পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন

নতুন পয়গাম, কলকাতা, ১৮ মে, ২০২৬: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার সোমবার তাদের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘপ্রতীক্ষিত সপ্তম বেতন কমিশন (Seventh Pay Commission) গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। নবান্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতনের পর নতুন বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছিল।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারি কর্মী, বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যেই এই কমিশন গঠন করা হচ্ছে। তবে এ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, বর্তমানে এই সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র ‘কমিশন গঠনের’ অনুমোদন মাত্র। বেতন কাঠামোয় কী কী পরিবর্তন আনা হবে বা কবে থেকে তা কার্যকর হবে, তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এটি একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু হবে। এই কমিশন গঠনের ফলে কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মচারীদের বেতনের ফারাক কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তম বেতন কমিশন চালু হলে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগের মাধ্যমে মূল বেতন প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে যেতে পারে।
যাইহোক, আজকের বৈঠকে কর্মচারীদের আরেকটি বড় দাবি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত বিষয়টি আলোচনায় আসেনি। উল্লেখ্য, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের বকেয়া ডিএ পরিশোধ নিয়ে আগের সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও টালবাহানা করায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। আজকের বৈঠকে সেই বিষয়টি অনিষ্পন্ন থাকায় আশ্বস্ত হলেও কিছুটা ক্ষোভ রেখেই বৈঠক শেষ হয়েছে বলে রাজ্যের শাসক মহল সূত্রে জানা গেছে।
এই বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের মহিলারা সমস্ত সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। পাশাপাশি, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর জায়গায় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু হচ্ছে, যেখানে মহিলারা মাসিক ৩,০০০ টাকা পাবেন।











































































































