BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

ঘৃণা-ভাষণ যখন স্বাভাবিক হয়ে ওঠে

প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২৭ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২৭

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

এই সময়টা এমন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ, যেখানে শব্দের ওজন আর তার দায়িত্বের মধ্যে বিপজ্জনক ফাঁক তৈরি হয়েছে। রাজনীতির মঞ্চে উচ্চারিত কথাবার্তা ক্রমশ হালকা হয়ে যাচ্ছে, অথচ তার অভিঘাত সমাজে ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের এক বিজেপি বিধায়কের মুখ থেকে ইসলাম ধর্মগ্রন্থ পবিত্র আল কুরআন সম্পর্কে প্রকাশ্যে যে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য শোনা গেছে, তা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ভাবাবেগে আঘাত করেনি; বরং আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার নৈতিক ভিতকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, এতদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোনও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
দেশের সংবিধান নাগরিককে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু সেই স্বাধীনতা কখনোই অবাধ নয়। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ স্পষ্ট বলে, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও অন্যের অধিকারের স্বার্থে এই স্বাধীনতার উপর যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, পবিত্র ধর্মগ্রন্থকে অপমান করা কিংবা কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে হেয় প্রতিপন্ন করা — এই সবই সেই সীমারেখা অতিক্রম করে। প্রশ্ন উঠছে, যখন এই সীমালঙ্ঘন প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে ঘটে, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে থাকে?
ঘৃণা ভাষণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রথমে শব্দের মাধ্যমে অবমাননা, তারপর সেই অবমাননার স্বাভাবিকীকরণ, এবং শেষপর্যন্ত সামাজিক বিভাজনের স্থায়ী রূপ। ইতিহাস আমাদের বারবার দেখিয়েছে, বড় কোনও সহিংসতার আগে ভাষাই সবচেয়ে নিষ্ঠুর অস্ত্র হয়ে ওঠে। আজ যা ‘মন্তব্য’বলে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, কাল তা-ই রাস্তায় ঘৃণার আগুন জ্বালাতে পারে। তাই এই ধরনের বক্তব্যকে নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য বলে এড়িয়ে যাওয়া মানে ভবিষ্যতের বিপদের বীজ বপন করা।

আরও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গ বহুদিন ধরেই ধর্মীয় সহাবস্থানের এক জটিল কিন্তু তুলনামূলক শান্ত পরিসর হিসেবে পরিচিত। এখানে মতাদর্শের সংঘাত হয়েছে, রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে, কিন্তু ধর্মীয় বিদ্বেষকে রাষ্ট্রক্ষমতার ভাষায় প্রকাশ করার প্রবণতা তুলনামূলক সীমিত ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখে ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ নিয়ে অবমাননাকর ভাষণ শুধু মুসলিম সমাজকেই আহত করে না, এরাজ্যের সামাজিক ঐতিহ্যকেও আঘাত করে। জনপ্রতিনিধির বক্তব্য সাধারণ নাগরিকের বক্তব্যের মতো নয়; তার কথার ওজন বেশি, প্রভাব গভীর, এবং দায়িত্ব বহুগুণ।
আইন কিন্তু নীরব নয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩-এ ধারা স্পষ্টভাবে ধর্মের ভিত্তিতে শত্রুতা প্রচারকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে। ২৯৫-এ ধারা ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত হানাকে শাস্তিযোগ্য বলে গণ্য করে। তবুও প্রশ্ন থেকে যায় — আইন থাকলে তার প্রয়োগ কোথায়? কেন ঘৃণা ভাষণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় যেন অদৃশ্য ঢাল হয়ে দাঁড়ায়? কেন শাস্তির প্রশ্নে এত দ্বিধা, এত বিলম্ব?

আরও পড়ুন:

সমাধান কী? প্রথমত, ঘৃণা ভাষণের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা ‘শূন্য সহনশীলতা’নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। অভিযোগ উঠলেই রাজনৈতিক চাপমুক্ত, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, জনপ্রতিনিধিদের জন্য আরও কঠোর নৈতিক আচরণবিধি কার্যকর করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সরাসরি সাংবিধানিক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তৃতীয়ত, নাগরিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। নীরব দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না; প্রশ্ন তুলতে হবে, ধারাবাহিকভাবে, যুক্তি দিয়ে।
এই নীরবতার সামাজিক মূল্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। যখন রাষ্ট্র বা প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন ঘৃণা-ভাষণ আরও সাহস পায়। যারা সংখ্যালঘু, তারা নিজেদের আরও অসুরক্ষিত মনে করে। যারা সংখ্যাগুরু, তাদের একাংশের মনে জন্ম নেয় এক ধরনের অনুমোদনের অনুভূতি — যেন এই ভাষা বলাই যায়, কোনও পরিণতি নেই। এভাবেই গণতন্ত্রের ভেতরে ধীরে ধীরে বিষ ঢুকে পড়ে।
ঘৃণা ভাষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া মানে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নিশানা করা নয়, বরং সংবিধানকে রক্ষা করা। এখানে প্রশ্নটা মতাদর্শের নয়, মানবিক মর্যাদার। আজ যদি ইসলাম ধর্মগ্রন্থ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের পরও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, কাল অন্য কোনও ধর্ম, অন্য কোনও গোষ্ঠী একই পরিণতির মুখে পড়বে। এই অশুভ চক্র থামানো না গেলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে সামগ্রিক সামাজিক বিশ্বাস।
সমাধান কী? প্রথমত, ঘৃণা ভাষণের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ বা ‘শূন্য সহনশীলতা’নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। অভিযোগ উঠলেই রাজনৈতিক চাপমুক্ত, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, জনপ্রতিনিধিদের জন্য আরও কঠোর নৈতিক আচরণবিধি কার্যকর করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সরাসরি সাংবিধানিক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তৃতীয়ত, নাগরিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। নীরব দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না; প্রশ্ন তুলতে হবে, ধারাবাহিকভাবে, যুক্তি দিয়ে।
সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা কোন ধরনের সমাজে বাঁচতে চাই। যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে অপমান করা রাজনৈতিক কৌশল হয়ে ওঠে, নাকি যেখানে ভিন্ন বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে। ঘৃণা ভাষণের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া মানে কারও ধর্মীয় আবেগকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়; মানে মানবিক সহাবস্থানের ন্যূনতম শর্ত রক্ষা করা।
আজ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব শুধু একটি ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে আমাদের নৈতিক সাহসকেও। ঘৃণার ভাষণ যদি শাস্তিহীন থেকে যায়, তবে সেই নীরবতাই একদিন আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে ইতিহাসে নথিভুক্ত হবে।

আরও পড়ুন:

 

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder