BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

বঙ্গভঙ্গের ১২০ বছর: কারণ ও প্রতিবাদীদের ভূমিকা

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, বিকাল ৫:৪৫ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, বিকাল ৫:৪৫

ড. ফিরোজ উদ্দিন

আরও পড়ুন:

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক ঘোষিত বঙ্গভঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনায় এক নতুন জাগরণের সূচনা করেছিল। বঙ্গভঙ্গ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের Devided & Rule বা ‘বিভাজন করে শাসন’ নীতির প্রকাশ। এই সিদ্ধান্ত বাংলার রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তীকালে তা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:

ঊনিশ শতকের শেষভাগে বাংলা ছিল ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। তৎকালীন বাংলার অধীন ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, উড়িষ্যা ও আসামের একাংশ। জনসংখ্যা প্রায় আট কোটি, যা প্রশাসনিকভাবে পরিচালনা করা ব্রিটিশদের কাছে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনিক অজুহাতের আড়ালে ছিল রাজনৈতিক কৌশল – বাংলার হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়কে বিভক্ত করে জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করা।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা: ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর, তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন বাংলা বিভক্তির ঘোষণা দেন। বিভাজন অনুযায়ী, পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে এক নতুন প্রদেশ গঠিত হয়, যার রাজধানী হয় ঢাকা। অপর অংশ পশ্চিমবঙ্গ থাকে কলকাতা কেন্দ্রিক। নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গে মুসলমানের সংখ্যা ছিল অধিক, আর পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা ছিল সংখ্যাগুরু। ফলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, ব্রিটিশরা ধর্মের ভিত্তিতে এবং তাদের স্বার্থে সুকৌশলে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করেছিল।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গের মূল কারণসমূহ:

আরও পড়ুন:

Divide and Rule নীতি: ব্রিটিশরা বুঝতে পেরেছিল, বঙ্গদেশের শিক্ষিত হিন্দু ও মুসলমান সমাজ ক্রমেই জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। একত্রে থাকলে তারা ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে ঐক্য ভাঙা ছিল ব্রিটিশদের কৌশলগত পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস করা: কলকাতা তখন ভারতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বঙ্গীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং সংবাদপত্রগুলো ব্রিটিশ-বিরোধী জনমত গঠন করছিল। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক চেতনা ও প্রভাবকে ভেঙে দিতে চেয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।

আরও পড়ুন:

মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়: ব্রিটিশরা মুসলমান সমাজকে বোঝাতে চেয়েছিল যে, পূর্ববঙ্গ ও আসাম গঠনের মাধ্যমে মুসলমানদের উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকাকে রাজধানী করে তারা মুসলমান নেতৃত্বকে খুশি করতে চেয়েছিল, যাতে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বিরোধিতা করা যায়। কিন্তু জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ মুসলিম সম্প্রদায়ের গরিষ্ঠ অংশই বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

অর্থনৈতিক স্বার্থ:
কলকাতাকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক শক্তিকে দুর্বল করে নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র তৈরি করার মাধ্যমে পূর্ববঙ্গের সম্পদে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রশাসনিক অজুহাত:
ব্রিটিশ সরকার দাবি করেছিল, এত বড় প্রদেশ কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন। যদিও ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল একটি মিথ্যা ও প্রহসনমূলক কারণ। মূল লক্ষ্য ছিল জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করা।

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সূচনা:
বঙ্গভঙ্গের ঘোষণার পরপরই সমগ্র বাংলায় প্রবল প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ আন্দোলনে অংশ নেয়। ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠে। ছাত্রছাত্রী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, কৃষক – সব শ্রেণির মানুষ একযোগে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:

আন্দোলনের প্রধান রূপগুলো ছিল:

আরও পড়ুন:

স্বদেশি আন্দোলন: বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশের আহ্বান জানানো হয়।
বয়কট আন্দোলন: ব্রিটিশ পণ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন করা হয়।
জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন: বিদেশি শিক্ষার বিকল্প হিসেবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক আন্দোলন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে ‘বঙ্গভঙ্গ রদ’ আন্দোলনে গান, কবিতা ও সাহিত্য দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তোলে।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের কারিগর ও নেতৃত্ব:

আরও পড়ুন:

লর্ড কার্জন: বঙ্গভঙ্গের মূল কারিগর ছিলেন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন। তিনি ১৮৯৯ থেকে ১৯০৫ পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ছিলেন এবং তার ‘বিভাজন নীতি’র মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ‘রাখি বন্ধন উৎসব’ শুরু করেন এবং তাঁর বিখ্যাত গান ‘আমার সোনার বাংলা’ রচনা করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হয়।

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ‘বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস’ স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনের সংগঠক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

অরবিন্দ ঘোষ:
তিনি বিপ্লবী চিন্তাধারার প্রবক্তা ছিলেন। তাঁর লেখা ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে উগ্র জাতীয়তাবাদের সুর বয়ে আনে।

আবুল কাসেম ও মুসলিম নেতারা:
কতিপয় মুসলমান নেতা প্রথমদিকে বিভাজনকে সমর্থন করলেও বৃহত্তর মুসলিম নেতৃত্ব বঙ্গভঙ্গের বিরোধী ছিলেন। তারা বুঝতে পারেন, ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য ছিল বিভেদ সৃষ্টি করা। ফলে মুসলমান সমাজ সর্বতোভাবে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল: বৃহৎ আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয় বঙ্গভঙ্গ প্রত্যাহার করতে। ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের ঘোষণায় বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। কলকাতার পরিবর্তে দিল্লিকে দেশের নতুন রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রধান ফলাফল:

আরও পড়ুন:

এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। স্বদেশি শিল্পের উত্থান: দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশ ঘটে। সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী চেতনা গভীর হয়। প্রথমদিকে কিছু সংখ্যক মুসলিম নেতৃত্বের মধ্যে বিভেদ থাকলেও পরবর্তীতে উভয় সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে এই আন্দোলন চালায়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের নবজাগরণের সূচনা। ব্রিটিশদের বিভাজন নীতি সাময়িকভাবে সফল হলেও, সেই ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যুমেরাং হয়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি সমাজ বুঝতে পারে, ধর্মের চেয়ে জাতীয় ঐক্যই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। লর্ড কার্জনের কূটনীতির জবাব হিসেবে জন্ম নেয় এক দৃঢ়, দেশপ্রেমিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাঙালি জাতি। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের এই ইতিহাস আমাদের শেখায় “ঐক্যই জাতির শক্তি, আর বিভেদ কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে’।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder