এপস্টেইনের নথিতে প্রধানমন্ত্রীর নাম! ভিত্তিহীন: সরকার; জাতীয় লজ্জা: কংগ্রেস

নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: আমেরিকার কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত আরও নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। শুক্রবার এসব নথি থেকে বেশ কয়েক লাখ পৃষ্ঠা উন্মোচন করার পর রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে ভারতেও। কেননা, বেশকিছু নথিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম এসেছে। শনিবার নয়াদিল্লি থেকে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষে এক বিবৃতিতে বিষয়টিকে ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’ বলা হয়েছে। তবে এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হওয়া বিতর্ক থামেনি। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস বলেছে, এপস্টেইনের নথিতে মোদির নাম থাকাটা ‘জাতীয় লজ্জা’।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নাম উল্লেখ থাকার দাবি পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’। তাঁর মতে, এর বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত। এপস্টেইনের ‘কথিত’ ই-মেইলে প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি ‘একজন দণ্ডিত অপরাধীর ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয় কল্পনাপ্রসূত গালগল্প’ ছাড়া আর কিছুই নয়। জয়সওয়াল আরো বলেন, আমরা তথাকথিত এপস্টেইন ফাইলসে একটি ই-মেইল বার্তার কথা দেখেছি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তাঁর ইসরাইল সফরের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে থাকা ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইসরাইলে সরকারি সফরের তথ্য ছাড়া বাকি সব দাবিই চরম অবজ্ঞার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যানযোগ্য। এ বিষয়ে কেন্দ্র সরকার দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মূলত ‘জল ঘোলা করা’ বন্ধ করতে বলেন জয়সওয়াল। তিনি এও বলেন, এসব নথি আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হয়নি।
এদিকে এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে মোদির নাম উল্লেখ থাকায় সরব হয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবির। এ ঘটনায় ‘আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা’ চাওয়া হয়েছে। রাজ্যসভার কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে মুক্ত করা সর্বশেষ নথিগুলোয় মোদির নাম একাধিকবার এসেছে। এটা নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়েছে। এরপরও অনেক প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। এই ঘটনায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, বিষয়টি আমাদের জন্য “জাতীয় লজ্জা”। পবন খেরা তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, এপস্টেইন লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ‘পরামর্শ’ নিয়েছিলেন এবং ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বার্থে’ ইসরাইলে নেচে-গেয়ে অনুষ্ঠান করেছেন। শেষে ‘এটা কাজ করেছে!’ বলেও নথিতে উল্লেখ আছে। বিষয়টি ভারতের ‘জাতীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক সুনামকে’ প্রভাবিত করেছে।
সর্বশেষ প্রকাশিত এপস্টেইনের নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মতো বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন নথিতেও তাঁদের নাম ছিল।
উল্লেখ্য, এপস্টেইনকে ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় ১৮ বছরের কম বয়সী একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যৌনপণ্য পাচারের মামলায় বিচারাধীন থাকাকালে তিনি ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে আত্মহত্যা করেন। তবে একের পর এক অবমুক্ত করা তাঁর নথিগুলো বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।


















































































































