BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

পড়লে পড়ো, না হয় গাছে চড়ো

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৭ | আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, রাত ৮:৩৬
স্কটল্যান্ড। আকাশটা সেখানে বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা। ঊনিশ শতকের শেষ দিক। ১৮৮৩ সাল। ফরফার নামে এক ছোট্ট শহরে জন্ম নিলেন নীল। বাবা হেডমাস্টার। রাশভারী লোক। মা-ও ভীষণ কড়া। পরিবারে হাসি-ঠাট্টা বারণ। ধর্মভীরু ক্যালভিনিস্ট পরিবার। পান থেকে চুন খসলেই শাস্তি। পড়াশোনায় নীল খুব যে ভাল, তা নয়। বাবার ক্লাসে বসে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত।

সুরাজ পাল:স্কটল্যান্ড। আকাশটা সেখানে বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা। ঊনিশ শতকের শেষ দিক। ১৮৮৩ সাল। ফরফার নামে এক ছোট্ট শহরে জন্ম নিলেন নীল। বাবা হেডমাস্টার। রাশভারী লোক। মা-ও ভীষণ কড়া। পরিবারে হাসি-ঠাট্টা বারণ। ধর্মভীরু ক্যালভিনিস্ট পরিবার। পান থেকে চুন খসলেই শাস্তি। পড়াশোনায় নীল খুব যে ভাল, তা নয়। বাবার ক্লাসে বসে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত। এই বুঝি বেত নেমে আসবে পিঠে! বাবা ভাবতেন, শাসন ছাড়া মানুষ হয় না। বেত না মারলে বখে যাবে ছেলে। নীলের পিঠে সেই বেতের দাগ শুধু চামড়ায় নয়, মনের গভীরেও বসে গিয়েছিল। তিনি দেখেছিলেন, ভয় দেখিয়ে অঙ্ক শেখানো যায়, ব্যাকরণ গেলানো যায়, কিন্তু মানুষ তৈরি করা যায় না। ভয় শুধু ভণ্ডামি শেখায়। শিশু তখন মিথ্যা কথা বলে বাঁচার জন্য। মনে মনে নীল পণ করলেন, বড় হয়ে আমি আর যা-ই হই, বাবার মতো মাস্টার হব না।
অথচ, পেটের দায়ে সেই শিক্ষকতাতেই আসতে হল। প্রথম জীবনে নীলও সাধারণ মাস্টার মশাইদের মতোই ছিলেন। হাতে বেত নিতেন। ধমক দিতেন। যদিও মনটা খচখচ করত। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অপরাধী লাগত। তারপর এল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ১৯১৪ সাল। ইউরোপ জুড়ে মড়ক। হাজার হাজার তরুণ মারা যাচ্ছে ট্রেঞ্চে। নীল ভাবলেন, এই যে এত সুশিক্ষিত মানুষ, যারা স্কুলে ফার্স্ট হয়েছে, তারা কেন যুদ্ধ থামাল না? কেন তারা একে অপরকে মারতে ছুটল? বুঝলেন, এই প্রচলিত শিক্ষা পচে গেছে। এই শিক্ষা শুধু আজ্ঞাবহ দাস তৈরি করে। ওপরওয়ালা হুকুম দেবে, আর নিচে সব ‘ইয়েস স্যার’ বলে মানুষ মারবে। যুদ্ধ শেষে নীল ঠিক করলেন, ‘অনেক হয়েছে। এবার নতুন কিছু করতে হবে। এমন স্কুল চাই, যেখানে বাচ্চারা যুদ্ধ করতে শিখবে না, ভালবাসতে শিখবে।’
১৯২১ সাল। প্রথমে জার্মানি, তারপর অস্ট্রিয়া, শেষে ইংল্যান্ডের নির্জন গ্রাম লেইস্টন। সেখানেই তৈরি হল সামারহিল। চারদিকে জঙ্গল। মাঝখানে একটা লাল ইটের বাড়ি। নীল বললেন, ‘এটা স্কুল নয়, এটা জীবন। এখানে বই পড়ার চেয়ে জীবন পড়া বেশি জরুরি।’ স্কুলের নিয়ম শুনে সবাই আকাশ থেকে পড়ল। ক্লাসে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। সকালবেলা ঘণ্টা বাজে। কিন্তু সেটা ক্লাসে ঢোকার জন্য নয়, ঘুম থেকে ওঠার জন্য। তারপর তোমার ইচ্ছে। তুমি অঙ্ক ক্লাসে যেতে পারো। লাইব্রেরিতে গল্প পড়তে পারো। মাঠে ফুটবল খেলতে পারো। পুকুরধারে বসে মাছ ধরতে পারো। কেউ তোমাকে জিজ্ঞেস করবে না, ‘খোকন, তুমি কেন ক্লাসে আসোনি?’ নীল বিশ্বাস করতেন, ‘জোর করে শেখানো আর ধর্ষণের মধ্যে কোনো তফাত নেই।’ শিখতে হবে ভেতর থেকে। খিদে পেলে মানুষ যেমন খায়, জানার খিদে পেলে তবেই সে পড়বে।
বাইরে থেকে যারা আসত, তারা তো অবাক! এ কী! বাচ্চারা সারাদিন হুল্লোড় করছে! গাছে চড়ছে! সাইকেল চালাচ্ছে! এরা শিখবে কবে? বড় হয়ে তো সব মূর্খ হবে। নীল হাসতেন। পাইপে টান দিয়ে বলতেন, ‘আপনারা শুধু বইটাকেই পড়া ভাবেন, এই যে ছেলেটা সাইকেলের চেন সারাচ্ছে, ও পদার্থবিজ্ঞান শিখছে না? এই যে ওরা দল বেঁধে নাটক করছে, সাহিত্য শিখছে না?’ সামারহিলে একটা ছেলে ছিল। নাম টম। সে কিছুতেই ক্লাসে যেত না। টানা দশ বছর সে শুধু ওয়ার্কশপে কাজ করল। কাঠ কাটল, লোহা পিটল। এক বর্ণও শিখল না। সবাই বলল, ‘গেল ছেলেটা। বখে গেল।’ সতের বছর বয়সে হঠাৎ টম এসে নীলকে বলল, ‘নীল, আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।’ নীল বললেন, ‘বেশ তো। কিন্তু তার জন্য তো অঙ্ক আর ফিজিক্স লাগবে। পড়তে হবে।’ টম বলল, ‘আমি রাজি।’ বিশ্বাস করবেন না, যে ছেলে দশ বছরে বই ছোঁয়নি, সে মাত্র দু-বছরে সব পড়া শেষ করে ফেলল। কারণ, এবার সে ‘চাইছে’। তার লক্ষ্য ঠিক হয়ে গেছে। নীল বলতেন, ‘যে শিশু খেলতে জানে না, সে বাঁচতেও জানে না।’
সামারহিলের সবচেয়ে বড় জাদুর নাম শনিবারের মিটিং। সপ্তাহে একদিন সন্ধেবেলা সবাই হলঘরে জড়ো হয়। সেখানে নীলও বসেন। রাঁধুনিও বসেন। ছ-বছরের বাচ্চাটাও বসে। স্কুল কীভাবে চলবে, তা ঠিক হয় এখানে। মজার ব্যাপার, ভোটের দাম সবার সমান। হেডমাস্টার নীলের ভোটের দাম ‘এক’। ওই ছ’বছরের বাচ্চাটার ভোটের দামও ‘এক’। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সব সিদ্ধান্ত হয়। একবার ভোটাভুটি হল স্কুলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হবে কি না? নীল ধূমপান পছন্দ করতেন। কিন্তু বাচ্চারা ভোট দিয়ে তাঁকে হারিয়ে দিল। নীল হাসিমুখে মেনেও নিলেন। শিশু যখন দেখে তার মতের দাম হেডমাস্টারের সমান, তখন তার আত্মবিশ্বাস কোথায় গিয়ে পৌঁছায়! এটাই আসল গণতন্ত্র। বইয়ে পড়া ‘সিভিকস’ নয়, এ হল যাপনের গণতন্ত্র। এখানে বাচ্চারা শেখে স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। আমি ততক্ষণই স্বাধীন, যতক্ষণ না আমার কাজ অন্যের ক্ষতি করছে।
নীল বলতেন, ‘শিশুরা দুষ্টু হয়ে জন্মায় না। ওরা অ-সুখী হলেই দুষ্টুমি করে।’ যেসব বাচ্চাকে অন্য স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, বাবা-মায়েরা হাল ছেড়ে দিয়েছে, তারা আসত সামারহিলে। চোর, মিথ্যেবাদী, মারকুটে বাচ্চারা। নীল তাদের কোনদিন বকতেন না। উপদেশ দিতেন না। তিনি ব্যবহার করতেন অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব। একবার এক ছেলে বারবার পয়সা চুরি করত। নীল তাকে ডাকলেন। বকলেন না। উল্টে পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে দিলেন। বললেন, ‘তোমার টাকার দরকার? এই নাও।’ ছেলেটা হাঁ হয়ে গেল! যে চুরির জন্য মার খাওয়ার কথা, সেখানে পুরস্কার, তার চুরির নেশাটাই কেটে গেল। সে বুঝল, এই লোকটা তো আমার শত্রু নয়, আমাকে ভালবাসে। নীলের ভাষায়, ‘সমস্যাগ্রস্ত শিশু বলে কিছু নেই; আছে শুধু সমস্যাগ্রস্ত অভিভাবক আর সমস্যাগ্রস্ত মানবসমাজ।’ তিনি ওদের মনের জট খুলতেন। তাঁর ঘরটা ছিল সবসময় খোলা। বাচ্চারা যখন খুশি ঢুকে পড়ত। তাঁকে নাম ধরে ডাকত, স্যার নয়, হুজুর নয়। শুধুই নীল।
সেকালের সমাজ ছিল ভিক্টোরিয়ান সংস্কারে আচ্ছন্ন। শরীর ও যৌনতা নিয়ে কথা বলা পাপ। নীল সেই দেওয়াল ভেঙে চুরমার করে দিলেন। তিনি বললেন, ‘শরীরটা লজ্জার নয়। শরীরটা স্বাভাবিক।’ শিশুরা যদি কৌতুহলবশত নিজেদের শরীর দেখে বা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাহলে সেটাকে পাপ বলা যায় না। বরং, যৌনতাকে গোপন করলেই মনের অসুখ বাড়ে। তাই সর্বোত্তম শিক্ষা হল, যৌনতা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং সাবধান-সতর্ক করা, সংযমের পাঠ দেওয়া। নীল বললেন, ‘মানবপ্রেম অনেক বড় ধর্ম।’ চার্চ গেল ক্ষেপে। সমাজ ছি-ছি করল। পত্রিকায় লেখা হল ‘সামারহিল শয়তানের আখড়া। ওখানে বাচ্চারা বুনো হয়ে যাচ্ছে।’ নীল গ্রাহ্য করলেন না। তিনি জানতেন, তিনি সত্যের পথে আছেন। তিনি চেয়েছিলেন ‘সুখী’ মানুষ গড়তে, ‘ভদ্র’ মুখোশধারী মানুষ নয়।
ব্রিটিশ সরকার বারবার চোখ রাঙিয়েছে। একবার সরকারি ইনস্পেক্টর এলেন স্কুল পরিদর্শনে। ভেবেছিলেন, দেখবেন নরক গুলজার। বাচ্চারা মারামারি করছে, পড়াশোনার বালাই নেই। গিয়ে দেখলেন উল্টো ছবি। হ্যাঁ, বাচ্চারা ইউনিফর্ম পরে নেই, ধুলোমাখা। কিন্তু তাদের চোখে-মুখে অদ্ভুত দীপ্তি। ইনস্পেক্টর ক্লাসে ঢুকে অবাক। বাচ্চারা শিক্ষকের সঙ্গে তর্ক করছে। নির্ভয়ে প্রশ্ন করছে। অন্য স্কুলে ইন্সপেক্টর দেখলে বাচ্চারা ভয়ে চুপ করে যায়। এখানে বাচ্চারা এসে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কে? তোমার হ্যাটটা তো বেশ মজার!’ ইন্সপেক্টর রিপোর্টে লিখলেন, ‘এদের পুঁথিগত বিদ্যা হয়ত কম, কিন্তু এদের ব্যক্তিত্ব, সাহস আর সততা যেকোন পাবলিক স্কুলের ছেলের চেয়ে বেশি।’ বন্ধ করা গেল না সামারহিল। সত্যের জোর বড় বেশি।
অনেকে নীলকে প্রশ্ন করত, ‘আপনার ছাত্ররা বড় হয়ে কী হয়েছে? কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে?’ নীল বিরক্ত হয়ে বলতেন, জীবন মানে কি শুধু ক্যারিয়ার? জীবন কি শুধুই টাকা? তাঁর বিখ্যাত উক্তি, ‘একজন মানসিক রোগগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রী তৈরি করার চেয়ে, আমার স্কুল থেকে একজন সুখী ঝাড়ুদার বের হোক।’ তিনি বলতেন, ডাক্তার হওয়া সহজ, সুখী হওয়া কঠিন। সামারহিল সেই কঠিন কাজটাই করত। সেখান থেকে বেরিয়ে কেউ হয়েছে বিজ্ঞানী, কেউ শিল্পী, কেউ হয়ত সাধারণ মিস্ত্রি। কিন্তু তারা সবাই একটা জিনিস শিখেছে, কীভাবে বুক ফুলিয়ে বাঁচতে হয়। কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়।
বয়স বাড়ল নীলের। চুল পেকে সাদা। মনের তেজ কমল না। ১৯৭৩ সাল। নব্বই বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন। যদিও সামারহিল থামল না। হাল ধরলেন নীলের মেয়ে জো। আজও সেই স্কুল আছে। ঠিক একই নিয়মে চলছে। আজও সেখানে ক্লাসে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আজও সেখানে ছ-বছরের বাচ্চার ভোটের দামে হেডমিস্ট্রেসের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
ফ্রয়েবেল দিয়েছিলেন বাগান। মন্তেসরি দিয়েছিলেন গুছিয়ে কাজ করার আনন্দ। নীল দিলেন মুক্তি। তিনি বললেন, শিশুর ওপর বিশ্বাস রাখো। ওরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বোঝে। আমরা বড়রা নিজেদের ভয়, নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিই। আর বলি ‘তোমার ভালর জন্যই করছি।’ তিনি শেখালেন, শিক্ষা মানে বই গেলা নয়, শিক্ষা মানে নিজেকে চেনা। আজকের দিনে, যখন বাচ্চাদের পিঠে ইয়া বড় বইয়ের ব্যাগ, যখন নম্বরের ইঁদুর দৌড়ে শৈশব পিষে মরছে, তখন এ.এস. নীল বড় প্রাসঙ্গিক। তিনি দূর থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে হয়ত মিটিমিটি হাসছেন আর বলছেন, ‘ভয় পেয়ো না। ওদের ডানাটা কেটে ফেলো না। উড়তে দাও। আকাশটা অনেক বড়।’ সামারহিল শুধু স্কুল নয়। বিদ্রোহ। স্বপ্ন। যে স্বপ্ন বলে, মানুষ জন্মায় স্বাধীন হওয়ার জন্য, শেকলে বাঁধা পড়ার জন্য নয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder