BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান…

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, সকাল ১০:৪৫ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, সকাল ১০:৪৭

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম: ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে বিচ্ছেদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের প্রশ্ন। অনেক নেতা দল ছেড়েছেন। আবার অনেকেই সময়ের প্রয়োজনে পুরনো রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফিরে গিয়েছেন। সেই কারণেই মাঝে মাঝে একটি প্রশ্ন জনপরিসরে ফিরে আসে। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও কংগ্রেসে ফিরতে চান, তাহলে কংগ্রেস কি তাঁকে গ্রহণ করবে? প্রশ্নটি আপাতদৃষ্টিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে ভারতীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তিত চরিত্র। লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক দলের বিবর্তনের ইতিহাস। লুকিয়ে আছে ক্ষমতা ও আদর্শের জটিল সম্পর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসে। দীর্ঘ সময় তিনি কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট বিরোধী রাজনীতির অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে তিনি নতুন দল গঠন করেন। সেই দল পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। আজ তৃণমূল কংগ্রেস শুধু একটি আঞ্চলিক দল নয়; এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নকে শুধু ব্যক্তি মমতার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এখানে একটি বড় রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। কারণ, তিনি আর কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া কোনও সাধারণ নেতা নন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের প্রধান মুখ। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দল পশ্চিমবঙ্গে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় ছিল। ফলে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দলীয় ইতিহাসের পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণও বিবেচনায় নিতে হবে।

আরও পড়ুন:

ভারতের রাজনীতিতে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ জন্মগত অধিকার নয়। আবার কোনও রাজনৈতিক দলও কাউকে গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। রাজনৈতিক দল একটি সংগঠন। তার নিজস্ব কাঠামো রয়েছে। নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে কংগ্রেসে তাঁকে নিতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কংগ্রেস কখনও তাঁকে নেবে না — এমন দাবিও বাস্তবসম্মত নয়। সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। এখানে কংগ্রেসের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস ছিল প্রধান শক্তি। কিন্তু গত কয়েক দশকে সেই অবস্থান অনেকখানি দুর্বল হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলির উত্থান ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গও তার ব্যতিক্রম নয়। এক সময়ের শক্তিশালী কংগ্রেস আজ রাজ্যে সীমিত প্রভাব নিয়ে রাজনীতি করছে। ফলে কোনও সম্ভাব্য পুনর্মিলনের প্রশ্নে দলকে ভাবতে হবে তার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থের কথা। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের বাস্তবতাও উপেক্ষা করা যায় না। রাজ্যের বহু কংগ্রেস নেতা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম করে এসেছেন। বহু নির্বাচনে দুই দল পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মীদের স্মৃতিতে সেই সংঘাত এখনও জীবন্ত। ফলে হঠাৎ কোনও বড় ধরনের সমঝোতা বা সংযুক্তির পরিবেশ পরিস্থিতি দেখা দিলে তা সংগঠনের ভেতরে নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে কর্মীদের মনোভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। আজ দেশের রাজনীতিতে দুটি প্রবণতা একসঙ্গে দেখা যায়। একদিকে জাতীয় দলগুলির প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা। অন্যদিকে, আঞ্চলিক দলগুলির শক্তিশালী উপস্থিতি। বহু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বা জাতীয় রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে জোট রাজনীতির প্রয়োজনীয়তাও ক্রমশ বেড়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন আর কেবল শত্রুতা কিংবা বন্ধুত্বের সরল সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন:

এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির কথাও আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন বিরোধী দল বহুবার এক মঞ্চে আসার চেষ্টা করেছে। গণতন্ত্রে এটি স্বাভাবিক। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের আদর্শ বজায় রেখেও নির্দিষ্ট ইস্যুতে সহযোগিতা করতে পারে। সংসদীয় ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হল এই নমনীয়তা। তাই কোনও নেতা বা দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা মানেই আদর্শিক আত্মসমর্পণ নয়। আবার সমঝোতা না হওয়াও গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে রাজনৈতিক দলগুলির সামনে একটি বড় প্রশ্ন থাকে। সেটি হল আদর্শ ও বাস্তবতার ভারসাম্য। ভোটের অঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সিদ্ধান্ত যদি স্বল্পমেয়াদে লাভজনক হয়; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দলের পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে তা দলের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বহু দিক বিবেচনা করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন। তিনি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারা এবং সাংগঠনিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আজ বহু মানুষের কাছে এক স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। ফলে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে রাজনৈতিক প্রয়োজন এবং সাংগঠনিক বাস্তবতা ও বাধ্যবাধকতা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় কংগ্রেস ছিল প্রধান শক্তি। পরে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। এই পরিবর্তন দেখায়, রাজনীতিতে কোনও অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। পুরনো সমীকরণ ভেঙেও যায়। তাই রাজনীতিকে বলা হয়, সম্ভাবনাময় শিল্প। অতএব, ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা অস্বাভাবিক বা অযৌক্তিক নয়।

আরও পড়ুন:

তবে গণতন্ত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যক্তি নয়; প্রতিষ্ঠান। কোনও নেতা যত জনপ্রিয়ই হোন না কেন, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় কাঠামো এবং সাংগঠনিক ঐকমত্য গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল শক্তি। সেই কারণে কোনও সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আবেগের বদলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার আলোকে দেখা উচিত। আজকের ভারতে রাজনীতির সামনে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বেকারত্ব, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি সংকট, সামাজিক সম্প্রীতি। এই প্রশ্নগুলি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে মানুষ মূলত সমাধান চায়। তারা চায় উন্নত শাসন, চায় জবাবদিহি, চায় স্বচ্ছতা। দলবদল কিংবা জোটের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা কখনও জনজীবনের মৌলিক সমস্যার বিকল্প হতে পারে না। এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নকে রাজনৈতিক কৌতূহলের বাইরে গিয়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। এটি আসলে ভারতীয় রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্র নিয়ে আলোচনার একটি উপলক্ষ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্রে কোনও সম্পর্ক স্থায়ী নয়, কোনও দূরত্বও স্থায়ী নয়। পরিবর্তনই রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, প্রশ্নটি আজ বাস্তবের চেয়ে বেশি তাত্ত্বিক। কারণ, এমন কোনও পরিস্থিতি বর্তমানে দৃশ্যমান নয়, যেখানে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে সামনে আসতে পারে। তবু প্রশ্নটির গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, এর মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক দলগুলির চরিত্র বুঝতে পারি। বুঝতে পারি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের কার্যপ্রণালী। বুঝতে পারি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক। আর সেই বোঝাপড়াই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে মূল্যবান দলিল হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder