BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

সিনেমা সমাজের আয়না, নাকি বিনোদনের বাজার?

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৫২ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৫২

বিশ্বজিৎ বৈদ্য

আরও পড়ুন:

বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে শিল্পের প্রতিটি রূপই সমাজকে বোঝার এক বিশেষ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, সংগীত কিংবা সাহিত্য — সবই এক অর্থে সময়ের মানসিকতা, বিশ্বাস ও দ্বন্দ্বকে ধারণ করে। বিংশ শতাব্দীর সূচনায় আবির্ভূত সিনেমা বা চলচ্চিত্রও সেই একই ধারার উত্তরসূরি, তবে একে আধুনিকতার পরম প্রতীক বলা চলে। কারণ, সাহিত্য বা চিত্রকলার তুলনায় সিনেমা অনেক দ্রুত ও বহুমাত্রিক উপায়ে বৃহত্তর জনমানসে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। জন্মলগ্ন থেকেই সিনেমাকে ঘিরে একটি দ্বন্দ্ব প্রবল হয়ে উঠেছে — এটি কি কেবলই বিনোদনের এক মোহময় দুনিয়া, নাকি সমাজের অন্তর্লীন স্রোতকে প্রতিফলিত করার আয়না? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য সিনেমার ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকে সমান্তরালে দৃষ্টি দিতে হবে।

আরও পড়ুন:

চলচ্চিত্রের জন্ম ১৮৯৫ সালে, যখন লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় ফ্রান্সে তাঁদের সংক্ষিপ্ত দৃশ্যচিত্র প্রদর্শন করেন। শুরুর সেই সময় সিনেমা ছিল নিছক চমকপ্রদ দৃশ্যাবলী প্রদর্শনের একটি প্রযুক্তি, যেখানে ট্রেনের আগমন বা কারখানার শ্রমিকদের বেরোনোই ছিল দর্শকের বিস্ময়ের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু অচিরেই চলচ্চিত্রকারেরা উপলব্ধি করেন, ক্যামেরার এই যন্ত্র কেবল চিত্রধারণে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, সংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতার দলিল রচনাতেও সক্ষম। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সিনেমা হয়ে ওঠে গল্প বলার, বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এবং সমাজের অন্তর্লীন অস্থিরতাকে প্রকাশ করার এক অন্যতম মাধ্যম।

আরও পড়ুন:

ভারতে সিনেমার আগমন ১৯১৩ সালে দাদাসাহেব ফালকের রাজা হরিশচন্দ্র চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তখনকার দিনে ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপট ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের দমননীতি ও জাতীয়তাবাদের উত্থানের সংমিশ্রণে পূর্ণ। ফলে সিনেমাও ক্রমশ জাতীয় চেতনার এক বাহন হয়ে উঠতে শুরু করে। ফালকের পৌরাণিক কাহিনী নির্ভর চলচ্চিত্র দর্শককে কেবল বিনোদনই দেয়নি, বরং একদিকে ঐতিহ্যের প্রতি আস্থা জাগিয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আত্মপরিচয়ের বোধকে উসকে দিয়েছে। এই ধারা পরবর্তী কালে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন প্রমথেশ বড়ুয়া, হিমাংশু রায়, ঋত্বিক ঘটক কিংবা সত্যজিৎ রায় তাঁদের সিনেমার মাধ্যমে সমকালীন সমাজের সংকটকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন।

আরও পড়ুন:

আসলে সিনেমাকে সমাজের আয়না বলার প্রমাণ খুঁজতে গেলে আমাদের দেখতে হবে কিভাবে চলচ্চিত্র সময়ের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বকে আত্মস্থ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৫০–৬০-এর দশকে ভারতীয় সমাজ ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন, বিভাজনের যন্ত্রণা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বন্দ্বে ভরপুর। এই সময়ের সিনেমা যেমন রাজ কাপুরের আওয়ারা বা শ্রী ৪২০—শহুরে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও নৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। অন্যদিকে সত্যজিৎ রায়ের অপু ত্রয়ী (পথের পাঁচালি, অপরাজিত, অপুর সংসার) গ্রামীণ দারিদ্র্য, স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংঘাতকে অসামান্য সংবেদনশীলতায় পর্দায় রূপ দিয়েছে। এইসব সিনেমা প্রমাণ করে, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের উৎস নয়, বরং সমাজতাত্ত্বিক দলিল হিসেবেও কাজ করে।

আরও পড়ুন:

তবে এখানেই আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়—সিনেমা কি সর্বদা সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করেছে? নাকি বাজারের চাপ, দর্শকের রুচি ও বিনোদনের চাহিদা তাকে এক ‘পণ্য’তে পরিণত করেছে? বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে বিশেষত বলিউড বা হলিউডে সিনেমা হয়ে ওঠে এক বিশাল শিল্প, যেখানে প্রযোজনা সংস্থা, তারকা সংস্কৃতি ও বিপুল অর্থনৈতিক বিনিয়োগ প্রধান চালিকাশক্তি। এই প্রেক্ষাপটে বহু চলচ্চিত্র নির্মাতার প্রধান লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন। ফলে বিষয়বস্তু নির্বাচনে সমাজের সমস্যার পরিবর্তে অগ্রাধিকার পায় রোমান্স, অ্যাকশন, কমেডি বা কল্পনার জগৎ। দর্শককে অস্থায়ী স্বস্তি প্রদান করাই হয়ে ওঠে উদ্দেশ্য। এই বাজারকেন্দ্রিক মানসিকতা সিনেমাকে প্রায়শই বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

তবে এখানেই সিনেমার দ্বৈত চরিত্র ফুটে ওঠে। একদিকে এটি নিছক বিনোদনের বাজার, অন্যদিকে সমাজ-রাজনীতি-সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। উদাহরণস্বরূপ, হলিউডের চলচ্চিত্র মডার্ন টাইমস (চার্লি চ্যাপলিন) শিল্পায়নের যুগে শ্রমিকের যন্ত্রনির্ভর জীবনের কাহিনী শোনায়, যা ছিল স্পষ্ট সামাজিক সমালোচনা। আবার একই সঙ্গে হলিউডই তৈরি করেছে অ্যাভেঞ্জারস বা স্পাইডার-ম্যান সিরিজের মতো চলচ্চিত্র, যেখানে মূলত ফ্যান্টাসি ও বাজারজাতকরণই মুখ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও আমরা একদিকে পাই ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা বা মৃণাল সেনের ভুবন সোম — যেখানে সমাজের বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হয়, অন্যদিকে সমসাময়িক বলিউডে পাই আইটেম গান, অতিরঞ্জিত অ্যাকশন দৃশ্য আর পণ্যায়িত নায়কতন্ত্র।

আরও পড়ুন:

এখন প্রশ্ন আসে, গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমাকে কোন খোপে ফেলা যায়? সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব বলছে, সিনেমা হলো ‘কালচারাল টেক্সট’ — যেখানে সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ, দ্বন্দ্ব, লিঙ্গবিন্যাস, শ্রেণি বৈষম্য ও রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিফলিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭০-এর দশকের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এর ভূমিকায় অমিতাভ বচ্চন আসলে ভারতীয় সমাজে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও শ্রেণি বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুবকের ক্ষোভকে প্রকাশ করেছিলেন। একইভাবে দক্ষিণ ভারতের সিনেমায় ভক্তিমূলক ধারার প্রাবল্য স্থানীয় সামাজিক-ধর্মীয় কাঠামোকে প্রতিফলিত করে। আবার নারীবাদী সিনেমা যেমন দীপা মেহতার ফায়ার বা ওয়াটার ভারতীয় সমাজে নারীর অধিকার ও যৌনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।

আরও পড়ুন:

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমা নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী শিল্প। ফিকি (FICCI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে আরও দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা। এই বিপুল অর্থনৈতিক কাঠামো সিনেমাকে কেবল সমাজচিত্রের দলিল হতে দেয় না, বরং তাকে ভোগ্যপণ্য বানিয়ে ফেলে। একদিকে যেমন স্বাধীন চলচ্চিত্রকারেরা সীমিত বাজেটে বাস্তব সমস্যার সিনেমা নির্মাণ করছেন, অন্যদিকে বড় প্রযোজনা সংস্থা বাজারমুখী ‘মসালা’ ছবিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। ফলে সিনেমার ভেতরে সমাজের প্রতিফলন ও বিনোদনের বাজার—দুটি প্রবণতাই পাশাপাশি বিদ্যমান।

আরও পড়ুন:

ডিজিটাল যুগে এসে সিনেমার চরিত্র আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম যেমন নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম বা হটস্টার দর্শকের সামনে নতুন ধারা খুলে দিয়েছে। এখানে যেমন সমাজমুখী কনটেন্ট (দ্য কাশ্মীর ফাইলস, আর্টিকেল ১৫, পঞ্চায়েত) তৈরি হচ্ছে, তেমনই বাজারকেন্দ্রিক ওয়েব সিরিজও আসছে যেখানে চটকদার কাহিনী, সহিংসতা ও যৌনতার প্রদর্শনই প্রধান। ফলে প্রশ্ন জটিলতর হয়েছে — সিনেমা আসলে সমাজের আয়না নাকি কেবল বিনোদনের বাজার?

আরও পড়ুন:

এই দ্বন্দ্বের সমাধান খুঁজতে গেলে আমাদের হয়তো স্বীকার করতে হবে যে সিনেমা একযোগে দুটো ভূমিকা পালন করে। এটি কখনো আয়না, যেখানে সমাজের সুখ-দুঃখ, বৈষম্য, সংগ্রাম ও স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়। আবার কখনো এটি এক বিশাল বাজার, যেখানে দর্শকের আবেগকে পুঁজি করে মুনাফা অর্জনই মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু এখানেই সিনেমার আসল শক্তি নিহিত। কারণ একে কেবল সমাজের আয়না বললে বিনোদনের প্রভাবকে অস্বীকার করা হবে, আর কেবল বাজার বললে সামাজিক প্রতিফলনের শক্তিকে খাটো করা হবে।

আরও পড়ুন:

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সিনেমার বাজারমুখী চরিত্রকেও উপেক্ষা করা উচিত নয়, কারণ বিনোদনের মাধ্যম দিয়েই অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়। যেমন আমির খানের ‘তারে জমিন পার’ সিনেমাটি ছিল বাণিজ্যিক সাফল্য, কিন্তু একইসঙ্গে এটি শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও ডিসলেক্সিয়া আক্রান্ত শিশুদের সমস্যা নিয়ে সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। আবার ‘পিঙ্ক’ বা ‘কাহানির’ মতো ছবিও বিনোদনের পাশাপাশি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোড়ন তুলেছিল। সুতরাং সিনেমার বাজারকেন্দ্রিক দিকও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে।

আরও পড়ুন:

অবশেষে বলা যায়, সিনেমাকে একমাত্রিকভাবে বিচার করা যায় না। এটি একদিকে প্রযুক্তির বিস্ময়, অন্যদিকে শিল্পের পরম রূপ। এর ভেতরেই জড়িয়ে আছে সমাজের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। সিনেমা যেমন আমাদের হাসায়, কাঁদায়, স্বপ্ন দেখায়, তেমনি প্রশ্ন তোলে, প্রতিবাদ গড়ে তোলে, ন্যায়ের দাবি জানায়। তাই সিনেমা কখনো নিছক বিনোদনের বাজার, আবার কখনো সমাজের নির্লজ্জ আয়না। এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই সিনেমার প্রকৃত শক্তি নিহিত।

আরও পড়ুন:

(লেখক: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক)

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder