ত্রাণ কই, খালি হাতে ফটো তুলতে এসেছেন নাকি? বন্যা দুর্গতদের হাতে আক্রান্ত বিজেপি নেতারা

নতুন পয়গাম, ডুয়ার্স:
ডুয়ার্সে বন্যা পরিদর্শনে গিয়ে বন্যা দুর্গতদের দ্বারাই জনরোষের শিকার হলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। সোমবার ডুয়ার্সের নাগরাকাটায় গেলে গাড়ি থেকে নামতেই ঘিরে ধরেন দুর্গতরা। উত্তেজিত জনতার প্রশ্ন ছিল, ত্রাণ সামগ্রী কই? খালি হাতে কী দেখতে এসেছেন এখানে? ফটো তুলতে এসেছেন নাকি? সব ডুবে-ভেসে যাওয়ায় পর এত দেরিতে কেন এলেন? স্থানীয় বিজেপি নেতারাই বা কোথায়? এসব সংগত প্রশ্ন তুলে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বাসিন্দারা।
কিন্তু স্থানীয় অসহায় বন্যার্তদের এতসব প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কনভয় ঘুরিয়ে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়ক সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তখনই তাঁদের উপর আছড়ে পড়ে জনতার রোষ। ইট, পাটকেল ছুড়তে থাকেন দুর্গতরা। এক পর্যায়ে রক্তাক্ত হন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু। শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের গাড়ির কাচ ভেঙে দেয় উত্তেজিত জনতা। তাদের সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ কোনওমতে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এরপরই আক্রান্ত বিজেপি নেতারা প্রথমে চালসা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করান। পরে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
উল্লেখ্য, সুলকাপাড়ায় যখন বিজেপি নেতারা আক্রান্ত হন, তখন অদূরে বামনডাঙায় ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা ও নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা প্রমুখ। জানা গিয়েছে, তুফানগঞ্জে বিজেপির জেলা
সহ-সভাপতি উজ্জ্বলকান্তি বসাক, শিলিগুড়িতে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ও আক্রান্ত হয়েছেন। কুমারগ্রামে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ। বিষয়টি দিল্লি পর্যন্ত গড়িয়েছে। রাজ্য সরকারের থেকে পুরো ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্র।
পেটে
দুর্ভাগ্যজনক হলেও নাটক, কটাক্ষ মমতার
নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর সোমবারের হামলার নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পাল্টা জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন মমতার। এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক ও গভীর উদ্বেগজনক যে, প্রধানমন্ত্রী যথাযথ তদন্তের অপেক্ষা না করেই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নিয়ে রাজনীতির চেষ্টা করছেন। উত্তরবঙ্গের মানুষ ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস পরবর্তী পরিস্থিতির মোকাবিলা করছেন, তখন এই সস্তার রাজনীতি মানুষ মেনে নেবে না। পুলিশ-প্রশাসন যখন ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে ব্যস্ত, তখন বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে বিশাল কনভয় নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় গিয়েছেন। অভিযোগ, বিজেপি নেতারা ত্রাণ দিতে যাননি। খালি হাতেই নাকি গিয়েছিলেন।
বিজেপি সাংসদ ও বিধায়ক আক্রান্তের ঘটনায় রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে বিঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী পালটা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী কোনও প্রমাণ, তদন্ত বা প্রশাসনিক রিপোর্ট ছাড়াই রাজ্য সরকার এবং শাসক দলকে দোষারোপ করেছেন। এটি নিম্নমানের রাজনীতি এবং প্রধানমন্ত্রী যে সাংবিধানিক নীতিমালা বজায় রাখার শপথ নিয়েছেন, তারও লঙ্ঘন।
মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, মণিপুরের হিংসার ৯৬৪ দিন পর কেন প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন? এরপর প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ করে বলেন, নির্বাচিত রাজ্য সরকারের কথা শুনুন, কেবল আপনার দলের সহকর্মীদের কথা নয়। আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, শুধু বিজেপির নেতাই নন। আপনার দায়িত্ব জাতি গঠনের, ন্যারেটিভ গঠনের নয়। এই সংকটময় মুহূর্তে বিভেদ না বাড়িয়ে আসুন, আমরা দলীয় লাইনের বাইরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের সেবায় একযোগে কাজ করি।
এদিন নাগরকাটার কালীখোলায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যাদুর্গত এলাকায় যে কেউ যেতে পারেন। কিন্তু ৩০-৪০টি গাড়ি নিয়ে ঢোকা ঠিক নয়।’ তবে সাংসদ ও বিধায়কদের আক্রান্ত হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ‘দুর্যোগের সময় সবাইকে শান্ত থাকতে হবে। এমন কিছু করবেন না, যা বাঞ্ছনীয় নয়।’
এদিকে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, আমরা হিংসাকে সমর্থন করি না। এদিন যা ঘটেছে, তা বিজেপির কর্মফল। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, উত্তরবঙ্গের জন্য রাজ্য বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ হয়, তাতে জলও গরম হয় না। তাছাড়া বরাদ্দের মাত্র এক চতুর্থাংশ খরচ হয়। বাকিটা চলে যায় অন্য জায়গায়।
































































































































