ্ট মমতাদি’ — এই ভাষাতেই তিনি বিরোধীদের কার্যত উপহাস করেছিলেন। কংগ্রেসকে তুচ্ছ করে, সিপিএমকে রাজনৈতিকভাবে মৃত ঘোষণা করে তিনি এমন এক আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিলেন, যেন নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতা, ফল আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছে। সেই সময় অনেকেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু আজ পরিষ্কার, সেটি আত্মবিশ্বাস ছিল না, ছিল সীমাহীন ঔদ্ধত্য।

আরও পড়ুন:

গত ৪ মে বাংলার মানুষ সেই ঔদ্ধত্যের জবাব দিয়েছে। তৃণমূল শুধু ক্ষমতা হারায়নি, ভেঙে পড়েছে তাদের ‘অজেয়’ ভাবমূর্তিও। দীর্ঘ ১৫ বছর শাসনের পর বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে, গণতন্ত্রে কোনও দলই চিরস্থায়ী নয়। মানুষ যখন চুপ থাকে, তখন ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই ভুল করে মনে করে নেয়, জনগণ সব মেনে নিচ্ছে। কিন্তু ভোটবাক্সে জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হলে সবচেয়ে শক্তিশালী বলয়ও ভেঙে পড়ে। বাংলার নির্বাচন সেই বাস্তবতারই নির্মম উদাহরণ। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তৃণমূল এই পরাজয় মেনে নিতেও পারেনি। ভোট চলাকালীন যাদের মুখে কোনও অভিযোগ ছিল না, ফল বেরোতে এখন তারাই বলতে শুরু করল ‘ভোট লুঠ হয়েছে’। অথচ গোটা নির্বাচন পর্বে বড় কোনও হিংসা, বুথ দখল বা ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ কার্যত সামনে আসেনি। বরং বহু বছর পর সাধারণ মানুষ অবাধে ভোট দিতে পেরেছে বলেই প্রকৃত জনমত প্রকাশ্যে এসেছে। এতদিন গ্রাম থেকে শহর — সর্বত্র শাসকদলের প্রভাব, ভয় এবং সংগঠিত দাদাগিরির অভিযোগ ছিল। মানুষ মনে করত, ভোট দেওয়া মানেই যেন এক অদৃশ্য চাপের মুখোমুখি হওয়া। এবার নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে সেই ভয় অনেকটাই কেটেছিল। মানুষ নিজের মতো ভোট দিয়েছে। আর সেই স্বাধীন ভোটই তৃণমূলের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

মমতা ব্যানার্জি নিজেও রাজনৈতিক পরাজয়ের পর ন্যূনতম আত্মসমালোচনার পথে হাঁটেননি। বরং জনরায়ের মধ্যেও অজুহাত খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। এই মানসিকতা আসলে ক্ষমতার অহংকারের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে অনেক সময় শাসকদল বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, সরকার মানেই দল, আর দল মানেই সরকার। সেই কারণেই বিরোধী কণ্ঠস্বরকে উপহাস করা হয়েছে, সমালোচনাকে ষড়যন্ত্র বলা হয়েছে, আর সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর ছিল দুর্নীতি। গত কয়েক বছরে একের পর এক কেলেঙ্কারিতে রাজ্যের ভাবমূর্তি ধাক্কা খেয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন কেলেঙ্কারি, কয়লা পাচার, গরুপাচার, বালি মাফিয়া — অভিযোগের তালিকা এত দীর্ঘ যে, সাধারণ মানুষের মনে একটা ধারণা স্থায়ী হয়ে গিয়েছিল, দুর্নীতিই যেন প্রশাসনের স্বাভাবিক সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল চাকরি দুর্নীতি নিয়ে। হাজার হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থী বছরের পর বছর আন্দোলন করেছেন। রাস্তায় বসে থেকেছেন। আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অথচ সরকার তাদের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার বদলে প্রায়শই উদাসীন থেকেছে। শিক্ষিত যুবকদের মনে এই ক্ষোভ গভীরভাবে জমেছিল। তার প্রতিফলন এবার ভোটে স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন:

তৃণমূল সরকার উন্নয়নের বদলে অনুদানের রাজনীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছিল। লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, সবুজসাথী, শ্মশানসাথী, রূপশ্রী, কন্যাশ্রী, শ্রমশ্রী ইত্যাদি বিভিন্ন অনুদান — এগুলি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে পারে না। বাংলার যুবসমাজ চাকরি চেয়েছিল, শিল্প চেয়েছিল, স্থায়ী কর্মসংস্থান চেয়েছিল। কিন্তু গত এক দশকে রাজ্যে বড় শিল্প আসেনি বললেই চলে। সিঙ্গুরের পর শিল্পায়নে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আর পূরণ হয়নি। ফলে একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণদের বড় অংশ ভিনরাজ্যে কাজ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। এই হতাশা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের আর এক বড় ব্যর্থতা ছিল, প্রশাসনের দলীয়করণ। পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা সর্বত্র ‘সিন্ডিকেট রাজ’, কাটমানি, তোলাবাজির অভিযোগ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠেছিল। অনেকেই মনে করতেন, সরকারি সুবিধা পেতেও দলীয় আনুগত্য জরুরি। সাধারণ মানুষ যখন প্রশাসনের উপর আস্থা হারাতে শুরু করে, তখন সরকারের ভিত দুর্বল হতে বাধ্য। তৃণমূল সেই সংকেত বুঝতেই পারেনি। দেওয়াল লিখন পড়তে পারেনি।

আরও পড়ুন:

এই নির্বাচনে বাংলার সামাজিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন ঘটেছে। এতদিন যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে তৃণমূল নিজের স্থায়ী সম্পদ বলে ধরে নিয়েছিল, সেখানে এবার ফাটল দেখা গিয়েছে। মুসলিম ভোট বিভিন্ন এলাকায় বিভক্ত হয়েছে। অন্যদিকে হিন্দু ভোটের বড় অংশ একজোট হয়েছে বিজেপির পক্ষে। বাংলার রাজনীতিতে এমন মেরুকরণ আগে এত তীব্রভাবে দেখা যায়নি। এর জন্য অনেকাংশে দায়ী তৃণমূলের রাজনীতি। একদিকে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ, অন্যদিকে আবার জগন্নাথ মন্দির বা মহাকাল মন্দিরের মতো প্রতীকী হিন্দুত্ব — এই দ্বৈত রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বরং বিজেপিকে ‘হিন্দু স্বার্থের রক্ষক’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর একসময় তৃণমূলকে সতর্ক করেছিলেন — ধর্ম নয়, উন্নয়নকে সামনে রাখতে। কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করেই তৃণমূল ধর্মীয় প্রতীকের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ফল হয়েছে উল্টো। বিজেপি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলকে ‘হিন্দু বিরোধী’ এবং ‘মুসলিম তোষণকারী’ দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছে। সেই ভাবমূর্তি থেকে আর বেরোতে পারেনি তৃণমূল।

আরও পড়ুন:

এবারের ভোটে আর একটি বড় ফ্যাক্টর ছিল, ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রত্যাশা। কেন্দ্রের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের রাজনীতি করতে গিয়ে বাংলার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে — এই ধারণা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে সংঘাত, কেন্দ্র বিরোধিতাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, এবং প্রতিটি বিষয়ে সংঘর্ষের রাজনীতি একাংশ মানুষের মধ্যে বিরক্তি তৈরি করেছিল। বিজেপি সেই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল, ভোটে হারের পর তৃণমূলের ভিতর থেকেই ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। এতদিন যারা বিজেপিকে আক্রমণ করতেন, তাঁরাই এখন গেরুয়া শিবিরে যাওয়ার পথ খুঁজছেন। যারা এতদিন মমতা ব্যানার্জির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, তারাই আজ বলছেন, ‘দল দুর্নীতির আখড়া হয়ে গিয়েছিল’। প্রশ্ন হচ্ছে, এতদিন তাঁরা চুপ ছিলেন কেন? ক্ষমতার সুবিধা নেওয়ার সময় কি দুর্নীতি চোখে পড়েনি? আসলে ক্ষমতা চলে গেলে অনেকের বিবেক জেগে ওঠে।

আরও পড়ুন:

এই নির্বাচন আরও একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। আঞ্চলিক দলগুলির সীমাবদ্ধতা এখন স্পষ্ট। তৃণমূল, আপ, বিজেডি, এনসিপি, শিবসেনা একের পর এক আঞ্চলিক শক্তি দুর্বল হয়েছে। জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসকেই কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে মেনে নিতে হচ্ছে। অথচ গত কয়েক বছরে মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর দল কংগ্রেসকে দুর্বল করতে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে খাটো করতে কোনও সুযোগ ছাড়েনি। বিরোধী জোটের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা, গুরুত্বহীন প্রতিনিধি পাঠানো, ব্ল্যাকমেলের রাজনীতি সবই করেছে। আজ ক্ষমতা হারিয়ে আবার সেই কংগ্রেসের দিকেই তাকাতে হচ্ছে। আসলে রাজনৈতিক ক্ষমতা অনেক সময় বাস্তববোধ কেড়ে নেয়। তৃণমূলও সেই ভুল করেছে। তারা ভেবেছিল, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, খয়রাতির রাজনীতি, সংগঠনের দাপট, আর ভয় দেখিয়ে চিরকাল ক্ষমতায় থাকা যায়। কিন্তু গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে মানুষ। বাংলার মানুষ এবার সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। এই নির্বাচন তাই শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়। এটি রাজনৈতিক দম্ভ, দুর্নীতি ও ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে মানুষের ঐতিহাসিক রায়।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder