BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

পরকীয়া, ভালবাসা ও দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্র পণ্ডিত

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ৩:২২ | আপডেট: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সকাল ১১:২০
পরিবার হল সমাজের একক। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষই বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করে। স্বামী-স্ত্রী পারস্পরিক ভালবাসার মধ্য দিয়ে পরিবার বা সংসারকে সুখময় স্বর্গে পরিণত করে। তাদের সেই ভালবাসা পরবর্তী প্রজন্ম, অর্থাৎ সন্তানের সার্বিক বিকাশে প্রধান অনুঘটক। ভালবাসা ও বিশ্বাস একই মুদ্রার দুটি পিঠ।

পাভেল আখতার:পরিবার হল সমাজের একক। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষই বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করে। স্বামী-স্ত্রী পারস্পরিক ভালবাসার মধ্য দিয়ে পরিবার বা সংসারকে সুখময় স্বর্গে পরিণত করে। তাদের সেই ভালবাসা পরবর্তী প্রজন্ম, অর্থাৎ সন্তানের সার্বিক বিকাশে প্রধান অনুঘটক। ভালবাসা ও বিশ্বাস একই মুদ্রার দুটি পিঠ। ‘পরকীয়া’ এই দুটি বস্তুর মর্মমূলেই কুঠারাঘাত করে। প্রথমেই স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা অন্তর্হিত হয়, অবশ্য সেটা যে আছে, তা দেখানোর ‘অভিনয়’ চলে, পরে স্বাভাবিকভাবে সন্দেহ ও অবিশ্বাস দানা বাঁধতে শুরু করে। ক্রমশ সংসার তথা পরিবার অশান্তির আগুনে দগ্ধ হতে থাকে। অনেকেই বলবেন, সে তো গোপনীয়তার জন্য, যে গোপনীয়তার আর প্রয়োজন নেই; সৌজন্যে মহামান্য আদালত কর্তৃক স্বীকৃতি! অর্থাৎ, স্বামী বা স্ত্রী এখন থেকে পরস্পরকে জানিয়েই ‘পরকীয়া প্রেম’ করবে। হাস্যকর কথা। অধিকারের আইনি স্বীকৃতি ও তার এ-জাতীয় ব্যাখ্যা এবং সমাজবাস্তবতা এক বস্তু নয়। পরকীয়ার সাথে গোপনীয়তার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, যা অনতিক্রম্য। মনে রাখতে হবে, ‘বিয়ে’ হল একটি পবিত্র সামাজিক চুক্তি, যার প্রেরণায় নারী ও পুরুষ অটুট ভালবাসার মাধ্যমে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে পরস্পরের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে সাংসারিক জীবনে পদার্পণ করে। ‘পরকীয়া’য় এসবের অস্তিত্ব নেই। আরেকটি কথা, ভালবাসা ও বিশ্বাসের সৌরভে প্রস্ফুটিত সুখী ও শান্তিপূর্ণ একটি পরিবারই কিন্তু সু-সন্তানের ও সু-নাগরিকের জন্ম দেয়; পরকীয়ার মাধ্যমে অসুখী ও ক্ষয়ে যাওয়া দাম্পত্য যা দিতে একেবারেই অক্ষম। উল্লেখ্য, পাশ্চাত্য সভ্যতার ‘ভাল’ দিকগুলো গ্রহণে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই, কেবল তাদের বাহ্যিক চাকচিক্যময় কিন্তু পরিণামে ভয়ঙ্কর ব্যাধিগুলোকে স্বাগত জানাতে আমরা যেন ক্রমশ মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে উঠছি! বলাই বাহুল্য, এ এক আত্মঘাতী প্রবণতা! জানি না, ‘আলেয়া’-কে ‘আলো’ ভেবে, ‘মরীচিকা’-কে ‘মরুদ্যান’ ভেবে যে আত্মঘাতী পথচলা সে-পথের শেষ কোথায়!
বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতায় যদি নোবেল পুরস্কার দেওয়ার প্রথা থাকত, তাহলে তার প্রথম প্রাপক হতেন দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। জঙ্গিপুর তথা মুর্শিদাবাদের ভূমিপুত্র এই মানুষটি আজীবন দারিদ্রের সাথে লড়াই করেছেন, কিন্তু তাঁর প্রখর আত্মসম্মানবোধ ও স্বাধীনচেতা মনটি সেই দারিদ্রের কাছে কোনদিনই পরাজিত হয়নি। অত্যন্ত আটপৌরে জীবনে তিনি ছিলেন সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, সততা ও স্পষ্টবাদিতার মূর্ত প্রতীক। এহেন মানুষটি নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও কৃষ্ণনগরের রাজপ্রাসাদে একদিন এসেছেন দ্বিপ্রাহরিক নেমন্তন্ন রক্ষা করতে। তাঁর গুণমুগ্ধা রানি অত্যন্ত সমাদরে তাঁর সামনে পরিবেশন করছেন বিভিন্ন দামি পাত্রে নানা ব্যঞ্জন। দাদাঠাকুর ধীরকণ্ঠে অনুরোধ করলেন একটি ‘অন্য থালা ও বাটি’ আনার জন্য। প্রশ্ন না করে কিঞ্চিৎ বিস্ময় নিয়ে রানি সেসব আনালেন। তারপর বহুমূল্যের পাত্রগুলিতে পরিবেশিত ব্যঞ্জনগুলি থেকে খুব সামান্য ভাত, একটু শুক্তো ও অল্প ডাল তুলে নিয়ে তিনি বিনম্র বচনে বললেন, ‘এই আমার খাবার।’ এবার রানি আর্তনাদ করে উঠলেন। নিজের হাতে যত্ন করে তিনি এসব রান্না করেছেন, অথচ…! দাদাঠাকুর বিনীত কণ্ঠে বললেন, ‘আপনি দুঃখ পাবেন না। আসলে দুপুরের ঠিক এই সময়টাতেই আমার বাড়িতে আমার স্ত্রী ঠিক এই খাবারটাই খাচ্ছে। ওই খাবারগুলো আমার মুখ দিয়ে ঢুকবে না। আমাকে ক্ষমা করবেন।’ রানি বিস্মিত ও নির্বাক। এবং, তাঁর চোখে জল-না, তাঁর রন্ধনশিল্প ব্যর্থ নমস্কারে ফিরে এল সেজন্য নয়, একটি আশ্চর্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ায়!
আমাদের চোখ দুটিও কি ভিজে যায় না? অবশ্যই যায়। এই অসামান্য ও অপার্থিব ভালবাসাকে ব্যাখ্যা করার মতো শব্দ কি অভিধানে সত্যিই আছে? মনে হয় না। পরকীয়া প্রেমের গুণকীর্তনে ব্যস্ত রথী-মহারথীরা এই ভালবাসার কাছে নেহাতই শিশু — এই ভালবাসা থেকে তাদের অবস্থান বহু আলোকবর্ষ দূরে! আজকাল দেখি ‘ভালবাসা ভালবাসা’ করে এত কথার খই ফোটে, অথচ সেইসব ভালবাসার আয়ু দু’দিন বৈ তো নয়! আসলে উচ্চরবে নিনাদিত এই ভালবাসাবাসিগুলি হচ্ছে নিছক ‘মোহ’! আজ এই ডালে, তো কাল ওই ডালে — ইহার নাম তো ‘ভালবাসা’ নহে!
অভিজ্ঞতার আলোয় আজ বোঝা গেছে যে, ‘যথার্থ ভালবাসা’ কেবল বিবাহ-পরবর্তী জীবনেই দৃশ্যমান হওয়া সম্ভব। অনেক ‘যৌক্তিক কারণ’ আছে। দৃশ্যত ভালবাসার বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে যে বিয়ে হ’ল, আর দু’দিন পরেই জানালা দিয়ে সেই ভালবাসা পালিয়েও গেল, তাদের উদ্দেশেই কি রবীন্দ্রনাথ এই গানটি লিখেছিলেন: “সখী, ভালবাসা কারে কয়?”
একটি মানুষকে ভালবাসলে তার সবকিছুই ভালবাসতে হয়। ধর্ম, বিশ্বাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ইত্যাদি সবকিছুই। কথিত ‘ভালবাসা’ আসলে একটি মানুষের ‘স্বাতন্ত্র্য’ বা ‘নিজস্বতা’-কে স্বীকৃতি ও সম্মান জানানো। মানুষটাকে ভালবাসি, অথচ তার ‘নিজস্বতার জায়গাগুলি’-কে নয়, সেই ভালবাসার দাবি অর্থহীন ও ফাঁকিসর্বস্ব। কারণ, স্বতন্ত্রতাকে স্বীকৃতি বা সম্মান জানাতে না-পারার অর্থ একটি মানুষকে ‘খণ্ডিত’ করে দেখা। সেই খণ্ডিত, জীর্ণ দেখায় ‘ভালবাসা’র মতো পবিত্র বস্তুটিও খণ্ডিত হতে বাধ্য। এমনকি সেখানে ভালবাসার অস্তিত্ব আদৌ না-থাকারও সম্ভাবনা প্রবল। স্বীকার্য সত্য হ’ল এই যে, মানুষকে কখনও ‘খণ্ডিত’ করা যায় না। একটি গাছকে ভালবাসার অর্থ গাছের শিকড়, শাখা ও প্রশাখা, পাতা, ফুল ও ফল-সহ গোটা গাছটাকেই ভালবাসা। মানুষও তো গাছের মতোই। আরেকটি কথা। ‘উদার’ শব্দটি আজকাল খুব চর্চিত হয়। বস্তুত, ‘যথার্থ ভালবাসা’র সঙ্গেই সত্যিকারের ‘উদারতা’র নিবিড় ও নিকট সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ, ‘উদার’ না-হলে ভালবাসা যায় না, আর ভালবাসলে ‘উদার’ হতেই হয়। এই যে মাঝেমধ্যে শোনা যায় ‘ছদ্ম-উদারতা’র গল্প, অর্থাৎ কি না একজন ‘উদার’ নন; বরং ‘উদারতার ভাব’ করেন, সেটা ‘ভালবাসা’র মতো মৌলিক গুণটি আসলে অর্জন করতে না-পারার জন্যই।
মজার বিষয় হ’ল, এমন মানুষও সমাজে বিস্তর, যারা আবার ‘নিজেকে সম্মান’ করার মতো ‘মহার্ঘ কথা’টিও বিস্মৃত। সেজন্যই ‘স্বতন্ত্রতা’ বা ‘নিজস্বতা’ বিসর্জন দিতেও তারা কুণ্ঠাহীন। বস্তুত, এটা ‘গৌরবের’ কথা নয়; বরং ‘লজ্জার’ কথা। নিন্দুকেরা বলে থাকেন, ‘ছদ্ম-উদার’দের প্রিয়পাত্র হওয়ার জন্যই নাকি এই ‘আত্ম-অবমাননা’র চর্যা বেছে নেওয়া। ‘পরানুকরণে মত্ত’ হওয়া। কিন্তু, তাদের মনে রাখা উচিত, যেখানে ‘ভালবাসা’ থাকে না (যেহেতু সেখানে ‘উদারতা’ও অনুপস্থিত), সেখানে ‘প্রিয়পাত্র’ হওয়ার কোনও গল্পও রচিত হওয়া অসম্ভব। নিজেকে ভালবাসতে না-পারলে বা সম্মান করতে না-পারলে অন্যকে ভালবাসা ‘অলীক’। এবং, অনভিপ্রেত ‘হীনম্মন্যতা’র ছিদ্রপথে আগত ‘আত্ম-অবমাননা’র উৎস আসলে নিজেকে ভালবাসতে না-পারা। আর, ‘হীনম্মন্যতা’ বস্তুটা যে নিতান্ত ‘অসার’, সেকথাই সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ ”জোনাকি কী সুখে এই ডানা দুটি মেলেছ” এই অপরূপ গীতিনির্ঝরে ভাসিয়ে দিয়েছেন এভাবে: ”তোমার যা আছে তা তোমার আছে, তুমি নও গো ঋণী কারও কাছে, তোমার অন্তরে যে শক্তি আছে, তারই আদেশ পেলেছ…!” উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ‘বড়ত্বের অহমিকা’র বিপ্রতীপে তথাকথিত ‘ছোটত্বের গৌরবগাথা’! আসলে ‘ছোট’ বলে কিছু হয় না। সেটা কেবল একটা ‘নির্মাণ’ মাত্র। বুঝতে হবে।
১৪ ফেব্রুয়ারি অধুনা ‘প্রেম দিবস’ হিসেবে বহুল চর্চিত! এর কয়েকদিন আগে থেকেই মহা-আদিখ্যেতা শুরু হয়ে যায়! বস্তুত, ‘ভালবাসা’ নিয়ে উচ্ছ্বাস বিপুল, অনিয়ন্ত্রিত। ‘ভালবাসা’ নিয়ে নানা কাব্যকথা, দর্শন, অভিব্যক্তির শেষ নেই। কিন্তু, ‘ভাল বাসা’? তা নিয়ে কেউ ভাবিত নয়। ভাবার মতো যেন কোনও বিষয়ই নয়! অথচ, ‘ভাল বাসা’র উপর ‘ভালবাসা’ অনেকটাই নির্ভরশীল। কীভাবে? খুবই সহজ ব্যাপার। আগে জেনে বা বুঝে নিতে হবে যে, একটি ‘ভাল বাসা’ কারে কয়। একটি বা দুটি কথায় ব্যাখ্যা করা মুশকিল। শুধু বলা যায়, যে বাসাটিতে সুস্থ, মনোরম মূল্যবোধের অনুশীলন হয়, যেখানে সকলের মধ্যে উদার, আনন্দঘন, প্রীতিপূর্ণ ও মধুর সম্পর্ক ইত্যাদি বজায় থাকে, সেই বাসাটিকেই বলা যায় ‘ভাল বাসা’। এমন একটি বাসায় একটি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য সঠিকভাবে গঠিত ও বিকশিত হয়। ক্রমান্বয়ে সে একটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও সুন্দর মানুষ হয়ে ওঠে। এবং, ‘ভালবাসা’র নিহিত ব্যঞ্জনাটি তখন তাকে আর শেখাতে হয় না। সে সহজেই বুঝতে পারে যে, ‘ভালবাসা’ একটি ছোট্ট, সংকীর্ণ ‘কুঁয়ো’র জল নয়; বরং তা ‘মহাসমুদ্রের’ বিপুল জলরাশি! আর, একথা বলার প্রয়োজন নেই যে, এই শুদ্ধতম অনুভূতির জাতক হ’ল ওই ‘ভাল বাসা’!
নারী ও পুরুষের ‘প্রেম’ নিয়ে জগৎ-সংসারে এত বেশি শব্দ, বাক্য, সুর প্রবাহিত হয়েছে এবং আজও হয় যে, এই বৃত্তের বাইরে আমরা তাকাতেই ভুলে যাই! কথিত ‘প্রেম’ আমাদের দৃষ্টি, মনন, চেতনাকে এত গভীরভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে, আমরা ‘বৃহৎ সত্যের’ প্রতি অভিনিবিষ্ট তেমনভাবে হতে পারিনি। নর-নারীর প্রেম উৎসারিত রোমান্টিক মাধুর্য দু’জন মানুষের মধ্যেই শুধু সীমাবদ্ধ। সমস্ত ‘লাভ-ক্ষতি’ও নিছক দুই ব্যক্তিকেন্দ্রিক। উপরন্তু, একদা প্রেমের সবুজ আভা কালক্রমে ধূসর, ফিকে হওয়ার আখ্যান আছে। কিন্তু, ‘বৃহৎ সত্যের প্রতি প্রেম’-এর দীপ্তি কোনদিনই ম্লান হয় না। জীবনকে দীপ্ত গরিমা দেয়, অর্থপূর্ণ করে তোলে মহার্ঘ কিছু বোধ, আদর্শ ইত্যাদি; যার একদিকে যদি ব্যক্তি থাকে, তাহলে অপরদিকে বৃহৎ বিশ্বমানবের অস্তিত্ব। ক্ষুদ্র বৃহতের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার মাধ্যমে সীমা ও অসীম যেন একসূত্রে গ্রথিত হয়। সার্থক হয় এই শুদ্ধ রাবীন্দ্রিকতা: ”জীবনে জীবন যোগ করা নইলে কৃত্রিম পণ্যে ব্যর্থ হবে গানের পসরা!”
মানবজীবন খড়-কুটোর মতো ‘তুচ্ছ’ নয়। তাই ‘তুচ্ছ প্রেমেই’ কি তার জীবনাবসান হতে পারে? নর-নারীর প্রেমে কোনও ‘মহিমা’ নেই। অতএব, তা তো ‘তুচ্ছই’। প্রশ্ন এই যে, নর-নারীর প্রেম কি বৃহত্তর মানবচেতনায় প্রাণিত করে তোলে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’-বাচক হয়, তাহলে ঠিক আছে। অন্ধকার থেকে আলোয়, অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানে, মৃত্যু থেকে মৃত্যু-উত্তর অমিয় চেতনায় পৌঁছনোই এই জীবনের সারকথা ও সার্থকতা; সংকীর্ণ গণ্ডিবদ্ধ হওয়াতে নয়। বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ (সা.), চৈতন্য প্রমুখ যেমন সেই গণ্ডি অতিক্রম করে গিয়েছিলেন জগতের সব মানুষকে ভালবেসে!
দেখতে পাচ্ছি, দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্রের কাছে নিতান্ত কাঙাল হৃদয় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজকের তাবৎ প্রেম বা ভালবাসাবিলাসী নারী-পুরুষ!

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder