দেশের অর্ধেক সম্পদ ১৬৮৭ জনের হাতে

তেলা মাথায় তেল দিচ্ছে কর্পোরেট-বান্ধব কেন্দ্র?
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
চীনকে ছাপিয়ে ভারত এখন বিশ্বের সবথেকে জনবহুল দেশ। ১৪৬ কোটি মানুষের এই দেশের মোট সম্পদের প্রায় অর্ধেক রয়েছে মাত্র ১৬৮৭ জন ব্যক্তির কাছে। ধন-বৈষম্য এবং কর্পোরেট-বান্ধব অর্থনীতি নিয়ে বিরোধীরা প্রথম থেকেই নরেন্দ্র মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে। কিন্তু প্রতিবারই কেন্দ্র সরকার মনগড়া তথ্য দিয়ে সেসব অভিযোগ নস্যাৎ করে চলেছে। এই ব্লেম-গেমের মাঝে এবার জানা গেল আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা দেশবাসীর চোখ কপালে তুলতে যথেষ্ট। দেশের সবথেকে বিত্তশালী নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করেছে এমথ্রিএম হুরুন ইন্ডিয়া। তাতেই দেখা যাচ্ছে, সারা দেশে মোট সম্পদের অর্ধেক রয়েছে মাত্র ১৬৮৭ জনের কাছে!
এর মধ্যে ২৮৪ জনের নাম এবারই প্রথম বিলিওনেয়ার বা ধনকুবের হিসেবে যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের ১৬৮৭ জন প্রথম সারির বিত্তশালীর সম্পদের পরিমাণ ১৬৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি-র প্রায় অর্ধেক। প্রবল ধন বৈষম্যের কারণেই এভাবে মুষ্টিমেয় কয়েক জনের হাতে দেশের সম্পদ কেন্দ্রীভূত বা পুঞ্জিভূত হওয়ায় মোদি সরকারের একপেশে আর্থিক নীতিকেই দায়ী করছে বিরোধীরা।
তাদের দাবি, এভাবে গুটিকয় ব্যক্তি বা পরিবারের হাতে যদি দেশের অর্ধেক সম্পদ চলে যায়, তাহলে তা অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে অশনি সংকেত। এতে ধনবৈষম্য প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। গরিব মানুষ আরো গরিব হচ্ছে, আর বড়লোকদের আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। প্রদীপের নিচে অন্ধকার, যেখানে ধনকুবেররা সম্পদের পাহাড়ে বসে আছে। আর গরিবগুর্বো মানুষেরা অন্ধকারে হাতড়াচ্ছে।
এই প্রবণতাকে গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ভারত এখন বিলিওনেয়ারদের ‘নতুন হাব’ হয়ে গিয়েছে। দেশে ধনী মানুষদের সংখ্যা নিত্যদিন বাড়ছে। আর কোটি কোটি ভারতীয় নাগরিক প্রতিদিন দু’বেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, ধনকুবেরদের সঙ্গে মোদি সরকারের মধুচন্দ্রিমার জন্যই এই আর্থিক বৈষম্য প্রবল হচ্ছে।
তাদের আরো অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন দু’বেলা খেতেই পায় না। অসংখ্য মানুষ দিন শেষে খালি পেটেই রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। সারের ওপর থেকে ভরতুকি তুলে নেওয়া হচ্ছে। মাত্র ১ টাকা লিজে হাজার হাজার একর কৃষিজমি কর্পোরেট শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। গরিব মানুষেরা ঋণের জালে জড়িয়ে আত্মহত্যা করছে, আর কেন্দ্র সরকার ঋণ খেলাপিদের কোটি কোটি টাকা মুকুব করছে। সব মিলিয়ে মোদি সরকারের এহেন বৈষম্যমূলক ও বিমাতৃসুলভ নীতি শিল্পপতি ‘বন্ধু’দের সুবিধা করে দিচ্ছে। আর সাধারণ মানুষের আয় রোজগারের সুযোগ ক্রমাগত কমছে।
এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সরকারি বরাদ্দ এবং বেসরকারি লগ্নি কমছে। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকেও দুর্বল করা হচ্ছে। একশো দিনের কাজের প্রকল্প কোটি কোটি গরিব মানুষকে আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা দিত। কেন্দ্রের অবহেলায় এখন এই জনমুখী প্রকল্প ধুঁকছে। অথচ প্রতি বছর যে বিপুল অংকের কর্পোরেট ঋণ মুকুব করা হচ্ছে, সেই টাকা একশ দিনের প্রকল্পে বরাদ্দ করলে গরিব মানুষের মুখে হাসি ফুটত।

















































































































