BREAKING:
চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান রুক্ষ মাটিতে মিয়াওয়াকি বনাঞ্চল, ছায়া ঘেরা স্কুলেই চলছে পাঠ মেহতাবের কাছে আটকাল মোহনবাগান,পয়েন্ট ভাগাভাগি খিদিরপুরের সাথে খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা

গান্ধীর অহিংসার আলো ও গাজার অন্ধকার

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ১২:৫৮ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ১২:৫৮

মফিজুল তরফদার

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম, ২ অক্টোবর: 

আরও পড়ুন:

গান্ধীজির জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে কেবল এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানানো নয়, বরং এমন এক নৈতিক আদর্শকে সামনে আনা, যা আজও আমাদের অস্তিত্বের গভীরে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। গান্ধী ছিলেন সেই মানুষ, যিনি সত্যকে জীবনযাত্রার কেন্দ্রে স্থাপন করেছিলেন এবং অহিংসাকে করেছিলেন রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রধান অস্ত্র। তাঁর কাছে অহিংসা ছিল না দুর্বলতার পরাজিত পথ, বরং তা ছিল মানুষের অন্তরের মহাশক্তির জাগরণ। আজকের পৃথিবীতে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও গাজার রক্তাক্ত গণহত্যার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গান্ধীর দর্শনকে নতুন করে অনুধাবন না করলে, আমরা হয়তো মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ হারিয়ে ফেলব।
গান্ধীজি বলেছিলেন, “অহিংসা দুর্বলদের অস্ত্র নয়, এটি শক্তিশালীদের সাহস।” তাঁর এই বাণী আজ গাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর থেকে যেন আমাদের কাছে ফিরে আসে। রক্তে ভেসে যাওয়া রাস্তা, আতঙ্কে কাঁপতে থাকা শিশু, অসহায় মানুষের আর্তনাদ – সবই যেন প্রমাণ করে, সহিংসতার রাজনীতি মানবসভ্যতাকে কোথায় ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। গাজার দিকে তাকালে বোঝা যায়, বন্দুক আর বোমা হয়তো তাৎক্ষণিক প্রাধান্য এনে দিতে পারে, কিন্তু তারা কখনো ন্যায় ও স্থায়ী শান্তি গড়ে তুলতে পারে না। প্রতিটি বিস্ফোরণ আসলে আরও এক বিস্ফোরণের জন্ম দেয়, প্রতিটি প্রতিশোধ আরও গভীর প্রতিশোধের বীজ বুনে।
যদি গান্ধীজি আজ বেঁচে থাকতেন, তবে নিশ্চয়ই তিনি গাজার শিশুদের হাত ধরে দাঁড়াতেন, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে নিজের শরীরকে ঢাল করতেন, যেমন করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শুরু করে ভারতের রণাঙ্গনে। তিনি জানতেন, সত্যের শক্তি একদিন অবশ্যম্ভাবীভাবে মিথ্যার প্রাচীর ভেঙে ফেলবে। কিন্তু সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে সাহস দরকার, সেই সাহস আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আজ প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে। আজকের পৃথিবীতে অনেকেই অহিংসার বার্তাকে “অবাস্তব” বা “অকার্যকর” মনে করে। অথচ আমরা ভুলে যাই, ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাসই প্রমাণ করেছে যে অহিংসা যদি দুর্বলতার প্রতীক হতো, তবে তা দিয়ে কোনো সাম্রাজ্যের পতন ঘটানো সম্ভব ছিল না।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ এই প্রমাণ দিচ্ছে যে শক্তির নামে চালানো সহিংসতা এক দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকার তৈরি করে। ফিলিস্তিনের ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি, মাটিতে ছড়িয়ে থাকা শিশুর দেহ, আহত মানুষের আর্তনাদ – এসব কি শুধু রাজনৈতিক বিরোধের ফল? না, এগুলো আসলে সেই মানবিক বিবেকের পরাজয়ের সাক্ষ্য, যা গান্ধী বারবার বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “চোখের বদলে চোখ নিলে গোটা পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে,” আজ যেন সবচেয়ে করুণভাবে সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। আমরা আসলেই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছি – সামরিক শক্তির অহংকারে, ক্ষমতার বিভাজনে, সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতিত্বে, এমনকি আমাদের নীরব সমর্থনের মধ্য দিয়েও।
কিন্তু আমরা ভুলে যাই, গান্ধীর অহিংসার পথ কখনো সহজ ছিল না। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি ছিল ভয়ঙ্কর, তাদের অস্ত্র ছিল সর্বশক্তিমান, কিন্তু গান্ধীর হাতে ছিল কেবল প্রার্থনা ও প্রতিবাদের শান্তিপূর্ণ শক্তি। তিনি লবণ সত্যাগ্রহের সময় দেখিয়ে দিয়েছিলেন, একটি সাধারণ পদক্ষেপও কিভাবে সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিতে পারে, যদি সেই পদক্ষেপ সত্য ও ন্যায়ের শক্তিতে উজ্জীবিত হয়। আজ গাজায় কিংবা অন্য যে কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডে সেই পাঠই সবচেয়ে প্রয়োজন – অস্ত্র দিয়ে নয়, মানুষকে জাগিয়ে তুলেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায়।
প্রশ্ন জাগে – এই সময়ে মহাত্মা গান্ধীর দর্শন কি আদৌ কার্যকর? হ্যাঁ, কার্যকর, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে। সহিংসতা তৎক্ষণাৎ ভয় সৃষ্টি করে, আর অহিংসা সময় নিয়ে মানুষের আত্মাকে জাগিয়ে তোলে। গান্ধী জানতেন, অহিংসা কখনো সহজ পথ নয়; বরং তা সবচেয়ে কঠিন পথ। কিন্তু সেটিই একমাত্র পথ, যা শেষ পর্যন্ত টেকসই শান্তি এনে দিতে পারে। আজকের গাজায় যদি সত্যিকারের নেতৃত্ব থাকত, তবে তারা গান্ধীর শিক্ষা থেকে শিখত – ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে সত্য ও অহিংসার ওপর দাঁড়াতেই হবে। কারণ বোমা দিয়ে মাটি জেতা যায়, কিন্তু হৃদয় জেতা যায় না।
গান্ধীর দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নৈতিক সাহসের রাজনীতি। তিনি বুঝেছিলেন, ক্ষমতা কেবল সামরিক শক্তি থেকে আসে না; প্রকৃত শক্তি আসে মানুষের নৈতিক অবস্থান থেকে। গাজার বর্তমান সংকটেও আমরা দেখতে পাচ্ছি, আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা শক্তি নিজেদের স্বার্থে নীরব থেকে গেছে। তাদের নীরবতা আসলে অন্যায়ের পাশে দাঁড়ানো। গান্ধীর শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় – যে অন্যায়ের মুখে চুপ থাকে, সে-ও অন্যায়ের অংশীদার হয়ে যায়। তাই আজকের পৃথিবীতে প্রয়োজন শুধু সহানুভূতি নয়, বরং সক্রিয় নৈতিক অবস্থান।
এই সময়ে গান্ধীজিকে স্মরণ করা মানে আমাদের নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করা। আমরা কি সত্যিই তাঁর বার্তাকে জীবনে ধারণ করেছি, নাকি কেবল অনুষ্ঠান আর বক্তৃতার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রেখেছি? গাজার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আমাদের দেখাচ্ছে যে পৃথিবী যদি অহিংসার পথে না হাঁটে, তবে আগুনের এই ছায়া একদিন সবার দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। শান্তির নামে যারা যুদ্ধ চালায়, তারা আসলে নিজেদের অস্তিত্বের ভিত্তিকে ধ্বংস করছে।
মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন তাই শুধু অতীতের স্মরণ নয়, বরং বর্তমানের এক আহ্বান। আমাদের প্রত্যেককে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে – আমরা কি রক্তপাতের নীরব দর্শক হয়ে থাকব, নাকি সত্য ও অহিংসাকে জীবনের মূলমন্ত্র করে তুলব। যদি আমরা এই মুহূর্তে তাঁর শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে গ্রহণ করি, তবে হয়তো গাজার শিশুর কান্না থেকে নতুন আশার সঙ্গীত জন্ম নিতে পারে। আর যদি না করি, তবে ইতিহাস আমাদেরকে মনে রাখবে সেই অন্ধকার প্রজন্ম হিসেবে, যারা গান্ধীর আলোকে উপেক্ষা করে যুদ্ধের অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
গান্ধীর দর্শন তাই আজ শুধু একটি নৈতিক বার্তা নয়, বরং আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র শর্ত। গাজার অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তাঁর অহিংসার আলোই আমাদের শেখায় – মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে না পারলে, সভ্যতা কেবল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। এবং সেই ধ্বংসস্তূপে একদিন সবাই সমানভাবে সমাহিত হবে – বিজয়ী-পরাজিত, শক্তিধর-দুর্বল সকলেই। তাই গান্ধীর জন্মদিন কেবল উৎসব নয়, মানবজাতির জন্য সতর্কবার্তা। এখনই যদি সত্য ও অহিংসার আলোকে ধারণ না করি, তবে পৃথিবীর মানচিত্রে আরও বহু গাজা সৃষ্টি হবে, আর সভ্যতার নামান্তর হয়ে দাঁড়াবে কেবল ধ্বংস।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder