সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের

আসাদ আলি, দৈনিক জনকণ্ঠঃ তিন বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অবশেষে বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান। ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল বাবর আজমের দল। একই সঙ্গে টানা আটটি অ্যাওয়ে টেস্টে জয়হীন থাকার হতাশাও কাটাল পাকিস্তান।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য স্বাগতিকদের দখলেই ছিল। প্রথম ইনিংসে ৩৪৪ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জাস্টিন গ্রিভসের ৭৩ ও রোস্টন চেজের ৭০ রানের ইনিংস দলকে লড়াইয়ের ভিত গড়ে দেয়। তবে পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন সাজিদ খান। চার উইকেট তুলে নিয়ে বড় রান হতে দেননি তিনি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন আবদুল্লাহ শফিক। অনবদ্য অপরাজিত ১৬০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন বাবর আজম, যার ব্যাট থেকে আসে ৮৮ রান। দু’জনের ব্যাটে ভর করে পাকিস্তান ৩৮৭ রান তুলে ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড আদায় করে।
দ্বিতীয় ইনিংসে সেই লিডকেই বড় অস্ত্রে পরিণত করেন পাকিস্তানের স্পিনাররা। সাজিদ খান ও আলি উসমান চারটি করে উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১১৭ রানে গুটিয়ে দেন। চতুর্থ দিনের সকালে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৭৫ রান।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারের উইকেট হারালেও ম্যাচে আর কোনও নাটকীয়তা ঘটতে দেয়নি পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসের দুই নায়ক বাবর আজম ও আবদুল্লাহ শফিক আবারও দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেন। বাবর অপরাজিত ২৪ এবং শফিক অপরাজিত ২৪ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শেষ পর্যন্ত জোমেল ওয়ারিকানকে টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন বাবর আজম।
এই জয় পাকিস্তানের কাছে শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও বড় উপলক্ষ। ২০২৩ সালের পর এটাই তাদের প্রথম বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়। পাশাপাশি টানা তৃতীয়বারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজও শেষ হল ১-১ সমতায়।
স্কোরকার্ড সংক্ষেপ:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৪৪ (জাস্টিন গ্রিভস ৭৩, রোস্টন চেজ ৭০; সাজিদ খান ৪/৮৫) ও ১১৭ (সাজিদ খান ৪/৩২, আলি উসমান ৪/৩৯)।
পাকিস্তান: ৩৮৭ (আবদুল্লাহ শফিক ১৬০, বাবর আজম ৮৮; জোমেল ওয়ারিকান ৬/১১২) ও ৭৭/২ (বাবর আজম ২৪, আবদুল্লাহ শফিক ২৪)।
ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী। দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ড্র।








































































































