BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার ভয়াল সত্য

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ৯:৩৪ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ৯:৩৪

আবীর লাল

আরও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার আলো আজ গ্রামীণ অঞ্চলে ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এক ভয়ঙ্কর বাস্তব সামনে এনেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে গত এক দশকে সাত হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা দপ্তরের পরিকল্পনা অনুসারে প্রায় আট হাজারেরও বেশি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ করার তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে আরও বিস্ময়কর তথ্য হল, তিন হাজারেরও বেশি সরকারি বিদ্যালয়ে একজনও পড়ুয়াব বা শিক্ষার্থী নেই। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে এক বছরে ৪০৯টি বিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজারেরও বেশি। এই অধোগতির ধারা চলতে থাকলে গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থা অচিরেই ভেঙে পড়বে, আর সমাজের এক বৃহৎ অংশ চিরকালীন অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে যাবে।
বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পেছনে নানা জটিল কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে মূল কারণ হল দীর্ঘকাল শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকা। রাজ্যের বহু বিদ্যালয়ে প্রায় অধিকাংশ বিষয়েই বিপুল শূন্যপদ রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, গণিত শিক্ষক প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় ৩,১৩২ জন কম, পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষকের ঘাটতি প্রায় ১,৭৯৫ জন। বহু বিদ্যালয়ে একজনও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা কার্যত পাঠ্যক্রম শেষ করতেই পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকেরাও ধীরে ধীরে আস্থা হারাচ্ছেন সরকারি বিদ্যালয়ের ওপর। পরিকাঠামোর দুরবস্থা সমস্যাকে আরও প্রকট করছে। বহু গ্রামীণ বিদ্যালয়ে এখনো পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই, শৌচালয় নেই বা ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য আলাদা টয়লেট নেই। পানীয় জলের অভাব এক ভয়াবহ সমস্যা। অনেক স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। পাঠাগার বা বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি অধিকাংশ জায়গায় অচল, আবার কোথাও ল্যাব থাকলেও ব্যবহার করার মতো সরঞ্জাম নেই। সরকারি পরিদর্শনে উঠে এসেছে, ডিজিটাল পরিকাঠামো প্রায় অনুপস্থিত, ফলে অনলাইন বা হাইব্রিড শিক্ষা চালানো গ্রামীণ এলাকায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি বহু জায়গায় মিড-ডে মিলের জন্য উপযুক্ত রান্নাঘর পর্যন্ত নেই। শিক্ষার জন্য ন্যূনতম যে পরিবেশ প্রয়োজন, তা না থাকায় বিদ্যালয়ে যাওয়া শিশুদের কাছে দিন দিন দুরূহ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যার স্থানান্তর। কাজের খোঁজে বহু পরিবার গ্রাম থেকে শহরে চলে যাচ্ছে। গ্রামে যেসব শিশু রয়ে যাচ্ছে, তাদের অভিভাবকেরাও চায় সন্তানকে ভাল ইংরেজি মাধ্যম বা কর্পোরেট স্কুলে ভর্তি করাতে। বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রসার এবং শহরমুখী প্রবণতা গ্রামীণ সরকারি বিদ্যালয়কে আরও ফাঁকা করে দিচ্ছে। শিক্ষা দপ্তর এই তথ্যের ওপর নির্ভর করে যুক্তি দিচ্ছে যে, যেখানে ছাত্র সংখ্যা ৩০-এর নিচে, সেখানে বিদ্যালয় চালিয়ে যাওয়া অর্থবহ নয়। কিন্তু এই যুক্তি শিক্ষার মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, দূরবর্তী এলাকায় একটি স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে কচিকাঁচা শিশুরা ৫-৭ কিলোমিটার হেঁটে অন্য বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। ফলত তারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। সরকারি পরিভাষায় যাকে বলা হচ্ছে স্কুল-ছুট।
বিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ার অন্যতম পরিণতি হল শিক্ষার প্রতি অনীহা। যখন কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই, পাঠদান নেই, পরিকাঠামোর ভগ্নদশা, তখন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন জাগে, বিদ্যালয়ে গিয়ে লাভ কী? এই প্রশ্নই এক সময় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ নষ্ট করে দেয়। শিক্ষার্থীরাই ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ে যাওয়া কমিয়ে দেয়। ফলে স্কুলছুট বাড়তে থাকছে। একবার পড়াশোনার শৃঙ্খল ভেঙে গেলে পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানো কঠিন।
শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় গ্রামীণ শিশুদের অনেকেই খুব অল্প বয়সে শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। কাজের খোঁজে তারা ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে, কেউ ইটভাটায়, কেউ চা বাগানে বা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। শিশু-শ্রমের এই প্রবণতা শিক্ষার আলো নিভিয়ে দিচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীদের কথায়, পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকায় শিশুদের সিংহভাগ বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে শ্রমের বাজারে লেগে পড়ছে। ফলে গোটা সমাজ ভবিষ্যতের দক্ষ জনশক্তি বা মানবসম্পদ হারাচ্ছে।
শিক্ষা সংকটের প্রভাব সমাজে নানা স্তরে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাহীনতা মানেই সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি। যেসব পরিবারের সামর্থ্য আছে, তারা তাদের সন্তানকে বেসরকারি কর্পোরেট স্কুলে পাঠাচ্ছে, ফলে তারা সুযোগ পাচ্ছে উন্নত উচ্চশিক্ষার, শহুরে চাকরির। অন্যদিকে গরিব গ্রামীণ পরিবারগুলো সরকারি বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভরশীল, আর যখন সেই বিদ্যালয়ও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা কার্যত নিষ্ক্রিয়, তখন তাদের সন্তানরা অশিক্ষার দুষ্টচক্রে আটকে যাচ্ছে। ফলে ধনী গরিবের ফারাক আরও বাড়ছে। শিক্ষা হয়ে উঠছে পণ্য। মোদ্দা কথা, ফেল কড়ি মাখো তেল।
মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও কম নয়। বিদ্যালয় শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন গড়ে তোলে। কিন্তু বিদ্যালয় যখন অচল, তখন শিশুদের মধ্যে আত্মমর্যাদাহীনতা তৈরি হয়। তারা ভাবতে শুরু করে, শিক্ষা একপ্রকার বিলাসিতা বা আমাদের জন্য শিক্ষা নয়। এই ধারণা তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি হতাশা তৈরি করে, যা সমাজের অগ্রগতির পথে এক বড় বাধা।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংকট মারাত্মক। একটি সমাজে যখন যথেষ্ট শিক্ষিত মানুষ নেই, তখন সেই সমাজে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয় না, দক্ষ কর্মী পাওয়া যায় না, আর্থিক উন্নয়নের চাকা থেমে যায়। রাজ্যের বহু গ্রামীণ অঞ্চল ইতিমধ্যেই কর্মসংস্থানের অভাবে পিছিয়ে পড়েছে, তার সঙ্গে শিক্ষার সংকট যোগ হওয়ায় বিপদ দ্বিগুণ বাড়ছে।
তাহলে সমাধান কী? সমস্যার মূলে গিয়ে দেখতে হবে। প্রথমত: শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অবিলম্বে স্বচ্ছ, দ্রুত, স্বাভাবিক ও নিয়মিত করতে হবে। বছরের পর বছর শিক্ষক নিয়োগ আটকে থাকা মানে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকা আবশ্যক। দ্বিতীয়ত: বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নত করা অপরিহার্য। পানীয় জল, শৌচালয়, বিদ্যুৎ, পাঠাগার, ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট — এসব ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত: যেখানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম, সেখানে ক্লাস্টার ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। অর্থাৎ কাছাকাছি একাধিক বিদ্যালয়কে মার্জ বা সংযুক্ত করে শিক্ষক ও সুযোগ ভাগ করা। এর সঙ্গে থাকতে হবে বিনামূল্যে পরিবহন ব্যবস্থা, যাতে দূরের শিশু বিদ্যালয়ে আসতে পারে। প্রান্তিক অঞ্চলে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করে শিক্ষা সুরক্ষা জরুরি। জঙ্গলমহল, সীমান্ত বা ছিটমহলের মতো এলাকায় সরকারি সহায়তা ও বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণমান বাড়াতে আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পাঠ্যক্রম সাজানো জরুরি। মনিটরিং ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করতে হবে। UDISE, DISE বা NCERT-এর PARAKH রিপোর্টে যে সমস্যাগুলি ধরা পড়ছে, সেগুলিকে দ্রুত সমাধানের জন্য জেলা ও ব্লক পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদ্যালয়গুলির বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে।
শিক্ষাকে শুধু সরকারি দপ্তরের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজকেও অংশীদার করতে হবে। স্থানীয় পঞ্চায়েত, এনজিও, সামাজিক সংগঠন, এমনকি বিদ্যালয় সংস্কা ও মানোন্নয়নে কর্পোরেট CSR অর্থও ব্যবহার করা যেতে পারে। স্কুল শিক্ষা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার — এই বার্তা প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder