BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও হাফিজ শিরাজি: দুই সভ্যতার কাব্যিক সংলাপ

প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বিকাল ৪:০৮ | আপডেট: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বিকাল ৪:২৩
বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে কিছু কবি আছেন, যাঁদের কণ্ঠস্বর ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে মানব-আত্মার গভীরে পৌঁছে যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর হাফিজ শিরাজি সেই বিরল শ্রেণির দুই প্রতিনিধি। একজন ঊনবিংশ-বিংশ শতকের বঙ্গদেশের কবি, অন্যজন চতুর্দশ শতকের পারস্যের সুফি সাধক -- তবু প্রেম, সৌন্দর্য, বিশ্ববিধাতা ও মানবজীবন সম্পর্কে তাঁদের কাব্যিক অনুসন্ধানে আশ্চর্য মিল লক্ষ্য করা যায়।

রফিক আনোয়ার:বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে কিছু কবি আছেন, যাঁদের কণ্ঠস্বর ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে মানব-আত্মার গভীরে পৌঁছে যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর হাফিজ শিরাজি সেই বিরল শ্রেণির দুই প্রতিনিধি। একজন ঊনবিংশ-বিংশ শতকের বঙ্গদেশের কবি, অন্যজন চতুর্দশ শতকের পারস্যের সুফি সাধক — তবু প্রেম, সৌন্দর্য, বিশ্ববিধাতা ও মানবজীবন সম্পর্কে তাঁদের কাব্যিক অনুসন্ধানে আশ্চর্য মিল লক্ষ্য করা যায়।
হাফিজ শিরাজি (১৩১৫–১৩৯০) জন্মেছিলেন পারস্যের শিরাজ নগরে। তাঁর গজল-সমূহ পারস্য সাহিত্যকে শুধু সমৃদ্ধই করেনি; বরং সুফি দর্শনের এক গভীর কাব্যিক রূপ পেশ করে। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) ঔপনিবেশিক ভারতের প্রেক্ষাপটে বেড়ে উঠেও পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের মধ্যে এক সেতুবন্ধন গড়ে তোলেন।
দুই কবিই নিজ নিজ সভ্যতার কেন্দ্রে অবস্থান করেও ছিলেন বিশ্বমানবের। তাঁদের সাহিত্য কোনো সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদে আবদ্ধ নয়; বরং মানবাত্মার মুক্তির দিকেই তাঁদের দৃষ্টি নিবদ্ধ।
প্রেম মানবিক, আবার একইসঙ্গে আধ্যাত্মিকও বটে! হাফিজের কবিতায় প্রেম এক বহুমাত্রিক সত্তা। বাহ্যত তা প্রেয়সীর প্রতি আকর্ষণ মনে হলেও, সুফি পাঠে সেই প্রেম আসলে স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণ। অনন্য নির্মাণ ও সৃজন-চিত্রকল্পে হাফিজ ইন্দ্রিয় ও আধ্যাত্মিকতার ভেদরেখা ভেঙে দেন।
রবীন্দ্রনাথের প্রেমভাবনাও দ্বৈত — মানবপ্রেম ও ঈশ্বরপ্রেমের এক গভীর মেলবন্ধন। গীতাঞ্জলি-তে তিনি লিখেছেন, ঈশ্বর মানুষের মধ্যেই প্রকাশিত।
‘তুমি আছো সকলের সঙ্গে, সকলের মাঝে’ — এই উপলব্ধি রবীন্দ্রনাথকে হাফিজের খুব কাছে এনে দেয়। হাফিজের বিধাতা কোনো কঠোর বিধানদাতা নন; তিনি প্রেমিক, বন্ধু, কখনো রহস্যময় প্রিয়া। ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে হাফিজ ছিলেন স্পষ্টতই বিদ্রোহী।
রবীন্দ্রনাথও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে চেয়েছেন। তাঁর ব্রহ্মবোধ মানবিক, উদার আর নৈতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। উভয়ের কাছেই বিশ্ববিধাতা মানে মুক্তি — ভয়ের নয়, আনন্দের।
রবীন্দ্রনাথের কবিতায় প্রকৃতি এক জীবন্ত সত্তা — আকাশ, নদী, ঋতু মানুষের অনুভূতির প্রতিধ্বনি হয়ে ওঠে। হাফিজের কবিতায়ও গোলাপ, বসন্ত, মদিরা, বাগান — সবই প্রতীক, যা পার্থিব সৌন্দর্যের আড়ালে এক চিরন্তন সত্যের ইঙ্গিত দেয়।
দু’জনেই সৌন্দর্যকে সত্যের পথ হিসেবে দেখেছেন। ভাষা ও কাব্যরীতির ক্ষেত্রে হাফিজের গজল সংক্ষিপ্ত, ঘন, প্রতীকধর্মী। এক একটি শের যেন বহুস্তর বিশিষ্ট অর্থের ভাণ্ডার। রবীন্দ্রনাথের কবিতা তুলনামূলক বিস্তৃত, সংগীতধর্মী ও ভাবপ্রবণ। তবু উভয়ের ভাষাতেই রয়েছে এক ধরনের স্বাভাবিকতা, যা পাঠককে সহজেই টেনে রাখে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও হাফিজ শিরাজি — দুই আলাদা সময়, দুই আলাদা ভাষা, দুই আলাদা ধর্মীয় পরিসর। তবু তাঁদের কবিতা প্রমাণ করে, মানবসত্তার প্রশ্নগুলো চিরন্তন। প্রেম, ঈশ্বর, সৌন্দর্য ও মুক্তির সন্ধান — এই বিষয়গুলোতে তাঁরা যেন একে অপরের সঙ্গে নীরব সংলাপে লিপ্ত। এই সংলাপই বিশ্বসাহিত্যের আসল শক্তি, যেখানে ভিন্নতা মিলনের পথে বাধা নয়; বরং গভীরতার উৎস।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর রাতে ঘুমোবার সময় হাফিজের দিওয়ান বা কবিতাগুচ্ছ পড়তেন। আর তাঁর মাথার বালিশের নিচে রেখে ঘুমিয়ে পড়তেন। তাই তাঁকে ‘হাফিজের হাফিজ’ বলা হত। রবি ঠাকুর নিজেও সেকথা বলেছেন। এমনকি ১৯৩২’তে ইরান সফরকালে রবীন্দ্রনাথ শিরাজ নগরীতে হাফিজের মাজারে হাজিরাও দেন। তদানীন্তন ইরানের শাসক রেজা শাহের আমন্ত্রণে রবি ঠাকুরের ওই সফর। ১৯৩২’র ১১ এপ্রিল নিজের বউমা প্রতিমা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে বিমানযাত্রা করেন। ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দর শহর ‘বুশেহর’ পৌঁছন। তারপর ১৬ এপ্রিল পৌঁছে যান হাফিজের শহর শিরাজে। সেখানে তিনি ফার্সির দুই কালজয়ী কবি সাদি ও হাফিজের মাজারে হাজিরা দেন। ভল্টেয়ারের (যাঁকে সাদি নামে ডাকা হত) মতো রবি ঠাকুরও সাদি-হাফিজের ভক্ত ছিলেন। বিশেষ করে হাফিজের সঙ্গে তিনি একরকম আত্মীয়তার সম্পর্কও অনুভব করতেন। অনেকের মনেই ধারণা জন্মে, রবি ঠাকুরের ওই অনুভূতি হয়ত তাঁর লালন-পালনের জেরেই।
রবি ঠাকুরের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচিতি ছিল ‘হাফিজের অনুরাগী’ হিসেবে। তিনি তাঁর বাল্যকালের সাঁঝবেলাগুলির স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বলেছিলেন: ‘আমি আমার মাঝরাত পর্যন্ত কাটিয়ে দিতাম স্তবগান আর হাফিজের কবিতা আবৃত্তিতে।’ হাফিজের প্রতি এই অনুরাগের স্রোত-ধারাই তাঁর ছেলে রবি ঠাকুরের মধ্যেও বয়ে যায়। ইরান সফরকালে ইস্ফাহান শহরে এক অনুষ্ঠানে রবি ঠাকুর বলেন: ‘হাফিজের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে বাবার মাধ্যমেই। বাবা আমাকে প্রায়ই হাফিজের কবিতা শোনাতেন। তা শুনে আমার মনে হত, কবিতাগুলি যেন দূর থেকে আমায় ডাক দিচ্ছে। কবি (হাফিজ) কিন্তু আমার কাছেই।’ (They seemed to me like a greeting from a faraway poet who was yet near to me)। ব্রিটিশ লাইব্রেরি’র ‘Untold Lives Blog’-তে প্রথম প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, রবি ঠাকুরের সঙ্গে হাফিজের সম্পর্ক ছিল কবিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে। হাফিজের মাজারে হাজিরা দেওয়ার সময় রবি ঠাকুর চোখ বন্ধ করে একাকী সমাধির সামনে বসে চারণ কবিতা বলতে থাকেন: ‘এক স্পষ্ট অনুভূতি আজ আমায় পেয়ে বসেছে। যেন বহু শতাব্দীর পথ পেরিয়ে, জন্ম-মৃত্যুর বহু পরিসরসীমা পারাপার করে… এই আরেক পথিক… হাফিজের সঙ্গে তার মেলবন্ধনের খোঁজ পেয়েছে।’ (I had the distinct feeling that after a lapse of many centuries, across the span of many births and deaths … another wayfarer … had found his bond with Hafez)। এই কথাগুলি রবি ঠাকুর নিজেই লেখেন পরবর্তী কালে। ওই বছরই জুন মাসের শুরুর দিকে সফর শেষে কলকাতা যাত্রার আগে রবি ঠাকুর হাফিজের স্মরণে একটি স্তুতি-কবিতা রচনা করেন। তিনি লেখেন: “Iran, all the roses in thy garden / and all their lover birds / have acclaimed the birthday / of the poet of a far-away shore / and mingled their voices in a pair of rejoicing.… And in return I bind this wreath of my verse / on thy forehead, and I cry: Victory to Iran!”
(“ইরান! তোমার বাগিচাতে আজি হাজির হরেক গোলাপ; / জমিয়েছে ভিড় গোলাপ-প্রেমী পাখিদের দল সব; / কণ্ঠে তাদের সাগরতীরের কবিকে স্বাগত-রব; / জয়গান-সুরে সুর মিলিয়ে একাকার আজ সব…… /… প্রতিদানে রাখি মোর কবিতার গোলাপগুঞ্চা খানি; / তব ললাটের ‘পরে; আর হাঁকাই- হোক ইরান জয়ী।”
(আমি কবিগুরুর ওই কবিতাটি অনেক খুঁজেও পাইনি। তাই ইংরেজি ট্রান্সলেশনকে সামনে রেখে একটু কবিতাচ্ছলে লাইনগুলোকে তুলে ধরার অতি-দুর্বল এক প্রয়াস চালিয়েছি মাত্র। ভুল-ত্রুটি মাফ করবেন)।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder