BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক

প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৬, রাত ৯:০৭ | আপডেট: ৪ জুন ২০২৬, সকাল ৭:২৫

নাসির ওয়াদেন: সমাজ বিবর্তনের ইতিহাসে দেখা যায়, নানা সময়ে মানুষের ক্ষোভ, বঞ্চনা, হতাশা ও বিদ্রূপের ভাষা প্রকাশ পায় প্রতীকী রূপে। কখনো কার্টুন, কখনো ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন, কখনো প্রতিবাদের কাল্পনিক চরিত্র — এসবের মধ্য দিয়েই সমাজ তার অসন্তোষকে প্রকাশ করতে চেয়েছে অতীতে। সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ সংযোজন “ককরোচ জনতা পার্টি”, যা প্রকৃত অর্থে কোনো রাজনৈতিক দল নয়; বরং এক সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের রূপক, এক ব্যঙ্গাত্মক প্রতিরূপ, এক বিবেকবান নাগরিকের অচল সিস্টেমের প্রতি ক্ষোভের প্রতিধ্বনি।

আরও পড়ুন:

প্রতীকের জন্ম কীভাবে, এবং ককরোচ কেন: ককরোচ হচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে অবাঞ্ছিত, তুচ্ছ ও ঘৃণিত এক পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণী। ঘর অস্বাস্থ্যকর হলে সে বংশবিস্তার করে, আঁধার কোণে লুকিয়ে থাকে, আলো দেখলে ছুটে পালায় কিংবা তিরিক্ষি হয়ে উঠে। এই চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যগুলোকেই আধুনিক সমাজের দূষিত পরিবেশের সঙ্গে প্রতীকীভাবে মিলিয়ে দেখা হয়। যে সমাজে দুর্নীতি লুকায়িত, অপরাধ অদৃশ্যের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠে, মূল্যবোধ অন্ধকারে আশ্রয় নেয় এবং আলোর মুখে আসে না প্রকৃত সত্য, তখন সেই সমাজে ককরোচই যেন যথার্থ প্রতীক। “ককরোচ জনতা পার্টি” (সিজেপি) নামটি এভাবেই মানুষের সেই বঞ্চনার অভিজ্ঞতাকে মেলে ধরতে চায়। মানুষ কখনো সরাসরি বলতে না-পারা ক্ষোভকে এই প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চায়। ব্যঙ্গের মাধ্যমে প্রতিবাদ বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অতি পুরাতন এক পদ্ধতি।‌ ককরোচকে সামনে রেখে সেই ব্যঙ্গকে আরও তীক্ষ্ণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের বিপরীত ধারণা। আসলেই এটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা মতাদর্শের প্রচারক নয়; বরং রাজনৈতিক দলের যে রূপটি আমরা দেখি — ক্ষমতার লড়াই, মৌসুমি প্রতিশ্রুতি, দলীয় সুবিধা, লুকোনো উদ্দেশ্য এবং জনতার কথা ভুলে যাওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস। এটি সকল রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই প্রতীয়মান হয়। এসবের প্রতি এক অদ্ভুত ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এদের থাকে না কোনো নির্বাচনী প্রতীক, নেই নেতার ছবি, নেই ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন বা পদ বণ্টনের খেলা। পরিবর্তে তারা দেখায় জনগণ নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে চাইলে কীভাবে প্রতীকের আশ্রয় নেয় এবং অনেক ক্ষমতাহীন দল ক্ষমতায় আসার উদ্দেশ্যে এই আহ্বানে নিজেদের যুক্ত করার করুণ পরিহাস উপলব্ধ হয়। যখন বাস্তব দলগুলো তার সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ, তখন ইউটোপিয়া সাম্রাজ্যের কল্পনা ভাসিত হয়ে এক সমুদ্রের জলে পাড়ের সন্ধানে ছুটে চলে।

আরও পড়ুন:

কেন সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক? কখন এই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক ধারণার সৃষ্টি হয়? ককরোচ জনতা পার্টি যে সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক, তার কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। ১) ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে সরাসরি সত্য বলা, যা রাজনীতির পর্দা ফাঁস করে দেয়, সেটি সরাসরি বলা বিপজ্জনক বা অস্বস্তিকর হতে পারে। কিন্তু ব্যঙ্গ সবসময় সেই ‘সেফ স্পেস’ তৈরি করে, যেখানে মানুষ হাসির আড়ালে তীক্ষ্ণ সমালোচনা করতে পারে। ককরোচের চরিত্র এই ব্যঙ্গকে আরও কার্যকর করে তোলে। ২) হতাশাকে সংগঠিত ভাষা দেওয়া। সমাজে যখন অসন্তোষ ও অবিশ্বাস জমতে থাকে, তখন মানুষের অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদও ভাষা খুঁজে পায় না। এই প্রতীক তাদের বুকভরা চাপা ক্ষোভকে এক ধরনের ‘নির্বাক কণ্ঠস্বর’ দেয়। ৩) রাজনৈতিক ভণ্ডামির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চিহ্নিত। এটি বাস্তব রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতা ও ভণ্ডামির এক প্রতিফলন মাত্র। যে সমাজে প্রতিশ্রুতি বড়, কিন্তু বাস্তব কাজ ছোট, সেখানে এমন প্রতীকী দল মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করে। এবং এর ব্যাপকতা লাভ করে। ৪) ব্যঙ্গই কখনো কখনো বৃহত্তর জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। এখান থেকেই কোনো কোনো বিরোধী দল প্রতিবাদের রসদ সংগ্রহ করে দলকে সংশোধিত ও পুষ্ট করার পথ খুঁজে নেয়।

আরও পড়ুন:

ব্যঙ্গের শক্তি হল যথেষ্ট ধারাল ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সত্যকে ছুরি দিয়ে নয়; হাসির মাধ্যমে সত্যের চামড়া কেটে দেয়। আর সেই হাসির ধারেই চেপে থাকে মানুষের ক্ষোভ। ককরোচ জনতা পার্টি তাই কোনো সংগঠন নয়; বরং এক সামাজিক মুড। সমাজ-সংস্কৃতিতে এর ব্যাপ্তি দীর্ঘকালীন ও উৎসাহব্যঞ্জক। বাংলা সাহিত্য ও সমাজে দীর্ঘদিন ধরে ব্যঙ্গচর্চা ও রম্য রাজনীতি মানুষের ভাবাবেগকে প্রকাশ করে আসছে। এক এক সময়ের কার্টুনে তৈরি করে ব্যঙ্গ চরিত্রগুলো রাজনীতির মুখোশ খুলে দেখাতে সাহায্য করেছে এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক মতাদর্শের দলীয় শক্তিকে পর্যুদস্ত করেছে। ককরোচ জনতা পার্টি সেই উত্তরাধিকারীরই একটি আধুনিক রূপ। এই ডিজিটাল যুগে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম বদলে গেছে। মেমে, স্যাটায়ার, ডিজিটাল স্লোগান — সবই নতুন প্রতিবাদী ভাষা। ককরোচ জনতা পার্টি সেখানে একটি জনপ্রিয় ও বিনয়ী প্রতীক হিসেবে উঠে আসে, যা না-হাস্যরস সম্পূর্ণ, না-রাজনৈতিক প্রচার; বরং দুয়ের সংমিশ্রণে তৈরি এক হাইব্রিড রূপ। প্রতীকের শক্তি কীভাবে মানুষের অন্তর্দৃষ্টি নাড়া দিয়ে থাকে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিভিন্ন ধরনের শব্দের ব্যবহার ও জনদরদী বক্তব্য মানুষ অবিশ্বাস করতে শুরু করেছে, তখন নানা পন্থা অনুসরণ করে। তখন নিত্যনতুন যেকোন প্রতীকের শক্তি তার গ্রহণযোগ্যতায় স্থান পায়। ককরোচ জনতা পার্টি মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছে। কারণ, এটি সত্যকে সরল করে। সমাজের অন্ধকার অংশকে দেখায়। মানুষকে চেতনাকে ফেরায়। নানান অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলে। কিন্তু কোনো দলে রূপান্তরিত হতে চায় না। মানুষ এখানে দলভুক্ত হয় না; বরং নিজের দুর্দশা ও সমাজের অব্যবস্থাকে চিনতে শেখে। এটি আত্ম-সমালোচনার ক্ষেত্রও তৈরি করে থাকে। প্রত্যেক নাগরিক নিজেকেও প্রশ্ন করে এবং সহনশীলতা, উদাসীনতা, নীরবতা এমনকি এই অন্ধকারকে বাড়িয়ে তুলছে যে সমাজ, তার প্রতি বিদ্রুপ নিক্ষেপ করে।

আরও পড়ুন:

এটি সমাজের বিবেক, বিরোধিতা, হতাশা, ব্যঙ্গ এবং প্রতিবাদের সম্মিলিত প্রতিফলন। বাস্তব দলগুলো যখন ব্যর্থ হয়, তখনই প্রতীক জন্ম নেয়। আর এই প্রতীক দেখায় —সমাজের ক্ষত কোথায়, আলো কোথায়, আর মানুষের সত্যিকার আকাঙ্ক্ষা কোথায়। এক অর্থে, ককরোচ জনতা পার্টি হল সেই আয়না, যেখানে সমাজ নিজের কদর্যতাও দেখে, আবার পরিবর্তনের সম্ভাবনাও চিনতে পারে। প্রতীক তাই কেবল হাসির বিষয় নয়; এটি মানুষের নীরব ক্রোধের ভাষা। আর ককরোচ, যতই ছোট হোক, সেই ভাষারই এক তীক্ষ্ণ, সর্বজনীন বহিঃপ্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder