BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

পড়লে পড়ো, না হয় গাছে চড়ো

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৭ | আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, রাত ৮:৩৬
স্কটল্যান্ড। আকাশটা সেখানে বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা। ঊনিশ শতকের শেষ দিক। ১৮৮৩ সাল। ফরফার নামে এক ছোট্ট শহরে জন্ম নিলেন নীল। বাবা হেডমাস্টার। রাশভারী লোক। মা-ও ভীষণ কড়া। পরিবারে হাসি-ঠাট্টা বারণ। ধর্মভীরু ক্যালভিনিস্ট পরিবার। পান থেকে চুন খসলেই শাস্তি। পড়াশোনায় নীল খুব যে ভাল, তা নয়। বাবার ক্লাসে বসে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত।

সুরাজ পাল:স্কটল্যান্ড। আকাশটা সেখানে বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা। ঊনিশ শতকের শেষ দিক। ১৮৮৩ সাল। ফরফার নামে এক ছোট্ট শহরে জন্ম নিলেন নীল। বাবা হেডমাস্টার। রাশভারী লোক। মা-ও ভীষণ কড়া। পরিবারে হাসি-ঠাট্টা বারণ। ধর্মভীরু ক্যালভিনিস্ট পরিবার। পান থেকে চুন খসলেই শাস্তি। পড়াশোনায় নীল খুব যে ভাল, তা নয়। বাবার ক্লাসে বসে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত। এই বুঝি বেত নেমে আসবে পিঠে! বাবা ভাবতেন, শাসন ছাড়া মানুষ হয় না। বেত না মারলে বখে যাবে ছেলে। নীলের পিঠে সেই বেতের দাগ শুধু চামড়ায় নয়, মনের গভীরেও বসে গিয়েছিল। তিনি দেখেছিলেন, ভয় দেখিয়ে অঙ্ক শেখানো যায়, ব্যাকরণ গেলানো যায়, কিন্তু মানুষ তৈরি করা যায় না। ভয় শুধু ভণ্ডামি শেখায়। শিশু তখন মিথ্যা কথা বলে বাঁচার জন্য। মনে মনে নীল পণ করলেন, বড় হয়ে আমি আর যা-ই হই, বাবার মতো মাস্টার হব না।
অথচ, পেটের দায়ে সেই শিক্ষকতাতেই আসতে হল। প্রথম জীবনে নীলও সাধারণ মাস্টার মশাইদের মতোই ছিলেন। হাতে বেত নিতেন। ধমক দিতেন। যদিও মনটা খচখচ করত। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অপরাধী লাগত। তারপর এল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ১৯১৪ সাল। ইউরোপ জুড়ে মড়ক। হাজার হাজার তরুণ মারা যাচ্ছে ট্রেঞ্চে। নীল ভাবলেন, এই যে এত সুশিক্ষিত মানুষ, যারা স্কুলে ফার্স্ট হয়েছে, তারা কেন যুদ্ধ থামাল না? কেন তারা একে অপরকে মারতে ছুটল? বুঝলেন, এই প্রচলিত শিক্ষা পচে গেছে। এই শিক্ষা শুধু আজ্ঞাবহ দাস তৈরি করে। ওপরওয়ালা হুকুম দেবে, আর নিচে সব ‘ইয়েস স্যার’ বলে মানুষ মারবে। যুদ্ধ শেষে নীল ঠিক করলেন, ‘অনেক হয়েছে। এবার নতুন কিছু করতে হবে। এমন স্কুল চাই, যেখানে বাচ্চারা যুদ্ধ করতে শিখবে না, ভালবাসতে শিখবে।’
১৯২১ সাল। প্রথমে জার্মানি, তারপর অস্ট্রিয়া, শেষে ইংল্যান্ডের নির্জন গ্রাম লেইস্টন। সেখানেই তৈরি হল সামারহিল। চারদিকে জঙ্গল। মাঝখানে একটা লাল ইটের বাড়ি। নীল বললেন, ‘এটা স্কুল নয়, এটা জীবন। এখানে বই পড়ার চেয়ে জীবন পড়া বেশি জরুরি।’ স্কুলের নিয়ম শুনে সবাই আকাশ থেকে পড়ল। ক্লাসে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। সকালবেলা ঘণ্টা বাজে। কিন্তু সেটা ক্লাসে ঢোকার জন্য নয়, ঘুম থেকে ওঠার জন্য। তারপর তোমার ইচ্ছে। তুমি অঙ্ক ক্লাসে যেতে পারো। লাইব্রেরিতে গল্প পড়তে পারো। মাঠে ফুটবল খেলতে পারো। পুকুরধারে বসে মাছ ধরতে পারো। কেউ তোমাকে জিজ্ঞেস করবে না, ‘খোকন, তুমি কেন ক্লাসে আসোনি?’ নীল বিশ্বাস করতেন, ‘জোর করে শেখানো আর ধর্ষণের মধ্যে কোনো তফাত নেই।’ শিখতে হবে ভেতর থেকে। খিদে পেলে মানুষ যেমন খায়, জানার খিদে পেলে তবেই সে পড়বে।
বাইরে থেকে যারা আসত, তারা তো অবাক! এ কী! বাচ্চারা সারাদিন হুল্লোড় করছে! গাছে চড়ছে! সাইকেল চালাচ্ছে! এরা শিখবে কবে? বড় হয়ে তো সব মূর্খ হবে। নীল হাসতেন। পাইপে টান দিয়ে বলতেন, ‘আপনারা শুধু বইটাকেই পড়া ভাবেন, এই যে ছেলেটা সাইকেলের চেন সারাচ্ছে, ও পদার্থবিজ্ঞান শিখছে না? এই যে ওরা দল বেঁধে নাটক করছে, সাহিত্য শিখছে না?’ সামারহিলে একটা ছেলে ছিল। নাম টম। সে কিছুতেই ক্লাসে যেত না। টানা দশ বছর সে শুধু ওয়ার্কশপে কাজ করল। কাঠ কাটল, লোহা পিটল। এক বর্ণও শিখল না। সবাই বলল, ‘গেল ছেলেটা। বখে গেল।’ সতের বছর বয়সে হঠাৎ টম এসে নীলকে বলল, ‘নীল, আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।’ নীল বললেন, ‘বেশ তো। কিন্তু তার জন্য তো অঙ্ক আর ফিজিক্স লাগবে। পড়তে হবে।’ টম বলল, ‘আমি রাজি।’ বিশ্বাস করবেন না, যে ছেলে দশ বছরে বই ছোঁয়নি, সে মাত্র দু-বছরে সব পড়া শেষ করে ফেলল। কারণ, এবার সে ‘চাইছে’। তার লক্ষ্য ঠিক হয়ে গেছে। নীল বলতেন, ‘যে শিশু খেলতে জানে না, সে বাঁচতেও জানে না।’
সামারহিলের সবচেয়ে বড় জাদুর নাম শনিবারের মিটিং। সপ্তাহে একদিন সন্ধেবেলা সবাই হলঘরে জড়ো হয়। সেখানে নীলও বসেন। রাঁধুনিও বসেন। ছ-বছরের বাচ্চাটাও বসে। স্কুল কীভাবে চলবে, তা ঠিক হয় এখানে। মজার ব্যাপার, ভোটের দাম সবার সমান। হেডমাস্টার নীলের ভোটের দাম ‘এক’। ওই ছ’বছরের বাচ্চাটার ভোটের দামও ‘এক’। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সব সিদ্ধান্ত হয়। একবার ভোটাভুটি হল স্কুলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হবে কি না? নীল ধূমপান পছন্দ করতেন। কিন্তু বাচ্চারা ভোট দিয়ে তাঁকে হারিয়ে দিল। নীল হাসিমুখে মেনেও নিলেন। শিশু যখন দেখে তার মতের দাম হেডমাস্টারের সমান, তখন তার আত্মবিশ্বাস কোথায় গিয়ে পৌঁছায়! এটাই আসল গণতন্ত্র। বইয়ে পড়া ‘সিভিকস’ নয়, এ হল যাপনের গণতন্ত্র। এখানে বাচ্চারা শেখে স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। আমি ততক্ষণই স্বাধীন, যতক্ষণ না আমার কাজ অন্যের ক্ষতি করছে।
নীল বলতেন, ‘শিশুরা দুষ্টু হয়ে জন্মায় না। ওরা অ-সুখী হলেই দুষ্টুমি করে।’ যেসব বাচ্চাকে অন্য স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, বাবা-মায়েরা হাল ছেড়ে দিয়েছে, তারা আসত সামারহিলে। চোর, মিথ্যেবাদী, মারকুটে বাচ্চারা। নীল তাদের কোনদিন বকতেন না। উপদেশ দিতেন না। তিনি ব্যবহার করতেন অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব। একবার এক ছেলে বারবার পয়সা চুরি করত। নীল তাকে ডাকলেন। বকলেন না। উল্টে পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে দিলেন। বললেন, ‘তোমার টাকার দরকার? এই নাও।’ ছেলেটা হাঁ হয়ে গেল! যে চুরির জন্য মার খাওয়ার কথা, সেখানে পুরস্কার, তার চুরির নেশাটাই কেটে গেল। সে বুঝল, এই লোকটা তো আমার শত্রু নয়, আমাকে ভালবাসে। নীলের ভাষায়, ‘সমস্যাগ্রস্ত শিশু বলে কিছু নেই; আছে শুধু সমস্যাগ্রস্ত অভিভাবক আর সমস্যাগ্রস্ত মানবসমাজ।’ তিনি ওদের মনের জট খুলতেন। তাঁর ঘরটা ছিল সবসময় খোলা। বাচ্চারা যখন খুশি ঢুকে পড়ত। তাঁকে নাম ধরে ডাকত, স্যার নয়, হুজুর নয়। শুধুই নীল।
সেকালের সমাজ ছিল ভিক্টোরিয়ান সংস্কারে আচ্ছন্ন। শরীর ও যৌনতা নিয়ে কথা বলা পাপ। নীল সেই দেওয়াল ভেঙে চুরমার করে দিলেন। তিনি বললেন, ‘শরীরটা লজ্জার নয়। শরীরটা স্বাভাবিক।’ শিশুরা যদি কৌতুহলবশত নিজেদের শরীর দেখে বা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাহলে সেটাকে পাপ বলা যায় না। বরং, যৌনতাকে গোপন করলেই মনের অসুখ বাড়ে। তাই সর্বোত্তম শিক্ষা হল, যৌনতা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং সাবধান-সতর্ক করা, সংযমের পাঠ দেওয়া। নীল বললেন, ‘মানবপ্রেম অনেক বড় ধর্ম।’ চার্চ গেল ক্ষেপে। সমাজ ছি-ছি করল। পত্রিকায় লেখা হল ‘সামারহিল শয়তানের আখড়া। ওখানে বাচ্চারা বুনো হয়ে যাচ্ছে।’ নীল গ্রাহ্য করলেন না। তিনি জানতেন, তিনি সত্যের পথে আছেন। তিনি চেয়েছিলেন ‘সুখী’ মানুষ গড়তে, ‘ভদ্র’ মুখোশধারী মানুষ নয়।
ব্রিটিশ সরকার বারবার চোখ রাঙিয়েছে। একবার সরকারি ইনস্পেক্টর এলেন স্কুল পরিদর্শনে। ভেবেছিলেন, দেখবেন নরক গুলজার। বাচ্চারা মারামারি করছে, পড়াশোনার বালাই নেই। গিয়ে দেখলেন উল্টো ছবি। হ্যাঁ, বাচ্চারা ইউনিফর্ম পরে নেই, ধুলোমাখা। কিন্তু তাদের চোখে-মুখে অদ্ভুত দীপ্তি। ইনস্পেক্টর ক্লাসে ঢুকে অবাক। বাচ্চারা শিক্ষকের সঙ্গে তর্ক করছে। নির্ভয়ে প্রশ্ন করছে। অন্য স্কুলে ইন্সপেক্টর দেখলে বাচ্চারা ভয়ে চুপ করে যায়। এখানে বাচ্চারা এসে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কে? তোমার হ্যাটটা তো বেশ মজার!’ ইন্সপেক্টর রিপোর্টে লিখলেন, ‘এদের পুঁথিগত বিদ্যা হয়ত কম, কিন্তু এদের ব্যক্তিত্ব, সাহস আর সততা যেকোন পাবলিক স্কুলের ছেলের চেয়ে বেশি।’ বন্ধ করা গেল না সামারহিল। সত্যের জোর বড় বেশি।
অনেকে নীলকে প্রশ্ন করত, ‘আপনার ছাত্ররা বড় হয়ে কী হয়েছে? কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে?’ নীল বিরক্ত হয়ে বলতেন, জীবন মানে কি শুধু ক্যারিয়ার? জীবন কি শুধুই টাকা? তাঁর বিখ্যাত উক্তি, ‘একজন মানসিক রোগগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রী তৈরি করার চেয়ে, আমার স্কুল থেকে একজন সুখী ঝাড়ুদার বের হোক।’ তিনি বলতেন, ডাক্তার হওয়া সহজ, সুখী হওয়া কঠিন। সামারহিল সেই কঠিন কাজটাই করত। সেখান থেকে বেরিয়ে কেউ হয়েছে বিজ্ঞানী, কেউ শিল্পী, কেউ হয়ত সাধারণ মিস্ত্রি। কিন্তু তারা সবাই একটা জিনিস শিখেছে, কীভাবে বুক ফুলিয়ে বাঁচতে হয়। কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়।
বয়স বাড়ল নীলের। চুল পেকে সাদা। মনের তেজ কমল না। ১৯৭৩ সাল। নব্বই বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন। যদিও সামারহিল থামল না। হাল ধরলেন নীলের মেয়ে জো। আজও সেই স্কুল আছে। ঠিক একই নিয়মে চলছে। আজও সেখানে ক্লাসে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আজও সেখানে ছ-বছরের বাচ্চার ভোটের দামে হেডমিস্ট্রেসের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
ফ্রয়েবেল দিয়েছিলেন বাগান। মন্তেসরি দিয়েছিলেন গুছিয়ে কাজ করার আনন্দ। নীল দিলেন মুক্তি। তিনি বললেন, শিশুর ওপর বিশ্বাস রাখো। ওরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বোঝে। আমরা বড়রা নিজেদের ভয়, নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিই। আর বলি ‘তোমার ভালর জন্যই করছি।’ তিনি শেখালেন, শিক্ষা মানে বই গেলা নয়, শিক্ষা মানে নিজেকে চেনা। আজকের দিনে, যখন বাচ্চাদের পিঠে ইয়া বড় বইয়ের ব্যাগ, যখন নম্বরের ইঁদুর দৌড়ে শৈশব পিষে মরছে, তখন এ.এস. নীল বড় প্রাসঙ্গিক। তিনি দূর থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে হয়ত মিটিমিটি হাসছেন আর বলছেন, ‘ভয় পেয়ো না। ওদের ডানাটা কেটে ফেলো না। উড়তে দাও। আকাশটা অনেক বড়।’ সামারহিল শুধু স্কুল নয়। বিদ্রোহ। স্বপ্ন। যে স্বপ্ন বলে, মানুষ জন্মায় স্বাধীন হওয়ার জন্য, শেকলে বাঁধা পড়ার জন্য নয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder