BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

কেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিদেরকে ব্যবহার করছে সংঘ পরিবার

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ১:২৫ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ১:২৫

গৌতম রায়

আরও পড়ুন:

চলতি কথায় বলে, ‘মহাপুরুষ যে পথে যায়, সেটাই পথ’। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত একমাত্র বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, আরএসএস-এর সদর দপ্তর, নাগপুরের রেশমবাগের কেশবভবনে উপস্থিত হয়েছিলেন। আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের মূর্তিতে নতজানু হয়ে ফুল দিয়েছিলেন। সংঘের জমায়েতে বক্তৃতাও করেছিলেন। পুরস্কার হিসেবে তিনি ‘ভারতরত্ন’ দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব পেয়েছিলেন – এমন অভিযোগ অবশ্য কেউ করেন না। তবে প্রণববাবুর উত্তরসূরী রামনাথ কোবিন্দ, আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তির সময় ঠিক একইভাবে তাঁর পূর্বসূরী প্রণববাবুর পথ অনুসরণ করলেন। সংঘের সদর দপ্তরে গেলেন। সরসংঘচালক মোহন ভাগবতকে পাশে নিয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিলেন হেডগেওয়ারের মূর্তিতে। সংঘ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করলেন।

আরও পড়ুন:

এরপর যদি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব ‘ভারতরত্ন’ আগামী বছর রামনাথ কোবিন্দ পেয়ে যান। তাহলেও হয়ত কেউ ঘটনার পারস্পরিক সংযোগ ঘিরে এরকম মন্তব্য করবেন না। বরং বলতে পারেন মহাপুরুষ প্রণববাবু যে পথে গমন করেছিলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রণববাবুর থেকে বহুগুণ পিছিয়ে থাকা, জাঁকজমকহীন রামনাথ কোবিন্দ সে পথেরই শরিক হলেন।

আরও পড়ুন:

তবে গোটা ঘটনার মধ্যে একটা মৌলিক ফারাক কিন্তু শেষ পর্যন্ত থেকে গেল। সংঘের শতবর্ষপূর্তির যে আড়ম্বর এবং তাকে ঘিরে যে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক কৌশলের প্রেক্ষাপট, যার সঙ্গে রামনাথ কোবিন্দের নাম জড়িয়ে গেছে, প্রণববাবুর সঙ্গে কিন্তু তাঁর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এটা জড়ানো সম্ভব হল না। পাঠক কিন্তু একবারে ধরে নেবেন না, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আরএসএস সদরে দপ্তরে যাওয়ার ঘটনা, আর সংঘ ঘনিষ্ঠ রামনাথ কোবিন্দের আরএসএসের সদর দপ্তরে যাওয়ার ঘটনা – এই দুটিকে পাশাপাশি রেখে আলোচনা করতে গিয়ে আমি একটি বারের জন্য রামনাথের মতো প্রণববাবুর সঙ্গেও সংঘের সাথে সংযোগ ঘিরে কোনও কানাঘুষো করছি।

আরও পড়ুন:

প্রণববাবু বা রামনাথ কোবিন্দ, তাঁরা তাঁদের কী নিজস্ব সমীকরণের ভিত্তিতে আরএসএসের সদর দপ্তরে গিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ারকে শ্রদ্ধা জানালেন – সেটা তাঁদের বিষয়। আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেটা ভাববার, সেটা হল, কেন আরএসএস, অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিদের এভাবে তাদের সংগঠনের প্রচারের কাজে ব্যবহার করছে? আরএসএস তো নিজেদের সম্পর্কে প্রকাশ্যে অত্যন্ত উচ্চ ধারণা পোষণ করে। অত্যন্ত আত্মম্ভরিতার সঙ্গে তারা নিজেদের সম্পর্কে নানা ধরনের প্রশংসাসূচক কথাবার্তা বলে থাকে। সেসব প্রশংসাসূচক কথাবার্তার প্রথম এবং প্রধান বিষয় হল, আরএসএস কারো পরোয়া করে না বলে দাবি করে। কারো নিন্দা ঘিরে আরএসএসের কিছু বক্তব্য নেই এবং আরএসএস কারও প্রশংসার প্রত্যাশী নয় – এমন বেপরোয়াই তাদের দাবি।

আরও পড়ুন:

এইরকম কথা যারা প্রকাশ্যে বলে থাকে, তাদের হঠাৎ কি প্রয়োজন পড়ল, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর নেওয়া দু-দু’জন ব্যক্তিকে সংগঠনের ক্যারিশ্মা প্রচারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করবার? প্রণব বাবুর সঙ্গে কতখানি আরএসএসের গভীর গোপন সম্পর্ক ছিল, তাঁর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক জীবনে – এই আলোচনা থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এইখানে যে, রাষ্ট্রপতি পদে অবসর নেওয়া প্রথম এক ব্যক্তিকে আরএসএস যখন তার সাংগঠনিক প্রচারের উদ্দেশ্যে তাদের সদর দপ্তরে নিয়ে আসে, ব্যবহার করে, তখন তার সামাজিক প্রতিক্রিয়া কেমন হয়?

আরও পড়ুন:

একজন ব্যক্তি, তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও দেশের চলতি রাজনৈতিক দস্তুরে তিনি যখন দেশের রাষ্ট্রপতি হয়ে যান, তখন তিনি সবরকম দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণ ঘেরাটোপের বাইরে একজন পরিপূর্ণ দেশব্রতী হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে পরিগণিত হন। চরম হিন্দু সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব, দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের ক্ষেত্রেও তাই-ই ঘটেছিল। যে রাজেন্দ্র প্রসাদের আত্মঘাতী রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী অবস্থানের ঘোরতর সমালোচক ছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, সেই রাজেন্দ্র প্রসাদ সম্পর্কে কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে একটা ধোয়া তুলসী পাতা গোছের মন মানসিকতা হয়ে আছে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু ভারতের অন্যতম সর্বাত্মক ধর্মনিরপেক্ষ, সংখ্যালঘু মুসলমানদের স্বাধিকারের পক্ষে সরব ব্যক্তিত্ব পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর রাজনৈতিক তথা সামাজিক অবস্থান ঘিরে নানা ধরনের পরস্পর বিরোধী অভিমান নিয়ে চিরকাল সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক ধরনের ইতিবাচক নেতিবাচক উভয় রকমেরই মন মানসিকতা কাজ করছে। বাঙালির বেশিরভাগের কাছেই নেতাজী অস্মিতা গান্ধীজী, নেহরুজীকে খলনায়ক বানিয়ে রেখে অনৈতিহাসিক ভাবে।
স্বাধীন ভারতের সংসদীয় রাজনীতির প্রচলিত ধারায় রাষ্ট্রপতির পদকে সাধারণত সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির ঘেরাটোপে দেখবার প্রচলন এখনো হয়নি। প্রত্যক্ষভাবে দলীয় রাজনীতির মধ্যে থেকেই এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েছেন সকলে। একমাত্র ব্যতিক্রম ড. এপিজে আবদুল কালাম। তা সত্ত্বেও একজন ব্যক্তি যখন রাষ্ট্রপতি হয়ে যান, তখন তাঁর দলীয় রাজনীতিতে অবস্থান ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুব একটা সংশয় থাকে না। কিন্তু মন মানসিকতা থাকে না – এটাই বলতে হয়। যদিও অতীতে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালে রাষ্ট্রপতি পদকে শাসক দলের রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করার বহু নিদর্শন আছে।

আরও পড়ুন:

বিশেষ করে জরুরি অবস্থা জারির সময়কাল ঘিরে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি ভি.ভি গিরির অবস্থান সব সমালোচনার ঊর্ধ্বে – একথা কখনোই বলতে পারা যায় না। যেভাবে ইন্দিরা গান্ধী তাঁর মন্ত্রিসভাকে পর্যন্ত পাশ কাটিয়ে জরুরি অবস্থা জারির অধ্যাদেশ, মধ্যরাতে ঘুম ভাঙিয়ে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি ভি.ভি গিরিকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়েছিলেন, তা চিরদিন একটা বড় রকমের সমালোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন:

তবুও রাষ্ট্রপতি হয়ে গেলে একজন ব্যক্তির অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে, দলীয় রাজনীতিতে নানা ধরনের অবস্থান নেওয়া ঘিরে বিষয়গুলি আর সাধারণ জনমানসে খুব একটা আলোচনা সাপেক্ষ হয় না। তাই অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে আরএসএস তাদের সংগঠনের সামাজিক ভিত্তি তৈরির কাজে ব্যবহার করতে দ্বিধা করেনি।

আরও পড়ুন:

তবে প্রণববাবু যে রাজনৈতিক দলের হয়ে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে পালন করেছিলেন, সেই কংগ্রেস দল নীতিগতভাবে আরএসএস বিরোধী। যে ইন্দিরা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে প্রণববাবুর প্রতিষ্ঠা এবং নানা ধরনের কার্যকলাপ, সেই ইন্দিরা গান্ধী কিন্তু তাঁর নিজের অবস্থানকে মসৃণ করার লক্ষ্যে পর্দার আড়াল থেকে আরএসএসকে ব্যবহার করলেও প্রকাশ্যে কখনো আরএসএস সম্পর্কে নরম মানসিকতার পরিচয় রাখেননি।

আরও পড়ুন:

তাই আশ্চর্য হয়ে যেতে হয় রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রণববাবুর আরএসএস ঘনিষ্ঠতা ঘিরে। সন্দেহ তীব্র হয়ে ওঠে দুটি কারণে। প্রথমত: এই যে চিরদিন কংগ্রেসের রাজনীতির মধ্যে একটা দক্ষিণপন্থী উগ্র হিন্দু সম্প্রদায়িক ঝোঁক ছিল, এর সঙ্গে কি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের একটা সংযোগ ছিল খুব নিবিড়ভাবে? সেই সংযোগের জেরেই কি তিনি রাষ্ট্রপতি পদে অবসর গ্রহণের পর আরএসএসের প্রত্যক্ষ কার্যকলাপে অংশ নিয়েছিলেন?

আরও পড়ুন:

এটি যদি সত্যি হয়, তাহলে ইন্দিরা গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর কলকাতার যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুযোগ করে দিয়েছিলেন প্রণববাবু, আর পরবর্তীকালে মমতা যেভাবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ নামক নীতিবিহীন সুবিধাবাদী জোটের শরিক হয়েছিলেন, সঙ্গী হিসেবে তিনি দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পালাক্রমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অধিষ্ঠান করেছিলেন, সেগুলি কি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত?
দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, রাষ্ট্রপতি পদে অবসরের পরেও কি প্রণববাবুর মধ্যে বিশেষ কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি কাজ করেছিল, যার জেরে তিনি আরএসএসের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরির কাজে রাষ্ট্রপতির পদকে প্রকারান্তরে ব্যবহার করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন?

আরও পড়ুন:

আমাদের পারস্পরিক সমাজবদ্ধতার মধ্যে আরএসএস কীভাবে ঢুকে গিয়ে তাদের আত্মঘাতী দর্শনকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা যে খুবই অল্প, প্রণব মুখোপাধ্যায় থেকে রামনাথ কোবিন্দ – এই পরিক্রমার মধ্য দিয়ে সেটা খুব ভাল করে বুঝতে পারে। যে কংগ্রেস দলের বিশিষ্ট নেতা হিসেবে প্রণব মুখার্জীর প্রায় সমগ্র রাজনৈতিক জীবনটা পরিব্যাপ্ত ছিল, সেই কংগ্রেস কিন্তু প্রণববাবুর রাজনৈতিক ব্যাপ্তির সময়কালে প্রথাগতভাবে আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধী ছিল।

আরও পড়ুন:

প্রথম জীবনে যে ‘বাংলা কংগ্রেস’-এর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন প্রণববাবু, যাঁর হাত ধরে তাঁর এই প্রবেশ, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম অ-কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়ও কিন্তু কখনই আরএসএসের রাজনীতি ও মতাদর্শকে সমর্থন করেননি। প্রণব মুখার্জী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কিন্তু কখনো প্রকাশ্যে আরএসএসের রাজনৈতিক অভিসন্ধির প্রতি সমর্থন সূচক একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। তাহলে এই মানুষটি কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে শুধু নয়, সব অ-বিজেপি দলগুলির প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাঁর কার্যকালে আরএসএসের সঙ্গে কোনরকম সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল? নাকি আগে থেকেই প্রণববাবুর সঙ্গে আরএসএসের একটা টেবিলের তলার সম্পর্ক ছিল, যার জেরে তিনি রাষ্ট্রপতি পদে অবসর নেওয়ার পর তাঁকে সংঘের সদর দপ্তরে আমন্ত্রণ জানায় এবং প্রণববাবুও দ্বিধা-সংকোচ না করে আরএসএসের সদর দপ্তরে হাজির হন, সংঘের প্রতিষ্ঠাতার ছবি ও মূর্তিতে মালা দেন।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder