BREAKING:
চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  কুমলাই নদী থেকে উদ্ধার বিজেপি কর্মীর দেহ, রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান রুক্ষ মাটিতে মিয়াওয়াকি বনাঞ্চল, ছায়া ঘেরা স্কুলেই চলছে পাঠ মেহতাবের কাছে আটকাল মোহনবাগান,পয়েন্ট ভাগাভাগি খিদিরপুরের সাথে খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান

বিহার নির্বাচন: বাম গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষরা

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৪২ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:৪২

খগেন্দ্রনাথ অধিকারী

আরও পড়ুন:

বিহার বিধানসভার সাম্প্রতিক নির্বাচন এদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যের উপর এক বড় আঘাত। তবে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই অনিবার্য ছিল। কারণ, ইতিহাস আমাদেরকে এটাই চিরকাল শিক্ষা দেয় যে, ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থী এবং গণতন্ত্রী মানুষরা নিজেদের মধ্যে ছোটখাটে মতভেদ মিটিয়ে না নিতে পারলে তার মাশুল সাধারণ মানুষকে দিতে হয়। উদাহরণ হিসাবে বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকের ইউরোপের কথা ধরা যাক। এই সময়কালে পুঁজিবাদী অর্থনীতি ভীষণ সংকটে পড়ে। শুরু হয় বিশ্বজুড়ে মন্দা। বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি পর্বতপ্রমাণ আকার নেয়। উদার গণতন্ত্রী ব্যবস্থায় অর্থাৎ বুর্জোয়া সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোয় প্রবল ধস নামে। বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতেও ইউরোপে একমত হতে পারল না।

আরও পড়ুন:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলি সংকট মোচনে একমত হতে পারেনি। তবে সে দেশের গণতন্ত্রী দলের নেতা প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট খুব কড়া পদক্ষেপ নেন। বৃহৎ পুঁজিপতিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে তিনি “New Deal” কর্মসূচি নেন শ্রমজীবী মানুষকে কিছু সুরাহা দেবার জন্য। কিন্তু এখানেও চরম দ্বন্দ্ব হয়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টকে ব্যবহার করে আমেরিকার অভিজাত শ্রেণি এই কর্মসূচি রূপায়ণে অন্তরায় সৃষ্টি করে। নাছোড় প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট জাতির উদ্দেশ্যে বেতার ভাষণ দিয়ে প্রবল জনমত গড়ে তোলেন তাঁর উক্ত কর্মসূচির সমর্থনে। ধনীরা পিছিয়ে যায় জনমতের চাপে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু ইউরোপের অবস্থা ছিল ভিন্ন। কী পূর্ব ইউরোপ, কী পশ্চিম ইউরোপ, বুর্জোয়া গণতন্ত্রীরা ছিল পরস্পর বিরোধী অবস্থানে অনড়। কমিউনিস্টরাও পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করে সময়োচিত উদ্যোগ নিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে বামপন্থী ও উদার গণতন্ত্রীদের মধ্যে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে কোন বৃহৎ ঐক্যবদ্ধ যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বামপন্থী তথা কমিউনিস্টদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাবে জার্মানি-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিস্ট ও নাৎসী শক্তির জয়জয়কার ঘটে। ১৯৩৩ সালের জার্মানিতে সংসদীয় নির্বাচনে ঠিক এই কারণে নাৎসীরা একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে জোর জবরদস্তি করে হিটলার ক্ষমতায় যান নাৎসীদের পতাকা উড়িয়ে।

আরও পড়ুন:

আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনেও ঠিক অনুরূপ ঘটনাই ঘটেছে। ভারতবর্ষ এক বহুত্ববাদী সংস্কৃতির দেশ। এদেশ অশোক, আকবর, হর্ষবর্ধন, দারাশিকো, শেরশাহ, চৈতন্য, হুশেন শাহ, সিরাজউদ্দৌলা, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের দেশ। এদেশ বহু ধর্মের, বহু জাতের, বহু ভাষাভাষী মানুষের দেশ। Unity in diversity বা বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই হল এদেশের সংস্কৃতির মূলমন্ত্র। কবি অতুলপ্রসাদ সেনের কথায়–
“নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান,
বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান।”
এটাই আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের পরম্পরা। কিন্তু এহেন একটি দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ ও উগ্র জাতপাতের রাজনীতি সমগ্র জাতীয় জীবনকে বিষাক্ত করে তুলেছে। ধর্ম-বর্ণের দোহাই দিয়ে আজ এদেশে প্রকাশ্যে রাজনীতির বেসাতি চলছে রমরমিয়ে ।

আরও পড়ুন:

মধ্যযুগে দু-একজন চিন্তাবিদ বা শাসক যেমন মনু, জিয়াউদ্দিন বারণী, শিবাজী প্রমুখ ধর্ম ও রাজনীতিকে একাকার করেছিলেন বটে। কিন্তু আকবর, দারাশিকো, শেরশাহ, লক্ষ্মণ সেন, হুশেন শাহরা উদার ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণে শাসন করেছেন। এঁরা কেউই জাতপাত বা ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেননি।

আরও পড়ুন:

আধুনিক যুগে জ্যোতিরাও ফুলে, সাবিত্রী বাঈ ফুলে, ফতেমা শেখরা ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ্বে জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করে সবার জন্য সমান অধিকারের দাবিতে লড়াই করেছেন। কোন রকম ধর্ম-বর্ণভিত্তিক বিশেষ সুবিধাকে তারা গুরুত্ব দেননি। অথচ বিংশ শতাব্দীতে এসে জিন্না, আম্বেদকর, জনসংঘ (অধুনা সংঘ পরিবার) জাতপাতভিত্তিক ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়িয়েছেন। গান্ধীজী, সীমান্তগান্ধী খান আব্দুল গফফর খান, ভি.ভি গিরি, ড. রাধাকৃষ্ণান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উদার গণতন্ত্রী এবং সোমনাথ লাহিড়ী, পি. সি. যোশী, মুজাফ্ফর আহমেদ, এস.এ ডাঙ্গে প্রমুখ কমিউনিস্ট নেতা দ্ব্যর্থহীনভাবে এদের ধর্মকেন্দ্রিক ও বর্ণকেন্দ্রিক অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন।

আরও পড়ুন:

দেশের স্বাধীনতার পৌনে আশি বছর পরেও আজ আমরা লক্ষ্য করছি, প্রাক-স্বাধীনতার সময়েও আমাদের দেশে জাতপাত ও ধর্মান্ধতার যে রাজনীতি বিরাজ করছিল, সেই একই জিনিস ফিরে এসেছে। জাতের নামে বজ্জাতি, ধর্মের নামে অধর্মের প্লাবন বইছে। সেই প্রবাহেই সম্পন্ন হয়েছে বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত এনডিএ জোট ব্যাপক গরিষ্ঠতা লাভ করে ক্ষমতায় ফিরেছে। এতে ওই রাজ্য তথা গোটা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মানুষরা খুবই হতাশ। কারণ, অনেকেরই আশা ছিল সাম্প্রদায়িক বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট বিহারে এবার পরাজিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কারণ- (১) মহাজোটের শরির দলগুলির মধ্যে খেয়োখেয়ি, (২) বিরোধী জোটে পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস ও সহনশীলতার অভাব, (৩)শরিক দলগুলির তরফে সুবিধাবাদী নীতি গ্রহণ, (৪) সরকারের অর্থনৈতিক উপঢৌকনের প্রভাব, (৫) জাতপাত ও ধর্মের জটিল অংক, (৬) বাম ও গণতন্ত্রীদের দেউলিয়াপনা, (৭) ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের গয়ংগচ্ছ মনোভাব, (৮) SIR-এর বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন:

বলাবাহুল্য যে মহাজোট হয়েছে, কিন্তু শরিকরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বহু আসনে লড়েছে। সিপিআইকে দেওয়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে এবং সেখানে আবার সিপিআই, সিপিএম, সিপিআই (এমএল) মুখে বৃহত্তর বাম ঐক্যের কথা বললেও বামেরাই বামফ্রন্টের শরিক দল সিপিআই প্রার্থীকে হারাতে অকমিউনিস্ট দলের প্রার্থীকে মদত করেছে প্রকাশ্যে। আর তেজস্বী যাবদেব দল তো তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে সব বুদ্ধি বিবেচনা হারিয়ে ভুল বকে গেছে। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর দল? সেও কম যায় না, কম যায়নি বিহারে। যেমন হাঁড়ি তেমনি সরা। সে তো ক্ষমতার মোহে বাস্তব ভুলে মত্ত হাতির মতো যা খুশি তাই করেছে, যা খুশি তাই বলেছে। জনগণ, এসব ভালভাবে নেয়নি। বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ সচেতন মানুষরা।

আরও পড়ুন:

বিহার এক সময় সিপিআই-এর দুর্গ ছিল শ্রেণি সংগ্রামের পথ ধরে সুনীল মুখার্জী, জগন্নাথ সরকার, টিকারাম মাঝি প্রমুখের নেতৃত্বে। সেই বিহার থেকে এই পার্টির বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শ্রেণি সংগ্রামের পথ ছেড়ে গরীব মানুষের ঐক্যনাশা জাতপাতের রাজনীতির সঙ্গে আপসের পথ নেওয়ায় এই নির্বাচনে শূন্য হয়ে গেছে তারা বিহারে। কমিউনিস্টদের কী চিন্তার দৈন্য! এরা কমরেড সোমনাথ লাহিড়ী, পি.সি যোশী, মুজাফ্ফর আহমেদ, এস.এ ডাঙ্গে, জেড.এ আহমেদ, এম ফারুকীদের জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে ও শ্রেণি রাজনীতির পক্ষে আপসহীন অবস্থানের কথা জানেন না।

আরও পড়ুন:

বম্বেতে ১৯৪৬ এবং ১৯৫২ সালের নির্বাচনে, বিদর্ভে ১৯৫৩ সালের নির্বাচনে আম্বেদকরের পরাজয়ের পিছনে কমিউনিস্টদের কী ভূমিকা ছিল, লোকসভা ও রাজ্যসভায় অধ্যাপক হীরেণ মুখার্জী, রেণু চক্রবর্তী, কংসারী হালদার, ভূপেশ গুপ্ত প্রমুখ কমিউনিস্ট সাংসদ, কিংবা জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে ভি.ভি গিরি, রাধাকৃষ্ণান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদরা আম্বেদকরকে তাঁর জাতপাত কেন্দ্রিক সংরক্ষণ নীতির জন্য, কিংবা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী আজাদ আইনমন্ত্রী আম্বেদকরকে তাঁর ঐ রাজনীতির জন্য তাঁকে কীভাবে দেখতেন, কিংবা হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক বিষয়ে আম্বেদকরের অনৈতিহাসিক মন্তব্যের জন্য (হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক আম্বেদকরের মতে সোনার পাথর বাটি) গোটা জাতীয় কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি তথা দলমত নির্বিশেষে এদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা আম্বেদকরকে কোন চোখে দেখেন, সেই পাঠ তাঁদের নেই।

আরও পড়ুন:

এককথায়, মনসা মঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগর মন থেকে নয়, দায়ে পড়ে বাম হাত দিয়ে মনসাকে ফুল দিয়েছিল। বিহারের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা ভালেবেসে নয়, কংগ্রেস-কমিউনিস্ট ও আরজেডি-র কীর্তিকলাপ দেখে নেতিবাচক ভোট দিয়েছে বিজেপি-নীতীশ কুমারের জোটকে। এইসব ধর্মনিরপেক্ষ বাম ও গণতান্ত্রিক মানুষরা চেয়ে আছেন জাতীয় কংগ্রেসের দিকে, যে জাতীয় কংগ্রেস গান্ধীজী থেকে শুরু করে সীমান্তগান্ধী, জহরলাল নেহরু, মাওলানা আজাদ, রাধাকৃষ্ণান, জাকীর হোসেন, ভি.ভি গিরি, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখের নেতৃত্বে কিংবা কমিউনিস্টদের দিকে, যাঁরা ডাঙ্গে থেকে শুরু করে লাহিড়ী, যোশী, রাজেশ্বর রাও, সুধাকর রেড্ডি, নাম্বুদ্রিপাদ, হরকিষেণ সিং সুরজিৎ, চারু মজুমদার, কানু সান্যালদের নেতৃত্বে ধর্ম ও জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং শ্রেণি সংগ্রামের রাজপথে অটল থেকে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার বহুত্ববাদী চরিত্রকে অক্ষুণ্ণ রাখতে অনন্য অবদান রেখেছিলেন, তাঁদের দিকে। আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় যে, অদূর ভবিষ্যতে এই মানুষদের মুখে হাসি ফুটবেই ফুটবে।

আরও পড়ুন:

(লেখক: কলকাতা সাউথ সিটি (দিবা) কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ)

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder