BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

অসীম সরকারের মিথ্যাচার বনাম প্রকৃত তথ্য

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২২ | আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২৮
নদীয়া জেলার হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম কুমার সরকার পবিত্র জীবনবিধান কুরআন সম্পর্কে যে কুরুচিকর এবং জঘন্য মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে দেশ-বিদেশ জেনে গেছে। তাঁর ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে যতটুকু শুনেছি, তাতে তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে আসল কুরআন নাকি আর কোথাও নেই! কারণ, আসল কুরআন বদরের যুদ্ধের সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়! এরপর তিনি দাবি করেন, পি.কে হিট্টির ইতিহাসে লেখা আছে, ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! যদিও পি.কে হিট্টির কোন বইতে একথা লেখা আছে, সে বইটির নাম তিনি বলেননি। শুধু তাই নয়, পি.কে হিট্টির নামটাও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি! যারা ইসলামের ইতিহাস পড়েছেন, তারা জানেন পি.কে হিট্টির লেখা একটি বিখ্যাত বই আছে, যার নাম 'হিস্ট্রি অফ দ্য অ্যারাবস'। অসীমবাবু সম্ভবত এই বইটি দেখেননি, কারো মুখে শুনে হয়ত সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে শিক্ষিত প্রমাণ করার জন্য বইটির লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন।

এম আমিনুল আম্বিয়া

আরও পড়ুন:

নদীয়া জেলার হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম কুমার সরকার পবিত্র জীবনবিধান কুরআন সম্পর্কে যে কুরুচিকর এবং জঘন্য মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে দেশ-বিদেশ জেনে গেছে। তাঁর ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে যতটুকু শুনেছি, তাতে তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে আসল কুরআন নাকি আর কোথাও নেই! কারণ, আসল কুরআন বদরের যুদ্ধের সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়! এরপর তিনি দাবি করেন, পি.কে হিট্টির ইতিহাসে লেখা আছে, ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! যদিও পি.কে হিট্টির কোন বইতে একথা লেখা আছে, সে বইটির নাম তিনি বলেননি। শুধু তাই নয়, পি.কে হিট্টির নামটাও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি! যারা ইসলামের ইতিহাস পড়েছেন, তারা জানেন পি.কে হিট্টির লেখা একটি বিখ্যাত বই আছে, যার নাম ‘হিস্ট্রি অফ দ্য অ্যারাবস’। অসীমবাবু সম্ভবত এই বইটি দেখেননি, কারো মুখে শুনে হয়ত সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে শিক্ষিত প্রমাণ করার জন্য বইটির লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি বলেছেন, কুরআনে লেখা আছে, হে মুসলমানেরা! কাফেরদের (অমুসলমান) যেখানেই পাবে হত্যা করবে, বন্দী করবে এবং নির্মমভাবে অত্যাচার করবে! এরপর তিনি দাবি করেন, ওনার কাছে যে কুরআন আছে, সেটি তাজ কোম্পানির কুরআন। গো-মাংস ভক্ষণ না করলে সেই কুরআন সংগ্রহ করা যায় না। মোটামুটি অসীম সরকারের বক্তব্য এমনটাই শোনা গেছে।
এবার আসুন, তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে একটু আলোচনা করি। কুরআন সংকলনের ইতিহাস যারা জানেন, তারা অবগত আছেন, কুরআন কোন বই বা পুস্তক আকারে অবতীর্ণ হয়নি, প্রয়োজন অনুসারে জিবরীল ফেরেশতার মাধ্যমে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে ঐশীবাণী আকারে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। নবী (সা.)-এর সাহাবা বা সাথীরা সেই কথাগুলিকে বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করতেন। কেউ চামড়ায় লিখে রাখতেন, কেউ পাথরে খোদাই করে রাখতেন, কেউ মুখস্ত করে নিতেন।
বদর যুদ্ধের সময়ে পাণ্ডুলিপি বা কপি আকারে পৃথিবীতে কোথাও কুরআন ছিল না। তখনও সম্পূর্ণ কুরআন নাযিল হয়নি। দ্বিতীয় হিজরীতে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু কুরআন তারপরও আট বছর ধরে পর্যায়ক্রমে নাযিল হয়েছে। নবীজি (সা.)-এর জীবদ্দশায় সমগ্র কুরআন একত্রিত করে কপি আকারে সংরক্ষিত হয়নি। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে প্রথম সমস্ত লেখাকে সংগ্রহ করে কপি আকারে তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে চতুর্থ খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর সময় প্রথম কপিকে সামনে রেখে আরো অনেকগুলো কপি তৈরি করা হয়। অতএব বোঝা গেল বদরের যুদ্ধে কুরআনের কপি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।
যে কপির কোন অস্তিত্বই যখন ছিল না, সেটা পুড়ে যাওয়ার প্রশ্ন বতুলতা মাত্র। এরপর তিনি পি.কে হিট্টির নামে দাবি করেছেন, তার ইতিহাসে নাকি লেখা আছে ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! ইসলামের ইতিহাস এবং আরবের ইতিহাস চর্চাকারী প্রত্যেক শিক্ষিত ব্যক্তি পি.কে হিট্টির অর্থাৎ ফিলিপ.কে. হিট্টির লেখা বই History of the Arabs পড়েছেন। ওই বই পড়ে আজও পর্যন্ত অসীম সরকারের মতো এমন দাবি কেউ কস্মিনকালেও করেননি। বইটি ইন্টারনেটে সার্চ করলে যে কোন ব্যক্তি নিজেও পড়ে দেখতে পারেন, সেখানে এমন কোন কথা লেখা নেই। যে ব্যক্তি পি.কে হিট্টির নামটা পর্যন্ত ঠিকঠাক উচ্চারণ করতে পারেন না, তার লেখা বইয়ের নামটাও জানেন না, তিনি এমন একটা কাল্পনিক দাবি করেছেন, যে দাবির পক্ষে ইসলামের কোন শত্রুর বই থেকেও কোনো উদ্ধৃতি তিনি দিতে পারবেন না। ইসলামের শত্রু সালমান রুশদি স্যাটানিক ভার্সেস লিখে এমন এক ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল; কিন্তু তিনিও সমগ্র কুরআন সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারেননি। স্যাটানিক ভার্সেসেও এমন কথা লেখা নেই।
এরপর অসীমবাবু দাবি করেছেন, তাঁর কাছে যে তাজ কোম্পানির কুরআন আছে, গরু না খেলে সেই কুরআন সংগ্রহ করা যায় না। তাহলে তার বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারছি, তিনি গরু খেয়েই ওই কুরআন সংগ্রহ করেছেন! তিনি নিজেকে গো-মাংস ভক্ষণকারী হিসেবে প্রমাণ দিলেন। তার কথা শুনে যে গো-মাতার ভক্তরা তাকে নিয়ে লাফাচ্ছে, তাদের তো এটা ভাবা দরকার ছিল, যে ব্যক্তি গো-মাতাকে ভক্ষণ করে, সেই ব্যক্তির কথা বিশ্বাস করা যায় কিনা? যাহোক, এবারে আমি কুরআন সম্পর্কে তাঁর যে মূল অভিযোগ, সে বিষয়ে আলোকপাত করব।
তিনি একটি পোস্টে কুরআনের একটি পাতার ছবি দিয়ে তার বক্তব্যের সমর্থনে প্রমাণ পেশ করতে চেয়েছেন যে, কুরআনে লেখা আছে, কাফেরদের যেখানে পাবে, সেখানেই হত্যা করো, বন্দী করো ইত্যাদি। তার ভক্তেরা এতে খুবই খুশি হলেও তিনি যে আসলে বড় মূর্খ, সেটা তিনি নিজেই প্রমাণ করেছেন। কারণ, তিনি কুরআনের যে আয়াতের অনুবাদের ছবি দিয়েছেন, সেটি কুরআনের সূরা তাওবা-র পাঁচ নম্বর আয়াত। অথচ তিনি যদি সত্যিকার পড়াশোনা জানতেন, তাহলে নিশ্চয়ই পাঁচ নম্বর আয়াতের আগে-পরে ৪ এবং ৬ নম্বর আয়াত তাঁর চোখে পড়ত। তাহলে তিনি বুঝতে পারতেন কুরআন অমুসলিমদের হত্যা করতে বলছে না; বরং তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার জোরালো নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:


কুরআনের সূরা তাওবা-র ৫ নম্বর আয়াত নিয়ে ইসলাম বিরোধীদের প্রোপাগান্ডা যুগ যুগ ধরে ধরে জারি রয়েছে এবং আজও চলেছে, কিন্তু সত্যের অনুসারীরা সঠিকটা জানতে পারার পরে অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সত্য প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন, এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। যেমন কানপুরের অধিবাসী স্বামী লক্ষ্মী শংকরাচার্য। তাঁর পিতা-মাতা দু’জনেই নামজাদা অধ্যাপক ছিলেন, তিনি নিজেও শিক্ষিত, প্রথম জীবনে প্রচণ্ড ইসলাম-বিরোধী ছিলেন। কুরআনের সূরা তাওবা-র ৫ নম্বর আয়াতকে অবলম্বন করে তিনি ইসলাম-বিরোধী বই লিখে ইসলামকে সন্ত্রাসবাদী ধর্ম হিসেবে আখ্যায়িতও করেছিলেন। তাঁর সেই বই হিন্দুত্ববাদীরা ব্যাপক আকারে প্রচার করেছিল। কিন্তু এই আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা জানার পরে তিনি নতুন বই লিখেছিলেন, যে বইটার নাম ইসলাম সন্ত্রাসবাদী ধর্ম নয় বরং একটি আদর্শ (ইসলাম আতঙ্ক নেহি, আদর্শ হ্যায়)। এই বইটি ভারতবর্ষ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে বহু ভাষায় অনুবাদ ও প্রচার হয়েছে। আগ্রহী পাঠকেরা গুগল থেকেও পড়তে পারেন। সূরা তাওবা-র তিনটি আয়াতের অনুবাদ পড়লে বুঝতে পারবেন, কাদেরকে কোন প্রেক্ষিতে হত্যা করতে বলা হয়েছে, এবং এর মধ্যে মানবিকতার কেমন নজির স্থাপন করা হয়েছে।
মনে রাখতে হবে, কুরআনের কোন আয়াত বা সূরা প্রেক্ষাপট ছাড়া অবতীর্ণ হয়নি, প্রতিটি সূরা বা আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার নেপথ্যে প্রেক্ষাপট রয়েছে। তেমনি সূরা তওবা-র প্রথম কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হওয়ারও একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট রয়েছে, সেটি আগে জানা দরকার। মক্কার মুশরিকদের সঙ্গে মুসলিমদের এক ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল, ইসলামের ইতিহাসে যেটাকে ‘হুদাইবিয়ার সন্ধি’ বলা হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ কেউ কাউকে আক্রমণ করবে না, কোন পক্ষের সহযোগী পক্ষকেও কেউ আক্রমণ করবে না। কিন্তু দেখা গেল, এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কিছুকাল পর থেকেই মক্কার মুশরিকরা চুক্তির শর্তগুলি লংঘন করতে শুরু করল, তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল, মুসলিমদেরকে হত্যা করতে লাগল। এই প্রেক্ষাপটে সূরা তাওবা-র প্রথম কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হল। প্রথম আয়াতেই ঘোষণা দেওয়া হল, যারা চুক্তিভঙ্গ করেছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হল। কিন্তু এও বলা হল যে, যারা চুক্তিতে অটল আছে, তাদের ক্ষেত্রে চুক্তির পূর্ণ সম্মান বজায় রাখা হবে। যারা চুক্তি না মেনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তাদেরকে চুক্তি অনুযায়ী শান্তির পথে ফিরে আসার জন্য চার মাস সময় দেওয়া হবে। এই চার মাস সময় পাওয়ার পরেও যদি তারা শান্তির পথে ফিরে না আসে, ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে, হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে, তাহলে চুক্তি ভঙ্গকারীদেরকে যেখানে পাবে, তাদের ষড়যন্ত্রের বিনিময়ে সেখানেই তাদেরকে বন্দী ও হত্যা করবে।
এরপর ৬ নম্বর আয়াতে মানবিকতার চূড়ান্ত নজির স্থাপন করে বলা হল, এই সমস্ত ষড়যন্ত্রীরা এত বড় অপরাধ করার পরেও যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তাকে আশ্রয় দাও। শুধু আশ্রয় নয়; এরপরে তাদের প্রতি আরো দরদ দেখিয়ে বলা হল, যারা আশ্রয় চায়, তাদেরকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মানবিকতার নজির আর কোথাও পাওয়া যাবে কি? আধুনিক পৃথিবীতে প্রমাণিত অপরাধীদেরকে যুদ্ধ অপরাধের কারণে কখনোই ক্ষমা করা হয় না, আশ্রয় চাইলেও তাদেরকে হত্যা করা হয়। অথচ ইসলামের উদারতার শিক্ষা এটাই যে, যুদ্ধাপরাধীরাও যদি আশ্রয় চায়, তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। অথচ এই আয়াতকে পাশ কাটিয়ে দুই আয়াতের মাঝখানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইসলাম সম্পর্কে যেভাবে এত বড় মিথ্যাচার করা হল, তা কল্পনাও করা যায় না!
কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উপরে, তিনি কুরআনের নির্দেশ সবথেকে বেশি বুঝেছিলেন এবং সেই নির্দেশ তিনি কার্যকর করে দেখিয়েছিলেন। ইসলামের ইতিহাসের পাঠক মাত্রই জানেন, কাফেরদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি ভঙ্গ হওয়ার পরে নবীজি যখন মক্কা বিজয় করলেন, সে সময় তিনি মক্কায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। কাউকে হত্যা করতে বলেননি। অমুসলিমদের হত্যা করা যদি কুরআনের বিধান হয়, তাহলে মক্কা বিজয়ের পরে একজন অমুসলিমও সেখানে বেঁচে থাকার কথা নয়। আসলে কুরআন বিশেষ প্রেক্ষাপটে বিশেষ সময়ে শুধুমাত্র যারা যুদ্ধ অপরাধী ছিল, সেই ষড়যন্ত্রকারীদেরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।
কুরআন তো মানব হত্যাকে সবথেকে বড় অপরাধ বলে ঘোষণা করেছে। সূরা মায়েদা-র ৩২ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, ”একজন মানুষকে যে ব্যক্তি হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল!” এই আয়াতে মানুষের জীবনের কতটা মূল্য কুরআন দিয়েছে, সেটা ভেবে অবাক হতে হয়। সেই কুরআন কখনো নির্বিচারে মানুষ হত্যার কথা বলতে পারে না। সেই কুরআনের সবথেকে বড় অনুসারী নবীজি (সা.) সারা জীবন সেটা প্রমাণ করে গেছেন। কুরআনের সূরা মুমতাহিনা-র ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে না, তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে হবে। কোন অমুসলিমের উপরে ইসলাম জবরদস্তি করাকে হারাম করে দিয়েছে, সূরা বাকারা-র ২৫৬ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
মনে রাখতে হবে, সূরা তাওবা সাধারণ পরিস্থিতিতে অবতীর্ণ হওয়া কোন সূরা নয়, বরং এটি একটি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অবতীর্ণ হওয়া সূরা, যে সূরার মধ্যে সন্ধি বা চুক্তি ভঙ্গকারী, ষড়যন্ত্রকারী, হত্যাকারীদের সম্পর্কে কেমন নীতি গ্রহণ করা হবে, সেটাই বর্ণনা করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সূরা তাওবা-র পাঁচ নম্বর আয়াতে শুধুমাত্র সেই সমস্ত মুশরিকদেরকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যারা শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করেছিল, যারা নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করছিল, এবং যারা শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। আন্তর্জাতিক কোন আইনে এই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের হত্যা করা কখনোই অবৈধ হতে পারে না। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়, সেটা বর্তমানেও বিভিন্ন দেশে প্রত্যক্ষ করছি। যুদ্ধাপরাধীদেরকে অনেক ক্ষেত্রে বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে কিংবা বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে! অথচ কুরআন যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কত মানবিক আচরণ করতে বলেছে! যে, তারা যদি আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাহলে তাদের আশ্রয় দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। এই মানবিক কথাগুলো অসীম সরকার দেখতে পেল না! তার মনে কুরআনের প্রতি কতখানি বিদ্বেষ রয়েছে, সেটা বোঝা যায় তার কথায়। যখন সে বলে, এই কুরআনের ওপরে সে প্রস্রাব করতে চায়! এবং কুরআনকে সে পুড়িয়ে দিতে চায়! আসলে অসীম সরকার মতুয়াদের সমর্থন হারিয়ে ইসলামবিরোধী হিন্দুদের সমর্থন লাভের আশায় কুরআনের বিরুদ্ধে এখন প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে।
কুরআনের বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত আজকের নতুন নয়, যুগ যুগ ধরেই ইসলাম বিরোধীরা এটা করে চলেছে। কিন্তু সেই চক্রান্তের ফল অনেক ক্ষেত্রে উল্টো হয়েছে। চক্রান্তকারীরা নিজেদের চক্রান্তের কাছে পরাজিত হয়ে শেষে ইসলাম গ্রহণ করেছে। এমনই একজন ছিলেন কানাডার ডঃ গ্যারি মিলার। তিনি কুরআনের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার জন্য কুরআন অধ্যয়ন শুরু করেছিলেন। শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, কুরআনের মধ্যে ভুল খুঁজে না পেয়ে শেষে আমি ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হলাম। অসীম সরকার যদি কুরআনের আলো নাও পায়, তবু তার এই বিতর্কের ফলে বহু মানুষ কুরআনের আলো লাভ করবে আশা করা যায়। এর ফলে অনেকেই কুরআন পড়ার চেষ্টা করবে, কুরআনের বক্তব্য জানবে এবং বুঝবে। আখেরে কুরআনের প্রচার আরো বাড়বে এবং মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে পেরে কুরআন-মুখী হবে বলে আমি আশাবাদী।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder