BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানবিক অধিকারের নীরব প্রশ্ন

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০৭ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:০৭

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু’ এই শব্দ বন্ধনীর উচ্চারণে যেন এক অদৃশ্য দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে থাকে। সমাজের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো অগণিত পরিবার তাদের সন্তানদের হাত ধরে প্রতিদিন যে অন্তহীন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে হাঁটে, সেই সংগ্রামের শব্দ বাইরের বিশ্ব খুব কমই শোনে। অথচ এই শিশুরাই মানবজাতির এমন এক আয়না, যেখানে সভ্যতা তার প্রকৃত মানবিকতার পরিচয় পরীক্ষা করতে পারে। তারা দুর্বল নয়, তারা অক্ষম নয়; বরং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিই তাদের দুর্বলতার অভিধানে ঠেলে দেয়। আমরা কি তাদের চোখে চোখ রেখে বলতে পারি — ‘তুমিও আমাদের মতোই নাগরিক, তোমারও সমান অধিকার আছে, সমান মর্যাদা আছে’?

আরও পড়ুন:

সভ্যতার মূল ভিত্তি করুণা নয়, ন্যায়। করুণা মানুষে মানুষে দূরত্ব তৈরি করে; ন্যায় মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এই সত্য আরও প্রকট। তারা অনুগ্রহের পাত্র নয় যে, আমরা চাইলে তাদের সুযোগ দেব, না চাইলে সরিয়ে রাখব। তারা অধিকারবঞ্চিত সেই শিশুর দল, যারা পৃথিবীর আলো দেখার আগেই সমাজের বৈষম্য ও অযত্নের আঁধারের মুখোমুখি হয়। কিন্তু আমরা ভাবি কি? তারা নীরবে বেঁচে থাকে, তারা সমাজের বোঝা — এমন ধারণা আমাদের মধ্যে এখনও রয়ে গেছে। অথচ এই ধারণাই সবচেয়ে বড় অমানবিকতা।
ঈশোপনিষদের দ্বিতীয় মন্ত্রে বলা হয়েছে, মানুষ যেন শতবর্ষ বাঁচে এবং কর্ম করে বাঁচে। জীবনকে শুধু টিকে থাকা নয়, অর্থপূর্ণ হওয়ার মধ্যেই তার পূর্ণতা। কিন্তু যারা জন্মসূত্রে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কর্মজীবনের নানা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তারা কি তবে অপূর্ণ? তাদের জীবনের মানে কি শুধু দীর্ঘায়ু? নিশ্চয়ই নয়। কারণ, কর্ম মানে কেবল চাকরি বা আয়-রোজগার নয়; কর্ম মানে নিজস্ব সম্ভাবনার পূর্ণতা অর্জন, নিজের জীবনকে নিজের মতো করে গড়ে তোলা, নিজের আনন্দ-দুঃখকে অনুভব করার ক্ষমতা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও এই আনন্দ ও স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে পৃথিবীতে আসে। সমাজ সেই অধিকারকে স্বীকৃতি না দিলে দোষ কার?

আরও পড়ুন:

দোষ সেই সমাজের, যা এই শিশুদের দুর্বলতার দিকে চোখ রাখে, শক্তির দিকটি অবহেলা করে। দোষ সেই দৃষ্টিভঙ্গির, যা ভাবে দয়া করলেই যেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ দরকার সহানুভূতি নয়, সমানাধিকার। দরকার বিশেষ ব্যবস্থাপনা নয়, সমান সুযোগ। দরকার দয়া নয়, মানবিক সম্মান।

আরও পড়ুন:

আমাদের রাষ্ট্র কি সেই সম্মানের ভাষা জানে? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি জানে কীভাবে এই শিশুদের পাশে দাঁড়াতে হয়? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উত্তর, না। শহরের বড় বড় স্কুলেও আজ এমন শিক্ষক বা সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং সেবা নেই, যা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অপরিহার্য। গ্রামীণ স্কুলগুলোর কথা না বলাই ভাল, সেখানে এই শিশুদের পরিচর্যার কোনও পরিকাঠামোই নেই। তারা পাঠ্যবইয়ের পাতায় যোগ্যতা খোঁজে, বাস্তব জীবনের ক্ষমতা ও প্রতিভাকে উপেক্ষা করে। ফলত, এই শিশুরা অল্প বয়সেই বুঝে ফেলে, সমাজ তাদের মতো করে তৈরি নয়। তারা যেন অনাহুত অতিথি, যাদের জন্য দরজা আছে, কিন্তু প্রবেশাধিকার নেই।

আরও পড়ুন:

কিন্তু আমরা কি সত্যিই জানি, এদের ভেতরে কত আলোর সঞ্চার লুকিয়ে থাকে? কোনও শিশু জন্মগতভাবে অক্ষম নয়; বরং সমাজের অক্ষমতা তাকে অক্ষম করে তোলে। কেউ দেখতে পায় না, তার আঙুলের আঁচড় দিয়ে কাগজে কীভাবে সে নিজের পৃথিবী রচনা করে। কেউ শোনে না তার ভাঙা শব্দের ভেতর কী গভীর অনুভব লুকিয়ে আছে। কেউ উপলব্ধি করে না, তার নীরবতায় কী অদৃশ্য আকুলতা ভেসে থাকে। আমরা যেন চোখ খোলা রেখেই তাদের অদৃশ্য করে দিই।

আরও পড়ুন:

আজও বহু পরিবার আছে, যারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে নিয়ে শান্তিতে রাস্তায় বেরোতে পারে না। সমাজের দৃষ্টিতে যেন অব্যক্ত উপহাসের ছায়া ভাসে, “ওদের জীবনই বা জীবনের মতো কি?” অথচ সত্য হল, এই শিশুদের জীবনই আমাদের শেখায় মানবিকতার সবচেয়ে বড় পাঠ ধৈর্য, নিষ্ঠা, সহানুভূতি এবং ভালবাসার গভীরতম রূপ। তাদের প্রতিটি হাসি জয়ের হাসি, তাদের প্রতিটি অগ্রগতি সংগ্রামের ধ্বনি। তাদের জীবনের প্রতিটি হাঁটা, প্রতিটি উচ্চারণ, মানুষের ইচ্ছাশক্তির শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

আরও পড়ুন:

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, রাষ্ট্র কি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে? সমাজ কি তাদের গ্রহণ করেছে? সরকার কি তাদের জন্য নীতিগতভাবে যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছে? আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আমাদের দেশে এখনও সমন্বয়িত শিখন (Inclusive Education) পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়িত হয়নি। স্কুলে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, থেরাপি সুবিধা, বিশেষ শিক্ষকের নিয়োগ, পড়াশোনার জন্য আলাদা সহায়ক ব্যবস্থা, এসব এখনও নীতি হিসেবে আছে, বাস্তবে নেই। ফলে শিক্ষাবঞ্চিত হওয়া ছাড়া এই শিশুদের সামনে কোনও রাস্তা খোলা থাকে না।

আরও পড়ুন:

চিকিৎসা পরিকাঠামোর কথা ভাবলে দেখা যায়, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি বা সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিংয়ের মতো সেবা নিয়মিতভাবে দিতে পারে না। রাষ্ট্র যদি তাদের জন্য বিনামূল্যে এবং সহজলভ্য সেবা প্রদান না করে, তবে এই শিশুরা শৈশব থেকেই পিছিয়ে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। সমাজের চোখে তারা তখন আরও “বোঝা”হয়ে উঠবে। অথচ শুরুতেই যদি যথাযথ সাহায্য পায়, তবে এই শিশুরাই পরবর্তীতে সমাজের অন্যতম সক্রিয় নাগরিক হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে নানা উদাহরণ আছে, ডাউন সিনড্রোমের শিশু শিল্পের জগতে দখল তৈরি করেছে, অটিজমের শিশু কম্পিউটার কোডিংয়ে বিস্ময় তৈরি করেছে, শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণ বিশ্ব সঙ্গীতের মঞ্চ কাঁপিয়েছে, দৃষ্টিহীন লেখক সৃষ্টি করেছেন অমর সাহিত্য। তাহলে আমাদের চোখে প্রতিবন্ধকতা এত বড় হয়ে ওঠে কেন? কারণ, আমরা তাদের সাফল্যের পথ রুদ্ধ করে রেখেছি, সুযোগ না দিয়ে তাদের অযোগ্যতার পাল্লা ভারী করে তুলেছি। সমাজের এই স্থূল মানসিকতাই আজ ভাঙা জরুরি।

আরও পড়ুন:

প্রত্যেক মানুষ তার নিজের মতো করে অনন্য। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও সেই অনন্যতারই প্রকাশ। তাদের বোঝা যায় না সহজ চোখে; বোঝা যায় হৃদয়ের চোখে। কিন্তু আমরা কি সেই চোখ দিয়ে দেখি? যেদিন আমরা দেখব, সেদিনই সমাজের প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হবে।

আরও পড়ুন:

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বদলাতে হবে। শিক্ষা যেন না হয় বাছাইয়ের হাতিয়ার, শুধু দ্রুত শেখে, বেশি নম্বর পায়, ভাল কথা বলে — এই মানদণ্ডে সবাইকে পরিমাপ করা মানবিকতার পরিপন্থী। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আলাদা পাঠক্রম নয়; পাঠক্রমকে এমনভাবে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের মতো করে শেখার সুযোগ পায়। প্রত্যেক স্কুলে বিশেষ শিক্ষক, থেরাপিস্ট, কাউন্সেলর — এগুলো কেবল সুবিধা নয়, অপরিহার্যতা। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ শিশু-মনোবিদ্যা বিভাগ থাকা উচিত। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সংরক্ষণ থাকা উচিত এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ হল সংবেদনশীলতা থাকা উচিত।

আরও পড়ুন:

কিন্তু আইন ও পরিকাঠামোর বাইরেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র আছে, মানসিকতা। সমাজের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে কোনও নীতি কার্যকর হবে না। আমরা কি আমাদের সন্তানদের শিখিয়ে দিই, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বন্ধুর পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়? আমরা কি নিজেদের মধ্যে সেই সাহস তৈরি করেছি, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করার? আমরা কি এই শিশুদের প্রতিবন্ধকতা নয়, তাদের সম্ভাবনাকে দেখতে শিখেছি?

আরও পড়ুন:

যে সমাজ দুর্বলকে গ্রহণ করতে পারে না, সে সমাজ কখনও শক্তিশালী হয় না। যে রাষ্ট্র নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি অংশকে অবহেলা করে, সে রাষ্ট্র কখনও উন্নত হতে পারে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু আমাদের দায় নয়; তারা আমাদের সত্তার অংশ। তাদের জীবনেই আমাদের মানবিকতার পরীক্ষা। আমরা কি পরীক্ষা দিচ্ছি? নাকি ফেল করছি প্রতিদিন?

আরও পড়ুন:

আমাদের আজ প্রতিজ্ঞা করা উচিত, প্রত্যেক শিশুর হাত ধরে আমরা এমন সমাজ গড়ব, যেখানে কোনও শিশু নিজেকে বোঝা মনে করবে না। বরং ভাববে, “আমি গুরুত্বপূর্ণ, আমি সক্ষম, আমি এই সমাজের গর্ব।”যেদিন আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, স্কুল, পরিবার — সবাই একসঙ্গে এই ভাষায় কথা বলবে, সেদিনই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চোখে আমরা অদৃশ্য এক আলো দেখতে পাব — মানবিকতার আলো, মর্যাদার আলো, সমানাধিকারের আলো।

আরও পড়ুন:

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব সহজ, আমরা কি এমন এক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সবাই সমান? যদি চাই, তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানো কোনও দয়া নয়, কোনও উপকার নয়, এটি আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। কারণ, তারা বাঁচতে চায়, হাসতে চায়, শিখতে চায়, এগোতে চায় অন্য সবার মতো। আমরা শুধু তাদের হাতটা ধরে রাখব — সেই হাতই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, আমাদের চেয়েও অনেক দূরে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder