BREAKING:
সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান রুক্ষ মাটিতে মিয়াওয়াকি বনাঞ্চল, ছায়া ঘেরা স্কুলেই চলছে পাঠ মেহতাবের কাছে আটকাল মোহনবাগান,পয়েন্ট ভাগাভাগি খিদিরপুরের সাথে খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার 

শেরে বাংলা ফজলুল হক ও বাংলার রাজনীতি

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:৩১ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:৩১

ওয়াহেদ মির্জা

আরও পড়ুন:

সিপাহী বিদ্রোহের ১৬ বছর পর ও জাতীয় কংগ্রেস পার্টি তৈরির ১২ বছর পর বাংলা ও বাঙালি জাতির জননায়ক শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক এর জন্ম ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালের সাতুরিয়া গ্ৰামে মামার বাড়িতে। তাঁর আদি পৈতৃক নিবাস বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামে। পিতা খ‍্যাতনামা উকিল কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ এবং মাতা সাইদুন্নেসা খাতুনের একমাত্র পুত্র তিনি। শেরে বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা মাদ্রাসায়৷ পরে তিনি বরিশাল জেলা স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৮৮৯ সালে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রাস পাস করেন৷ প্রথম বিভাগে আই.এ পাস করে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৮৯৩ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে বি.এ অনার্স পাস করেন৷ ১৮৯৫ সালে গণিতশাস্ত্রে এম.এ করেন৷ প্রসঙ্গত আজও যেমন পশ্চিমবঙ্গে শোনা যায়, মুসলমানদের মেধা নেই, তাই চাকরি হয় না৷ তখনকার যুগে এ.কে ফজলুল হক সাহেবকেও এই রকম কথা শুনতে হয়েছিল৷ মুসলমান ছাত্ররা গণিত, বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে না। কারণ, তারা মেধাবি নয়। একথা শুনে ফজলুল হকের প্রবল জিদ চেপে যায়। তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, গণিতশাস্ত্রেই পরীক্ষা দেবেন। এরপর মাত্র ছয় মাস গণিত নিয়ে পড়েই ফার্স্ট ক্লাস পান। পিতার পরামর্শে তিনি আইন কলেজে পড়েন এবং ১৮৯৯ সাল থেকে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন৷ এর পর ১৯০৬ সালে বাংলায় ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ডেপুটি ম‍্যাজিস্ট্রেটের চাকরি পান৷ ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা হয় জাতীয় কংগ্রেস৷ ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ কংগ্রেসের মধ্যেও শুরু থেকেই লালিত পালিত হতে থাকে৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ধীরে ধীরে বিনষ্ট হতে থাকে। এরই মাঝে ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ নিয়ে বাংলার জনগণ বিভক্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান হিন্দু জাতীয়তাবাদের বিপরীতে গড়ে ওঠে মুসলিম জাতীয়তাবাদ৷ পরিণতিতে ১৯০৬ সালে তৈরি হয় মুসলিম লীগ৷ ফজলুল হক ১৯১১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে আইন ব‍্যবসা শুরু করেন। ওই বছরই বঙ্গ বিভাগ রদ হয়৷ এই সময় লর্ড হার্ডিংয়ের শাসনামলে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়।

আরও পড়ুন:

Meet A.K. Fazlul Haq: One of the best-loved leaders of Bengal | ummid.com

এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলার ভাগ্যাকাশে রাজনৈতিক দিশারি হিসেবে আবির্ভূত হলেন এ.কে ফজলুল হক৷ ১৯১২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন তিনি কলকাতায় কেন্দ্রীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি গঠন করেন৷ ১৯১৩ সালে সর্বপ্রথম ঢাকা বিভাগ হতে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৪ থেকেই জমিদার ও মহাজন শ্রেণির বিরুদ্ধে প্রথম সংগ্ৰামের সূচনা করেন৷ ১৭৯৩ সালে যখন বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন হয়, ফলে এদেশে ইংরেজের একদল অনুগত জমিদার গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়৷ এই জমিদারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কলকাতার ভদ্রলোকেরা ১৮৩৮ সালে গড়ে তোলে ল‍্যান্ডহোল্ডার’স সোসাইটি নামে এক রাজনৈতিক সংগঠন৷ অনুকম্পায়ী ফজলুল হক বুঝেছিলেন, যদিও কৃষককুলের অধিকাংশ মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত এবং জমিদারদের অধিকাংশ উচ্চবর্গীয় হিন্দু, তবুও সমস্যাটা কিন্তু সম্প্রদায়-ভিত্তিক নয়, শ্রেণিগত। তাই তিনি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের উচ্চবর্ণ ও অভিজাত শ্রেণির এলিটিজম বা অভিজাত গোষ্ঠীর রাজনীতি ভেঙে বাংলার রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর ও জমিদারী অত্যাচার নির্মূলের পথিকৃৎ হয়ে উঠেছিলেন৷ এই সময় ১৯২৯ সালে স‍্যার আবদুর রহিম “নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি” গঠন করেন৷ ১৯৩৫ সালে এ.কে ফজলুল হক এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন৷ ১৯৩৬ সালে প্রজা সমিতির নতুন নামকরণ হয় “কৃষক প্রজা পার্টি”৷ এই পার্টি গঠনের মাধ্যমে বাংলার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্দোলনের গতি-প্রকৃতিতে পরিবর্তন আসে৷ এছাড়া তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিষ্ঠান করেছেন৷ তার মধ্যে কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), বাংলার শিক্ষামন্ত্রী (১৯৪২), পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬-১৯৫৮) ইত্যাদি অন্যতম।

আরও পড়ুন:

File:AK Fazlul Huq Cabinet 1937.jpg - Wikimedia Commons
আমরা জানি ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ‍্যবাদী বাংলায় জমিদার, মজুতদার ও মহাজন শ্রেণি সৃষ্টি করে এবং ১৮৩৫ সালে ভারতের রাষ্ট্রভাষা ফার্সির পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা প্রবর্তিত হয়। তখন একদিকে যেমন হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম চলতে থাকে, অন্যদিকে তেমন ইংরেজের অনুগত দলও তৈরি হয়৷ এই অনুগত দলের নব‍্য শিক্ষিত হিন্দুরা সিপাহী বিদ্রোহকে সমর্থন না করায় এরা ব্রিটিশের বেশি আস্থাভাজন হয়ে ওঠে৷ সরকারি চাকরি দখল করে৷ এই সময় মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার ও চাকরি ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল৷ ইতিপূর্বে মুসলমানদের শিক্ষক পদে নিয়োগ করা হত না৷ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের উদ‍্যোগে ব্রিটিশ আমলে বাংলায় সাম্প্রদায়িক বিভেদ নিরসনের লক্ষ্যে ১৯২৩ সালে বেঙ্গল প‍্যাক্ট চুক্তি হয়।

আরও পড়ুন:

AK Fazlul Huq | Bangladesh on Record
এদিকে ফজলুল হক মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য বেকার হস্টেল, কারমাইকেল হস্টেল এবং আজকের মাওলানা আজাদ কলেজ-সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করেন৷ প্রাদেশিক সরকারে ৫৪ শতাংশ চাকরির সুযোগ মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষণ করেন৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম ছাত্রদের জন্য আসন সংরক্ষণ, বাংলায় মাদ্রাসা শিক্ষার পুনর্গঠন এবং গ্রামীণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষাগত ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করেন। তাছাড়া তখন মুসলমান ছাত্রদের সংস্কৃত পড়তে হত৷ তিনি মুসলমানদের শিক্ষার প্রতি আগ্ৰহ বাড়াতে আরবি শিক্ষা চালু করেন এবং সরকারি স্কুলে মুসলমান শিক্ষক ও একজন মৌলভী রাখতে হবে – এই নিয়ম লাগু করেন৷ তিনি কিন্তু মোটেই হিন্দু-বিদ্বেষী ছিলেন না৷ শিক্ষাক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিম সাম্য প্রতিষ্ঠার্থে পরীক্ষার খাতায় নামের পরিবর্তে ক্রমিক নম্বর লেখার নিয়ম প্রবর্তন করেন৷ ফলে মুসলমান ছাত্রদের পাসের হার বাড়তে লাগল৷ কিন্তু বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে আবার পরীক্ষার খাতায় নাম লেখা ও ইন্টারভিউতে বৈষম্য করা হচ্ছে৷ মাদ্রাসার সিলেবাসে আরবি ভাষা শিক্ষা থাকলেও উচ্চ শিক্ষার জন্য জেলার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরবি ডিপার্টমেন্ট নেই, আরবি শিক্ষক নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে বঞ্চনা ও অবহেলার ছবি স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে৷

আরও পড়ুন:

A.K. Fazlul Huq - New World Encyclopedia
আজকের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরি ও রাজনৈতিক অংশিদারিত্বে মুসলমানদের ক্ষমতাহীন করে রাখার প্রয়াস চলমান৷ স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলমানরা কেন দুর্দশাগ্রস্ত, বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার — এ বিষয়ে আওয়াজ ওঠে না তথাকথিত সেক্যুলার রাজনৈতিক দলগুলো থেকে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের এলিটিজম রাজনীতির শিকার হচ্ছে বাঙালি মুসলমান ও নিম্নবর্ণীয় হিন্দুরা৷ তাই এই উচ্চবর্ণ নিয়ন্ত্রিত ব্রাহ্মণ্যবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে বাঙালি হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের ন্যায় নেতার শূন্যতা আজও বাংলার রাজনীতিতে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder