BREAKING:
চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান রুক্ষ মাটিতে মিয়াওয়াকি বনাঞ্চল, ছায়া ঘেরা স্কুলেই চলছে পাঠ মেহতাবের কাছে আটকাল মোহনবাগান,পয়েন্ট ভাগাভাগি খিদিরপুরের সাথে খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা

মেরুকরণ কি সব সমীকরণ পাল্টে দেবে?

প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:১৫ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:১৫

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

ভারতীয় সভ্যতা বহু যুগ ধরে বহতা এসেছে নানা নদীর স্রোতের মতো — বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য, বহুত্বের শক্তি, মতের ভিন্নতার মাঝেও সহাবস্থানের ঐতিহ্য। এই বৈচিত্র্যই দেশটিকে এক অনন্য সুরে বেঁধেছে, যেখানে ধর্ম কেবল আচার নয়, মানুষের অন্তরের নৈতিক বোধ, মানবিকতার ভিত্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধর্মই রাজনৈতিক ব্যবহারের সবচেয়ে সহজ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। ভোটের সমীকরণ বদলাতে, সামাজিক শক্তির মেরুদণ্ড নাড়িয়ে দিতে, ব্যক্তির পরিচয়কে সংকীর্ণ কোষে বন্দি করতে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রবণতা আজ যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা চিন্তার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মহল্লার মোড়ে, সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রলে, এমনকি সংসদের বিতর্কেও ধর্মের ব্যাখ্যা এখন মানুষের নয়, রাজনীতির ভাষায় লেখা হচ্ছে। অথচ মানুষের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস রাজনীতির পথে নয় — সত্য, সহনশীলতা, উদারতার পথে হাঁটে। সেই পথেই কোথাও যেন আলো কমে আসছে।

আরও পড়ুন:

কেন এই মেরুকরণ? কারণ সহজ — ভয় এবং অবিশ্বাস রাজনীতির সবচেয়ে ফলদায়ক মুদ্রা। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা মানুষের মনকে করে তুলেছে ভঙ্গুর। এই ভঙ্গুরতার উপর দাঁড়িয়ে ধর্মের ভিত্তিতে পরিচয়কে তীক্ষ্ণ করা আরও সহজ। মানুষ যখন তার সব থেকে প্রাচীন পরিচয় ধর্ম, ভাষা, গোত্র — এসবের ভরসা খোঁজে, তখন রাজনীতি তাকে সেই পরিচয়কেই অস্ত্র বানাতে শেখায়। ফলে একদিকে যেমন মানুষ ক্রমে নিজের পরিচয়কে আঁকড়ে ধরতে থাকে, অন্যদিকে সেই পরিচয়কে অন্যের বিরুদ্ধে খাড়া করা হয়। এতে যে ক্ষত তৈরি হয়, তার রং লাল; কিন্তু শিকড় থাকে অদৃশ্য। মানুষের মনেই।

আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতীয় সমাজে ধর্মীয় মেরুকরণ বৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক বিশ্বাসের হ্রাস গভীরভাবে যুক্ত। প্রতিবেশীকে সন্দেহ করা, ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে দূরে রাখা, নিজেদের সংস্কৃতি বিপন্ন ভাবা — এই আশঙ্কাগুলি বাস্তবের তুলনায় কল্পনার বেশি, তবে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কার্যকর। সামাজিক আচরণের ক্ষেত্রেও এ প্রভাব স্পষ্ট। বিয়েতে, পাড়ার উৎসবে, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা সম্প্রদায়ের মিলন ক্রমে কমছে। বহু পরিবারে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক মতভেদ এখন ধর্মীয় মনোভাবের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে সম্পর্ক ভাঙছে। অথচ ভারতীয় সমাজের মুখ্য শক্তি ছিল এমন বন্ধনই, যেখানে সাংস্কৃতিক ভিন্নতাই ছিল সৌন্দর্য।

আরও পড়ুন:

শহরে যেমন জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন বাড়ছে, তেমনই গ্রামে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন সংকট –গুজব, ভুল তথ্য ও হঠাৎ উত্তেজনার বিষাক্ত বিস্তার। ডিজিটাল মাধ্যম এই মেরুকরণকে আরও গভীর করে তুলেছে। একদল অর্ধসত্যকে ‘সত্য’ বলে প্রচার করছে, আরেক দল সেই ‘সত্য’-এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এর মাঝেই সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে নীরব আতঙ্ক — আমরা কি সত্যিই নিরাপদ? এই প্রশ্নটাই রাজনীতির কাছে নিখুঁত মাটি। ফলে বাস্তবের সমস্যা — খরা, কৃষকের ঋণ, স্থানীয় অর্থনীতির ধস, শিক্ষার অবনতি — এ সবই ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়। আলো পড়ে শুধুই ভাবাবেগে। মানুষ ভেবে নিতে থাকে, ধর্মই যেন নিজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান ঢাল।

আরও পড়ুন:

কিন্তু ইতিহাস কি সত্যিই এই পথকে সমর্থন করে? বরং ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণের ফলে যে রাজনৈতিক লাভ ক্ষণস্থায়ী, তার মাশুল সামাজিকভাবে বহুকাল ধরে দিতে হয়। ১৯৪৭-এর দেশভাগের ক্ষতই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু, বাস্তুচ্যুতির ঢেউ, বৈশ্বিক নিন্দা — এসবই ইতিহাস জানে। পরে বিভিন্ন দাঙ্গা, ক্ষুদ্র সংঘর্ষ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা — সবই সেই একই ছন্দের পুনরাবৃত্তি। মানুষ ভুলে যেতে পারে, কিন্তু ইতিহাস ভোলে না। আজও সেই ইতিহাস সতর্ক করে, মেরুকরণ শুরু হয় ভাঙা বিশ্বাসের ইট দিয়ে, আর শেষ হয় ভাঙা সমাজের প্রাচীর হয়ে।

আরও পড়ুন:

বর্তমান পরিস্থিতিতে এক গভীর পরিবর্তন লক্ষণীয় — রাজনীতি আর মানুষের ধর্মীয় আবেগকে আলাদা রাখছে না, বরং সেই আবেগকেই রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। ফলে ধর্ম আর ব্যক্তির অন্তর্গত অনুভব নয়; তা হয়ে উঠছে বহিরঙ্গ রাজনৈতিক প্রচারের ভাষা। এই পরিবর্তনের ফলে তরুণ প্রজন্মও প্রভাবিত হচ্ছে। শিক্ষার পরিসরে যুক্তিবাদ, বিজ্ঞান ও নাগরিক চেতনার চর্চা যত কমছে, ততই ধর্মীয় পরিচয় তাদের কাছে হয়ে উঠছে প্রধান আলোচ্য। প্রতিটি নির্বাচনে মেরুকরণের মাত্রা বাড়ছে — কেউ সংখ্যাগুরু পরিচয়কে সামনে আনছে, কেউ সংখ্যালঘু নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছে। এরই মাঝে প্রশ্ন হারিয়ে যায়, নাগরিক অধিকার কি কেবল সংখ্যার ওপর দাঁড়াতে পারে? মানুষের মর্যাদা কি কেবল তার ধর্মের ওপর নির্ভরশীল?

আরও পড়ুন:

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি সমস্যা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে — ধর্মীয় মেরুকরণের কারণে ‘মধ্যম পথ’ বা ‘যুক্তিবাদী অবস্থান’ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সামাজিক আলোচনাগুলি হয়ে উঠছে তীব্রভাবে দুই মেরুর — এ বা ও। ফলে যে অংশটি নিরপেক্ষ, যুক্তিনিষ্ঠ, মানবিক পথ অনুসরণ করতে চায়, তার কণ্ঠস্বর প্রায় শোনা যায় না। অথচ গণতন্ত্রের মূল শক্তিই তো এই বিবেকী নাগরিক সমাজ। যাঁরা প্রশ্ন করেন, মতভিন্নতা মেনে নেন, অন্যের দৃষ্টিকোণকে সম্মান করেন — এই মানুষগুলিই সমাজকে সুস্থ রাখেন। কিন্তু মেরুকরণের রাজনীতিতে এরা ‘অপ্রয়োজনীয়’ হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কি সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব, যদি সমাজের তিনটি স্তর একত্রে কাজ করে: রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন:

রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলার দৃঢ়তা, সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা — এই তিনটি পদক্ষেপই মেরুকরণের আগুনকে ঠান্ডা করতে পারে। আইনসম্মত শাস্তির নিশ্চয়তা মানুষকে নিরাপদ করে তোলে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার জরুরি — যেখানে ইতিহাস সত্যনিষ্ঠভাবে শেখানো হবে, ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ সামনে আনা হবে, যুক্তিবাদী চিন্তা বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন:

গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয়। আজ সংবাদমাধ্যম সমাজের ভরসা; কিন্তু একই সঙ্গে উদ্বেগের কারণও। উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তোলা, ক্লিক বাড়ানোর জন্য চাঞ্চল্য তৈরি করা, ভুয়ো তথ্য যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া — এগুলিই এখন মেরুকরণের অক্সিজেন। একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমকে তথ্যের বিশুদ্ধতা, সংযত ভাষা এবং সংহতির বার্তা বহন করতে হবে। ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত যাচাই করে সংশোধন করা এবং কুসংস্কার বা উত্তেজনা মোকাবিলায় যুক্তি, প্রমাণ ও বিজ্ঞানের আলোয় ব্যাখ্যা তুলে ধরা — এগুলোই হতে পারে প্রকৃত সাংবাদিকতার আসল শক্তি।

আরও পড়ুন:

সবচেয়ে বড় শক্তি অবশ্য মানুষ নিজেই। ধর্মীয় শ্রদ্ধা মানুষের জীবনের মূল অংশ; কিন্তু সেই শ্রদ্ধাই যখন অন্যকে ঘৃণার চোখে দেখতে শেখায়, তখন ভেবে দেখা জরুরি; ধর্মের আসল শিক্ষা কি তা-ই? সমস্ত ধর্ম এক জিনিস শেখায় — মানবিকতা। তাই সামাজিক সম্পর্ক পুনর্গঠন, সম্প্রদায়ভিত্তিক মিলনমেলা, স্থানীয় সমস্যা সমাধানে যৌথ উদ্যোগ — এগুলো মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনতে পারে। আলোচনা, বিতর্ক, মতের অমিল — এসব সামাজিক সুস্থতারই চিহ্ন। ঘৃণা নয়, সহনশীলতাই এগিয়ে যাওয়ার পথ।

আরও পড়ুন:

অবশেষে একটি প্রশ্নই বারবার ফিরে আসে — ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি কি সত্যিই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে? নাকি এর প্রতিরোধেই তৈরি হবে নতুন সামাজিক শক্তি? ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, বহু ধর্ম ও ভাষার বহমান ঐতিহ্য, সাধারণ মানুষের সহিষ্ণুতা — এসবই বলে আমাদের সমাজ এখনও সম্পূর্ণভাবে মেরুকৃত নয়। মানুষের অভিজ্ঞতা, পরিবার, কর্মক্ষেত্র, উৎসব — এইসবের নিত্য অভ্যাসই বলে দেয়, মানুষ এখনো পাশে দাঁড়াতে জানে। রাজনীতি তাকে বিভক্ত করতে চায়; কিন্তু মানুষের অভ্যন্তরীণ মানবিক শক্তি তাকে আবারও একত্রিত করতে পারে। এই বিশ্বাসই ভবিষ্যতের পথ দেখাবে।

আরও পড়ুন:

ধর্মীয় মেরুকরণ তাই কেবল একটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, এটি একটি সামাজিক পরীক্ষাও। এই পরীক্ষায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং নাগরিক সবাইকেই নিজেদের সেরা সংস্করণটি সামনে আনতে হবে। মানুষের মাঝে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, পরস্পরের অভিজ্ঞতা বোঝা, ভয়কে ভাঙা, তথ্যকে সত্যের আলোয় প্রকাশ করা — এই পথেই আসবে পরিবর্তন। সমাজে ভারসাম্য তখনই ফিরে আসবে, যখন আমরা বুঝতে পারব ধর্মের ভিত্তি বিভাজন নয়; সংহতি। এবং গণতন্ত্রের শক্তি মানুষের সংখ্যায় নয়; মানবিকতায়।

আরও পড়ুন:

এই উপলব্ধিই আমাদের বলবে — রাজনীতি যতই বিভাজনের রং মাখুক, মানুষের অন্তরের রং একটাই — সহাবস্থান। মেরুকরণের রাজনীতি হয়ত সমীকরণ সাময়িক পাল্টে দিতে পারে; কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত শান্তি, ন্যায় এবং মর্যাদার দিকেই ফিরে যায়। সেখানেই ভবিষ্যতের আলো।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder