BREAKING:
সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান রুক্ষ মাটিতে মিয়াওয়াকি বনাঞ্চল, ছায়া ঘেরা স্কুলেই চলছে পাঠ মেহতাবের কাছে আটকাল মোহনবাগান,পয়েন্ট ভাগাভাগি খিদিরপুরের সাথে খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার 

সিনেমা সমাজের আয়না, নাকি বিনোদনের বাজার?

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৫২ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৫২

বিশ্বজিৎ বৈদ্য

আরও পড়ুন:

বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে শিল্পের প্রতিটি রূপই সমাজকে বোঝার এক বিশেষ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, সংগীত কিংবা সাহিত্য — সবই এক অর্থে সময়ের মানসিকতা, বিশ্বাস ও দ্বন্দ্বকে ধারণ করে। বিংশ শতাব্দীর সূচনায় আবির্ভূত সিনেমা বা চলচ্চিত্রও সেই একই ধারার উত্তরসূরি, তবে একে আধুনিকতার পরম প্রতীক বলা চলে। কারণ, সাহিত্য বা চিত্রকলার তুলনায় সিনেমা অনেক দ্রুত ও বহুমাত্রিক উপায়ে বৃহত্তর জনমানসে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। জন্মলগ্ন থেকেই সিনেমাকে ঘিরে একটি দ্বন্দ্ব প্রবল হয়ে উঠেছে — এটি কি কেবলই বিনোদনের এক মোহময় দুনিয়া, নাকি সমাজের অন্তর্লীন স্রোতকে প্রতিফলিত করার আয়না? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য সিনেমার ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকে সমান্তরালে দৃষ্টি দিতে হবে।

আরও পড়ুন:

চলচ্চিত্রের জন্ম ১৮৯৫ সালে, যখন লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় ফ্রান্সে তাঁদের সংক্ষিপ্ত দৃশ্যচিত্র প্রদর্শন করেন। শুরুর সেই সময় সিনেমা ছিল নিছক চমকপ্রদ দৃশ্যাবলী প্রদর্শনের একটি প্রযুক্তি, যেখানে ট্রেনের আগমন বা কারখানার শ্রমিকদের বেরোনোই ছিল দর্শকের বিস্ময়ের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু অচিরেই চলচ্চিত্রকারেরা উপলব্ধি করেন, ক্যামেরার এই যন্ত্র কেবল চিত্রধারণে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, সংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতার দলিল রচনাতেও সক্ষম। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সিনেমা হয়ে ওঠে গল্প বলার, বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এবং সমাজের অন্তর্লীন অস্থিরতাকে প্রকাশ করার এক অন্যতম মাধ্যম।

আরও পড়ুন:

ভারতে সিনেমার আগমন ১৯১৩ সালে দাদাসাহেব ফালকের রাজা হরিশচন্দ্র চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তখনকার দিনে ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপট ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের দমননীতি ও জাতীয়তাবাদের উত্থানের সংমিশ্রণে পূর্ণ। ফলে সিনেমাও ক্রমশ জাতীয় চেতনার এক বাহন হয়ে উঠতে শুরু করে। ফালকের পৌরাণিক কাহিনী নির্ভর চলচ্চিত্র দর্শককে কেবল বিনোদনই দেয়নি, বরং একদিকে ঐতিহ্যের প্রতি আস্থা জাগিয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আত্মপরিচয়ের বোধকে উসকে দিয়েছে। এই ধারা পরবর্তী কালে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন প্রমথেশ বড়ুয়া, হিমাংশু রায়, ঋত্বিক ঘটক কিংবা সত্যজিৎ রায় তাঁদের সিনেমার মাধ্যমে সমকালীন সমাজের সংকটকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন।

আরও পড়ুন:

আসলে সিনেমাকে সমাজের আয়না বলার প্রমাণ খুঁজতে গেলে আমাদের দেখতে হবে কিভাবে চলচ্চিত্র সময়ের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বকে আত্মস্থ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৫০–৬০-এর দশকে ভারতীয় সমাজ ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন, বিভাজনের যন্ত্রণা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বন্দ্বে ভরপুর। এই সময়ের সিনেমা যেমন রাজ কাপুরের আওয়ারা বা শ্রী ৪২০—শহুরে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও নৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। অন্যদিকে সত্যজিৎ রায়ের অপু ত্রয়ী (পথের পাঁচালি, অপরাজিত, অপুর সংসার) গ্রামীণ দারিদ্র্য, স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংঘাতকে অসামান্য সংবেদনশীলতায় পর্দায় রূপ দিয়েছে। এইসব সিনেমা প্রমাণ করে, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের উৎস নয়, বরং সমাজতাত্ত্বিক দলিল হিসেবেও কাজ করে।

আরও পড়ুন:

তবে এখানেই আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়—সিনেমা কি সর্বদা সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করেছে? নাকি বাজারের চাপ, দর্শকের রুচি ও বিনোদনের চাহিদা তাকে এক ‘পণ্য’তে পরিণত করেছে? বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে বিশেষত বলিউড বা হলিউডে সিনেমা হয়ে ওঠে এক বিশাল শিল্প, যেখানে প্রযোজনা সংস্থা, তারকা সংস্কৃতি ও বিপুল অর্থনৈতিক বিনিয়োগ প্রধান চালিকাশক্তি। এই প্রেক্ষাপটে বহু চলচ্চিত্র নির্মাতার প্রধান লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন। ফলে বিষয়বস্তু নির্বাচনে সমাজের সমস্যার পরিবর্তে অগ্রাধিকার পায় রোমান্স, অ্যাকশন, কমেডি বা কল্পনার জগৎ। দর্শককে অস্থায়ী স্বস্তি প্রদান করাই হয়ে ওঠে উদ্দেশ্য। এই বাজারকেন্দ্রিক মানসিকতা সিনেমাকে প্রায়শই বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

তবে এখানেই সিনেমার দ্বৈত চরিত্র ফুটে ওঠে। একদিকে এটি নিছক বিনোদনের বাজার, অন্যদিকে সমাজ-রাজনীতি-সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। উদাহরণস্বরূপ, হলিউডের চলচ্চিত্র মডার্ন টাইমস (চার্লি চ্যাপলিন) শিল্পায়নের যুগে শ্রমিকের যন্ত্রনির্ভর জীবনের কাহিনী শোনায়, যা ছিল স্পষ্ট সামাজিক সমালোচনা। আবার একই সঙ্গে হলিউডই তৈরি করেছে অ্যাভেঞ্জারস বা স্পাইডার-ম্যান সিরিজের মতো চলচ্চিত্র, যেখানে মূলত ফ্যান্টাসি ও বাজারজাতকরণই মুখ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও আমরা একদিকে পাই ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা বা মৃণাল সেনের ভুবন সোম — যেখানে সমাজের বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হয়, অন্যদিকে সমসাময়িক বলিউডে পাই আইটেম গান, অতিরঞ্জিত অ্যাকশন দৃশ্য আর পণ্যায়িত নায়কতন্ত্র।

আরও পড়ুন:

এখন প্রশ্ন আসে, গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমাকে কোন খোপে ফেলা যায়? সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব বলছে, সিনেমা হলো ‘কালচারাল টেক্সট’ — যেখানে সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ, দ্বন্দ্ব, লিঙ্গবিন্যাস, শ্রেণি বৈষম্য ও রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিফলিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭০-এর দশকের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এর ভূমিকায় অমিতাভ বচ্চন আসলে ভারতীয় সমাজে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও শ্রেণি বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুবকের ক্ষোভকে প্রকাশ করেছিলেন। একইভাবে দক্ষিণ ভারতের সিনেমায় ভক্তিমূলক ধারার প্রাবল্য স্থানীয় সামাজিক-ধর্মীয় কাঠামোকে প্রতিফলিত করে। আবার নারীবাদী সিনেমা যেমন দীপা মেহতার ফায়ার বা ওয়াটার ভারতীয় সমাজে নারীর অধিকার ও যৌনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।

আরও পড়ুন:

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমা নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী শিল্প। ফিকি (FICCI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে আরও দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা। এই বিপুল অর্থনৈতিক কাঠামো সিনেমাকে কেবল সমাজচিত্রের দলিল হতে দেয় না, বরং তাকে ভোগ্যপণ্য বানিয়ে ফেলে। একদিকে যেমন স্বাধীন চলচ্চিত্রকারেরা সীমিত বাজেটে বাস্তব সমস্যার সিনেমা নির্মাণ করছেন, অন্যদিকে বড় প্রযোজনা সংস্থা বাজারমুখী ‘মসালা’ ছবিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। ফলে সিনেমার ভেতরে সমাজের প্রতিফলন ও বিনোদনের বাজার—দুটি প্রবণতাই পাশাপাশি বিদ্যমান।

আরও পড়ুন:

ডিজিটাল যুগে এসে সিনেমার চরিত্র আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম যেমন নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম বা হটস্টার দর্শকের সামনে নতুন ধারা খুলে দিয়েছে। এখানে যেমন সমাজমুখী কনটেন্ট (দ্য কাশ্মীর ফাইলস, আর্টিকেল ১৫, পঞ্চায়েত) তৈরি হচ্ছে, তেমনই বাজারকেন্দ্রিক ওয়েব সিরিজও আসছে যেখানে চটকদার কাহিনী, সহিংসতা ও যৌনতার প্রদর্শনই প্রধান। ফলে প্রশ্ন জটিলতর হয়েছে — সিনেমা আসলে সমাজের আয়না নাকি কেবল বিনোদনের বাজার?

আরও পড়ুন:

এই দ্বন্দ্বের সমাধান খুঁজতে গেলে আমাদের হয়তো স্বীকার করতে হবে যে সিনেমা একযোগে দুটো ভূমিকা পালন করে। এটি কখনো আয়না, যেখানে সমাজের সুখ-দুঃখ, বৈষম্য, সংগ্রাম ও স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়। আবার কখনো এটি এক বিশাল বাজার, যেখানে দর্শকের আবেগকে পুঁজি করে মুনাফা অর্জনই মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু এখানেই সিনেমার আসল শক্তি নিহিত। কারণ একে কেবল সমাজের আয়না বললে বিনোদনের প্রভাবকে অস্বীকার করা হবে, আর কেবল বাজার বললে সামাজিক প্রতিফলনের শক্তিকে খাটো করা হবে।

আরও পড়ুন:

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সিনেমার বাজারমুখী চরিত্রকেও উপেক্ষা করা উচিত নয়, কারণ বিনোদনের মাধ্যম দিয়েই অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়। যেমন আমির খানের ‘তারে জমিন পার’ সিনেমাটি ছিল বাণিজ্যিক সাফল্য, কিন্তু একইসঙ্গে এটি শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও ডিসলেক্সিয়া আক্রান্ত শিশুদের সমস্যা নিয়ে সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আবার ‘পিঙ্ক’ বা ‘কাহানির’ মতো ছবিও বিনোদনের পাশাপাশি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোড়ন তুলেছিল। সুতরাং সিনেমার বাজারকেন্দ্রিক দিকও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে।

আরও পড়ুন:

অবশেষে বলা যায়, সিনেমাকে একমাত্রিকভাবে বিচার করা যায় না। এটি একদিকে প্রযুক্তির বিস্ময়, অন্যদিকে শিল্পের পরম রূপ। এর ভেতরেই জড়িয়ে আছে সমাজের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। সিনেমা যেমন আমাদের হাসায়, কাঁদায়, স্বপ্ন দেখায়, তেমনি প্রশ্ন তোলে, প্রতিবাদ গড়ে তোলে, ন্যায়ের দাবি জানায়। তাই সিনেমা কখনো নিছক বিনোদনের বাজার, আবার কখনো সমাজের নির্লজ্জ আয়না। এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই সিনেমার প্রকৃত শক্তি নিহিত।

আরও পড়ুন:

(লেখক: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক)

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder