ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো

দৈনিক জনকণ্ঠ: বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনায় ‘ভুল’ স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামক একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার গোপন পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি, যার বিনিময়ে প্রতিটি সদস্য-অ্যাসোসিয়েশনকে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব রাখা হয়। গত ২৮ জুলাই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসে এই খবরটি ফাঁস হওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলে প্রবল বিতর্কের ঝড় ওঠে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, উত্তর আমেরিকার কনক্যাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এ পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে। এমনকি উয়েফার অধিভুক্ত ৫৫টি দেশ বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ফিফার বিরুদ্ধে আইনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেয়। এছাড়া মরক্কোর সমর্থন পাওয়ার বিনিময়ে তাদের ২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের আয়োজক বানানোর যে অভিযোগ উঠেছিল, ফিফা তাকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
চরম উত্তেজনার মুখে গত শনিবার ইনফান্তিনো বিতর্কিত প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেন। তবে এরপর তাঁর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হলে তিনি মরক্কোর রাবাতে ফিফার আঞ্চলিক কার্যালয়ে শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে এক জরুরি সভা ডাকেন। সভার পর ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ও মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম যৌথভাবে ফিফার সহসভাপতি, কাউন্সিল ও ২১১টি সদস্যদেশের কাছে একটি স্বাক্ষর করা চিঠি পাঠান। চিঠিতে তাঁরা প্রক্রিয়াগত ও পরিস্থিতি সামলানোর ভুল স্বীকার করে ‘আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা’ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে অঙ্গীকার জানান। জরুরি সভা শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ফিফা জানিয়ে দেয় যে, ২১১টি সদস্যদেশের ভোটে নির্বাচিত একমাত্র অফিসিয়াল হিসেবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দেয়, প্রস্তাব বাতিলের পর ফিফার ভাবমূর্তি, সুশাসন ও নিয়মনীতি নিয়ে আর কোনো আঘাত বরদাশত করা হবে না এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে ক্ষমা চাওয়া এবং ফিফা পরিচালনা পর্ষদের সমর্থন পেলেও ইনফান্তিনোর পিছু ছাড়ছে না সমালোচনা। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক পর্তুগিজ তারকা লুইস ফিগো ইনফান্তিনোকে অবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে পদের মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেটিকেই অবনমিত করেছেন এবং ফুটবলের স্বার্থেই তাঁর সরে দাঁড়ানো উচিত। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও প্রকাশ্যে জানান যে ইনফান্তিনোর ওপর তাঁর কোনো আস্থা নেই। অন্যদিকে উয়েফাসহ ওয়েলসের মতো সদস্যদেশগুলো তাঁর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এসব বিতর্ক ও বাধার পরও ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো পদত্যাগের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। ২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য সভাপতি নির্বাচনে লড়তে তিনি প্রস্তুত, যেখানে জয় পেতে ২১১টি সদস্যদেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি ভোটের প্রয়োজন হবে। মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজার সঙ্গে ম্যাচ উপভোগ করা থেকে শুরু করে কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার মতো স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই ইনফান্তিনো নিজের পদে বহাল থাকার অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন।









































































































