BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

জাতীয় শিক্ষানীতি: ফুটোপাত্রে সুপেয় পানীয়

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৫৮ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৫৮

স্নিগ্ধদীপ চক্রবর্তী

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম:

আরও পড়ুন:

২০২০-তে করোনার আবির্ভাব এবং মিশ্রপাঠ-পদ্ধতি (Choice-based Credit System বা CBCS)-র তিরোভাব প্রায় একইসঙ্গে। অথচ ‘রজনীকান্ত আয়া’-র মতো প্রবল ঢাকবাড়িতে এর জন্ম হয়েছিল। অকাল মরণের মধ্য দিয়ে মহাপ্রাণ সিবিসিএস আমাদের জন্য যা দান রেখে গেল, তারই নাম জাতীয় শিক্ষানীতি (New Education Policy বা NEP)। শিক্ষানীতি প্রণয়নের ইতিহাস ঘাঁটলে অবশ্য National Policy of Education বা NPE (১ম খসড়া: ১৯৮৬, পরিমার্জিত ২য় খসড়া: ১৯৯২)-তে এর বংশ-বীজ খুঁজে পাওয়া যাবে।
আমরা, যারা ‘জুরাসিক যুগ’-এর শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনা করেছি, যাদের সামনে অনার্স-পাসের সুস্পষ্ট ও সুসংগত বিভাজন ছিল, আমরা যারা বার্ষিক পরীক্ষায় বসতাম, গৌরবোজ্জ্বল প্রাচীন ভারতের শেষ ছটার মতো আমরা যারা পেয়েছিলাম কিছু প্রণম্য গুরুকে — তারা ঈশ্বর গুপ্ত-র মতো যুগসন্ধিতে পড়ে গেলাম। যে ভারত একদিন চিরন্তন জ্ঞান, নিত্যনব ধারণা ও নাড়া দেওয়া দর্শনের জন্ম দিয়েছিল; যেখানে জ্ঞান (Knowledge), প্রজ্ঞা (Wisdom) এবং সত্য (Truth)-এর ত্রিবেণি সংগমকে জীবনের পালনীয় পথ, ঈর্ষনীয় সঞ্চয় ও রক্ষণীয় স্তম্ভ বলে মনে করা হত — সিবিসিএস তাতে প্রথম ধাক্কাটা দিল। ‘জ্যাক অব অল ট্রেড্স’ বানানোর রাষ্ট্রীয় খেলা কাউকে ‘মাস্টার’ হতে দিল না। গণহারে অ্যারিস্টট্ল বানানোর কল শিক্ষানীতি হিসেবে ব্যর্থ হলেও গো-পাঁঠা তৈরির রাজনীতি হিসেবে সফলতা পেল। আর শিক্ষার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতল এনইপি। কেন একথা বলছি, তার জন্য এনইপি-র কাঠামোটুকু অন্তত বুঝে নেওয়া দরকার।
স্থায়ী উন্নয়ন বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘ যে ২০৩০ পরিকল্পনা নিয়েছিল, তার চতুর্থ লক্ষ্য (SDG4) ছিল বিশ্বব্যাপী শিক্ষার অগ্রগতি, ভারত যা ২০১৫-য় পরিগ্রহণ করে। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্র নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের প্রতি সমদর্শিতা প্রদর্শন শতাব্দীর প্রথম শিক্ষানীতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক। মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদান এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উন্নতিসমূহ ও দেশের মূলগত চেতনার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বুদ্ধ্যঙ্ক (IQ) ও মনাঙ্ক (EQ) উভয়ের জোড়-কলম নির্মাণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে নতুন শিক্ষানীতিতে।
শিক্ষকদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দিয়ে তার শিক্ষণশৈলীকে শীর্ষ নিতে সহায়তা দান — নতুন নীতির এও এক কথা। এই নব্য ও সংশোধিত শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য হল প্রকৃত শিক্ষকের ধী ও শাশ্বত শিক্ষার আলোকে সর্বত্র সঞ্চারী করে তোলা। উন্নততর শিক্ষাপ্রদান যেন শিক্ষার্থীর ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বের ব্যাপার হতে পারে। বিশেষত, শিক্ষা বিস্তারের দ্বারা এ-যাবৎ অবহেলিত এবং একেবারে প্রান্তিক স্তরে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের জীবনের মানোন্নয়নের কথা বারংবার বলা হয়েছে। বাস্তবতা ও মানবতার যুগ্মফোঁড় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যথাযোগ্য মানুষ করে তুলবে — এহেন আশাবাদ এই নতুন শিক্ষানীতির সবথেকে স্পর্শপ্রবণ জায়গা।
রচনা হিসেবে জাতীয় শিক্ষানীতি অত্যন্ত সুপাঠ্য স্বীকার করতেই হয়। একে বুকে রাখলে আমরা একটি আদর্শ রাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে পারতাম। কিন্তু সময় ও যুগের সঙ্গে-সঙ্গে, স্থান-কাল-প্রসঙ্গ ও প্রেক্ষিতের কারণে সত্যের আদর্শ বদলে যেতে পারে, বদলে যায়। যা আমেরিকায় সত্য, তা সোমালিয়ায় সত্য নয়। যা কলকাতায় সত্য, তা পুরুলিয়ায় সত্য নয়। এরাজ্যের সরকারপোষিত একটি প্রত্যন্ত কলেজের আর্টসের সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুবাদে আমি (অন্তত উচ্চশিক্ষায়) এনইপি-কে যা দেখেছি, তা নেহাতই প্রপঞ্চময়।
প্রথমত, উচ্চশিক্ষা এখন পূর্ণদৈর্ঘ্যের নাটক। ভর্তির নিদর্শপূরণ, ভাতা (শুনতে খারাপ লাগলে পড়ুন স্কলারশিপ)-এর জন্য আবেদন, কতিপয় শ্রেণিপাঠ, অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন, চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং ষণ্মাসকাল গেলেই পরের ষণ্মাসে ভর্তির জন্য নিদর্শপূরণ এবং চরৈবেতি। অপিচ, প্রযুক্তির প্রগতিতে অতিরিক্ত আনুগত্য বিশুদ্ধ পাঠদানের সময়কে সংকুচিত করে শিক্ষণ ও অধ্যয়নের আনন্দকে নষ্ট করে দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, মৌল পড়াশোনার চেয়ে আনুষঙ্গিক ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব আরোপ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণের প্রতি অনাগ্রহী করে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন তো তাদের বাউল আনন্দ — যেন পূর্ণ নম্বর পাওয়া এক সাংবিধানিক অধিকার। শিক্ষকের কাছ থেকে কৌশলে সম্ভাব্য প্রশ্ন জেনে নেওয়ার তাগিদটুকুই চূড়ান্ত মূল্যায়নের আগে কয়েকটা দিন তাদের মহাবিদ্যালয়মুখী করে। ফকিরের কেরামতিতে বক মারাই তাদের লক্ষ্য ও মোক্ষ। এখন আর শতাংশের গল্প নেই — গ্রেড। রেজাল্টের গ্রেড আর শিক্ষার্থীদের গ্রেড ক্রমশ ব্যস্তানুপাতিক হয়ে পড়েছে।
তৃতীয়ত, প্রাথমিক শিক্ষা সর্বশিক্ষা। উচ্চশিক্ষার সর্বশিক্ষা হওয়ার কথা নয়। স্কুলস্তরে মূল্যায়নের শিথিলতা বা অবমূল্যায়ন না বলে বলা ভাল অ-মূল্যায়নকে হাতিয়ার করে নিম্নমেধারা মহাবিদ্যালয়ের চৌকাঠ অবধি পৌঁছে গেছে। গাধায় লাঙল জুতে ফসল ফলাবার ন্যাকা ও নোংরা রাজনৈতিক চেষ্টা উচ্চশিক্ষার হাড় মড়মড়ি ধরিয়ে দিয়েছে। মেজর বিষয়ের ভার সারাজীবন বইতে পারা সহজ নয়! ফলত পরিসংখ্যানের নিরিখে দেখলে সত্যিই কলেজ-ছুট বাড়ছে। পরিসংখ্যান তো একথা বলবে না যে, এরা কলেজে পড়া তো দূরের কথা, কলেজের দুয়ার মাড়ানোরই যোগ্য ছিল না।
চতুর্থত, রাজ্যের অধিকাংশ কলেজই শিক্ষক নিয়োগে ধারাবাহিকতার অভাবে ধুঁকছে। এমন অনেক কলেজ আছে, যেখানে সাবস্ট্যানসিভ পোস্টে কোনও ফুল-টাইম টিচার দীর্ঘদিন ধরেই নেই। স্টেট-এইডেড কলেজ টিচার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন — এমন উদাহরণও রয়েছে। সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে রেকমেন্ডেড হতে হলে চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষার্থীর ডক্টরাল ডিগ্রি থাকবার বাধ্যবাধকতার কথা ইউজিসি-র নির্দেশিকায় নেই। তর্কের খাতিরে এনইপি-র চার বছরের ‘মাল্টিডিসিপ্লিনারি ব্যাচেলর’র প্রোগ্রাম উইথ রিসার্চ’-এর অনির্বচনীয়ত্ব যদি স্বীকার করেও নিই, তাকে সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নিতে গেলে যত সংখ্যক ডক্টরেট ডিগ্রিধারী স্থায়ী অধ্যাপক কলেজগুলোয় থাকা প্রয়োজন, তা নেই।
পঞ্চমত, স্বাধীনতাপ্রাপ্তির প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী পার করার পরে মানুষে-মানুষে সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষ্যম্যের অবসান ঘটেনি। ই-লার্নিং-এর ওপর যে জোর এনইপি-তে দেওয়া হয়েছে, আসলেই তা মুষ্টিমেয়ভোগ্য হয়ে রয়েছে আজও। ক্ষুধার গদ্যময় পৃথিবীতে পাগলা হাওয়া ইন্টারনেটের স্বপ্ন অন্ধের জ্যোৎস্নাবিলাসের মতোই দুঃখকর। এমনকি, রাজধানী শহর বা অন্যান্য বড় শহরের কুলীন কলেজগুলির সাপেক্ষে আমাদের মতো অজ জঙ্গলের কলেজগুলির পরিকাঠামো কহতব্য নয়। এনইপি মডেল সেখানে নাটকের টেক্সট বুক হিসেবে পড়তে খুবই ভাল লাগে, কিন্তু তা মঞ্চস্থ করা যায় না।
ষষ্ঠত, খুব স্বাভাবিক কারণেই আমাদের পূর্ব-প্রজন্মের বেশিরভাগ অধ্যাপক নেট বা টেক-স্যাভি নন। তা যুগকারণ — দোষবহ নয়। এনইপি-তে এমন কোনও পথরেখার উল্লেখ নেই, যাতে তাঁরা প্রযুক্তি-ব্যবহারে দড় হয়ে উঠতে পারেন। কেন্দ্র ও রাজ্য কোনও সরকারকেই এনইপি-র বাস্তব প্রয়োগ বিষয়ে কোনও কর্মশালার আয়োজন করতে অদ্যাবধি দ্যাখা যায়নি, যা থেকে অধ্যাপকেরা তাঁদের পেশাকে নিখুঁত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করতে শিখতে পারেন। অতএব, পাহাড়ের সেই ইঁদুর পাড়ার গল্পই শেষমেষ দাঁড়াল। ঘোড়াশালে ঘোড়া ছিল, কিন্তু জুতসই লাগামের অভাব তাতে অশ্বগতি দিতে পারল না।

আরও পড়ুন:

প্রাথমিক শিক্ষা সর্বশিক্ষা। উচ্চশিক্ষার সর্বশিক্ষা হওয়ার কথা নয়। স্কুলস্তরে মূল্যায়নের শিথিলতা বা অবমূল্যায়ন না বলে বলা ভাল অ-মূল্যায়নকে হাতিয়ার করে নিম্নমেধারা মহাবিদ্যালয়ের চৌকাঠ অবধি পৌঁছে গেছে। গাধায় লাঙল জুতে ফসল ফলাবার ন্যাকা ও নোংরা রাজনৈতিক চেষ্টা উচ্চশিক্ষার হাড় মড়মড়ি ধরিয়ে দিয়েছে। মেজর বিষয়ের ভার সারাজীবন বইতে পারা সহজ নয়! ফলত পরিসংখ্যানের নিরিখে দেখলে সত্যিই কলেজ-ছুট বাড়ছে। পরিসংখ্যান তো একথা বলবে না যে, এরা কলেজে পড়া তো দূরের কথা, কলেজের দুয়ার মাড়ানোরই যোগ্য ছিল না।

আরও পড়ুন:

(লেখক:পুরুলিয়া বিজিএম কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক)

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder