BREAKING:
চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান রুক্ষ মাটিতে মিয়াওয়াকি বনাঞ্চল, ছায়া ঘেরা স্কুলেই চলছে পাঠ মেহতাবের কাছে আটকাল মোহনবাগান,পয়েন্ট ভাগাভাগি খিদিরপুরের সাথে খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা

ইতিহাসের নির্মম পরিহাস ইন্দিরা যাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন, সেই মতুয়ারাই আজ বিজেপির ভক্ত

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:০৬ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:০৬

ঝুমুর রায়

আরও পড়ুন:

দেশের স্বাধীনতার পর পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের নাম না জানা হাজার হাজার নির্যাতিত নিম্নবর্ণ হিন্দু, বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায় ভারতে আশ্রয়ের জন্য পাড়ি জমায়। এই আশ্রয়দানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর। তিনি রাজনৈতিক মানবিকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ নীতির ভিত্তিতে তাঁদের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন।
কিন্তু ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হল, আজ সেই মতুয়া সমাজের একটি বড় অংশ বিজেপির শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্কে পরিণত হয়েছে; এমনকি অনেক মতুয়া নেতা আজ বিজেপির প্রার্থী বা সাংসদ। প্রশ্ন জাগে, যে দল তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিল, তাঁদের সন্তানরা কেন আজ সেই দলের বিরোধী এক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকছে?

আরও পড়ুন:

মতুয়া আন্দোলনের পটভূমি:

আরও পড়ুন:

মতুয়া ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হরিচাঁদ ঠাকুর (১৮১২–১৮৭৮) ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যা মূলত ছিল নিম্নবর্ণ হিন্দুদের আত্মমর্যাদার লড়াই। তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত চেতনায় রূপ দেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গের (পূর্ব পাকিস্তান) মতুয়ারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় তীব্র নিপীড়নের শিকার হন। তখন তাঁদের বৃহৎ অংশ ভারতে চলে আসেন। বিশেষত নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বসিরহাট, বনগাঁ, রানাঘাট প্রভৃতি অঞ্চলে।

আরও পড়ুন:

ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা:

আরও পড়ুন:

১৯৬০ ও ৭০–এর দশকে মতুয়াদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। আশ্রয়শিবির, খাদ্যের অভাব, নাগরিকত্বহীনতা — সব মিলিয়ে এক ভয়ানক বাস্তবতা। এই সময়েই ইন্দিরা গান্ধীর সরকার তাঁদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। তৎকালীন নাগরিকত্ব আইন (১৯৫৫)–এর আওতায় একাধিক প্রবিধান পরিবর্তন করে উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব প্রদানের পথ সহজ করেন ইন্দিরা। তাদের চাষের জমি, আবাসন, রেশন কার্ড, ভোটার আইডি ইত্যাদি সব কিছুই ধীরে ধীরে নিশ্চিত করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে তৎকালীন রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন স্কিম চালু হয়, যার সর্বাধিক সুবিধাভোগী ছিলেন মতুয়ারা। এই মানবিক সহানুভূতির কারণে তখন মতুয়ারা কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। ঠাকুরবাড়ির রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও কংগ্রেসপন্থী ছিল।

আরও পড়ুন:

২০১১ পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা:

আরও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মতুয়া রাজনীতিতে নতুন মোড় আসে।

আরও পড়ুন:

তৃণমূল সরকার মতুয়াদের ঠাকুরনগরকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে, হরিচাঁদ–গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন এবং মতুয়া উৎসবগুলিতে সরকারি অনুদান চালু করেন। কিন্তু একই সময়ে বিজেপি ‘নাগরিকত্ব ও ধর্মীয় পরিচয়’ইস্যুতে এই সম্প্রদায়কে নিজেদের দিকে টানতে শুরু করে।

আরও পড়ুন:

বিজেপির কৌশল, নাগরিকত্বের রাজনীতি:

আরও পড়ুন:

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁরা মতুয়া ভোটকে লক্ষ্য করে সিএএ বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রচার করে। এই আইনটি মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান করবে বলে ঘোষণা দেয়। বিজেপি দাবি করে, ইন্দিরা গান্ধী আপনাদের থাকতে দিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা আপনাদের নাগরিকত্ব দেব। এই বাগ্মিতায় অনেক মতুয়া ভাবতে শুরু করেন, তাঁদের প্রকৃত নাগরিকত্ব কেবল বিজেপিই দিতে পারে। যদিও বাস্তবে সিএএ এখনো পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি, তবুও এই প্রতিশ্রুতি মতুয়াদের মধ্যে এক মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন:

মতুয়ারা কেন বিজেপির দিকে গেলেন?

আরও পড়ুন:

নিরাপত্তা ও পরিচয়ের রাজনীতি: সিএএ–এর মাধ্যমে বিজেপি তাদের মনে “আমরা হিন্দু, তাই আমাদের জায়গা আছে”এই বোধ তৈরি করে দেয়। ধর্মীয় পরিচয়ের এই রাজনীতি অনেক মতুয়ার মনে আত্মরক্ষার তাগিদ জাগায়।
ঠাকুরবাড়ির বিভাজন: ঠাকুরবাড়ির দুই শাখা—শান্তনু ঠাকুর ও মমতা বালা ঠাকুর রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েন। শান্তনু ঠাকুর বিজেপিতে যোগ দেন এবং এখন তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ফলে ঠাকুরবাড়ির একটি প্রভাবশালী অংশ বিজেপির পক্ষে সক্রিয় হয়।

আরও পড়ুন:

কংগ্রেস ও তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা: মতুয়াদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংগঠন বা তৃণমূল স্তরে ধারাবাহিক যোগাযোগের অভাব কংগ্রেস ও তৃণমূলের ক্ষতি করেছে। কিন্তু বিজেপি সেখানে সংগঠিতভাবে কাজ করেছে।
মনস্তাত্ত্বিক প্রতিদানবোধ: অনেক মতুয়া মনে করেন, তাঁরা কংগ্রেসকে অনেক দিয়েছিলেন, কিন্তু কংগ্রেস তাঁদের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ছাড়া কিছুই ভাবেনি। বিজেপি অন্তত তাঁদের পরিচয় ও নাগরিকত্বের কথা বলছে।

আরও পড়ুন:

ইতিহাসের বিপরীত গতি:

আরও পড়ুন:

বাস্তবে বিজেপির মতাদর্শ এবং মতুয়া দর্শন একেবারেই ভিন্ন। মতুয়া ধর্মের মূল কথা ছিল মানবধর্ম, বর্ণবৈষম্য বিরোধিতা এবং সমতা। অথচ বিজেপির মূল মতাদর্শ মনুস্মৃতি-নির্ভর হিন্দুত্ববাদ, যা আসলে বর্ণবৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে। অতএব, আজ মতুয়ারা যে দলের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, সেটিই একসময় তাঁদের মতো নিম্নবর্ণ হিন্দুদের ‘অশুদ্ধ’বলে দূরে ঠেলে রেখেছিল, এ এক ইতিহাসের নির্মম রসিকতা।

আরও পড়ুন:

ইন্দিরা গান্ধী একসময় যাদের মানবতার ভিত্তিতে আশ্রয় দিয়েছিলেন, আজ তাঁদের উত্তরসুরীরা এক ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ফাঁদে পড়েছেন। কংগ্রেসের ভুল ছিল তাঁদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ না রাখা, আর বিজেপির সাফল্য হল পরিচয়ের রাজনীতিকে আবেগে রূপান্তরিত করা।
কিন্তু মতুয়া সমাজ যদি নিজেদের ইতিহাস মনে রাখে, তবে তারা বুঝবে, তাদের অস্তিত্বের ভিত্তি কোনো দলীয় ধর্মনীতি নয়, বরং মানবিক সহাবস্থান ও সমতার আদর্শ। যে আদর্শের সূচনা হয়েছিল হরিচাঁদ ঠাকুরের কণ্ঠে — “সব মানুষ এক, কেউ বড় কেউ ছোট নয়।”

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder