BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

তসলিমা থেকে তিলোত্তমা সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:২৫ | আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:২৫

মনিরুল ইসলাম তপন

আরও পড়ুন:

তিলোত্তমা মজুমদার নামে এক লেখিকার সাম্প্রতিক চরম মুসলিম বিদ্বেষী কিছু মন্তব্যে পরিবেশ উত্তপ্ত। বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক চলছে। এই বিতর্কের শিকড় অনেক পুরনো। মুসলমান সমাজকে সন্দেহের চোখে দেখা, অ-বাঙালি বানানো, অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়া, কখনও পাকিস্তান, কখনও বাংলাদেশে পাঠানোর নিদান — এই সাম্প্রদায়িক খেলা বহুদিন আগে সাহিত্যেও ঢুকে পড়েছিল। বেশ কিছু বছর আগে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত তসলিমা নাসরিন সেই ছককে নাস্তিকতার নামে বাজারজাত করেন। আজ তিলোত্তমা সেই একই ছককে বিজেপির ভাষার সাথে মিলিয়ে বাংলার পরিবেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন।
তিলোত্তমার বক্তব্য কোনো সাহিত্যিকের ভাষা নয়, বুদ্ধিজীবীর কথা নয়, কোনো সুস্থ মানুষের ভাষা নয়, এ ভাষা হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের ভাষা। অসমে যেমন মুসলমানদের রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী, অনুপ্রবেশকারী, বহিরাগত ইত্যাদি বলা হয়; তিলোত্তমার কথাও একই সুরে বাঁধা। এ ভাষা কোনো রুচিশীল লেখিকার ভাষা নয়, এটা সরাসরি গোবলয়ের হিন্দুত্ববাদী ন্যারেটিভের বাংলা সংস্করণ।
মুসলমানকে ‘অপর’করার এই ন্যারেটিভ আজকের নয়। এ রোগ অনেক পুরোনো। ঊনিশ শতকের ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাবে বাংলা সাহিত্যের কিছু অংশে মুসলিম চরিত্রকে দীর্ঘদিন খল হিসেবে দেখানো হয়েছে। গবেষকরা লিখেছেন, ব্রিটিশরা “হিন্দু সোনার যুগ বনাম মুসলিম অন্ধকার যুগ”এই ভ্রান্ত ইতিহাস আমাদের মগজে চাপিয়ে দিয়েছিল, যার প্রভাব বঙ্কিমচন্দ্রের রচনাতেও পড়েছিল। “আনন্দমঠ”, “রাজসিংহ” বা “দেবী চৌধুরাণী”-র মুসলিম শাসকরা তাই প্রায়শই বর্বর, বিদেশি, দখলদার হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। বিষাক্ত ইতিহাস আর কলঙ্কিত সাহিত্য চর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠা তিলোত্তমার মুখের ভাষায় আজ সেই পুরনো ছকই প্রতীয়মান। হুবহু সেই সন্দেহ, সেই ঘৃণা, মুসলিমকে সেই ভিনদেশী বলে তুচ্ছ করার ভয়ংকর প্রবণতা।
বাংলার মুসলমানরা এই মাটির অন্তর্গত রক্তধারা। বাংলা সংস্কৃতির মূল সুর তাঁদের কণ্ঠে বেজেছে। লালন, আব্বাসউদ্দিন, বাউল-ফকির, হাসন রাজা — এই বাংলার আত্মাকে গড়েছেন। বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রক্তও ছিল মুসলমান বাঙালির রক্ত। বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে যে জীবনগুলি উৎসর্গ হয়েছে, সেখানেও বাঙালি মুসলমানদের নাম।
শতাব্দীর সেরা বাঙালিদের তালিকায় শীর্ষে থাকা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন মুসলমান বাঙালি। যাদের কণ্ঠ, যাদের সিদ্ধান্ত, যাদের সাহস না থাকলে আজ বাঙালি জাতি দাঁড়াতই না। মুসলমানরাই তো বাঙালিয়ানার সবচেয়ে উজ্জ্বল স্তম্ভ। হিন্দুত্ববাদীর চশমা পরিহিতা তিলোত্তমারা এসব বুঝেও না বোঝার ভান করেন। সাম্প্রদায়িকতার চশমা পরে ছদ্মবেশি সেকুলার তিলোত্তমাদের মুসলিমাতঙ্ক। মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখতেই ওঁরা ভালবাসেন। এদের সবথেকে বড় সীমাবদ্ধতা হল, সত্যিটা দেখেন না বা দেখতে চান না। ওঁরা মুসলমানদের শুধু দোষ দেখাতেই ব্যস্ত। কিন্তু বিশ্ব ইতিহাসে ধর্মীয় সন্ত্রাসের সবথেকে ভয়ঙ্কর উদাহরণগুলো মুসলমানদের নয়, বরং অমুসলিম রাষ্ট্র এবং সমাজের।
তিলোত্তমার সাম্প্রতিক মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য কেবল একজন লেখিকার ‘ব্যক্তিগত মতামত’-এর প্রতিক্রিয়া নয়। এটি সেই বিদ্বেষেরই নতুন সংস্করণ, যেটি বহু বছর আগে তসলিমা নাসরিনের কলমে ফুটে উঠেছিল। তীব্র মুসলিম বিদ্বেষী তসলিমা একসময় নাস্তিকতার ছদ্মবেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কলম ধরে যে ঘৃণার বীজ বপন করেছিলেন, তিলোত্তমা সেই বীজকেই বিজেপির জল, হাওয়া আর রাজনৈতিক সার মিশিয়ে পুষ্ট করছেন। নারী নির্যাতন, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস — এসব সব ধর্মেই আছে; কিন্তু তসলিমা, তিলোত্তমাদের নজর শুধু মুসলিমদের দিকেই।
তিলোত্তমা তাঁর যথার্থ পূর্বসূরীর পথেই হাঁটছেন। তাঁর মুখে শোনা গেল সরাসরি বিজেপির ভোট রাজনীতির প্রতিধ্বনি। তাঁর ভাষা কট্টর বিজেপি নেতাদের কপি—পেস্ট। “মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী”— এ ধারণা আসলে হিন্দুত্ববাদী প্রচারের প্রতিধ্বনি। ইতিহাস পরিক্রমায় দেখা যায়, ধর্মের সঙ্গে সন্ত্রাসের যোগসূত্র নেই, আবার সন্ত্রাসবাদীদের কোনো ধর্ম হয় না। রাজনীতির কারবারীদের একাংশ ভোটের স্বার্থে সন্ত্রাস করে বিশেষ জাত, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেয়। অতীত বলছে, সবথেকে ভয়াবহ সন্ত্রাস ঘটেছে অমুসলিমদের হাতেই। বিশেষ করে খ্রিস্টান ও ইহুদীদের দ্বারা।
মায়ানমারে বৌদ্ধ সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেটি একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ। শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ উগ্রবাদীরাও একই পথ অনুসরণ করেছে। তিব্বতে বৌদ্ধ মঠে সন্ন্যাসিনীদের উপর রোমহর্ষক যৌন নির্যাতনের খবর বহুবার এসেছে। ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর ইসরাইল বা যায়নবাদীরা যে ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালাচ্ছে, সেসব কি সন্ত্রাস নয়? ৯/১১ এর পর মিথ্যা অভিযোগ ও অজুহাতে ডজন খানেক মুসলিম দেশের ওপর কথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যেভাবে কবরস্থান ও এতিম, বিধবার দেশে পরিণত করেছে পশ্চিমা ন্যাটো জোট, তা কি সন্ত্রাস নয়? খ্রিস্টান ইউরোপে ক্রুসেডের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় খ্রিস্টান মিশনারীরা আদিবাসীদের জোর করে ধর্মান্তর করেছে, উপাসনালয় ভেঙেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “কু ক্লুক্স ক্ল্যান”নামে সাদা চামড়ার চরমপন্থী খ্রিস্টান সংগঠন শতাব্দীর পর শতাব্দী কৃষ্ণাঙ্গদের হত্যা করেছে, মুসলমান ও ইহুদিদের উপর নারকীয় প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ ও ইউরোপীয় সৈন্যরা নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে।
যায়নবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল সাড়ে সাত দশক ধরে ফিলিস্তিনে প্রতিদিন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। নারী ও শিশু হত্যা, হাসপাতাল ধ্বংস, গাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, সাংবাদিক হত্যা — এসব বিশ্বজুড়ে মানুষ চোখের সামনে ঘটছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তিলোত্তমাদের চোখে এসব সন্ত্রাস ধরা পড়ে না। গুজরাত দাঙ্গা, দিল্লি দাঙ্গা, মুজফফরনগর, খারগোন, হরিয়ানা, মণিপুর — সর্বত্র সংখ্যালঘু ও দলিতদের উপর হামলা হয়েছে, নারীরা গণধর্ষিত হয়েছে, ঘর বাড়ি জ্বালানো হয়েছে। কিন্তু এসব দেখেও তিলোত্তমারা চুপ থাকেন। তাঁদের ঘৃণা কেবল মুসলমানদের প্রতিই।
কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা গোরক্ষার নামে অসংখ্য দলিত ও মুসলমানকে প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করেছে, লাভ জিহাদের নামে মুসলিম যুবকদের নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারছে, জয়শ্রী রাম স্লোগান না দেওয়ায় প্রহার, দাড়ি কেটে নেওয়া, মসজিদের সামনে গিয়ে হনুমান চাল্লিশা, নামাযের সময় তারস্বরে মাইক বাজানো, আপত্তি করলে ইমাম মুয়াজ্জিন সহ সবার ওপর হামলা, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মুসলমানদের ঘরবাড়ি, দোকান, মসজিদ বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে – এসব কি সন্ত্রাস নয়?
আজ যেসব মিডিয়া গোষ্ঠী তিলোত্তমাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তারাও এই সাম্প্রদায়িক খেলায় অংশীদার। তিলোত্তমার বক্তব্যে বাংলাদেশি মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা উগরে পড়েছে। তিলোত্তমা যে ভাষায় কথা বলছেন, সেই বাংলা ভাষার জন্য সর্বপ্রথম ওপারের মুসলমানরাই শহীদ হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত মুসলমান বাঙালিদের আত্মত্যাগেই আজকের বাংলার মর্যাদা দাঁড়িয়ে আছে।
তিলোত্তমাদের উদ্দেশ্য বিজেপির মন জয় করা, হয়ত আসন্ন নির্বাচনে টিকিট নেওয়া। এই স্বপ্নে তাঁরা মুসলমানদের অপমান করে নিজের অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখতে চান।
তসলিমা নাসরিন স্বদেশ থেকে বিতাড়িত, আজও তাঁকে বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। একটা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাময়িক জনপ্রিয়তা পাওয়া গেলেও মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা পাওয়া যায় না। তিলোত্তমাদেরও শেষ পরিণতি হবে ইতিহাসের কলঙ্কিত পৃষ্ঠায়। তিলোত্তমা ওপার বাংলার মুসলমানদের সঙ্গে নিজেদের কোন মিল খুঁজে পান না। অথচ ওপারের মুসলমানেরা শুধু বাংলায় কথা বলেন না, বাংলা সংস্কৃতির প্রাণভোমরা তাঁরা। আজ যারা মুসলমানকে সন্দেহের চোখে দেখেন, শুধু অনুপ্রবেশী, সন্ত্রাসী ভাবতে ভালবাসেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবে ঘৃণার রাজনীতির এজেন্ডা চালাচ্ছেন।
তসলিমাও সেই নীতিতে ভর করে একসময় প্রচারের আলোয় এসেছিলেন। নিজের দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আপাতত বিজেপি সরকারের স্নেহচ্ছায়ায় এদেশে বহাল তবিয়তে বসবাস করছেন। তিলোত্তমাও হয়ত অদূর ভবিষ্যতে বড় কোন সরকারি দাক্ষিণ্য পেয়ে যাবেন। তসলিমা থেকে তিলোত্তমা – মুসলিম বিদ্বেষের সেই ট্র্যাডিশন যেন একই সুতোয় গাঁথা।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder