BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

দেশে দেশে গণঅভ্যুত্থান: নেপথ্য কারণ কী?

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৩৭ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৩৭

ড. নূরুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম, ১ অক্টোবর:

আরও পড়ুন:

দক্ষিণ এশিয়ার দেশে দেশে শুরু হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। স্বৈরাচারী সরকারের অকস্মাৎ পতন। বস্তুত কোন রাষ্ট্রে বিপ্লব হঠাৎ সংঘটিত হয় না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে না। মানুষ যখন দেখে, সশস্ত্র প্রতিরোধ ছাড়া স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি সম্ভব নয়; তখন তারা জীবনের পরোয়া না করে রাজপথে নামে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের ক্ষেত্রে একথা একশো শতাংশ সত্য। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আরব বিশ্বে এ ধরনের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, যাকে বলা হয় Arab Spring বা ‘আরব বসন্ত’। তবে সেই অভ্যুত্থান সফল হয়নি। কারণ, সেখানে স্বৈরাচারী শাসকদের পৃষ্ঠপোষক আমেরিকা ও ইউরোপ নির্লজ্জভাবে তাদের পাপেটদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। তারা স্বৈরশাসকদের পক্ষাবলম্বন করে। কট্টর স্বৈরশাসকরা ভয়ানক সহিংসতা ও শক্তি প্রয়োগ করে ‘আরব বসন্ত’ দমন করে।

আরও পড়ুন:

এতকাল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ও নব্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা দেশে দেশে পাপেট সরকার প্রতিষ্ঠা করত। তাদের কথা মতো না চললে সামরিক অভ্যুত্থান অথবা গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করত। এভাবে তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে মুসলিম জাহানে দীর্ঘদিন ধরে নব্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার দোসররা অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এখনো তাদের পাপেট ইসরাইলকে দিয়ে আরব জগতে ভয়ানক অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে।

আরও পড়ুন:

এদিকে, দেশে দেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয়ে চলেছে, তার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জম্মু কাশ্মীরের লাদাখে শুরু হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। তবে এদেশে এধরনের অভ্যুত্থান ও আন্দোলন সফল হবে না। কারণ, এই বহুমাত্রিক দেশে বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ভিন্ন ভিন্ন। কোন ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সকল ভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী এক সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে একক নেতৃত্বের অধীনে রাস্তায় নামবে — এ সম্ভাবনা খুবই কম। লাদাখবাসীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের একাত্ম হওয়ার কারণ নেই। তাছাড়া, লাদাখের বৌদ্ধরা আন্দোলন করছে। মুসলিম বা হিন্দু ধর্ম গোষ্ঠী এই আন্দোলনে নেই। এজন্য এই আন্দোলন সফল হবে না। ক্ষমতাসীন বর্ণ হিন্দু গোষ্ঠী এই খেলায় ওস্তাদ। ‘ভাগ কর, শাসন কর।’ এতদিন তারা কাশ্মীর ভাগের সময় মুসলিম ও বৌদ্ধ খেলা খেলেছিল। এখন শুধু মুদ্রার পিঠ পরিবর্তন করলেই হল।

আরও পড়ুন:

মনে আছে, ব্রিটিশরা তৎকালীন মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের অমুসলিমদের কীভাবে ব্যবহার করেছে? ১৮৫৭ সালে প্রথম সর্বাত্মক স্বাধীনতা আন্দোলন বা মহাবিদ্রোহের সময় সুবিধাভোগী অমুসলিম বা হিন্দু জমিদার, জোতদার শ্রেণির ভূমিকা কেমন ছিল? দয়া করে ঐ সময়ের বাংলার পত্র-পত্রিকাগুলো একবার দেখে নেবেন। যে ফল্টলাইন ঔপনিবেশিক শাসকদের নির্ভুল হাতিয়ার ছিল। আজ ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে সেই হাতিয়ার অব্যর্থ কাজ করে চলেছে।

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, একটি প্রাণবন্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের মূর্ত প্রতীক তার বলিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনসমূহ। মানুষের চাওয়া-পাওয়া এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার বার্তা বহন করে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন। আমাদের মতো গণতান্ত্রিক দেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন আছে। এসব প্ল্যাটফর্ম সাধারণ মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে। বস্তুত যখন এসব প্ল্যাটফর্ম অকার্যকর হয়ে যায়, তখন মানুষের ক্ষোভ বাঁধন-হারা হয়ে যায়। তখন উত্তাল আন্দোলন গড়ে উঠে। বিপ্লব সংঘটিত হয়।

আরও পড়ুন:

বর্তমান রাষ্ট্র শাসনে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ শব্দদ্বয় আধুনিক বহুমাত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সেফটি ভাল্বের মতো কাজ করতে পারে। এগুলো নিছক পরিভাষা নয়। কার্যকর হাতিয়ার। এফেক্টিভ মেকানিজম। কিন্তু এই পরিভাষা যে আদর্শ ও মহানতা ধারণ করে, তা পৃথিবীর খুব বেশি দেশে নেই। বস্তুত অধিকাংশ দেশে যথার্থ গণতন্ত্রই নেই। যথার্থ ধর্মনিরপেক্ষ নয়। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের ভিত্তিমূল ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রী’। এগুলোর অস্তিত্ব কোথায়?

আরও পড়ুন:

মানুষ অতীতে বহু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতবাদ নিয়ে অনুশীলন করে হতাশ হয়ে গেছে। এখনো মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে ফিরছে। কখনো বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক পরিভাষা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মানুষ এখন জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাদি শব্দে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। এসব পরিভাষা নিয়ে তারা হাসাহাসি করছে। বস্তুত পরিভাষাগুলো এখন নিজস্ব স্পিরিট হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয় কিছু দুর্বৃত্ত ও দুষ্কৃতির মাধ্যমে। তাদের স্বৈরশাসনে নিষ্পেষিত ও অসন্তুষ্ট মানুষ প্রতিকারের বিকল্প পথ দেখতে না পেয়ে রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের ঝুঁকি নেয়। মনে করে, প্রতিকারের একমাত্র পথ রাষ্ট্র বিপ্লব। যেখানে বহু জীবনহানি হয়। বহু সম্পদ ধ্বংস হয়। জীবনের ছন্দ পতন হয়। সর্বনাশ হয়।

আরও পড়ুন:

ভারত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সবথেকে বড় ও প্রভাবশালী দেশ। এখানেও গণঅভ্যুত্থানের প্রবল সম্ভাবনা আছে। গণতন্ত্র এখানেও পণবন্দি। কার্যত গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বারোটা বেজে গেছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করে চলেছে। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও উল্লেখিত দেশগুলোর মতো ভারত কিন্তু একমাত্রিক দেশ নয়। এখানে খুব সহজে সমগ্র দেশব্যাপী গণআন্দোলন সংঘটিত হবে না। রাষ্ট্র বিপ্লব অত সহজে হবে না। আর যদি দৈবাৎ হয়ে যায়, তাহলে এদেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। সোভিয়েত যেমন তার বিপুল সামরিক শক্তি দিয়ে আন্দোলন দমন করতে পারেনি, তেমনি এদেশও পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, এদেশে প্রতিটি রাজ্য ও প্রতিটি রাজ্যের ভেতর একাধিক স্বতন্ত্র অঞ্চল নিজেদের আঞ্চলিক অস্মিতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে। ফলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে। যা পুনরায় সংগঠিত ও সুসংহত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন:

বস্তুত ভারতের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভিন্ন ধরনের। এদেশে হিন্দু ঐতিহ্য ও জাত-ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত। খুব শক্তিশালী। তথাকথিত উচ্চ বর্ণের সংখ্যালঘু হিন্দু গোষ্ঠীর আধিপত্য নিরঙ্কুশ। এদেশে একমাত্র তাদের অনুশাসন চলে। হাজার হাজার বছর ধরে। এমনকি মুসলিম ও খ্রিস্টান শাসনামলেও বর্ণ প্রথা অক্ষত ছিল। বর্ণ হিন্দুরা সমাজ শাসন করত। পৃথিবীর সকল দেশে এলিট শ্রেণি আছে। তাদের একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষিত আছে। কিন্তু ভারতের এলিট শ্রেণির আধিপত্য ধর্মের মোড়কে সুরক্ষিত। ফলে, বিদেশি ও বিধর্মী শাসনকালে হোক অথবা প্রগতিশীল গণতন্ত্রে — এদেশে বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের আধিপত্য ও প্রাধান্য সুরক্ষিত। এজন্য খুব সহজে এদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না। আপাতত মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

এদেশে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের উৎসকাল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে শুরু হয় সামাজিক সংগঠনের পথ চলা। শেষার্ধে শুরু হয় রাজনৈতিক দলের পথ চলা। বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৩ সালে। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫১ সালে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। এছাড়াও, এসময় অসংখ্য দল ও সংগঠন গড়ে ওঠে, যারা ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে। এসব দল ও সংগঠন দেশে গণ অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। তাদের সক্রিয়তার ফলেই ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়।

আরও পড়ুন:

স্বাধীন ভারত হিন্দু-প্রধান দেশ। ভারতে ডে ওয়ান থেকে মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে কোণঠাসা। সামাজিক ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায় বিভেদ, বিভাজনের শিকার। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভয়ানক বৈষম্যের শিকার। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তারা প্রতিনিধিত্বহীন। কার্যত তারা স্বাধীন দেশে অবদমিত জনগোষ্ঠী। শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে তারা অন্যায় ও অবিচারের শিকার। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দশক ধরে তাদের জীবন ও জীবিকাও অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের অঘোষিত যুদ্ধ চলছে!

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫)। বর্ণ হিন্দু পরিচালিত ও প্রভাবিত জাতীয় কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখে। তাদের অবদান এদেশের কোন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই দল প্রথম থেকে ধর্মনিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্ণ হিন্দু নেতৃবৃন্দ তাদের প্রাধান্য কখনো পরিত্যাগ করেনি। তারা ধর্মনিরপেক্ষ অথচ হিন্দু আধিপত্যের প্রবক্তা ছিলেন। এক সময় কংগ্রেসের হিন্দু সদস্যরা নরমপন্থী ও চরমপন্থী উপদলে বিভক্ত ছিলেন। আজকের বিজেপির পূর্বপুরুষ ছিলেন সেকালের কংগ্রেসের চরমপন্থীরা।

আরও পড়ুন:

১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা হয় জাতীয় কংগ্রেসের দুই দশক পরে। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল হিন্দু আধিপত্য থেকে বাঁচার এক মুসলিম রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। তারাও প্রাথমিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ অথচ মুসলিম পরিচালিত রাজনৈতিক দলের প্রবক্তা ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা মুসলিম সাম্প্রদায়িক দলে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে, আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৫ সালে মুসলিম লীগের দুই দশক পরে। আরএসএস আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো রাজনৈতিক দল ছিল না। আজও না। কিন্তু তারা সুপার রাজনৈতিক। তাদের একক লক্ষ্য হল, দেশে হিন্দু আধিপত্য ও প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং তাদের সহযোগিতা করে হিন্দু আধিপত্য অক্ষুন্ন রাখা ছিল তাদের একক লক্ষ্য। স্বাধীনতার পরে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল কংগ্রেসের শাসন তাদের পছন্দ ছিল না। এজন্য তারা গান্ধী ও নেহরুর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। অভিযোগ, গান্ধীকে হত্যা করে তারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে! এজন্য সেসময় দেশে তাদের সব তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হয়।

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, কংগ্রেসের সূচনালগ্ন থেকেই চরমপন্থী গোষ্ঠী বর্ণ হিন্দু আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিল। তারা আরএসএস-এর তথাকথিত আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। স্বাধীনতার পরেও তারা আরএসএস-এর সঙ্গে একাত্ম ছিলেন। অভিযোগ, এখনো জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে বিশাল সংখ্যক মানুষ সংঘ পরিবারের সঙ্গে একাত্ম। এজন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিজেপি ও কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই।

আরও পড়ুন:

স্বাধীন ভারতের সংবিধানে প্রথমে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ ছিল না। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সকল আদর্শের উল্লেখ ছিল। পরে ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনীতে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ সংযোজন করা হয়। তা সত্ত্বেও, যেহেতু কংগ্রেসে সব সময় হিন্দু চরমপন্থী এলিমেন্টস খুব সক্রিয় ও শক্তিশালী, এজন্য এদেশে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। এখন তো ক্ষমতাসীন বিজেপি ধর্মনিরপেক্ষতার চরম বিরোধী। তা সত্ত্বেও, তাদের নেতারা প্রায়ই বলে, ভারত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বলে ধর্মনিরপেক্ষ! ঠিক। পৃথিবীতে একমাত্র হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারত। এজন্য পৃথিবীতে একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারত! এসব কূপমন্ডক নেতাদের লজ্জা বলে কিছু নেই। বস্তুত কোন দেশ সফল গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ কিনা, সেই সার্টিফিকেট দেবে সেদেশের সংখ্যালঘু ও দুর্বল শ্রেণির মানুষ। কারণ, তারাই শিকার হয় স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদের।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder