BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

৭৯ তম স্বাধীনতা দিবস: কেমন করে বেঁচে আছি

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:১৫ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১২:১৫

ফজলুল হক    

আরও পড়ুন:

অদ্ভুত এবং এক অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে আমরা এগিয়ে চলেছি। বর্তমানে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে চরম অস্থিরতা। মানুষ মানুষের শত্রু হয়ে উঠছে। দেখা যাচ্ছে, ধর্মীয় বিষ ও বিভাজনের নিত্য নতুন কৌশল। সংখ্যাগুরুর চোখ রাঙানি দেখে ভীত সন্ত্রস্ত জনগণ। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়। অথচ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাদের ভূমিকা কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না, যা বর্তমান শাসককুল বেমালুম মুছে ফেলতে চাইছে। এসবের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ হয় না। তাই সম্প্রীতি বজায় রেখে মুসলমানদের এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন:

নানা উৎসাহ-উদ্দীপনা বিদ্বেষ-বিভেদ সঙ্গে নিয়েই এখন আমরা ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস পালন করব। বিদ্বেষ-বিভেদ এই শব্দ দুটি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চয়ই পাঠক মহল অনুধাবন করতে পারছেন। স্বাধীনতার শুরু থেকে ভারতবর্ষের মানুষ দেশ ভাগের যন্ত্রণায় কাতর হয়েছে। জাতি-দাঙ্গা রক্তক্ষয় কি ঘটেনি এই দেশে। তবুও মানুষ রাষ্ট্রের সেই ক্ষত মুছে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে এনেছে বারবার। অতীতের কয়েক বছর পেছন ফিরে তাকালে দেখা যাবে, চিত্রটা ভয়ংকর। শাসন ক্ষমতায় উগ্রহিন্দুত্ববাদী শাসক এই ক’টা বছরে কার্যত দেশের মানচিত্রই বদলে দিতে সক্ষম হয়েছে। যে সংবিধান নামক সর্বজনীন কেতাব সাধারণ মানুষের রক্ষাকবচ, সেই সংবিধানকে এই শাসকরা গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের পছন্দমত সংবিধান পাল্টে দিতে তৎপর এবং অনেকখানি সফল। মানুষের অধিকার হরণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে মণিপুর, হরিয়ানা, বিহার, আসাম, এমনকি পশ্চিমবঙ্গ-এর দিকে তাকালে তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন:

ভারতবর্ষের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশে প্রায় তিনশ রকম ভাষাভাষীর মানুষ বসবাস করে। তাদের বর্ণ আলাদা, পোশাক আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা — তবুও তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী একসাথে পাশাপাশি বাস করে আসছে। বিবাদ-কলহ যে হয়নি তেমনটি বলা যাবে না, তবে পরিবারের ভিতরে কলহ মিটিয়ে নেওয়া যেমন দস্তুর, সম্প্রদায় অথবা প্রতিবেশীর কলহ-বিবাদ‌ও উভয়পক্ষের সহমতে মিটিয়ে দেওয়া সমীচীন। এই সম্প্রীতির পরম্পরা দীর্ঘকাল ধরে বয়ে চলেছে ভারতের মাটিতে। এই তো ইসরো’তে হিন্দু-মুসলমান মিলিত বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় ভারত চাঁদের মাটি স্পর্শ করল। খবরের কাগজে ইসরোতে কর্মরত হিন্দু-মুসলিম বিজ্ঞানীদের ছবি ছাপা হল একসঙ্গে। কোথায় রাখব এ লজ্জা। ভারতের গ্রামীণ মানুষ সম্প্রীতির প্রতীক। অধিকাংশ সহজ সরল। এসব সহজ, সরল প্রান্তিক মানুষদের ওপর ‌চলছে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় নির্যাতন। কয়েক বছর ধরে সংখ্যালঘুদের ‌ওপর নতুন অমানবিক প্রক্রিয়া চালু করে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হীন পরিকল্পনা দৃশ্যমান। এখন আবার নতুন করে বিষাক্ত ঝামেলা। ভোটার কার্ড ভেরিফিকেশন (এসআইআর)। চলুক আপত্তি নেই, কিন্তু বেছে বেছে অন্তজ শ্রেণির মানুষ ও মুসলিমদের কাঠগড়ায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। প্রকাশ্য রাজপথে গ্রামের চোরাগলিতে ভয় দেখানো হচ্ছ, এ দেশ মুসলমানদের নয়। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এখন তারা নির্যাতিত। কারণ, তারা বাঙালি। কিন্তু তাদের চোখে ‘বাংলাদেশী’, ‘রোহিঙ্গা’, ‘অনুপ্রবেশকারী’। তাদের অপরাধ, তারা বাংলায় কথা বলে। তাঁর জন্য ভাষা-লাঞ্ছনা আর কতকাল সহ্য করবে বাঙালি, এ প্রশ্নের উত্তর নেই। বাংলায় কথা বললে সে বাংলাদেশী তাই।

আরও পড়ুন:

আমরা নীরব। রাজনীতি করতে যতটা করা দরকার, ঠিক ততটাই করে রাজনৈতিক নেতারা। আর সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ধরনের ভীতি, আতঙ্কের ভয়, ডিটেনশন ক্যাম্পের অমানবিক ভীতি, খুনের হুমকি, দেশ ছাড়ার চোখ রাঙানি এখন তাদের দৈনন্দিন কর্মসূচি। আক্রমণের লক্ষ্য মসজিদ, গীর্জা। গো-রক্ষকদের হাতে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন মুসলিম ও দলিতরা। ধর্ম পালনে বাধা দিচ্ছে। ভলবাসার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে এই শাসককুল। এখন খুবই অসহায় ও বিপন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। না জানি, হয়ত এসব লেখার কারণে আমার কপালে সাজা জুটতে পারে। দেখা যাচ্ছে, স্বাধীনতার সুবিধা কেবল উপভোগ করছে উচ্চবর্ণের হিন্দু ও শাসকের সাথে যুক্ত বেশিরভাগ হিন্দীভাষী মৌলবাদী হিন্দু দালালরা। বাল্যকালে ১৫ আগষ্ট খুব আনন্দের সাথে সগর্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতাম। আজ আমাদের লজ্জাগুলি নির্লজ্জের মতো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও আমরা অন্ধত্ব গ্রহণ করে নিয়েছি স্বেচ্ছায়।

আরও পড়ুন:

একজন সাধারণ মানুষ ‌অথবা প্রান্তিক গ্রামীণ ‌অখ্যাত মানুষের মনোবিকারে উপরোক্ত বাক্যটি উচ্চারিত হয়েছে তেমনটা সঠিক নয়; বরং তাদের প্রথাগত শিক্ষা-দীক্ষা না থাকলেও অনুভূতির স্নায়ুতন্ত্র অতি মাত্রায় স্পর্শকাতর। তারা তাদের অজানা বিষয় নিয়েও শ্রদ্ধাশীল। অনুভূতিপ্রবণ জায়গাগুলি স্বতঃস্ফূর্ত স্পর্শ করতে সক্ষম। প্রকাশভঙ্গির গরিমা না থাকতেই পারে, কিন্তু তাদের বোধগুলি অস্বীকার করার কোনো জায়গা থাকে না। অধিকন্তু একজন শিক্ষিত প্রচার সর্বস্ব মানুষ যেভাবে তাদের সহজলভ্য্ প্রচার মাধ্যমে যেকোনও বিষয় উপস্থাপন করেন, সেখানে কৌশল থাকে বেশি, প্রাণ থাকে না। থাকে পান্ডিত্য প্রচারের কচকচানি। আর নানা তথ্য সংগ্রহের বিবরণ। অখ্যাত মানুষের সামনে প্রচার যন্ত্র থাকে না, কিন্তু তাদের দিনলিপির মধ্যে কোনও চাতুর্য থাকে না। তেমনি এক অখ্যাত মানুষের সাথে কথায় কথায় জানা গেল তার মনের কথা। তার সরল উচ্চারণে উঠে এল, আমাদের মন কী বাত বলে কিছু কি থাকে? থাকে না। এগুলো রাষ্ট্র নেতাদের জন্য কঠোরভাবে সংরক্ষিত। তাদের ‘মন কী বাত’ আমাদেরকে শুনতে হবে, মান্যতা দিতে হবে। সে যত‌ই অপছন্দের হোক না কেন। তার ওপর আপনি যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হন তবে তো আপনাকে শাসন করার পূর্ণ অধিকার তাদের আছে। কারণ, সব দোষ তো আপনার। যেমন ধরুন নোটবন্দী হল কেন, আপনি সব অনৈতিকতার সাথে যুক্ত, সংখ্যালঘু বলে আপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হবে সন্ত্রাসবাদী তকমা। দুর্নীতির সব দায় আপনার। আপনি ঘাড় সোজা করতে পারবেন না। আবার সংখ্যালঘুদের মধ্যে আপনি যদি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ হয়ে থাকেন, তবে তো ‘আপ বাহার কা আদমী’। পাকিস্তানী অথবা বাংলাদেশী। ঘুসপেটিয়া।

আরও পড়ুন:

ইদানিং আবার এই মানুষগুলির মনে আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে শাসককুল একে অপরের দিকে বিভেদের বিষাক্ত গ্যাস-বেলুন ছুড়ে দিচ্ছে। অথচ এদের প্রকৃত মনের খবর কেউ রাখে না। প্রত্যেকের মনের কথা বলার অধিকার থাকলেও তারা বলতে পারে না। যারা বাজারী সংস্কৃতির ধারক-বাহক, তারা কেবলমাত্র মেকি আলোকিত মানুষের মন কী বাত প্রচার করে। আমরা কেমন স্বাধীন দেশের নাগরিক, তা দেখার প্রয়োজন বোধ করে না। এখন রাষ্ট্র নেতারা ভারতমাতার রং-ও বদলে ফেলতে চাইছেন। প্রকাশ্যে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন, মুসলিম নিধন, মুসলিমদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। দেশ ভাগের সমস্ত দায় চাপিয়ে এ দেশকে হিন্দু-রাষ্ট্র বানাতে চাইছেন। এই দেশে রাজনৈতিক বিরোধী শক্তিগুলি এখন পঙ্গু। অথবা মুখোশের অন্তরালে তারাও হিন্দু রাষ্ট্রের কামনা করেন। তারা তো বিকৃত ইতিহাসের প্রতি বেশি আস্থাশীল। এখন দেশভাগ প্রসঙ্গে যে ইতিহাস, তা বহু প্রশ্নে ছিন্নভিন্ন, কমবেশি সব মানুষই জানে। তবু একবার ফিরে যাওয়া যাক অতীতের দিকে।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালে প্রথম দেশভাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সাভারকার। এই ইতিহাস সকলেই জানেন। সাভারকারের রাজনৈতিক ইতিহাস ও মতাদর্শ পাল্টে তাকে এখন মহৎ বানাতে চায় কেন্দ্রের বর্তমান শাসকদল। যেমন করে এরা নাথুরামের পুজো করে, যেমন করে বাংলা ভাগের নায়ক শ্যামাপ্রসাদ হিন্দু মহাসভার হিরো হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ এর ৩ জুন লন্ডন থেকে মাউন্টব্যাটেন জানিয়ে দেন, পাঞ্জাব ও বাংলার হিন্দু মুসলিম  সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলি প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যদের এক পৃথক সভা আহ্বান করা হবে।  বিনয় ঘোষ, বদরুদ্দিন ওমর, বি.এন পান্ডের মতো ইতিহাসবিদগণের লেখা থেকে জানা যায়, বাংলা ভাগের জন্য হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে মুসলিম লীগ ও সোহরাওয়ার্দীকে দায়ী করা হয়। তার আগে দাঙ্গা হয়েছে কলকাতা, নোয়াখালি-সহ বেশ কিছু জায়গায়। সেখ মুজিবর রহমানও লিখেছেন, সোহরাওয়ার্দীর কোনও ভূমিকা ছিল না। সোহরাওয়ার্দী তখন অখন্ড বাংলার প্রধানমন্ত্রী। ৩ জুন ১৯৪৭ থেকে ঘোষণা করা হল, অবিভক্ত বাংলার বিধানসভাকে দ্বিখণ্ডিত করা হবে। একদিকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলির সদস্য‌, অন্যদিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলির নির্বাচিত সদস্য। যেকোনো ভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য প্রদেশ ভাগের পক্ষে যদি ভোট দেন তবেই বাংলা ভাগ হবে। ১৯৪৭ এর ২০ জুন ভোট হল। দেখা গেল অন্তর্বতীকালীন পশ্চিমবঙ্গ আইনসভা ৫৮–২১ ভোটে বাংলা ভাগের পক্ষে রায় দিলেন। বাংলা ভাগের পক্ষে ওই ভোটারদের মধ্যে জ্যোতি বসুও একজন। এ ঘটনা আপনাদের জানা যে, হিন্দু প্রধান জেলাগুলির নির্বচিত সদস্যরা বাংলা ভাগ করতে রায় দেন। আর এও জানা যে, ওই ৫৮ জন মুসলিম ছিলেন না। অপরদিকে পূর্ববঙ্গ পরিষদে ঐদিন ১০৬–৩৫ ভোটে বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে ভোট পড়ে। তাই  এটা পরিষ্কার যে, অখন্ড বাংলাকে রক্ষা করতে মুসলিমরা যথোচিত চেষ্টা করেছিলেন।

আরও পড়ুন:

মদনবাবুর বলা শেষ হলে হেড স্যার মূল্যবোধ নিয়ে ছাত্রদের সচেতন করতে স্বদেশী গল্প বলতেন। আমাদের পাঠ্যপুস্তকে ধর্ম ছিল না- তেমন নয়; রামায়ণ, মহাভারত, হযরত মোহাম্মদ (সা.), যীশুখৃষ্টের জীবনী, বুদ্ধদেব-রামকৃষ্ণ সব কিছুই পড়ানো হত। সব সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীরা একই বিষয়ে পড়াশোনা করত। তখন যে স্বৈরাচার ছিল না; তা-ও নয়। স্বৈরাচারিতা ছিল, দুর্নীতি ছিল, খুনোখুনি, স্বজনপোষণও ছিল; কিন্তু এমন সাম্প্রদায়িক বিষের দুকূল ছাপানো সর্বগ্রাসী ভাসান ছিল না। সেই ভাসানে ভেসে গেল বিশ্ববিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি। সিলেবাসে রইল না মুসলিম লেখক, কবি ও পণ্ডিতদের সৃষ্টি।

আরও পড়ুন:

প্রান্তিক মানুষটির আক্ষেপ, আমাদের কথা কে শোনে? আমরা এক একটা গাধা। গাধা না হলে আমারা ভোট দিয়ে থাকি আমাদেরকে শাসন করার জন্যে! ভোট দিয়ে তাদেরকে কী জন্য পার্লামেন্টে পাঠাই‌। খুব সহজ উত্তর, ওরা আমাদের শাসন করবে, শোষণ করবে, অত্যাচার করবে, জেলে ভরবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করবে, প্রতিবাদ করলে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে এনকাউন্টার করবে। 

আরও পড়ুন:

আপনারা বলছিলেন না, ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়েছে। আমার অখন্ড বাংলা ভাগ হয়েছে। না স্যার, শুধু ধর্ম নয়। আজকের দিনেও অসম্ভবের পেছনে অকল্পনীয় দ্রুততার প্রতিযোগিতা, পুঁজি নিয়োগের চ্যালেঞ্জ। নেট দুনিয়ায় অনুসন্ধান চলে চার দেয়ালের ভেতরে। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। মূল্যহীন হয়ে পড়ছে সম্পর্ক। একা একা ঘরের ভিতরে যন্ত্রের সাথে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় মশগুল। বিচ্ছিন্নতার জন্ম শুরু। কাল মার্কসের বিচ্ছিন্নতা তত্ত্ব, কাল মার্কসের লেখা ‘ইকনমিক অ্যান্ড ফিলসফিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস’-এ (১৮৪৪) উল্লেখ করেছেন, যে মুহূর্তে কারখানা উৎপাদনের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে, ঠিক সেই মুহূর্তে শ্রমিকরা প্রক্রিয়াটির সাথে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেন।

আরও পড়ুন:

এই সত্যি কথাটা আমরা সবাই জানি, কিন্তু বুঝি না। শ্রমিক বা কৃষক উৎপাদনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। পুঁজির কাছে তারা মাথা নত করেছে। আসলে পুঁজি মানবীয় চরিত্রের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। নৈতিকতাকে ধ্বংস করতে তার কৌশলের তুলনা হয় না। বিগত দশ বছর ধরে পুঁজির প্রধান অস্ত্র ধর্ম মহা শক্তিধর রূপে দেখা দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে পুঁজির অবাধ গতায়াত। পুঁজির যুগের বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই চালিয়েও সাম্য-মৈত্রীর সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়ে উঠছে না। পুঁজি তার বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে। বর্ণভেদ, জাতিভেদ, ধর্মীয় বিভাজনকে হাতিয়ার করে মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খল পরিয়ে রেখেছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে শোষিত সম্পদ রক্ষা করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। আমাদের দেশের রাষ্ট্র প্রধানের উত্থান পুঁজিবাদের হাত ধরে। হিন্দু-মুসলিম বিভাজন এক উন্নততর অস্ত্র।

আরও পড়ুন:

১৯৪৪ সালে মায়ারাং-এ প্রথম ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করেন শওকত মালিক। কলকাতা থেকে নেতাজীর মহানিষ্ক্রমণের পর পেশোয়ারে তাঁকে আশ্রয় দেন শাহ আকবর মিঞা। ইউরোপ থেকে গোপনে এশিয়ার পথে ৯০ দিনের বিপদ সংকুল সাবমেরিন যাত্রার সময় নেতাজীর সঙ্গী ছিলেন আবিদ হোসেন। আই.এন.এ-র ফার্স্ট ডিভিশন কমান্ডার ছিলেন উত্তর-পূর্ব ভারতের মহাবীর যোদ্ধা মহম্মদ জামান কিয়ানি। ১৯৪৫ সালে শেষ বিমান যাত্রায় নেতাজীর সফরসঙ্গী ছিলেন হবিবুর রহমান।

আরও পড়ুন:

প্রাক স্বাধীনতা কালে আই.এন.এ যোদ্ধাদের বিচারের সময় দেশব্যাপী স্লোগান উঠেছিল, ”লাল কিলে মে আয়ি আওয়াজ, সেহগাল, ধিঁলো, শাহ্ নাওয়াজ”। গান্ধীজী যখন আই.এন.এ বন্দিদের দেখতে লালকেল্লায় গিয়েছিলেন, বন্দিরা তাঁকে বলেছিলেন, আই.এন.এ-র মধ্যে কখনও ধর্ম, বর্ণ ও জাতের পার্থক্য বোধ করেননি তারা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তাদের হিন্দু-চা, মুসলিম-চা দেওয়া হচ্ছে। গান্ধীজীর প্রশ্ন, আপনারা মেনে নিচ্ছেন কেন? তাঁদের উত্তর, আমরা মানছি না। আমরা হিন্দু-চা, মুসলিম-চা এক সাথে মিশিয়ে নিচ্ছি। তারপর সেই চা সবাইকে ঢেলে দিচ্ছে। (২৩ জানুয়ারি ২০১৬, আ.বা.প, সুগত বসু)।

আরও পড়ুন:

লেখাটা থেকে যা শিক্ষা নেবার, তা নেওয়া যায়। তবে আমরা নেব না। ‌আমার মতো প্রান্তিক মানুষদের লজ্জা হয় আজকের শাসক বিরোধী দলগুলোর দৈন্যদশার কথা ভেবে। এসবই পুঁজির চক্রান্ত। বাংলা ভাগের কথা বলছিলাম, পুঁজির কৌশলে ধর্ম এসেছিল মুখোমুখি আর মুখোশের আড়ালে ছিল পুঁজি। তাই হিন্দু মহাসভা সফল হয়েছিল বাংলা ভাগে। পশ্চিমবঙ্গের এখন যেক’টি মুসলমান প্রধান জেলা মুর্শিদাবাদ, মালদা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া ওপার বাংলায় সংযযুক্ত করা হয়নি। কারণ, বাণিজ্যিক কারণে এই জেলাগুলির গুরুত্ব অনেক বেশি। পুঁজি নিয়োগের অনুকূলে এই জেলাগুলো কার্যকর হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন:

মন কী বাত। স্যার, প্লিজ অন্যভাবে নেবেন না। শাসকরা বলে মুসলমানরা দলে দলে এদেশে ঢুকেছে। তারা বাহার কা আদমী। এখানকার বাসিন্দা কি না, প্রমাণ দিতে হবে। না দিলে কোয়ারেন্টাইন অথবা দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। একবার কুতুব মিনারের চূড়ায় চোখ তুলে তাকিয়ে দেখুন কত উচ্চতায় সে স্থাপত্য ইমারত রয়েছে, দেশকে কোটি কোটি বিদেশী মুদ্রা এনে দিয়েছে, সেই তখন থেকে মুসলমানরা এদেশের নাগরিক। তারা শাসক। তাদের অধীনে প্রজা ছিলাম আমরা সকলে। তাদের প্রমাণ দিতে হবে নাগরিকত্বের! ১৯৫০ থেকে ১৯৫৬ ষাট হাজার মুসলমান পূর্ববঙ্গে চলে যায়। আদমশুমারি ১৯৪১ কলকাতায় হিন্দু সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৫৩ লক্ষ, মুসলিম ৪ লক্ষ ৯৭ হাজার। ১৯৫১ সালে হিন্দু ২ কোটি ১৬ লক্ষ। মুসলিম ৩ লক্ষ ৫ হাজার। এরপরও কি মুসলমানরা দলে দলে এসেছে বলা যায়!

আরও পড়ুন:

মিথ্যাচার ভোট নেবার একটা কৌশল। তাই হরিয়ানার মুসলিম নিয়ে গালগপ্প সোশ্যাল মিডিয়ায় খাওয়ানো আদতে গোয়েবলসীয় প্রথা। কেউ সত্য বলে না। এমনকী বামপন্থীরাও আজ চুপ। ষাটের দশকে যে কমিউনিষ্টদের দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত করতেন জনগণ, যাদের কাছে ভবিষ্যতে কীভাবে শোষণহীন সমাজ গড়া যায়, মানুষের কল্যাণ করা যায়, তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করা যায়, সেই মূল্যবোধ শিক্ষা নিতেন; আজ সেই কমিউনিস্ট পার্টি এত নীরব কেন? পুঁজির বিরুদ্ধে আত্মনিবেদন হীন বাক্য আসলে পরোক্ষভাবে পুঁজিবাদকেই পুষ্ট করে।

আরও পড়ুন:

স্বাধীনতা দিবসে, স্বাধীনতার মাসে এত কথা হয়ত অপ্রাসঙ্গিক মনে হবে। তবু বলতে হচ্ছে আমরা কীভাবে বেঁচে আছি। মণিপুর এবং হরিয়ানার নূহ-র মানুষগুলোর জন্য। তাদের দেশছাড়া করার বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদের জনপ্লাবনে আওয়াজ উঠুক। ধর্মান্ধ শাসকের পতন হোক। মণিপুরের পাশে দাঁড়ান। বাঙালিদের পাশে থাকুন। হরিয়ানার মুসলিমদের সাহস দিন, বলুন এ দেশ আপনারও, আমরা তোমাদের পাশে আছি, থাকব। ৭৯তম স্বাধীনতার শুভক্ষণে এইটুকু কি বিরোধী দলগুলোর কাছে আমরা চাইতে পারি না।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder