অভিযোগের প্রমাণ নেই, তবু ৫ বছর জেলে

জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে উমর খালিদ
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
দেখতে দেখতে পাঁচটা বছর কেটে গেলে কারাগারের অন্তরালে। অভিযোগ অনেক কিছুই। কিন্তু ৫টা বছরেও সেসব অভিযোগের কোনটাই প্রমাণ করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। তবুও কেন জেলে থাকতে হবে। এ প্রশ্ন তুলে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবি ছাত্র ও রিসার্চ স্কলার উমর খালিদের আক্ষেপ, কোনওরকম ষড়যন্ত্রে জড়িত নই। হিংসার ঘটনায় যুক্ত থাকার কোনো প্রমাণও নেই আমার বিরুদ্ধে। তাই ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় ধৃত উমর খালিদ শুক্রবার ইউএপিএ মামলায় জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একথা বললেন।

আগের দিনেই অভিযুক্তদের জামিনের আর্জি মঞ্জুরের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেছিল দিল্লি পুলিশ। তাদের দাবি, সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র থেকেই নাকি ৫ বছর আগে দিল্লিতে দাঙ্গা ছড়ানো হয়েছিল। এদিকে বিশিষ্ট ছাত্রনেতা উমর খালিদের হয়ে এদিন আদালতের এজলাশে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কপিল সিব্বাল বলেন, আমার মক্কেলের কাছ থেকে টাকা-পয়সা, অস্ত্রশস্ত্র কিছুই উদ্ধার হয়নি। না পাওয়া গিয়েছে দাঙ্গা সংক্রান্ত কোনও নথি বা অন্য কোনও প্রমাণ। খালিদের বিবৃতি উদ্ধৃত করে সিব্বাল সুপ্রিম কোর্টে বলেন, ৭৫১টি এফআইআর হয়েছে। তার মধ্যে এতদিনে মাত্র একটিতে চার্জ গঠন হয়েছে। আমার মক্কেল দাঙ্গার ষড়যন্ত্র করেছিল বলে অভিযোগ। অথচ যেদিন দাঙ্গা হয়েছিল, সেদিন তিনি দিল্লিতেই ছিলেন না। প্রত্যক্ষদর্শীর এমন কোনও বয়ান নেই যাতে প্রমাণ হয় যে, উমর খালিদ দাঙ্গায় যুক্ত।’

সিব্বাল আরো বলেন, উমর খালিদের সঙ্গে সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারী দিল্লির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নাতাশা নারওয়াল, দেবাঙ্গনা কলিতা এবং আসিফ ইকবাল তানহা প্রমুখকে ২০২১ সালের জুনে জামিন দেওয়া হয়। তাই সমতা রক্ষার যুক্তিতে হলেও খালিদেরও জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় ইউএপিএ, দেশদ্রোহী ইত্যাদি গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় উমরের পাশাপাশি জেলে রয়েছেন শারজিল ইমাম সহ আরো অনেকেই। এদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ না হলেও বছরের পর বছর জেলে রেখে দেওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব হইচই হচ্ছে। বিশিষ্ট জনেরা বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করছেন।
























































































































