BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

সংবিধান প্রদত্ত সমস্ত মৌলিক অধিকার হরণ করেছে ফ্যাসিস্ট শাসকশ্রেণি

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৩৮ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৩৮

ড. শামসুল আলম

আরও পড়ুন:

বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং সংবিধান-সভা ভারতীয় জনগণকে যে সাত দফা মৌলিক অধিকার দিয়েছিল, সে সবকে চুরমার করেছে ফ্যাসিস্ট মোদী সরকার বিগত ১১ বছর যাবত। মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধান প্রদত্ত রক্ষাকবচ:
সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের প্রায় শুরুতে (১৩ ধারা) বলে দেওয়া হয়েছে যে (১) সংবিধান রচনার আগে যেসব আইন-কানুন রয়েছে, তা বাতিল হবে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের কারণে। (২) সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, যদি প্রজাতান্ত্রিক ভারতে যেসব আইন রচিত হচ্ছে বা হবে, তাকে অবশ্যই মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাযুজ্য রাখতে হবে এবং যদি তা না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন বাতিল বলে গণ্য হবে। গোলকনাথ বনাম ভারত রাষ্ট্র (১৯৬৭) মামলায় সর্বপ্রথম সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টত এই ঐতিহাসিক রায় দেয় যে, সম্পত্তির অধিকার-সহ কোনও মৌলিক অধিকারকে ৩৬৮ ধারায় (সংবিধান সংশোধনী ধারা) রাষ্ট্র বা রাজ্য কর্তৃক হরণ করা যাবে না। এই রায়ে রেগে গিয়ে তৎকালীন ইন্দিরা গান্ধী সরকার ২৪তম সংশোধনী এনে ঘোষণা করল, সংসদ মৌলিক অধিকার-সহ যে কোনও ধারাকে সংশোধন করবে, যেখানে কোন সংবিধান সংশোধনীকে বাতিল করার এক্তিয়ার শীর্ষ আদালতের নেই। এরপর সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৩ সালে এযাবৎকালের সবথেকে যুগান্তকারী রায় দিলেন কেশবানন্দ ভারতী বনাম কেরালা মামলায়, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট সংসদের এক্তিয়ারের কথা বলে রায় দেন, সংসদ কোনও অবস্থাতেই সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারবে না। সংবিধানের প্রস্তাবনার গণতন্ত্র (নাগরিকের মৌলিক অধিকার যুক্ত), প্রজাতন্ত্র, ন্যায়বিচার, ব্যক্তির মৌলিক স্বাধীনতা, সাম্য, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা (বিচার পর্যালোচনা) প্রভৃতি হল মৌলিক কাঠামো, যাকে পার্লামেন্ট পরিবর্তন করতে পারবে না। প্রকারান্তরে ২৪তম সংবিধান সংশোধনের (যেখানে সরকার পার্লামেন্টকে সার্বভৌম বলেছিল) অবস্থান বাধাপ্রাপ্ত হল কেশবানন্দ মামলায়। এরপর শীর্ষ আদালত মিনার্ভা মামলায় (১৯৮০) রায় দেন, বিচার বিভাগের পর্যালোচনা ক্ষমতা হল নিরঙ্কুশ। এই কারণে ইন্দিরা গান্ধীর ৪২তম সংশোধনী পদক্ষেপকে শীর্ষ আদালত কর্তৃক অসাংবিধানিক বলা হয় ঠিক সেই বিপজ্জনক জায়গায়, যেখানে ৩৬৮ ধারার সঙ্গে যোগ করা হয়েছিল, সংসদই সার্বভৌম, যার এক্তিয়ারে সুপ্রিম কোর্ট থাকবে না। এর প্রেক্ষিতে আদালত আবারও বলেন, পার্লামেন্টের ক্ষমতা সীমাবদ্ধতা এবং বিচারব্যবস্থার পর্যালোচনা — এই দুটিও হল মৌলিক কাঠামো। এই রায়ের পর ২০১৩ সাল পর্যন্ত কোনও কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানায়নি। সম্প্রতি উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখঢাক না করে মন্তব্য করেন, সুপ্রিম কোর্ট সার্বভৌম নয়; বরং পার্লামেন্ট সার্বভৌম। অর্থাৎ নাৎসীবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদকে তিনি নকল করলেন। বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review)-কে তিনি বাড়াবাড়ি বলতেও কসুর করেননি। এর ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে তখনকার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না সোজাসুজি জানিয়ে দেন, পার্লামেন্ট বা সুপ্রিম কোর্ট নয়; বরং সার্বভৌম হল সংবিধান, যার ব্যাখ্যা করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব হল সংবিধানের অভিভাবক স্বয়ং সর্বোচ্চ আদালতের।

আরও পড়ুন:

Parts of Indian Constitution
চ্যালেঞ্জের সূত্রপাত অবশ্য হয়েছিল অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে, যেখানে ওই সরকার নাগরিকতার নতুন আইন (NRC, NPR) চালু করে বৃহৎ জনগোষ্ঠী-সহ সংখ্যালঘু, দলিত, আদিবাসী এবং সর্বোপরি শ্রমজীবী জনতার নাগরিকত্ব হরণ করা হয়েছে উদ্ভট কতগুলো শর্ত চাপিয়ে, যা ব্যাপক জনগণ পূরণ করতে পারবে না। যথা- পূর্বপুরুষের জমির রেকর্ড, জন্ম সার্টিফিকেট, বাসস্থান সার্টিফিকেট প্রভৃতি। ২০১৪ সাল থেকে মোদি সরকার সমস্ত বৈধ নাগরিকের জীবনের অধিকারকে (২১ ধারা) হরণ করতে এগিয়ে আসে, যার নিকৃষ্টতম সংস্করণ হল ২০১৯ সালের CAA নামক ফ্যাসিস্ট আইন। যেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বাদ রেখে অন্য ছয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের বৈধতা নিশ্চিত করার কথা বলা হল। যার প্রতিধ্বনি শোনা যায় ২০২৪ এর লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদি সংখ্যালঘু সমস্ত মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলে দেগে দেওয়ার মধ্য দিয়ে।

আরও পড়ুন:

Stifling Dissent: The Criminalization of Peaceful Expression in India | HRW

মৌলিক অধিকার আজ ভূলুণ্ঠিত:

আরও পড়ুন:

শুধু রাজবন্দী কয়েক হাজার সারা দেশে, যাদের অপরাধ হল তারা মোদি জামানার বিভিন্ন নীতির সমালোচক। ১৯ ধারার বাক স্বাধীনতাকে নৃশংসভাবে হরণ করল। একনায়কতন্ত্রী জামানায় দু-তিনটি মাত্র দৃষ্টান্ত তুলে ধরলে দেখা যাবে, ২০১৮ সালের গোড়ায় মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মিথ্যা মামলায় ভীমা কোরেগাঁওতে ১৬ জন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীকে অনির্দিষ্টকাল আটক রাখা হল কালাকানুন ইউএপিএ-তে। ২০২০-তে দিল্লি দাঙ্গায় দাঙ্গাবাজরা অবাধে বিচরণ করলেও কোপ এসে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী ছাত্রদের ওপর, যার মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর যাবত ইউএপিএ-এর ছোবলে আটকে আছেন ওমর খালিদ, সার্জিল ইমাম-সহ জনা দশেক মেধাবি পড়ুয়া।
এরও আগে হাথরাসের গণধর্ষণ ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার খবর করতে গেলে সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানকে ইউএপিএ-তে আটক রাখা হয় সাড়ে তিন বছর। পহেলগাঁও জঙ্গী হামলার ক’দিন বাদে কালাকানুনে আটক করা হল অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রধান ড. আলি মাহবুদাবাদকে। বলা বাহুল্য, এই নিরাপরাধ প্রথিতযশা অধ্যাপকের অপরাধ ছিল, তিনি দাবি করেছিলেন রাষ্ট্র ও সরকার যেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেয়।

আরও পড়ুন:

Waqf bill: India Lok Sabha passes controversial bill on Muslim properties
২০২২ সালে মোদী জামানা আদিবাসীদের জল-জঙ্গল-জমির অধিকার কেড়ে নিয়ে সেগুলি আদানি, আম্বানি-সহ কর্পোরেট টাইকুনদের হাতে তুলে দিয়েছে অবাধে দেশের খনিজ সম্পদ লুট করার লক্ষ্যে। একইভাবে ২০২৪ সালে মোদিরাজ সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওয়াকফ রক্ষণাবেক্ষণের (২৬ ধারা) অধিকারকে কেড়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আদানি-আম্বানি এবং বিদেশি বহুজাতিক সংস্থাকে দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে ওয়াকফ আইন সংক্রান্ত মামলা মুলতুবি রাখা অবস্থাতেও মোদি সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যার নির্দেশিকা হল- রেজিস্ট্রেশেন না করার অজুহাতে প্রায় ১ লাখ ওয়াকফ এস্টেট এবং লাখ লাখ বিধায় বিস্তৃত মসজিদ-দরগাহ-ঈদগাহ-এতিম খানা-দাতব্য স্কুল-মাদ্রাসাকে আত্মসাৎ করে দেশী-বিদেশী কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়া। এটা শুধু সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি অবমাননাই নয়, এটা একদিকে যুক্তিসংগত শ্রেণিবিভাগ না করা এবং অপরদিকে ১৪,১৯,২১ ধারার মধ্যেকার ন্যায়বিচার হরণ করা। সুপ্রিম কোর্ট যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন মানেকা গান্ধী বনাম ভারত সরকার মামলায়, যেখানে আদালত স্পষ্ট বলেছে, ন্যায়বিচারের বিরোধী কোনও সংসদীয় আইন পাশ হলে তা বাতিল হবে। আদালত উক্ত তিনটি ধারাকে ‘সোনালি ত্রিভূজ’ আখ্যা দিয়েছেন। যার আলোকে পরবর্তীকালে শীর্ষ আদালত জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজ, পরিবেশ প্রভৃতি অধিকারকে ২১ ধারার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশিকা দিয়ে রাখলেন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট রাজ সোনালি ত্রিভূজকে ছাই-গাদায় নিক্ষেপ করেছে।

আরও পড়ুন:

All you need to know about citizenship trio : NRC, NPR & CAA - iPleaders

এর সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হল, কৃষকরা ঐতিহাসিক লড়াই করে যে তিনটি দানবীয় কৃষি আইনকে প্রত্যাহার করতে কেন্দ্র সরকারকে বাধ্য করেছিল, সেই আইন পিছন দরজা দিয়ে আনা হয়েছে, যা কৃষি বিপণনকে আদানি-আম্বানিদের ফাটকা পুঁজির স্বর্গরাজ্য করে তুলবে। এই লক্ষ্যে কেন্দ্র কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক-মূল্য (MSP) ধার্য করছেন, যা স্বনামধন্য ভারতীয় কৃষিবিজ্ঞানী ড. স্বামীনাথন কমিশনের পুরোপুরি খেলাপ। পাশাপাশি মোদি জামানায় গত ৮ বছরে ঋণশোধ করতে না পেরে এক লক্ষাধিক কৃষক আত্মহত্যা করেছে। এটা ২১ ধারার জীবনের অধিকারকে উপহাসে পরিণত করেছে। তাইতো দেখা যাচ্ছে, মোদি জামানায় প্রায় ১৪ কোটি কৃষক কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়েছেন বা কৃষিকাজ থেকে সরে গিয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। ৩৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে নেমে গেছেন। সব মিলিয়ে কৃষি উৎপাদন গভীর সংকটে পড়বেই, যার পরিণামে প্রায় তিন কোটি খেতমজুর এবং ৩৫ কোটি গরীব মানুষ জীবনের অধিকার (২২ ধারা), পেশার অধিকার (১৯ ধারা) বিলুপ্তির পথে ধাবিত হবে। এই কারণেই ভারত ক্ষুধার সূচকে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান প্রভৃতি ছোট ছোট প্রতিবেশী দেশের থেকেও পিছনে চলে গিয়েছে। কোটি কোটি মানুষের অপুষ্টির হাহাকার জীবন জীবিকার গভীর সংকটের ইঙ্গিতবাহী। প্রসঙ্গত, জীবনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক শুধু ডিক্টেটর মোদির লাগামছাড়া লকডাউনের কারণে। এছাড়া ২৯ কোটি অসংগঠিত শ্রমিক, যারা জিডিপি-র ৪৫ শতাংশের উৎপাদক, অথচ তারা সমস্ত সামাজিক বীমা থেকে বঞ্চিত। নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই বঞ্চনা জীবন ও কাজের মৌলিক অধিকারকে কেড়ে নেবার সূচক এবং সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ের ৩৯ ধারাকে চূড়ান্ত অবজ্ঞা করছে। অথচ এই অধ্যায়ে বর্ণিত সমস্ত ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিয়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরিতে মরিয়া এই সরকার। যার লক্ষ্য হল, এক দেশ-এক ধর্ম, এক ভাষা-এক নেতা এবং একদল ভিত্তিক মনুবাদী মুৎসুদ্দি পুঁজিপতি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র গঠন করা।
(ঋণ: সোশ্যাল জাস্টিস ও পূর্বাঞ্চল)

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder