BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

তরবারির সাথে গর্দানের বন্ধুত্ব হয় না

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:৪০ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:৪০

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

আরও পড়ুন:

ইসরায়েল হচ্ছে আধুনিক বিশ্বের সর্বশেষ সেটলার কলোনিয়াল রাষ্ট্র। কলোনিয়ালিজম মূলত দুই প্রকার। ক্লাসিকাল কলোনিয়ালিজম এবং সেটলার কলোনিয়ালিজম। ক্লাসিকাল কলোনিয়ালিজমে বিদেশীরা আসে, দেশ দখল করে, কয়েক দশক পর্যন্ত লুটপাট করে, এরপর পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে পালিয়ে যায়। এটা ঘটেছিল ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে ভারতবর্ষে, কিংবা ফরাসিদের ক্ষেত্রে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু সেটলার কলোনিয়ালিজমের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে বিদেশীরা লুটপাট করে চলে যাওয়ার জন্য আসে না। তারা আসে দেশ দখল করে, স্থানীয়দেরকে জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করে সেখানেই চিরস্থায়ী হওয়ার জন্য। এটা আমেরিকানরা ঘটিয়েছিল মূলনিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের সাথে। একই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ানরা ঘটিয়েছিল সেখানকার আদিবাসীদের সাথে, ফরাসিরা ঘটানোর চেষ্টা করেছিল আলজেরিয়ানদের সাথে।

আরও পড়ুন:

ইসরায়েল হচ্ছে এরকমই একটা সেটলার কলোনিয়াল রাষ্ট্র, যেখানে ইউরোপ থেকে আগত ইহুদিরা স্থানীয় আরব মুসলমান এবং খ্রিস্টানদেরকে নিশ্চিহ্ন করে বা স্থায়ীভাবে বিতাড়িত করে দেশটাকে পাকাপাকিভাবে দখল করে নিতে চায়।

আরও পড়ুন:

কলোনিয়ালিজমের বিরুদ্ধে টিকে থাকার শান্তিপূর্ণ কোনো উপায় নেই। সেটলার কলোনিয়ালিজমের ক্ষেত্রে তো আরও নেই। এখানে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম না করলে, রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে না গেলে নিজেদেরকেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে হয়। ফিলিস্তিনিরা এটা বিগত সাড়ে সাত দশক ধরে হাড়ে হাড়ে বুঝেছে। এবং সেজন্যই তারা সবসময় সেই দলের পক্ষেই অবস্থান নেয়, যে দল রেজিস্ট্যান্সকে আঁকড়ে ধরে। সেই রেজিস্ট্যান্সের জন্য তাদেরকে মূল্য দিতে হলেও তারা সেটা মেনে নেয়। কারণ তারা জানে, রেজিস্ট্যান্স থামিয়ে দেওয়ার মূল্য আরও অনেক বেশি।

আরও পড়ুন:

প্রতিটা দেশেই স্থানীয় অধিবাসীদেরকে কলোনিয়ালিজমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। আলজেরিয়ায় ফরাসিদের ঔপনিবেশিক শাসন ১৩২ বছর স্থায়ী হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ আলজেরিয়ানকে জীবন দিতে হয়েছিল। শুধুমাত্র শেষ সাত বছরের স্বাধীনতা যুদ্ধেই মারা গিয়েছিল ১৫ লক্ষ আলজেরিয়ান স্বাধীনতাকামী নাগরিক।

আরও পড়ুন:

১৯৪৫ সালে আলজেরিয়ানরা যখন তাদের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিল, বিপরীতে ফরাসিরা যখন সেতিফ এবং গুয়েলমা শহরে গণহত্যা চালিয়ে ৪৫ হাজার আলজেরিয়ানকে হত্যা করেছিল, তখন হয়ত অনেকের কাছে মনে হয়েছিল, আলজেরিয়ানদের স্বাধীনতা আন্দোলন এখানেই বুঝি শেষ হয়ে গেল। কিন্তু বাস্তবে আন্দোলন ওখানে শেষ হয়নি। মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা কখনও নির্মূল করা যায় না। সে সময় আন্দোলন চাপা পড়ে গেলেও পরবর্তীতে আলজেরিয়া ঠিকই আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং শেষমেষ জীবন বাজি রেখে ফরাসিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছে।

আরও পড়ুন:

প্রায় প্রতিটা দেশেই একই ইতিহাস ভিন্ন ভিন্ন রূপে বা আঙ্গিকে দেখা দিয়েছে। লিবিয়ায় ওমর আল-মুখতার যখন ইতালিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তখন তার অনুগামী বেদুইন যোদ্ধাদের হাতে রাইফেল ছাড়া আর কিছুই ছিল না। বিপরীতে সে সময়ের অন্যতম পরাশক্তি ইতালিয়ানদের কাছে ছিল ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান-সহ অত্যাধুনিক সব অস্ত্রশস্ত্র। ওমর আল-মুখতার জানতেন, তার পক্ষে ইতালিয়ানদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। কিন্তু দখলদার বাহিনীর হাতে বিনাযুদ্ধে নিজের দেশের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে তিনি রাজি ছিলেন না।

আরও পড়ুন:

ওমর আল-মুখতারের বিদ্রোহ দমন করার জন্য ইতালিয়ানরা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের প্রায় সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে স্থানান্তর করেছিল। সেই ক্যাম্পে বন্দী পূর্বাঞ্চলের জনগণের অর্ধেকই মৃত্যুবরণ করেছিল। কিন্তু ওমর আল-মুখতার যুদ্ধ বন্ধ করেননি। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তিনি বলেছিলেন, আমরা বিজয়ের কথা চিন্তা করে যুদ্ধ করি না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াটা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আর বিজয় আসবে আল্লাহ‌অনর কাছ থেকে।

আরও পড়ুন:

ওমর আল-মুখতার কিন্তু জীবদ্দশায় লিবিয়ানদের মুক্তি দেখে যেতে পারেননি। তাকে ফাঁসি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইতালিয়ানরা লিবিয়ান বিদ্রোহ পুরোপুরি দমন করে ফেলেছিল। কিন্তু তাই বলে তার লড়াই অর্থহীন বা ব্যর্থ হয়ে যায়নি। তিনি যদি লড়াই না করতেন, প্রতিরোধ গড়ে না তুলতেন, তাহলে লিবিয়ার স্বাধীনতা আসতে হয়ত আরও অনেক বছর সময় লেগে যেত। তাদেরকে আরও অনেক প্রাণ দিতে হত। আরও অনেক বছর ইতালির দাসত্ব করতে হত।

আরও পড়ুন:

দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য, নিজেদের অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য, তিলে তিলে মৃত্যু বরণকে অস্বীকার করার জন্য প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। হামাসের জন্মেরও বহু বছর আগে ১৯৭০ সালে, যখন ফিলিস্তিনিদের অবস্থা এখনকার তুলনায় অনেক ভাল ছিল, সে সময়ই ফিলিস্তিনি বিপ্লবী, সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক, পিএফএলপি সদস্য ঘাসসান কানাফানি তাদের এই অনন্ত সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক রিচার্ড কার্লেটনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘাসসান কানাফানি বলেছিলেন, যে দখলদার বাহিনী ফিলিস্তিনিদেরকে বাস্তুচ্যুত করেছে, শরণার্থী শিবিরে নিক্ষেপ করেছে, দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করেছে, বিশ বছর ধরে হত্যা করেছে, এমনকি ফিলিস্তিন নামটা পর্যন্ত ব্যবহার করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়াই একমাত্র সমাধান। কারণ, তরবারির সাথে গর্দানের কখনও সংলাপ হয় না। পানির অভাবে গাছ শুকিয়ে মরে গেলেও নদীর কাছে গিয়ে পানি ভিক্ষা চায় না।

আরও পড়ুন:

সাংবাদিক রিচার্ড কার্লেটন যখন মন্তব্য করেছিলেন, এই মৃত্যু বা হত্যা বন্ধ করতে চাইলে যুদ্ধ বন্ধ করাই ফিলিস্তিনিদের জন্য ভাল হবে, কানাফানি উত্তর দিয়েছিলেন, “সেটা হয়ত আপনার কাছে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছে সেরকম মনে হচ্ছে না। আমাদের কাছে আমাদের দেশকে স্বাধীন করা, সম্মান অর্জন করা, মর্যাদা অর্জন করা, ন্যূনতম মানবাধিকার অর্জন করা আমাদের নিজেদের জীবনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।”

আরও পড়ুন:

দূর থেকে আমাদের কাছে হয়ত মনে হতে পারে, এই অপারেশনের আগেই তো বরং ফিলিস্তিনিরা ভাল ছিল। কিন্তু তারা যে আগেও ভাল ছিল না, সেটা বোঝা যায় তাদের বক্তব্য থেকে। এত বড় গণহত্যার শিকার হওয়ার পরেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের জরিপ অনুযায়ী ৫৪ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করে, হামাসের অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড পরিচালনার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।

আরও পড়ুন:

এই সমর্থনের পরিমাণ অবশ্য পশ্চিম তীরের চেয়ে গাজায় অনেক কম, যেহেতু সেখানে মানুষের দুর্দশার পরিমাণ অনেক বেশি। কিন্তু সেই গাজাতেও ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষ এই অপারেশনের পক্ষে ছিল। তখন পর্যন্ত গাজার ৫৭ শতাংশ এবং পশ্চিম তীরের ৭৩ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করত, হামাসের এই অপারেশনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

আরও পড়ুন:

হামাসের এই অপারেশনকে অনেক বিশ্লেষক অনেকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, অনেক কিছুর সাথে তুলনা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার তুলনাটা করেছেন মার্কিন-ইহুদি ইতিহাসবিদ নরম্যান ফিঙ্কেলস্টাইন। তিনি এটাকে তুলনা করেছেন দাস বিদ্রোহের সাথে, কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের বন্দীদের আন্দোলনের সাথে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসী বাহিনীর হাতে ওয়ারশ ঘেটোতে বন্দী ইহুদি বন্দীদের বিদ্রোহের সাথে।

আরও পড়ুন:

যুগে যুগে বিভিন্ন সময় নির্যাতিত দাসদের পিঠ যখন দেওয়ালে ঠেকে গেছে, তখন তারা অত্যাচারী মনিবদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। দাসরা জানত, মনিবদের শক্তির সামনে, অস্ত্রশস্ত্রের সামনে তারা অসহায়। তারা জানত, তাদের বিদ্রোহ সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এবং বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে তাদের উপর আগের চেয়েও অনেক বেশি মাত্রার নির্যাতন নেমে আসবে। কিন্তু তারপরেও যখন তাদের সামনে অন্য সব পথ বন্ধ হয়ে যেত, যখন তাদের পক্ষে ন্যূনতম আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ত, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা বিদ্রোহ করে বসত। মুক্তি অথবা মৃত্যুর মধ্যে যেকোনো একটাকে তারা বেছে নিত।

আরও পড়ুন:

দাসদের বিদ্রোহের কৌশল নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি, সেই বিদ্রোহের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারি; কিন্তু ন্যূনতম স্বাধীনতার জন্য যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়, তাদের সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতার সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার কি আমাদের মতো মুক্ত মানুষদের আছে?

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder