ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা

দৈনিক জনকণ্ঠ, রানাঘাট: বর্ষার আগমনে চারিদিকে যেমন স্বস্তির বাতাস বয়ে আনে, তেমনই সাথে নিয়ে আসে মশার উপদ্রব। এই সময়ে জমা জলে ডেঙ্গু মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে, যার ফলে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন এবং অনেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২৮- জুলাই মঙ্গলবার রানাঘাট ভারতী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রানাঘাট পৌরসভার উদ্যোগে এক বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ সংক্রান্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হলো।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিতছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ডাঃ বিক্রম প্রামাণিক, জনস্বাস্থ্য নার্সিং আধিকারিক, শিখা ঘোষ, কমিউনিটি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট রাজর্ষি মালো ও অসীমা রাজওয়ার, ডাঃ সায়ন্তন দত্ত, ডাঃ অবিরূপ মুখোপাধ্যায়।
কর্মশালার শুরুতে উপস্থিত বিশেষজ্ঞগণ ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের ডেঙ্গু রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পৌরসভার জাতীয় শহর স্বাস্থ্য মিশন এবং ‘নির্মল নদীয়া’ অভিযানের ব্যানারে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক সভা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা ও তথ্য তুলে ধরা হয়, “জমা জল যেখানে, ডেঙ্গু-বাহক মশার জন্ম সেখানে” তাই বাড়ির আশেপাশে কোনোভাবেই জল জমতে দেওয়া যাবে না। ফেলে রাখা পুরনো টায়ার, ফুলের টব, ডাবের খোলা, প্লাস্টিকের পাত্র, ক্যান বা অব্যবহৃত পাত্রে জমানো বৃষ্টির জল নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। বাড়ির চারপাশের পরিবেশ ও ড্রেন, নর্দমা সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। মশার কামড় থেকে বাঁচতে বিশেষ করে শিশুদের ফুলহাতা জামা ও গা-ঢাকা পোশাক পরানো, দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করা এবং মশা তাড়ানোর নিরাপদ নিরোধক ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অতিরিক্ত তীব্র জ্বর, গা-হাত-পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা, চোখের পেছনের অংশে ব্যথা, শরীরে লাল র্যাশ, বমি ভাব বা রক্তপাতের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে অবিলম্বে সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে বিনামূল্যে ডেঙ্গুর রোগ নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসার সুব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজ মতে কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া চলবে না। উপস্থিত বক্তারা একযোগে বলেন, “ছোট ছোট যুক্তি, ডেঙ্গু থেকে মুক্তি” এই অঙ্গীকারকে পাথেয় করে আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ ঘরবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখি, তবেই এই প্রাণঘাতী রোগকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কর্মশালার পরবর্তী অংশে, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ ও জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য একটি আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রতিযোগিতার শেষে বিজয়ী দল ও অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দিয়ে উৎসাহিত করা হয়।










































































































