BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

স্বাধীনতা সংগ্রামী আবুল হাশিম এক বিস্মৃত জননেতার জীবন-সংগ্রাম

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৫৮ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৫৮

পাশারুল আলম
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অনেক নেতার নাম সোনার অক্ষরে লেখা আছে, কিন্তু কিছু মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁদের অবদান প্রায়শই ছায়ায় থেকে যায়। আবুল হাশিম এমনই একজন অসাধারণ রাজনৈতিক চিন্তক ও সংগ্রামী, যিনি অবিভক্ত বাংলার মুসলিম রাজনীতিকে প্রগতিশীল দিকনির্দেশ দিয়েছিলেন এবং গণমানুষের অধিকারের জন্য নিরলস লড়াই করেছিলেন। তাঁর জীবন ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অটল অবস্থান, সমাজতান্ত্রিক চেতনা এবং হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের স্বপ্নের এক অসাধারণ উদাহরণ। আজকের বিভাজনমুখী রাজনীতির যুগে আবুল হাশিমের চিন্তাধারা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন, সত্যিকারের মুক্তি আসবে শুধুমাত্র সহাবস্থান ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন:

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা:

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিমের জন্ম ১৯০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বর্ধমান জেলার কাশিয়াড়া গ্রামে। তাঁর পিতা আবুল কাসেম (১৮৭২-১৯৩৬) ছিলেন বর্ধমানের একজন প্রখ্যাত সমাজসেবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও আবুল হাশিমের মনে শৈশব থেকেই মানবতাবাদ, সমতা ও ন্যায়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ জন্মায়। তিনি বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল থেকে ১৯২২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন, তারপর বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে ১৯২৮ সালে স্নাতক হন। ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি নিয়ে বর্ধমান জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। ছাত্রজীবনে তিনি সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট হন, যা তাঁকে ভবিষ্যতের এক প্রখর চিন্তাবিদ হিসেবে গড়ে তোলে।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ:

আরও পড়ুন:

পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করে ১৯৩৬ সালে আবুল হাশিম বাংলা আইনসভায় বর্ধমান থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং দ্রুত উন্নতি করেন। ১৯৩৮ সালে এলাহাবাদে এবং ১৯৪০ সালে লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বর্ধমান মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি শক্তিশালী হয়। ১৯৪৩ সালের নভেম্বরে তিনি বাংলা প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭ পর্যন্ত এই পদে থাকেন। তাঁর নেতৃত্বে লীগ একটি গণভিত্তিক দলে পরিণত হয়, যেখানে তিনি মিলিয়নেরও বেশি সদস্য সংগ্রহ করেন। তাঁর রাজনীতি ছিল সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে — তিনি মুসলমান সমাজকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র না করে। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে লীগের সাফল্যে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিম | কালবেলা

দেশভাগের প্রাক্কালে ঐতিহাসিক ভূমিকা:

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের শুরুতে যখন উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের আগুন জ্বলছিল, তখন আবুল হাশিম ‘ইউনাইটেড বেঙ্গল’ বা অবিভক্ত স্বাধীন বাংলার অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন। শরৎচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে মিলে তিনি একটি অ-সাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও স্বতন্ত্র বাংলা রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর মতে, বাংলার শক্তি নিহিত রয়েছে হিন্দু-মুসলমানের সহাবস্থানে। তিনি ‘বাঙ্গালিস্তান’ ধারণা প্রচার করেন, যা একটি জাতীয়তাবাদী বাংলা রাষ্ট্রের কল্পনা করেছিল। কিন্তু কংগ্রেসের সংশয়, মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনমনীয়তা এবং ব্রিটিশ কূটনীতির কারণে এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। দেশভাগের পর তিনি পশ্চিমবঙ্গ আইনসভায় বিরোধী দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:

দেশ ভাগোত্তর জীবন; নতুন সংগ্রাম:

আরও পড়ুন:

১৯৪৭-এর দেশভাগের পর আবুল হাশিম প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে থাকেন, কিন্তু ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে যান এবং ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের একনায়কতান্ত্রিক চরিত্র, পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক দমন তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করে। তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি হতাশ হয়ে ১৯৫২ সালে তিনি ‘খিলাফত-ই-রব্বানী পার্টি’ গঠন করেন, যা ইসলামী রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত হয় এবং ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি এর সভাপতি ছিলেন। তাঁর রাজনীতি ছিল ইসলামী সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট — শ্রেণিহীন সমাজ, শোষণমুক্তি এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের উপর জোর দিতেন।

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিম

চিন্তক ও লেখক আবুল হাশিম:
আবুল হাশিম শুধু রাজনীতিবিদ নন, একজন গভীর দার্শনিক ও লেখক ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগ থেকে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করে এবং ১৯৫০-এর দশকে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান। তবু তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকলাপ অব্যাহত থাকে। ১৯৬০ সালে তিনি ইসলামিক অ্যাকাডেমির প্রথম পরিচালক নিযুক্ত হন। তাঁর রচনাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘The creed of Islam’, ‘In retrospect’, ‘Let us go to war’ এবং ‘As I see It’ — এই রচনাগুলিতে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা, শ্রেণিভিত্তিক শোষণের নিন্দা, সমাজতান্ত্রিক চেতনা এবং মানবমুক্তির দাবি উঠে এসেছে। তাঁর চিন্তাধারা ছিল ডি-কোলোনিয়ালিজম বা ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্যে।

আরও পড়ুন:

ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ:

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিমের ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারণ; ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র করার বিরোধী; মুসলিম লীগের নেতা, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার সমালোচক; পাকিস্তানের সমর্থক, কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের কড়া বিরোধী। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সম্প্রীতি। তাঁর আদর্শ ছিল সাম্য, ন্যায় ও মানবিকতা।

আরও পড়ুন:

শেষ জীবন ও প্রয়াণ:

আরও পড়ুন:

দীর্ঘ সংগ্রাম, দাঙ্গার বিভীষিকা এবং রাষ্ট্রীয় চাপ তাঁর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। অন্ধত্ব সত্ত্বেও তিনি সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু শেষদিকে জনজীবন থেকে সরে আসেন। ১৯৭৪ সালের ৫ অক্টোবর তিনি প্রয়াত হন। জীবদ্দশায় তিনি যথাযথ স্বীকৃতি পাননি, কিন্তু তাঁর ত্যাগ আজও অনুপ্রেরণা।
পরিশেষে বলা যায়, আজকের বাংলাদেশ ও ভারতের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবুল হাশিমকে স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি ঐক্যবদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক বাংলা, যেখানে বিভাজন নয়, সহাবস্থানই মূলমন্ত্র। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, সত্যিকারের নেতৃত্ব ক্ষমতার জন্য নয়, জনস্বার্থের জন্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর চিন্তাধারা অনুসরণ করে এক বৈষম্যহীন আদর্শ ও সুসংহত সমাজ গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা নিতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder