খোলা চিঠি: রহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মাদ (সা.)

বরাবর,
মদীনা মুনাওয়ারা সৌদি আরব
আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলআল্লাহ,
মদীনা থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের দেশ, হিন্দুস্থান থেকে লিখছি। আমি ২৩ বছরের ভগ্ন ঈমানের এক যুবক! আমি আপনার ওফাতের ১৪০০ বছর পরের এক প্রজন্ম। আপনার ওফাতের পর কত পানি গড়িয়ে গেছে ফোরাত, নীল সিন্ধুর বুক দিয়ে! খোলাফায়ে রাশেদার যুগ আমাদের কাছে গর্বের সোনালি ইতিহাস! তারপর কত শাসন ও কত শাসকের উত্থান পতন হল। আমরা হারুন আর রাশিদ, ওমর বিন আব্দুল আজিজ, সালাদিন, ওসমানদের দেখিনি। আমাদের থেকে তাঁরা শ্রেষ্ঠ উম্মাত ছিলেন। এখন আমাদের পতাকা ধরার মতো সেই সোনালি মানুষেরা নেই। একুশ শতকে আমরা ছন্নছাড়া নকীবহীন এক কাফেলার যাত্রী। কেউ ঘোষণা দিয়ে বলে না, মুক্তির মঞ্জিল আর কত দূরে! নিজের অস্তিত্ব ভুলে অন্যের দয়ায় পরগাছার মতো বাঁচি!
হে সাইয়্যেদুল মুরসালিন, আপনার পবিত্র মসজিদে নববীর মতো আমাদেরও মসজিদে আযান হয়, নামায হয়, খুতবা হয়। কিন্তু সমাজ গড়া হয় না! আপনার খেজুর চাটাইয়ের মসজিদের খুতবায় থাকত দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার সমাধান। আপনার মসজিদ ছিল দরিদ্র, কিন্তু সেই মসজিদ উন্নত সমাজ গঠনের কার্যালয় ছিল, ছিল জাতীয় ঐক্যের কেন্দ্র। আর আমাদের মসজিদগুলো ভীষণ ধনী মার্বেল দিয়ে সাজানো, আর আমাদের সমাজ নিম্ন থেকে নিম্নতর! আমাদের খুতবা আমাদের সংকট সমাধানে কাজে আসেনি! তাই ভীষণ ঘুম পায়। আমরা মসজিদে আপনার সুন্নত মানা না মানা নিয়ে ঝগড়া করি। আমরা শুধু নামায-রোযা আর হজ্ব নিয়ে মেতে থাকি! যাকাত আদায়ের কোন তাকীদ থাকে না। তাই আমরা পিছিয়েপড়া জাতি হয়েছি। আপনার জীবনকে শুধু গুটিকয়েক বিষয়ে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছি! যখন আমরা আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে শোষণের শিকার হই, তখন আপনার জীবন থেকে নির্দেশনা খুঁজি না। আপনার মিলাদে মিছিল হয়। বর্ণাঢ্য মজলিশ হয়, শুধু শিক্ষা নেওয়া হয় না। আমাদের অন্তর ও সমাজ সেই কারণে মারিয়ানা খাতের চেয়েও গভীর অন্ধকারে!
হে রাহাবারে আলম, আমরা যদি হযরত আনাস (রা.)-এর মতো আপনাকে কাছে পেতাম, তবে অনেক কথা বলতাম! হে রাসুল, আপনার এ যুগের উম্মতেরা এমন সমাজ তৈরি করেছে যে, যুবক যুবতীরা পতঙ্গের মতো জাহান্নামের দিকে ছুটছে। যুবকেরা খেয়ানত করে ফেলছে যৌবনের আমানতের! প্রতি জোড়া চোখে পাপের কালি চিহ্ন! আর যুবতীদেরও একই অবস্থা! পাপ রোধের জন্য হিজাব ঢাল হয়ে উঠছে না। অসুস্থ গোলাপের মতো দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে তাঁদের সৌরভ। বিবাহ এখন আমাদের সমাজে হয়ে গেছে কঠিন। নষ্ট পুরুষত্বের অভিশাপ নিয়ে বেঁচে আছে বেশিরভাগ যুবক। আবেগের নদীতে মাতৃত্বের পবিত্রতা হারাচ্ছে শত শত তরুণী। অনেক যুবক যুবতী তাঁদের প্রয়োজনীয় পোশাক থেকে বঞ্চিত!
আপনার মসজিদে জানাযার নামায যেমন পড়ানো হত, তেমনই বিয়ে পড়ানো হত। আর আমাদের মসজিদগুলো শুধু জানাযা পড়ায়, কারো বিয়ে পড়ানো হয় না। এ নালিশ তাঁরা কাকে দেবে?
ওয়াস সালাম —
আসেম মুবাশশির আলম

















































































































