BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:৪২ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:৪৩

মজিবুর রহমান: সাংবিধানিকভাবে ভারতবর্ষ হল একটি ‘রাজ্যসমূহের সংঘ’ বা ‘ইউনিয়ন অফ স্টেটস’। এই মুহূর্তে ভারতে রাজ্য (স্টেট) ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের (ইউনিয়ন টেরিটোরি) সংখ্যা যথাক্রমে ২৮ এবং ৮। ভারতের সর্বত্র যথোচিত মর্যাদায় ১৫ আগস্ট (১৯৪৭) স্বাধীনতা দিবস, ২৬ নভেম্বর (১৯৪৯) সংবিধান দিবস ও ২৬ জানুয়ারি (১৯৫০) সাধারণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করা হয়। কিন্তু রাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠা দিবস অথবা ভারতে অন্তর্ভুক্তি দিবস উদযাপনের বিশেষ রেওয়াজ নেই। হঠাৎ করেই ২০২৩ সালে ২০ জুন রাজ্যপাল সি.ভি আনন্দ বোস রাজভবনে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের আয়োজন করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন এবং ওই বছরই ২৩ আগস্ট বিধানসভায় পয়লা বৈশাখ ‘বাংলা দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব পাস করা হয়। সেই মতো ২০২৪ ও ‘২৫ সালে সীমিত পরিসরে ‘বাংলা দিবস’ পালন করা হয়। ২০২৬-এ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবগঠিত রাজ্য সরকার বৃহৎ আকারে ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এই আবহে বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ঐতিহাসিক ঘটনাক্রম ফিরে দেখা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট রিচার্ড অ্যাটলি ১৯৪৬ সালের ১৫ই মার্চ হাউস অব কমন্সে ভারতের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে এক বিবৃতি দেন। ওই মাসেই তিনজন ব্রিটিশ মন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত ‘ক্যাবিনেট মিশন’ দিল্লি আসে। স্বাধীন ভারতের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। একটি প্রস্তাবে ভারতকে অবিভক্ত রেখে একটি যুক্তরাষ্ট্র বা ফেডারেশন গঠনের কথা বলা হয়। কেন্দ্রের হাতে কেবল প্রতিরক্ষা, বিদেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়। প্রদেশগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। হিন্দু-প্রধান প্রদেশগুলো নিয়ে ‘ক’ ব্লক; মুসলিম অধ্যুষিত পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ নিয়ে ‘খ’ ব্লক এবং বাংলা ও আসামকে নিয়ে ‘গ’ ব্লক গঠন করা হয়। জুন মাসে গৃহীত এই প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই সহমত হয়। কিন্তু জুলাই মাসে মুসলিম লীগ প্রস্তাবটি সমর্থনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। ১৬ আগস্ট তারা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্ৰাম দিবস’ কর্মসূচি পালন করে। একাধিক জায়গায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা লাগে। সংঘটিত হয় ‘গ্ৰেট ক্যালকাটা কিলিং’। মুসলিম লীগ সেপ্টেম্বরে গঠিত জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে যোগদান করতে অসম্মত হয় (পরে অক্টোবরে যোগ দেয়)। মুসলিম লীগের সদস্যরা সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে গঠিত গণপরিষদের অধিবেশনেও অংশগ্রহণ করেননি। আসলে তখন তাদের ভাবনায় ১৯৪০ সালে লাহোরে গৃহীত ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসবের জন্য মুসলিম লীগের সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অ্যাটলি সাহেব দায়িত্বশীল ভারতবাসীর হাতে ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যেই ক্ষমতা অর্পণ করার কথা ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় হিন্দু মহাসভার সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বাংলার গভর্নর স্যার ফ্রেডরিক জন ব্যারোজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলার হিন্দু-প্রধান অঞ্চল নিয়ে একটি পৃথক প্রদেশ গঠন করে তাকে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। ১৯ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ”ভারত যদি অবিভক্তও থাকে তাহলে সেই অবস্থাতেও বাংলাকে ভাগ করতে হবে।” ৫–৬ এপ্রিল তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সম্মেলনে বঙ্গদেশে হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক প্রদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ১৩ মে তিনি সোদপুর আশ্রমে গান্ধীজির সঙ্গে দেখা করে সার্বভৌম বাংলা গঠনের ব্যাপারে তাঁর তীব্র আপত্তির কথা জানিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বিচার করে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বাংলা ভাগ করে হিন্দু-প্রধান অঞ্চলসমূহ ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। মুসলিম লীগের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব অবশ্য অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানে পেতে আগ্ৰহী ছিল। তবে শরৎচন্দ্র বসু ও কিরণ শঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের একটি ক্ষুদ্র অংশ এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি বৃহৎ অংশ অবিভক্ত স্বাধীন বঙ্গদেশ গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যান। মর্নিং নিউজ, দৈনিক আজাদ, আনন্দবাজার পত্রিকা, অমৃতবাজার পত্রিকা প্রভৃতি সংবাদপত্র বাংলা ভাগের পক্ষে অবস্থান গ্ৰহণ করে।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের ২ জুন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় অখণ্ড সার্বভৌম বাংলার পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। ৩ জুন ব্রিটিশ সরকার ভারত এবং সেই সঙ্গে বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। ৪ জুন ঘোষণা করা হয়, ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। পুরো পরিকল্পনাটি ‘মাউন্টব্যাটেন রোয়েদাদ’ নামে পরিচিত হয়। তবে এই পরিকল্পনায় বাংলাকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে না হলেও অবিভক্ত প্রদেশ হিসেবে থেকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলার প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যরা হিন্দু ও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার ভিত্তিতে দুই ভাগে বিভক্ত হবেন। প্রথমে অবিভক্ত বিধানসভার অধিবেশন বসে বাংলা অখণ্ড থাকবে কিনা এবং অখণ্ড থাকলে ভারতে, নাকি পাকিস্তানে যোগদান করবে, তা স্থির করতে বলা হয়। পরে বিভাজিত এলাকার সদস্যরা পৃথকভাবে বসে ঠিক করবেন, তাঁরা বাংলা ভাগকে সমর্থন করছেন কিনা এবং করলে কোন্ দেশের অংশ হবেন। কোনো একটি অংশ ভাগের অনুকূলে মত প্রকাশ করলে বাংলাকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত দু-ভাগে ভাগ করা হবে।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার জন্য বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার বিশেষ অধিবেশন বসে। প্রথমে যৌথ অধিবেশনে বাংলাকে অবিভক্ত রাখার এবং অবিভক্ত বাংলার পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষে ১২৬–৯০ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা স্বতন্ত্র অধিবেশনে মিলিত হয়ে ৫৮–২১ ভোটে বাংলা ভাগের এবং ভারতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল অর্থাৎ পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধিরা আরেকটি স্বতন্ত্র অধিবেশনে মিলিত হয়ে ১০৬–৩৫ ভোটে বাংলা ভাগের বিপক্ষে রায় দেন এবং বাংলা ভাগ অনিবার্য হলে পাকিস্তানে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করেন। বাংলা ভাগের বিপক্ষে দু-বার বেশি ভোট পড়লেও পূর্বোক্ত রোয়েদাদের শর্তানুযায়ী বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব জয়যুক্ত হয়। পূর্ববঙ্গ যায় পাকিস্তানে, আর পশ্চিমবঙ্গ থাকে ভারতে। আয়তনে ও লোকসংখ্যায় পূর্ববঙ্গ বড় ছিল। প্রাদেশিক আইনসভায় পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধির সংখ্যাও বেশি ছিল। অবিভক্ত বাংলার আইনসভার মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ২৫০। কয়েকটি প্রধান দলের সদস্য সংখ্যা ছিল এরূপ: মুসলিম লীগ ১১৪, কংগ্রেস ৮৬, কমিউনিস্ট পার্টি ৩, কৃষক প্রজা পার্টি ৩, হিন্দু মহাসভা ১ (শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি)। বলাবাহুল্য, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সদস্যরা বাংলা ভাগের যথাক্রমে পক্ষে ও বিপক্ষে ভোট দেন। কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট দেন। দ্বিখণ্ডিত বাংলায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য সংখ্যা হয় ৯০। প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে ৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে ১১ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।

আরও পড়ুন:

রেডক্লিফ কমিশন ভারত-পাকিস্তানের যে সীমানা নির্ধারণ করে তাতে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা হিসেবে নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও দিনাজপুর ১৪-১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ স্বাধীনতার দিন পূর্ববঙ্গ তথা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ প্রান্ত উত্তর প্রান্ত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জল-সংকটে কলকাতা বন্দর বিপন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই গুরুতর সমস্যা সমাধানের জন্য তৎপরতা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট নদীয়া, হিন্দু প্রধান খুলনার বিনিময়ে মুর্শিদাবাদ, মালদার ১৫টি থানার মধ্যে ১০টি থানা এবং অবিভক্ত দিনাজপুরের বালুরঘাট, হিলি, গঙ্গারামপুর ও রায়গঞ্জ পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯ আগস্ট এই অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন:

যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মুসলিম লীগ ভারত ভাগের দাবি তুলেছিল, সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা বাংলা ভাগ চেয়েছিল। ১৯০৫ সালে যে বঙ্গভঙ্গ হয়, তা রদ করার জন্য বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস ও হিন্দু সমাজ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু মুসলিম লীগ ও মুসলিম সমাজ বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে। ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ আটকাতে বঙ্গীয় মুসলিম লীগ ও মুসলিম সমাজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস ও হিন্দু সমাজ বাংলা ভাগের পক্ষে প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। সাম্প্রদায়িক বিভেদের কারণেই এসব হয়েছে। অবিভক্ত বাংলার জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ ছিল মুসলমান। তারাই বঙ্গ রাজনীতিতে শাসকের ভূমিকায় ছিল। তারা সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চেয়েছিল। কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা চেয়েছিল, বাংলার একটা অংশে যাতে হিন্দুরা শাসকের ভূমিকায় থাকতে পারে, তা সুনিশ্চিত করতে। এছাড়াও তাদের আশঙ্কা ছিল, বাংলা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেলে পরে পাকিস্তানের সঙ্গে মিশে যাবে।

আরও পড়ুন:

১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় স্মরণ করা হয় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীর লড়াই ও আত্মত্যাগের ইতিহাসকে। ভারত ভাগের জন্য যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এর সঙ্গে মিশে থাকে বৈদেশিক শাসন থেকে স্বদেশী শাসনে ভারতের ফিরে আসার আনন্দ ও গৌরব। জাত-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীকে আহ্বান জানান হয়, ভারতের সমস্ত ভাল-মন্দের শরিক হতে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ২০ জুনকে ওই আলোকেই দেখতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder