BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, দুপুর ১২:১৬ | আপডেট: ২৬ মে ২০২৬, দুপুর ১২:১৯

রফিক আনোয়ার: ‘বন্দে মাতরম্’ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে এমন একটি প্রতীক, যা একইসঙ্গে আবেগ, গৌরব, স্মৃতি, বিতর্ক আর রাজনৈতিক সংঘাত — সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই গান মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল, ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের ভাষা হয়ে উঠেছিল, আর জাতীয় চেতনার অন্যতম শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু একইসঙ্গে এই গানকে ঘিরে অনেকদিন ধরে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কও চলেছে। কারও কাছে এটি মাতৃভূমির প্রতি ভালবাসার সর্বোচ্চ প্রকাশ, আবার কারও কাছে এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংস্কৃতিক আধিপত্যের প্রতীক। ফলে ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে বিতর্ক আসলে শুধুমাত্র একটি গানকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের চরিত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ আর রাষ্ট্রের পরিচয় নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্নের প্রতিফলন। এই বিতর্ককে বুঝতে হলে ইতিহাস, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজতত্ত্ব — সবকটি স্তর একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

আরও পড়ুন:

উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: বঙ্কিমচন্দ্র  চট্টোপাধ্যায় ঊনিশ শতকের বাংলায় নবজাগরণের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক। তাঁর উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ ‘বন্দে মাতরম্’ প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির পটভূমি ছিল সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, যেখানে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক রোমান্টিক ও সাংস্কৃতিক কল্পনা নির্মাণ করা হয়েছিল। ‘মাতৃভূমি’-কে সেখানে শুধু ভূখণ্ড হিসেবে নয়; দেবীমূর্তিরূপে কল্পনা করা হয়। দেশ যেন একদিকে মা, অন্যদিকে দেবী দুর্গার প্রতীক। ঊনিশ শতকের বাংলায় হিন্দু সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ, ঔপনিবেশিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে আত্মপরিচয়ের সন্ধান আর জাতীয়তাবাদের উত্থান — এই তিনটি প্রবাহের মিলনস্থলে ‘বন্দে মাতরম্’ জন্ম নিয়েছিল। ফলে গানটির ভেতরে একদিকে ঔপনিবেশিক আধিপত্যের প্রতিরোধ, অন্যদিকে ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক প্রতীকের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। বিশেষত বঙ্গ-বিভাজনের সময় ‘বন্দে মাতরম্’ এক শক্তিশালী রাজনৈতিক স্লোগানে পরিণত হয়। স্বদেশি আন্দোলনের মিছিল, সভা, ছাত্র আন্দোলন — সবখানেই এই গান উচ্চারিত হতে থাকে। ব্রিটিশ সরকার অনেক ক্ষেত্রে গানটি নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করে। কারণ, সেটি ঔপনিবেশিক বিরোধিতার প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। ফলে বহু ভারতীয়ের কাছে ‘বন্দে মাতরম্’ স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি, আত্মত্যাগ ও জাতীয় জাগরণের আবেগের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

 

জাতীয়তাবাদ ও সাংস্কৃতিক কল্পনা: জাতীয়তাবাদ শুধুমাত্র রাজনৈতিক ধারণা নয়; সাংস্কৃতিক কল্পনারও বিষয়। একটি জাতি নিজেকে কীভাবে কল্পনা করবে, কোন প্রতীক ব্যবহার করবে, কী ধরনের ভাষা ও ইতিহাসকে ‘জাতীয়’ বলে স্বীকৃতি দেবে — এসবের ওপর জাতীয়তাবাদের চরিত্র নির্ভর করে। ‘বন্দে মাতরম্’-এ মাতৃভূমিকে দেবীমূর্তিরূপে কল্পনা করা হয়েছিল। অনেকের কাছে এটি কাব্যিক ও আবেগঘন রূপক। ভারতীয় উপমহাদেশে মাটি, নদী, দেশকে ‘মা’ হিসেবে কল্পনা করার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। ফলে গানটির সমর্থকদের মতে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রচার নয়; বরং দেশপ্রেমের সাংস্কৃতিক ভাষা। কিন্তু সমস্যাটি তৈরি হয় তখন, যখন এই সাংস্কৃতিক রূপককে রাষ্ট্রের সর্বজনীন প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়। কারণ, সব নাগরিক একই ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতীকের সঙ্গে সমানভাবে সংযোগ অনুভব করেন না। বিশেষত মুসলিম সমাজের একাংশ মনে করেছিল, মাতৃভূমিকে দেবীমূর্তিতে কল্পনা করা ইসলামের একেশ্বরবাদী ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁদের কাছে এটি কেবল দেশপ্রেমের কবিতা ছিল না; বরং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় কল্পনার আধিপত্যও ছিল। এখান থেকেই ‘সাংস্কৃতিক আধিপত্য’ বনাম ‘প্লুরালিজম’ তথা ‘বহুত্ব’ প্রশ্নটি সামনে আসে। সাংস্কৃতিক আধিপত্য; সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতির কেন্দ্রায়ন: আন্তোনিও গ্রামিস্ক ‘কালচারাল হেজেমনি’ বা ‘সাংস্কৃতিক আধিপত্য’ ধারণার মাধ্যমে দেখান, সমাজে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী শুধুমাত্র রাজনৈতিক শক্তির মাধ্যমে নয়; সংস্কৃতি ও প্রতীকের মাধ্যমেও নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। কোন ভাষা ‘শুদ্ধ’, কোন ইতিহাস ‘জাতীয়’, কোন প্রতীক ‘দেশপ্রেমিক’ — এসব নির্ধারণের মধ্য দিয়েও ক্ষমতা কাজ করে।

আরও পড়ুন:

‘বন্দে মাতরম্’ বিতর্কে এই ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন হল, ভারতের জাতীয় পরিচয় কি মূলত একটি হিন্দু সাংস্কৃতিক কল্পনার ওপর দাঁড়াবে? যদি দাঁড়ায়, তাহলে অন্যান্য সম্প্রদায়ের স্থান কোথায়? সমালোচকদের মতে, ‘বন্দে মাতরম্’ ধীরে ধীরে এমন এক প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যা অনেক সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতীয়তাবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। বিশেষত যখন ‘বন্দে মাতরম্ বলতেই হবে’ ধরনের রাজনৈতিক দাবি ওঠে, তখন এটি সাংস্কৃতিক আধিপত্যের রূপ নেয়। কারণ, তখন গানটি আর ঐতিহাসিক স্মৃতি থাকে না; বরং নাগরিক আনুগত্য যাচাইয়ের মানদণ্ডে পরিণত হয়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সাংস্কৃতিক আধিপত্য সবসময় জোরপূর্বক আসে না। অনেক সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতিকে ‘স্বাভাবিক জাতীয় সংস্কৃতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে সংখ্যালঘুদের আপত্তি বা অস্বস্তিকে অস্বাভাবিক, এমনকি ‘দেশবিরোধী’ হিসেবেও উপস্থাপন করা হতে পারে।

আরও পড়ুন:

বহুত্ববাদ ও বহুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ: ভারতের বাস্তবতা মূলত বহুত্ববাদী। এখানে বহু ধর্ম, ভাষা, জাতিগত পরিচয় ও আঞ্চলিক সংস্কৃতি সহাবস্থান করে। ফলে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের একটি বড় ধারা মনে করে, জাতীয় পরিচয়কে একক সাংস্কৃতিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। প্লুরালিজম বা বহুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ মনে করে, ‘একটি জাতি বহু কণ্ঠের সমষ্টি হতে পারে; রাষ্ট্রের প্রতীক এমন হওয়া উচিত, যাতে বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন; নাগরিকত্বের ভিত্তি হওয়া উচিত সাংবিধানিক অধিকার ও সমতা, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই স্বাধীনতার পরে ‘জন-গণ-মন’-কে জাতীয় সঙ্গীত আর ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় গান হিসেবে পৃথক মর্যাদা দেওয়া হয়। এটি ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক কম্প্রোমাইস। রাষ্ট্র একদিকে স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহাসিক আবেগকে অস্বীকার করেনি, অন্যদিকে ইনক্লুসিভনেস বা অন্তর্ভুক্তি-র প্রশ্নও বিবেচনায় নিয়েছিল। এখানে বহুত্ব-র মূল বক্তব্য হল, একটি রাষ্ট্রে ঐক্য থাকতে পারে, কিন্তু সেই ঐক্য সাংস্কৃতিক একরূপতার ওপর দাঁড়াতে হবে — এমন নয়; বরং বিভিন্ন পরিচয়ের সহাবস্থানই গণতান্ত্রিক শক্তির উৎস হতে পারে।

আরও পড়ুন:

ধর্মীয় পরিচয় ও মুসলিম প্রতিক্রিয়া: ‘বন্দে মাতরম্’ বিতর্কের কেন্দ্রে মুসলিম সমাজের প্রতিক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এটিকে সরলীকরণ করা ঠিক নয়। সব মুসলিম নেতা বা সংগঠন একইভাবে গানটির বিরোধিতা করেননি। অনেক মুসলিম স্বাধীনতা সংগ্রামীও ‘বন্দে মাতরম্’-কে ঔপনিবেশিক বিরোধিতার প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন। তবে রাজনৈতিকভাবে আপত্তি বাড়তে থাকে, যখন গানটির দেবীমূর্তি-সংক্রান্ত অংশগুলোকে রাষ্ট্রের সর্বজনীন প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মুসলিম সমাজের একাংশ মনে করেছিল, এতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ক্রমশ হিন্দু সাংস্কৃতিক পরিচয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, একটি বহুধর্মী রাষ্ট্র কি এমন প্রতীক বেছে নিতে পারে, যা একটি বড় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অস্বস্তির কারণ হয়? বহুত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি বলবে, রাষ্ট্রের উচিত এমন পথ খোঁজা, যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠের ঐতিহাসিক আবেগ ও সংখ্যালঘুর নিরাপত্তাবোধ — দুই-ই সম্মান পায়।

আরও পড়ুন:

দেশপ্রেম ও বাধ্যতামূলক প্রতীক: বিতর্কের সবচেয়ে জটিল অংশ তৈরি হয়, যখন ‘বন্দে মাতরম্’ উচ্চারণকে দেশপ্রেমের পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ: ‘বলতেই হবে’; ‘না বললে দেশদ্রোহী’। আপত্তি মানেই ‘আন্টি-ন্যাশনাল’ বা ‘জাতীয়তা বিরোধী’ ধরনের অবস্থান ‘প্লুরাল ডেমোক্রেসি’ বা বহুত্ববাদী গণতন্ত্র ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দেশপ্রেম সাধারণত নাগরিক অধিকার, সাংবিধানিক আনুগত্য ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। কোনো নির্দিষ্ট প্রতীক বা স্লোগানের প্রতি বাধ্যতামূলক আনুগত্য গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে সংকুচিত করে। এখানে ‘কনস্টিটিউশনাল প্যাট্রিওটিজম’ বা ‘সাংবিধানিক দেশপ্রেম’ ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারণা অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তি হবে, সংবিধান / গণতন্ত্র / সমতা / স্বাধীনতা / আইনের শাসন। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতীক নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘বন্দে মাতরম্’ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রতীক হতে পারে, কিন্তু নাগরিকত্ব বা দেশপ্রেম যাচাইয়ের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না।

আরও পড়ুন:

প্রতীকের বহুমাত্রিকতা: ‘বন্দে মাতরম্’-এর সবচেয়ে জটিল দিক হল, এটি একইসঙ্গে মুক্তি ও এক্সক্লুশন বা বাদ দেওয়ার প্রতীক হতে পারে। একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর কাছে এটি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্মৃতি। একজন সংখ্যালঘু নাগরিকের কাছে এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংস্কৃতিক আধিপত্যের আশঙ্কা সৃষ্টি করে। এই দ্বৈততাকে অস্বীকার করলে বাস্তবতা ধরা পড়ে না। একটি প্রতীক বিভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন অর্থ বহন করতে পারে। জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে এই ধরনের দ্বৈততা নতুন নয়। ফ্রান্স, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা বা অন্যান্য বহু রাষ্ট্রেও জাতীয় প্রতীক নিয়ে একই ধরনের বিতর্ক দেখা গেছে।

আরও পড়ুন:

সমাধানের সম্ভাব্য পথ: ‘বন্দে মাতরম্’ বিতর্কের সম্পূর্ণ সমাধান হয়ত সম্ভব নয়। কারণ, এটি গভীর ঐতিহাসিক ও আবেগগত প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। তবে কিছু ‘ডেমোক্রেটিক অ্যাকোমোডেশন’ বা ‘গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি’ সংঘাত কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রথমত: দেশপ্রেমকে কোনো একক প্রতীকের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একীভূত না করা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ‘বন্দে মাতরম্’ বলতেই পারেন, আবার কেউ নাও বলতে পারেন —এই স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া ‘প্লুরাল ডেমোক্রেসি’ বা ‘বহুত্ববাদী গণতন্ত্র’-র জন্য জরুরি। দ্বিতীয়ত: গানটিকে প্রাসঙ্গিকতার সঙ্গে পড়ানো দরকার। একে শুধু ‘মহিমান্বিত জাতীয় প্রতীক’ বা ‘সাম্প্রদায়িক প্রতীক’ — এই দুই প্রান্তিক স্তরে না ফেলে এর ঐতিহাসিক জটিলতা বোঝানো প্রয়োজন। তৃতীয়ত: রাষ্ট্রের উচিত সংঘাত এড়িয়ে ‘ভোলান্টারি রেসপেক্ট’ বা স্বতঃস্ফূর্ত সম্মাননার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। বাধ্যতামূলক দেশপ্রেম সাধারণত বেশি সংঘাত তৈরি করে। চতুর্থত: ভারতীয় জাতীয় পরিচয়কে স্তরভিত্তিক হিসেবে দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ ‘বন্দে মাতরম্’ / ‘জন গণ মন’ / সংবিধান / তেরঙ্গা পতাকা / আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য — সব মিলিয়েই ভারতীয় পরিচয় নির্মিত হতে পারে।

আরও পড়ুন:

মোটকথা, ভারতের মতো বহুধর্মী ও বহুভাষিক সমাজে ‘বন্দে মাতরম্’ বিতর্ক আসলে জাতীয়তাবাদের প্রকৃতি নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দেয়। জাতীয় ঐক্য কি একক সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর দাঁড়াবে, নাকি বহুত্বের সহাবস্থানের ওপর? সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতির ঐতিহাসিক আবেগকে কতদূর পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রতীকে রূপ দেওয়া যায়? সংখ্যালঘুদের অস্বস্তি কি গণতান্ত্রিক আলোচনায় বৈধ স্থান পাবে? ‘বন্দে মাতরম্’ এই প্রশ্নগুলোর সহজ উত্তর দেয় না; বরং এটি দেখায়, জাতীয়তাবাদ সবসময় একরৈখিক নয়; এর মধ্যে স্মৃতি, আবেগ, আধিপত্য, প্রতিরোধ ও অন্তর্ভুক্তির জটিল সম্পর্ক কাজ করে। সম্ভবত এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল, গণতন্ত্রে ঐক্য মানে একরূপতা নয়। একটি জাতি বহু ইতিহাস, বহু সংস্কৃতি ও বহু কণ্ঠের সমষ্টিও হতে পারে। আর সেই বহুত্বকে স্বীকার করেই হয়ত ভারতীয় জাতীয়তাবাদ তার সবচেয়ে শক্তিশালী ও মানবিক রূপ খুঁজে পেতে পারে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder