BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন সম্ভাবনা?

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১৬ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:১৬

পাশারুল আলম

আরও পড়ুন:

ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকটগুলোর একটি। বিগত এক শতাব্দী ধরে এই সংকটের সমাধানে একের পর এক আন্তর্জাতিক চুক্তি, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাধান আজও অধরা। ১৯১৬ সালের সাইকস–পিকট চুক্তি থেকে শুরু করে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি এবং সম্প্রতি মিশরে শুরু হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি আলোচনার উদ্যোগ — ইতিহাস এক ধরনের পুনরাবৃত্তির সাক্ষী।

আরও পড়ুন:

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: সাইকস-পিকট থেকে অসলো

আরও পড়ুন:

ইসরাইল-ফিলিস্তিন প্রশ্নের উৎপত্তি এক অর্থে ঔপনিবেশিক রাজনীতির পরিণতি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯১৬ সালে সাইকস-পিকট চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে অটোমান সাম্রাজ্যের আরব অঞ্চলগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। এই চুক্তিতে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বা ভূখণ্ডগত অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল আরব বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সূচনা বিন্দু।
কয়েক দশক পরে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি শান্তির এক নতুন আশা জাগায়। ইসরাইল ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনি স্বশাসনের পথ প্রশস্ত করা ও ইসরাইলি দখল হ্রাস করা। কিন্তু বাস্তবে জেরুজালেমের মর্যাদা, ইহুদি বসতি স্থাপন, শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে চুক্তিটি ভেঙে পড়ে। ইয়াসিন আরাফতের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ: পুরনো চেহারায় নতুন মুখোশ?

আরও পড়ুন:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় মিশরে শুরু হওয়া নতুন শান্তি আলোচনা অনেকের কাছে আবারও এক ধরনের শীর্ষ-নিম্নগামী প্রয়াস ও পুরনো চুক্তিগুলির মতন মনে হচ্ছে। এই আলোচনায় হামাস ও ইসরাইল সরাসরি উপস্থিত না থাকায় এটি মূলত বহিরাগত শক্তির দ্বারা পরিচালিত এক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে সমস্ত মুসলিম বিশ্বকে যেমন যুক্ত করা হয়নি, তেমনি যেসব দেশ দুই বছরের যুদ্ধ বলুন বা জন-সংহার তাতে ইসরাইলকে সহায়তা করেছে, তাদের উপস্থিতি অনেকেই সন্দেহ করেছেন।

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের পরিকল্পনার কয়েকটি মূল দিক:
১) গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি, যার প্রথম পর্যায় শুরু হয়ে গেছে। কুড়িজন জীবিত জিম্মি মুক্তি পেয়েছে, অন্যদিকে বেশ কিছু আটক ফিলিস্তিনি মুক্তি পেয়েছে। পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল গঠনের কথা ঘোষণা হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় দশ বিলিয়ন ডলার, যার বৃহদাংশ মুসলিম দুনিয়ার। যদিও পশ্চিমা দেশের অর্থ থাকবে।
২) হামাসকে ভবিষ্যৎ শাসন থেকে বাদ দেওয়া সমস্যার সৃষ্টি করবে। গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের হাতে রাখা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। এর মধ্যে ভিতরের কোনো রহস্য জড়িয়ে আছে কিনা, সংশয় রয়েছে।
এই প্রস্তাবের মধ্যেই অতীতের চুক্তিগুলোর সঙ্গে মৌলিক সাদৃশ্য লুকিয়ে আছে। ফিলিস্তিনিদের সরাসরি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অভাব এবং শক্তির অমিলকে অক্ষত রাখা। যে ভাবে ইসরাইলের শক্তিকে বহাল রেখে এই চুক্তি করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যত শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:

মৌলিক ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত:

আরও পড়ুন:

ট্রাম্পের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে, ফিলিস্তিন প্রশ্নের মূল রাজনৈতিক ও সার্বভৌম ইস্যুগুলোর স্পষ্ট সমাধানের অনুপস্থিতি। শুধুমাত্র সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে শান্তি স্থাপন করা কঠিন ব্যাপার হবে। জেরুজালেমের মর্যাদা এখনো ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল বিতর্কের বিষয়। অথচ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকা মূল বিবাদকে এড়িয়ে যাওয়ার সামিল। এছাড়া ইহুদি বসতি স্থাপন ও দখলদারিত্ব ইস্যুতে কোনো বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি নেই। একদিকে শান্তি চুক্তি, অন্যদিকে পশ্চিম তীরের চারশ সেটেলার বসতি বিষয়ে নীরব সমর্থন অশান্তির কারণ হিসাবে জিইয়ে রাখা হল।
শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের অধিকার প্রসঙ্গে পরিকল্পনাটি প্রায় নীরব। ১৯৪৮ সাল থেকে যেসব শরণার্থী ফিলিস্তিন ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের বিষয়ে কোনো ভূমিকা গ্রহণ না করা পুরনো সমস্যাকে বাঁচিয়ে রাখার নামান্তর। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে স্পষ্ট রূপরেখা অনুপস্থিত। আমেরিকা ও ছোট ছোট কয়েকটি দেশ ছাড়া প্রায় ১৬০টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে, অথচ চুক্তিতে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়া আর যাই হোক, এটি স্থায়ী শান্তি আনতে পারবে বলে মনে হয় না। এই অবস্থায় আমেরিকার চাপে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলেও তা এক ‘দীর্ঘমেয়াদি অস্থির শান্তি’ তৈরি করবে, যা প্রকৃত ন্যায়ভিত্তিক শান্তি নয়।

আরও পড়ুন:

শক্তির ভারসাম্যের অভাব:

আরও পড়ুন:

১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই ফিলিস্তিনিরা সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে টরম অসাম্যের বাস্তবতায় বসবাস করছে। ইসরাইলের কাছে উন্নত সামরিক শক্তি, আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং আঞ্চলিক প্রভাব রয়েছে; অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র পর্যন্ত নেই। ট্রাম্প পরিকল্পনায় ইসরাইলকে নিরাপত্তা রক্ষার নামে গাজার প্রায় অর্ধেক এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার অনুমতি দেওয়া এই অসমতাকেই স্থায়ী করে তুলছে। যদিও আগামী দিনে বাফার জোনের ওপারে থাকবে — একথা বলা হলেও আগামীদিনে তা কোন দিকে যাবে বলা মুশকিল।

আরও পড়ুন:

ভবিষ্যতের দিগন্ত: জটিল সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা

আরও পড়ুন:

এই পরিকল্পনার সফলতা বা ব্যর্থতা কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর নির্ভর করবে —
১) হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা: হামাসকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে কোনো স্থায়ী শান্তি টেকসই হবে কি? এবিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। হামাস এবিষয়ে আগামী দিনে কী করবে, সে ব্যাপারেও সন্দেহ রয়েছে।
২) ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐক্য: গাজা ও পশ্চিম তীরের রাজনৈতিক বিভক্তি দূর না হলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। শান্তি চুক্তি হচ্ছে, কিন্তু ফিলিস্তিনি জাতিসত্তাকে অস্বীকার করে চুক্তিতে অস্থায়ী শান্তি স্থাপন হলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব কিনা, এবিষয়ে যথেষ্ট সংশয় থেকে যায়।
৩) নিরাপত্তা বনাম স্বাধীনতা: ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার বা নিয়ন্ত্রণ হ্রাসের মাত্রা নির্ধারণেই আসল দ্বন্দ্ব নিহিত। বন্দী দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যে বিবাদ, সে ব্যাপারে কোনো পথ নির্দেশিকা নেই।
৪) আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা: বহিরাগত শক্তিগুলোর বাস্তবিক লক্ষ্য কি শান্তি, নাকি ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার? এই চুক্তির মধ্যে কি ১৯১৬ সালের গোপন চুক্তির মতো কোনো গোপন পরিকল্পনা রয়েছে। তাই যদি হয়, তাহলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন আধুরা থেকে যাবে। ফিলিস্তিন যদি ভাগ বাটোয়ারা হয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য আরো অশান্ত হয়ে উঠবে।
পরিশেষে বলা যায়, ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে — যখন ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ বহিরাগত শক্তি নির্ধারণ করে, তখনই সেই উদ্যোগ ব্যর্থতার পথে হাঁটে। সাইকস-পিকট চুক্তি এবং অসলো চুক্তির মতোই ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাও ফিলিস্তিনি জনগণের পূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত না করলে স্থায়ী শান্তি আনতে পারবে না।
এই অঞ্চলে প্রকৃত শান্তির একমাত্র ভিত্তি হতে পারে ইসরাইলি দখলদার নীতি বন্ধ করা। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার যে সমর্থন বিশ্ব দিয়েছে, তাকে যথার্থভাবে কার্যকর না করলে মূলে না গিয়ে ভুলের মধ্যে শান্তি খোঁজার আর একটি ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। এর সঙ্গে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও সম্মানের ভিত্তিতে সহাবস্থানের জন্য একটি উপযুক্ত প্রস্তাব এই চুক্তির মধ্যে অন্যতম খামতি বলে মনে হয়। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও তার সার্বভৌম অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব কার্যকর হলে শান্তির আশা করা যেতে পারে। আজকের এই শান্তি চুক্তিতে যা কোনো আলোচনার বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়নি। এতে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ আশা অপেক্ষা অধিক হতাশ হবেন। তবে সব কিছুর উপরে এই মুহূর্তে নর-সংহার বন্ধ হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder