BREAKING:
চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান রুক্ষ মাটিতে মিয়াওয়াকি বনাঞ্চল, ছায়া ঘেরা স্কুলেই চলছে পাঠ মেহতাবের কাছে আটকাল মোহনবাগান,পয়েন্ট ভাগাভাগি খিদিরপুরের সাথে খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা

ফিলিস্তিনি সংহতি দিবস অয়দিপাউস ও নেতানিয়াহু

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৩৫ | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৩৫

মুদাসসির নিয়াজ

আরও পড়ুন:

ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মাহমুদ দারবিশ লিখেছিলেন, ”পিপাসায় শুকিয়ে গেলেও গাছেরা নদীর কাছে মাথা নোয়ায় না!” সত্যিই তাই। দীর্ঘ সাড়ে সাত দশকেরও বেশি ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞে শাহাদাতের সুনামি বয়ে গেলেও ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের কাছে মাথানত করেনি। খুন-পসিনা দিয়ে, নিজেদের জীবন বাজি রেখে রক্ত দিয়ে তারা স্বাধীন ফিলিস্তিনের পতাকা এঁকে চলেছে।
দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ইসরাইলি অবরোধে ‘বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগার’-এ পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ, পানি, খাদ্য, ওষুধের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন অসহায় ফিলিস্তিনিরা রোযা রাখে, নদীর পানি পান করে।
ইসরাইল চায় গোরস্থানের শান্তি। আর সেই শান্তির জন্যই তারা যুদ্ধ চায়। তাই ফিলিস্তিনিদেরকে পুরোপুরি নিকেশ করে মদ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র থেকে উধাও করে দিয়ে সমগ্র ভূখণ্ড কব্জা করে বানাতে চায় গ্রেটার ইসরাইল। আর ফিলিস্তিনিরা যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে শান্তি চায়। তাই তারা জমি, ভিটে, পুত্র-কন্যা, বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী সবাইকে ও সর্বস্ব হারিয়েও শান্তি চায়, স্বাধীনতা চায়। তবু তাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারটুকু ছিনিয়ে নিয়েছে ইসরাইল। ৮০ শতাংশেরও বেশি ভূখণ্ড হারিয়ে তারা বাকি অংশটুকুতেই স্বাধীন দেশ চায়। তবু তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দেওয়া হয়।
২৯ নভেম্বর ছিল ৩৯তম আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিনি সংহতি দিবস। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রসংঘ এই দিনটি ঘোষণা করে। এর ১০ বছর পর ১৯৮৭ সালের ২৯ নভেম্বর মজলুম ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে প্রস্তাব পাস হয় এবং বিভিন্ন দেশে এই দিনটি পালিত হয়। যদিও তার সাড়ে তিন দশক পর আজও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অথচ সাড়ে সাত দশক আগে ফিলিস্তিনের বুকের ওপর ইসরাইলকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। পশ্চিমাদের সেই আনুকূল্য, বদান্যতা ও সহযোগিতায় টানা প্রায় ২৫ মাস ধরে আশ্রয়দাতা ফিলিস্তিনের ওপর পাশবিক ও বর্বরোচিত একতরফা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোড়া অবৈধ দেশ ইসরাইল। ২০২৩ এর ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অসম যুদ্ধ শুরুর পর দু-দুটো সংহতি দিবস চলে গেল, কিন্তু গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ তথা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ করেনি ইসরাইল। গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ মিশরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেন। কিন্তু তারপর গত দিনে ৫০০-রও বেশি বার গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। পাশাপাশি এখন তারা নতুন করে ওয়েস্টব্যাঙ্কেও হামলা শুরু করেছে। ইহুদীরা এতবড় বেইমান ও নিমকহারাম, যারা তাদেরকে ইউরোপীয়দের থাবা থেকে রক্ষা করতে আঁচল পেতে দিয়েছিল, কোলে তুলে নিয়েছিল, সেই ফিলিস্তিনিদেরকেই গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে নরখাদক ইসরাইল।

আরও পড়ুন:


১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দু-টুকরো করে দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ইহুদিদের জন্য ইসরাইল এবং অন্যটি ফিলিস্তিনিদের জন্য। মূলত ব্রিটেন ও আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতায় পাস হয়েছিল সেই কুখ্যাত প্রস্তাব। সমর্থন দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইউরোপের অন্যান্য দেশ এবং চীনও। সেই প্রস্তাবে ফিলিস্তিনকে ৪২ শতাংশ এবং ইসরাইলকে ৫২ শতাংশ ভূখণ্ড দেওয়া হয়। বিতর্কিত জেরুসালেম নগরীকে (৬ শতাংশ ভূখণ্ড) রাষ্ট্রসংঘের অধীনে রাখা হয়। পরজীবী জর্ডনকে এর তত্ত্বাবধায়ক করা হয়। এই হল রাষ্ট্রসংঘের ইনসাফ! যদিও বিগত সাড়ে সাত দশক ধরে অধিগ্রহণ ও আগ্রাসন চালিয়ে ৮০ শতাংশেরও বেশি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল করে নিয়েছে ইসরাইল।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল নামক জারজ রাষ্ট্র গঠনের নীলনকশা ১০৭ বছর আগেই সেরে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। তদানীন্তন ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ‘বেলফোর ডিক্লারেশন’ ঘোষণা করেন, এটাই ছিল মধ্যপ্রাচ্যে বিষবৃক্ষের বীজ বপন। যায়নবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা থিওডোর হার্জেলকে চিঠি লিখে বেলফোর সেই ঘোষণাপত্রের কথা জানান। সেই অনুসারেই রাষ্ট্রসংঘে ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। যাতে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ৩৩, ফিলিস্তিনের পক্ষে ১৩ দেশ ভোট দেয় এবং ১০টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এর ৬ মাস পর ১৯৪৮ সালের ১৪ মে রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব মোতাবেক ইসরাইল রাষ্ট্র গঠিত হয়। ঠিক তার ১০ মিনিটের মধ্যেই ইসরাইলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় আমেরিকা।
ফিলিস্তিনের মূল শহর বা নগর হল কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী জেরুজালেম। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মূলে রয়েছে এই জেরুজালেম। মূলত আমেরিকা ও ব্রিটেনের মদদে বাহুবলে পুরো এলাকাটি দখল করে নিয়েছে ইসরাইল। পৃথিবীর ইতিহাসে ফিলিস্তিন একমাত্র দেশ, যারা মানবিকতা ও উদারতা দেখাতে গিয়ে নিজেদের দেশকে হারিয়ে ‘নেই রাজ্যের বাসিন্দা’ হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক কাঠামো এবং ইতিহাস-ভূগোল আমূল বদলে যায়। অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে যায়নিজম বা কট্টর ইহুদীবাদের ধারণা জন্ম নেয় ইউরোপের মাটি থেকে। ইউরোপ ও রাশিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদীদের জন্য একটা আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

আরও পড়ুন:

ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্য বা তুর্কি খিলাফতের অধীন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক হেরে গেলে কয়েকশো বছরের উসমানীয় শাসনের অবসান হয়। ফিলিস্তিন চলে যায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সের দখলে। দুই ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিধর রাষ্ট্র ভাগাভাগি করে ৩০ বছর শাসন করে ফিলিস্তিনকে। ১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষণার পর দলে দলে ইহুদীরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে লোটাকম্বল গুছিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। প্রথমে ফিলিস্তিনিরা তাদেরকে স্বাগত জানায়। তারা বুঝতে পারেনি এই মানবিকতা ও আতিথেয়তাই একদিন কাল হবে। উড়ে এসে জুড়ে বসা ইহুদিরাই একদিন মূলনিবাসী ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের চোদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করবে। এমনকি নিজেদের ভূখণ্ড থেকেই চিরতরে ফিলিস্তিনিদেরকে উৎখাত বা বিতাড়িত করে নিজভূমে পরবাসী করা হবে – এই অদূরদর্শিতাই ছিল ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক ভুল।

আরও পড়ুন:

১৮৯৭ সালে ইহুদি পণ্ডিত থিওডোর হারজেল ‘ওয়াল্ড যায়োনিষ্ট অর্গানাইজেশন’ গড়ে তোলেন। যায়নবাদীদের স্বপ্ন ছিল, ইউরোপের কোথাও ইহুদীদের জন্য একটা স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গড়ে তোলা। কিন্তু সেসময় ইউরোপে অ্যান্টি সেমিটিজম বা ইহুদী বিদ্বেষ এত প্রবল ছিল যে, সে সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনাশ হয়। ফলে যায়নবাদীরা ইউরোপের মানচিত্র ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের রাষ্ট্র গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে থাকে। সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশবাদী চশমা পরিয়ে পশ্চিমারা তাদেরকে এই স্বপ্ন দেখায় এবং স্বপ্ন পূরণের আশ্বাস দেয়। শেষ পর্যন্ত হলও তাই। ফিলিস্তিনের অঙ্গ হানি করে ইসরাইল নামক ইহুদি-রাষ্ট্র গড়ে তোলায় সর্বাত্মক পৃষ্টপোষকতা দিল বিশ্ব মোড়লরা। এ যেন ফিলিস্তিনের হার্টে ইসরাইলি পেসমেকার বসানো। আর মধ্যপ্রাচ্যের আসলে ইউরোপীয়রা ইহুদীদের বিশ্বাস করত না, তাই ইউরোপের বুকে ইহুদী রাষ্ট্র তারা চায়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিদের পাঠিয়ে দিয়ে আপদ বিদায় করে ইউরোপীয়রা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। একইসঙ্গে হিটলারের জেনোসাইড এর প্রায়শ্চিত্য করতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদীদের জন্য দেশ গড়ে দেয় পশ্চিমারা।

আরও পড়ুন:

দেশে দেশে ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উদযাপন২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজোয়ারি করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী বলে ঘোষণা করেন। জেরুজালেম যেন তার পৈতৃক সম্পত্তি। তার দু-সপ্তাহ পর ২১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘে পাল্টা প্রস্তাব পাস হয় এবং ট্রাম্পের সেই ঘোষণা বাতিল হয়ে যায়। এই প্রস্তাব পাস করানোর জন্য শতাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কূটনৈতিক দৌত্য চালান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। রাষ্ট্রসঙ্ঘের জেনারেল এসেম্বলিতে বিপুল সংখ্যাধিক্যে পাস হয় সেই প্রস্তাব।

আরও পড়ুন:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ব্রিটিশ ও ফরাসি উপনিবেশবাদের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিলে বৈশ্বিক কূটনীতিতে আমেরিকা এতই শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে যে, রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাব পাস হলেও এখনও জেরুসালেম ইসরাইলের রাজধানী হয়েই রয়ে গেছে। এবার ট্রাম্প পুনরায় জিতে মসনদে ফিরতে চলেছেন। ২০ জানুয়ারি ২০২৫ তিনি হোয়াইট হাউসের চাবিকাঠি হাতে পাবেন। তারপর ফিলিস্তিনের ভাগ্যে কী হবে, তা সময়ই বলবে।

আরও পড়ুন:

মক্কা-মদীনার পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ইসলামী ঐতিহ্যবাহী ইবাদাতগাহ তথা মুসলিম উম্মাহর প্রথম কিবলা তথা বিশ্বনবী (সা.) এর মিরাজের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস এই জেরুজালেম নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। অতএব বলাবাহুল্য যে, ট্রাম্প ৭ বছর আগে নেতানিয়াহুকে জেরুজালেম উপহার দেওয়ায় মুসলিম উম্মাহ মুণ্ডু-বিহীন ধড়ে পরিণত হয়েছে। তবুও ৫৭টা মুসলিম দেশ ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না। ওআইসি, আরব লিগ বারে বারে লোক দেখানো বৈঠক করছে এবং অশ্ব ডিম্ব প্রসব করছে।

আরও পড়ুন:

এবার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পিটিশনে সই করল হাজারো ইসরায়েলি

জেরুজালেম ছিল শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ট্রাম্পের যায়নবাদী মাস্টারস্ট্রোক। এটাই হল মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সূর্যাস্ত। ১৯৯৩ সালে বিল ক্লিনটনের মধ্যস্থতায় সই হওয়া অসলো চুক্তি ছিল সুপার ফ্লপ। ওই চুক্তিতে ইসরাইলও সই করেছিল। যাতে উল্লেখ ছিল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে ইসরাইল। গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি কতৃপক্ষের স্বশাসন চলবে। কিন্তু ২০০৬ সালের নির্বাচনে গাজায় হামাস জয়ী হলে ইসরাইল তা সহ্য করতে পারেনি। সেই থেকেই টানা ১৭ বছর ধরে গাজাকে তিনদিক থেকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। ৩২০ বর্গকিমি. এলাকা বিশিষ্ট গাজায় প্রায় ২৬ লক্ষ মানুষ গাদাগাদি ঠাসাঠাসি করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

গত ১৪ মাসের যুদ্ধে নারী ও শিশু-সহ প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ইসরাইল। তবুও পশ্চিমারা তাদের ঔরসজাত লাওয়ারিশ সন্তান ইসরাইলকে গণহত্যা চালিয়ে যেতে অবাধ লাইসেন্স দিয়ে রেখেছে। কেউ জানে না, আর কত ফিলিস্তিনি শহীদ হলে নেতানিয়াহুর রক্ত-পিপাসা মিটবে? তারপর অয়দিপাউসের মতো মৃত নগরীর রাজা হবেন তিনি!

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder