BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার ভয়াল সত্য

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ৯:৩৪ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ৯:৩৪

আবীর লাল

আরও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার আলো আজ গ্রামীণ অঞ্চলে ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এক ভয়ঙ্কর বাস্তব সামনে এনেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে গত এক দশকে সাত হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা দপ্তরের পরিকল্পনা অনুসারে প্রায় আট হাজারেরও বেশি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ করার তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে আরও বিস্ময়কর তথ্য হল, তিন হাজারেরও বেশি সরকারি বিদ্যালয়ে একজনও পড়ুয়াব বা শিক্ষার্থী নেই। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে এক বছরে ৪০৯টি বিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজারেরও বেশি। এই অধোগতির ধারা চলতে থাকলে গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থা অচিরেই ভেঙে পড়বে, আর সমাজের এক বৃহৎ অংশ চিরকালীন অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে যাবে।
বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পেছনে নানা জটিল কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে মূল কারণ হল দীর্ঘকাল শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকা। রাজ্যের বহু বিদ্যালয়ে প্রায় অধিকাংশ বিষয়েই বিপুল শূন্যপদ রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, গণিত শিক্ষক প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় ৩,১৩২ জন কম, পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষকের ঘাটতি প্রায় ১,৭৯৫ জন। বহু বিদ্যালয়ে একজনও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা কার্যত পাঠ্যক্রম শেষ করতেই পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকেরাও ধীরে ধীরে আস্থা হারাচ্ছেন সরকারি বিদ্যালয়ের ওপর। পরিকাঠামোর দুরবস্থা সমস্যাকে আরও প্রকট করছে। বহু গ্রামীণ বিদ্যালয়ে এখনো পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই, শৌচালয় নেই বা ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য আলাদা টয়লেট নেই। পানীয় জলের অভাব এক ভয়াবহ সমস্যা। অনেক স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। পাঠাগার বা বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি অধিকাংশ জায়গায় অচল, আবার কোথাও ল্যাব থাকলেও ব্যবহার করার মতো সরঞ্জাম নেই। সরকারি পরিদর্শনে উঠে এসেছে, ডিজিটাল পরিকাঠামো প্রায় অনুপস্থিত, ফলে অনলাইন বা হাইব্রিড শিক্ষা চালানো গ্রামীণ এলাকায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি বহু জায়গায় মিড-ডে মিলের জন্য উপযুক্ত রান্নাঘর পর্যন্ত নেই। শিক্ষার জন্য ন্যূনতম যে পরিবেশ প্রয়োজন, তা না থাকায় বিদ্যালয়ে যাওয়া শিশুদের কাছে দিন দিন দুরূহ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যার স্থানান্তর। কাজের খোঁজে বহু পরিবার গ্রাম থেকে শহরে চলে যাচ্ছে। গ্রামে যেসব শিশু রয়ে যাচ্ছে, তাদের অভিভাবকেরাও চায় সন্তানকে ভাল ইংরেজি মাধ্যম বা কর্পোরেট স্কুলে ভর্তি করাতে। বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রসার এবং শহরমুখী প্রবণতা গ্রামীণ সরকারি বিদ্যালয়কে আরও ফাঁকা করে দিচ্ছে। শিক্ষা দপ্তর এই তথ্যের ওপর নির্ভর করে যুক্তি দিচ্ছে যে, যেখানে ছাত্র সংখ্যা ৩০-এর নিচে, সেখানে বিদ্যালয় চালিয়ে যাওয়া অর্থবহ নয়। কিন্তু এই যুক্তি শিক্ষার মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, দূরবর্তী এলাকায় একটি স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে কচিকাঁচা শিশুরা ৫-৭ কিলোমিটার হেঁটে অন্য বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। ফলত তারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। সরকারি পরিভাষায় যাকে বলা হচ্ছে স্কুল-ছুট।
বিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ার অন্যতম পরিণতি হল শিক্ষার প্রতি অনীহা। যখন কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই, পাঠদান নেই, পরিকাঠামোর ভগ্নদশা, তখন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন জাগে, বিদ্যালয়ে গিয়ে লাভ কী? এই প্রশ্নই এক সময় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ নষ্ট করে দেয়। শিক্ষার্থীরাই ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ে যাওয়া কমিয়ে দেয়। ফলে স্কুলছুট বাড়তে থাকছে। একবার পড়াশোনার শৃঙ্খল ভেঙে গেলে পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানো কঠিন।
শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় গ্রামীণ শিশুদের অনেকেই খুব অল্প বয়সে শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। কাজের খোঁজে তারা ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে, কেউ ইটভাটায়, কেউ চা বাগানে বা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। শিশু-শ্রমের এই প্রবণতা শিক্ষার আলো নিভিয়ে দিচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীদের কথায়, পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকায় শিশুদের সিংহভাগ বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে শ্রমের বাজারে লেগে পড়ছে। ফলে গোটা সমাজ ভবিষ্যতের দক্ষ জনশক্তি বা মানবসম্পদ হারাচ্ছে।
শিক্ষা সংকটের প্রভাব সমাজে নানা স্তরে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাহীনতা মানেই সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি। যেসব পরিবারের সামর্থ্য আছে, তারা তাদের সন্তানকে বেসরকারি কর্পোরেট স্কুলে পাঠাচ্ছে, ফলে তারা সুযোগ পাচ্ছে উন্নত উচ্চশিক্ষার, শহুরে চাকরির। অন্যদিকে গরিব গ্রামীণ পরিবারগুলো সরকারি বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভরশীল, আর যখন সেই বিদ্যালয়ও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা কার্যত নিষ্ক্রিয়, তখন তাদের সন্তানরা অশিক্ষার দুষ্টচক্রে আটকে যাচ্ছে। ফলে ধনী গরিবের ফারাক আরও বাড়ছে। শিক্ষা হয়ে উঠছে পণ্য। মোদ্দা কথা, ফেল কড়ি মাখো তেল।
মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও কম নয়। বিদ্যালয় শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন গড়ে তোলে। কিন্তু বিদ্যালয় যখন অচল, তখন শিশুদের মধ্যে আত্মমর্যাদাহীনতা তৈরি হয়। তারা ভাবতে শুরু করে, শিক্ষা একপ্রকার বিলাসিতা বা আমাদের জন্য শিক্ষা নয়। এই ধারণা তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি হতাশা তৈরি করে, যা সমাজের অগ্রগতির পথে এক বড় বাধা।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংকট মারাত্মক। একটি সমাজে যখন যথেষ্ট শিক্ষিত মানুষ নেই, তখন সেই সমাজে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয় না, দক্ষ কর্মী পাওয়া যায় না, আর্থিক উন্নয়নের চাকা থেমে যায়। রাজ্যের বহু গ্রামীণ অঞ্চল ইতিমধ্যেই কর্মসংস্থানের অভাবে পিছিয়ে পড়েছে, তার সঙ্গে শিক্ষার সংকট যোগ হওয়ায় বিপদ দ্বিগুণ বাড়ছে।
তাহলে সমাধান কী? সমস্যার মূলে গিয়ে দেখতে হবে। প্রথমত: শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অবিলম্বে স্বচ্ছ, দ্রুত, স্বাভাবিক ও নিয়মিত করতে হবে। বছরের পর বছর শিক্ষক নিয়োগ আটকে থাকা মানে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকা আবশ্যক। দ্বিতীয়ত: বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নত করা অপরিহার্য। পানীয় জল, শৌচালয়, বিদ্যুৎ, পাঠাগার, ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট — এসব ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত: যেখানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম, সেখানে ক্লাস্টার ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। অর্থাৎ কাছাকাছি একাধিক বিদ্যালয়কে মার্জ বা সংযুক্ত করে শিক্ষক ও সুযোগ ভাগ করা। এর সঙ্গে থাকতে হবে বিনামূল্যে পরিবহন ব্যবস্থা, যাতে দূরের শিশু বিদ্যালয়ে আসতে পারে। প্রান্তিক অঞ্চলে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করে শিক্ষা সুরক্ষা জরুরি। জঙ্গলমহল, সীমান্ত বা ছিটমহলের মতো এলাকায় সরকারি সহায়তা ও বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণমান বাড়াতে আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পাঠ্যক্রম সাজানো জরুরি। মনিটরিং ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করতে হবে। UDISE, DISE বা NCERT-এর PARAKH রিপোর্টে যে সমস্যাগুলি ধরা পড়ছে, সেগুলিকে দ্রুত সমাধানের জন্য জেলা ও ব্লক পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদ্যালয়গুলির বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে।
শিক্ষাকে শুধু সরকারি দপ্তরের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজকেও অংশীদার করতে হবে। স্থানীয় পঞ্চায়েত, এনজিও, সামাজিক সংগঠন, এমনকি বিদ্যালয় সংস্কা ও মানোন্নয়নে কর্পোরেট CSR অর্থও ব্যবহার করা যেতে পারে। স্কুল শিক্ষা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার — এই বার্তা প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder