BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান…

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, সকাল ১০:৪৫ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, সকাল ১০:৪৭

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম: ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে বিচ্ছেদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের প্রশ্ন। অনেক নেতা দল ছেড়েছেন। আবার অনেকেই সময়ের প্রয়োজনে পুরনো রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফিরে গিয়েছেন। সেই কারণেই মাঝে মাঝে একটি প্রশ্ন জনপরিসরে ফিরে আসে। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও কংগ্রেসে ফিরতে চান, তাহলে কংগ্রেস কি তাঁকে গ্রহণ করবে? প্রশ্নটি আপাতদৃষ্টিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে ভারতীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তিত চরিত্র। লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক দলের বিবর্তনের ইতিহাস। লুকিয়ে আছে ক্ষমতা ও আদর্শের জটিল সম্পর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসে। দীর্ঘ সময় তিনি কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট বিরোধী রাজনীতির অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে তিনি নতুন দল গঠন করেন। সেই দল পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। আজ তৃণমূল কংগ্রেস শুধু একটি আঞ্চলিক দল নয়; এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নকে শুধু ব্যক্তি মমতার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এখানে একটি বড় রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। কারণ, তিনি আর কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া কোনও সাধারণ নেতা নন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের প্রধান মুখ। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দল পশ্চিমবঙ্গে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় ছিল। ফলে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দলীয় ইতিহাসের পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণও বিবেচনায় নিতে হবে।

আরও পড়ুন:

ভারতের রাজনীতিতে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ জন্মগত অধিকার নয়। আবার কোনও রাজনৈতিক দলও কাউকে গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। রাজনৈতিক দল একটি সংগঠন। তার নিজস্ব কাঠামো রয়েছে। নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে কংগ্রেসে তাঁকে নিতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কংগ্রেস কখনও তাঁকে নেবে না — এমন দাবিও বাস্তবসম্মত নয়। সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। এখানে কংগ্রেসের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস ছিল প্রধান শক্তি। কিন্তু গত কয়েক দশকে সেই অবস্থান অনেকখানি দুর্বল হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলির উত্থান ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গও তার ব্যতিক্রম নয়। এক সময়ের শক্তিশালী কংগ্রেস আজ রাজ্যে সীমিত প্রভাব নিয়ে রাজনীতি করছে। ফলে কোনও সম্ভাব্য পুনর্মিলনের প্রশ্নে দলকে ভাবতে হবে তার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থের কথা। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের বাস্তবতাও উপেক্ষা করা যায় না। রাজ্যের বহু কংগ্রেস নেতা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম করে এসেছেন। বহু নির্বাচনে দুই দল পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মীদের স্মৃতিতে সেই সংঘাত এখনও জীবন্ত। ফলে হঠাৎ কোনও বড় ধরনের সমঝোতা বা সংযুক্তির পরিবেশ পরিস্থিতি দেখা দিলে তা সংগঠনের ভেতরে নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে কর্মীদের মনোভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই আলোচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। আজ দেশের রাজনীতিতে দুটি প্রবণতা একসঙ্গে দেখা যায়। একদিকে জাতীয় দলগুলির প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা। অন্যদিকে, আঞ্চলিক দলগুলির শক্তিশালী উপস্থিতি। বহু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বা জাতীয় রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে জোট রাজনীতির প্রয়োজনীয়তাও ক্রমশ বেড়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন আর কেবল শত্রুতা কিংবা বন্ধুত্বের সরল সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়।

আরও পড়ুন:

এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির কথাও আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন বিরোধী দল বহুবার এক মঞ্চে আসার চেষ্টা করেছে। গণতন্ত্রে এটি স্বাভাবিক। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের আদর্শ বজায় রেখেও নির্দিষ্ট ইস্যুতে সহযোগিতা করতে পারে। সংসদীয় ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হল এই নমনীয়তা। তাই কোনও নেতা বা দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা মানেই আদর্শিক আত্মসমর্পণ নয়। আবার সমঝোতা না হওয়াও গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে রাজনৈতিক দলগুলির সামনে একটি বড় প্রশ্ন থাকে। সেটি হল আদর্শ ও বাস্তবতার ভারসাম্য। ভোটের অঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সিদ্ধান্ত যদি স্বল্পমেয়াদে লাভজনক হয়; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দলের পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে তা দলের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বহু দিক বিবেচনা করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন। তিনি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারা এবং সাংগঠনিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আজ বহু মানুষের কাছে এক স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে। ফলে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে রাজনৈতিক প্রয়োজন এবং সাংগঠনিক বাস্তবতা ও বাধ্যবাধকতা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় কংগ্রেস ছিল প্রধান শক্তি। পরে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। এই পরিবর্তন দেখায়, রাজনীতিতে কোনও অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। পুরনো সমীকরণ ভেঙেও যায়। তাই রাজনীতিকে বলা হয়, সম্ভাবনাময় শিল্প। অতএব, ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা অস্বাভাবিক বা অযৌক্তিক নয়।

আরও পড়ুন:

তবে গণতন্ত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যক্তি নয়; প্রতিষ্ঠান। কোনও নেতা যত জনপ্রিয়ই হোন না কেন, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় কাঠামো এবং সাংগঠনিক ঐকমত্য গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল শক্তি। সেই কারণে কোনও সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আবেগের বদলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার আলোকে দেখা উচিত। আজকের ভারতে রাজনীতির সামনে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বেকারত্ব, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি সংকট, সামাজিক সম্প্রীতি। এই প্রশ্নগুলি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে মানুষ মূলত সমাধান চায়। তারা চায় উন্নত শাসন, চায় জবাবদিহি, চায় স্বচ্ছতা। দলবদল কিংবা জোটের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা কখনও জনজীবনের মৌলিক সমস্যার বিকল্প হতে পারে না। এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নকে রাজনৈতিক কৌতূহলের বাইরে গিয়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। এটি আসলে ভারতীয় রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্র নিয়ে আলোচনার একটি উপলক্ষ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্রে কোনও সম্পর্ক স্থায়ী নয়, কোনও দূরত্বও স্থায়ী নয়। পরিবর্তনই রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, প্রশ্নটি আজ বাস্তবের চেয়ে বেশি তাত্ত্বিক। কারণ, এমন কোনও পরিস্থিতি বর্তমানে দৃশ্যমান নয়, যেখানে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে সামনে আসতে পারে। তবু প্রশ্নটির গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, এর মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক দলগুলির চরিত্র বুঝতে পারি। বুঝতে পারি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের কার্যপ্রণালী। বুঝতে পারি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক। আর সেই বোঝাপড়াই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে মূল্যবান দলিল হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder