BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

এসআইআর হলে কি আচ্ছে দিন আসবে?

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৩৯ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:৩৯

খান বাহাদুর সেখ

আরও পড়ুন:

এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে খুব হইচই চলছে। যেসব প্রোপাগান্ডা চলছে, তা মূলত রাজনীতি বা ভোটের স্বার্থে। সাধারণ মানুষের ঘুম উবে যাচ্ছে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ এবং অজানা আতঙ্কে। প্রশ্ন হল, বিজেপি বাদে বাকি সব দল কেন এনিয়ে চেঁচামেচি করছে? বিজেপির কেন মাথাব্যথা বা হেলদোল নেই? এসআইআর হলে কি দেশে আচ্ছে দিন আসবে? সবকা সাথ সবকা বিকাশ হবে? নাকি দেশ সোনায় সোহাগা হয়ে যাবে?

আরও পড়ুন:

প্রতি বছরই ভোটার তালিকার সংশোধন হয়, নতুন কিছু নাম ঢোকে, কিছু নাম বাদ যায়। সেটা হল রুটিন ভোটার তালিকা সংশোধন। আর এসআইআর মানে হল বিশদভাবে বা নিবিড় সংশোধন, খুঁটিয়ে দেখা, ত্রুটিমুক্ত করা। এটা ২০০২ সালেও হয়েছে। তখন এ নিয়ে এত হইচই হয়নি। কিন্তু এবার হচ্ছে। হইচই শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, সারা দেশেই হচ্ছে। কারণ, বিষয়টাকে নিয়ে ভোটের মুখে রাজ্যগুলো রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বাজার গরম করতে চাইছে। ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী উভয় পক্ষেরই এতে ফায়দা।

আরও পড়ুন:

এসআইআর নিয়ে এত বেশি হইচই হওয়ার কারণ, এবার নির্বাচন কমিশন অন্যভাবে কাজটা করার কথা বলছে। আগে এসআইআর হত চালু ভোটার তালিকা নিয়ে। সেখানে যাদের নাম আছে, দেখা হত তাঁরা জীবিত আছে কিনা ও সত্যি সত্যিই উল্লেখিত ঠিকানায় আছে কি না। যদি ভোটার তালিকায় উল্লেখিত ঠিকানায় সে বসবাস করে থাকে বা জীবিত থাকে, তার নাম নতুন ভোটার তালিকাতেও থাকত। এই পদ্ধতি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত ছিল। কারণ, যার নাম একবার ভোটার তালিকায় আছে, সে তো কোনও না কোনো নথিপত্র, প্রমাণপত্র দিয়েই তালিকায় নাম তুলেছে। ভোটার তালিকায় নাম আছে, অথচ সেই ব্যক্তি সেখানে থাকে না, কর্মসূত্রে অন্য কোথাও থাকে, অথবা কারও দুই জায়গায় নাম আছে, সে বাদ যেত নতুন তালিকা থেকে। এইভাবে পশ্চিমবঙ্গে ২০০২ সালে ২৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। কোনও হইচই হয়নি। এখন এত বেশি হট্টগোল করা হচ্ছে, কারণ সামনে বিধানসভা নির্বাচন।

আরও পড়ুন:

২০০৩ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেই সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এনে বলেছিল, ১৯৮৭ সালের পর যারা এদেশে জন্মেছে তারা সরাসরি দেশের নাগরিক নয়। তাঁদের প্রমাণ করতে হবে যে তাঁদের মা বাবা, কেউ একজন এদেশের নাগরিক ছিল। এখন নির্বাচন কমিশন বলছে, ১৯৮৪ সাল বা তার পরে যারা জন্মেছেন, তাঁরা ভোটার কিনা তা সন্দেহজনক, তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে তাঁদের বাবা মা ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গের কোথাও ভোটার ছিল। এটা কার্যত ২০০৩ সালের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব প্রমাণের চেষ্টা।

আরও পড়ুন:

এনআরসি বা ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন্স হচ্ছে ঘুরিয়ে। বিজেপি সরকার আসামে এনআরসি করে সেখানে নাগরিকত্ব খোঁজার চেষ্টা করেছিল, সেখানেও আনুষ্ঠানিকভাবে এনআরসি শুরু করার আগে কাজ শুরু হয়েছিল আগে ভোটার তালিকা নিয়ে। বিজেপি’র ইচ্ছা ছিল সারা দেশে এনআরসি করা, করতে পারেনি। এখন নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে সেই কাজে নেমেছে। এক নাম একাধিক জায়গায়, বাদ যাবে?

আরও পড়ুন:

 

পশ্চিমবঙ্গে যখন প্রথম এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে, তখন ভোটার ছিল ৪ কোটি ৯৬ লক্ষ, ২০১১ সালে তা হয় ৫ কোটি ৬২ লক্ষে। গত ১৪ বছরে তা বেড়ে ২০২৫ সালে হয়েছে ৭ কোটি ৬৩ লক্ষ। যদি ধরে নিই যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির মতোই ভোটার সংখ্যাও চক্রবৃদ্ধির হারেই বাড়বে, তাতে অঙ্ক কষে দেখানো যায়, ২০০২ সালকে ভিত্তি করে ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার সংখ্যা হওয়া উচিত ৬ কোটি ৮২ লক্ষ। তালিকায় সংখ্যা তার চেয়ে ৮১ লক্ষ বেশি। এরা কারা? আসলে এই এত ভোট বাড়ার কারণ, অনেক মৃতদের নাম এখনও আছে, কেউ অন্য জায়গায় চলে গেলে দু’জায়গাতেই নাম আছে, এসব বাদ দেওয়া হয়নি। ভোটের সময় এসব ভোটগুলি গায়ের জোরে দিয়ে আসছে বিভিন্ন দল, যার যেখানে ক্ষমতা বা দাপট আছে।

আরও পড়ুন:

ভোটার বৃদ্ধি নিয়ে বিজেপি’র ঘৃণ্য প্রচার:

আরও পড়ুন:

বিজেপি বলছে, বাড়তি ভোটাররা সব বাংলাদেশের মুসলমান অনুপ্রবেশকারী। এটা বলে বিজেপি কিছু মুসলমানের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে চায়। এতে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো গেল, আর তৃণমূলের অপকর্মকেও আড়াল করা গেল। ঘৃণা বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করতে চায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে। সেই অনুযায়ী গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদপত্র দৈনিক জাগরণ পত্রিকা আয়োজিত এক আলোচনাসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দেশে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে এবং তা বাড়ার কারণ – অনুপ্রবেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ তাবড় তাবড় বিজেপি নেতা এতদিন মুসলিম পুরুষের চারটি বিয়ে ও গাদা গাদা বাচ্চা মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ানোর কথা বলে এসেছেন। কিন্তু অমিত শাহ সেদিন বলেছেন, বেশি বাচ্চা হওয়ার জন্য মুসলিমদের জনসংখ্যা বাড়ছে তা নয়, তা আসলে বাড়ছে অনুপ্রবেশের জন্য। তার বক্তব্য, মুসলিমদের সংখ্যা “পশ্চিমবঙ্গে অনেকগুলি জেলায় এখন ৪০ শতাংশ অতিক্রম করেছে, বর্ডার সংলগ্ন জেলাগুলিতে ৭০ শতাংশ হয়ে গেছে”।

আরও পড়ুন:

অমিত শাহর এই তথ্য ডাহা মিথ্যে। মোদির আমলে দীর্ঘদিন জনগণনা হয়নি বলে অমিত শাহ যা খুশি বলছেন। বাংলাদেশের সাথে বর্ডারে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৯টি জেলা, তার মধ্যে ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুর্শিদাবাদে ৬৭ শতাংশ মুসলিম ছিল, তারপরে মালদায় ৫১ শতাংশ, উত্তর দিনাজপুরে ৫০ শতাংশ, আর ৬টি জেলাতে ৩০ শতাংশের কম। মুর্শিদাবাদ ছাড়া আর কোনও জেলার ক্ষেত্রেই বর্তমানে মুসলিম শতাংশ ৭০ শতাংশ হওয়া অসম্ভব। সীমান্তবর্তী ছাড়া অন্য জেলাগুলির মধ্যে একমাত্র বীরভূমে মুসলিমদের হার ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, আর কোন জেলার ক্ষেত্রে তা হতে পারে না। বীরভূমে ২০১১ সালে ৩৭ শতাংশ ছিল, অন্য জেলাগুলিতে ৩০ শতাংশের নিচে।

আরও পড়ুন:

মুসলিম অনুপ্রবেশের তত্ত্ব কতটা সঠিক:

আরও পড়ুন:

 

২০০১ থেকে ২০১১, সারা দেশে মুসলিমদের শতাংশ বেড়েছে ২৪.৬, অমিত শাহ সেটা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা ২১.৮। অনুপ্রবেশে তো পশ্চিমবঙ্গে এই শতাংশ বাড়ার কথা, তা হয়নি তো। অমিত শাহর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুপ্রবেশে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বেশি ভোটার বাড়ার কথা। কিন্তু শুধু সেখানে তা বাড়েনি। ওই দেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার অভাবে, হিন্দুরা এদেশে আসতে পারেন, বাস্তবে এসেছেন। কিন্তু ব্যাপকভাবে মুসলমানের বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসার সম্ভাবনা কম। কারণ, ভারতের অর্থনীতির এমন কোনও উজ্জ্বল অবস্থা নয় যে, দলে দলে জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ বাংলাদেশ থেকে আসবেন।

আরও পড়ুন:

এসআইআর-এ বাদ পড়ার আশঙ্কা:

আরও পড়ুন:

 

মুসলমানদের নাম বাদ দেওয়া হবে বলে বিজেপি প্রচার করছে, এটা আসলে বুমেরাং হতে পারে। উদাহরণ আসাম। আসামে এনআরসি করে ১৯ লক্ষ ধরা পড়ল। যারা কাগজ দেখাতে পারল না, তার মধ্যে মুসলমান ৫ লক্ষ বা ২৬ শতাংশ। তাহলে বাকি ৭৪ শতাংশ কারা? তাদের অধিকাংশই হিন্দু। অল্প কিছু বৌদ্ধ ছিল। আসামে জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশ মুসলমান।

আরও পড়ুন:

 

আসলে গরিব মানুষ, অশিক্ষিতি বা অল্পশিক্ষিত (হিন্দু, মুসলমান উভয়েই), তফসিলি জাতি, আদিবাসী, যারা ঠিকমতো কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে পারে না, তারাই পারবে না পুরানো কাগজ দেখাতে। তাঁদের নামই বাদ যাবে। বিহারে এসআইআর-এ ঠিকমতো কাগজ দেখাতে পারেনি বলে ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ গেছে। এদের মধ্যে কতজন অনুপ্রবেশকারী? নির্বাচন কমিশন বা সরকার বলতে পারেনি।

আরও পড়ুন:

বিজেপি’র আসল উদ্দেশ্য কী:

আরও পড়ুন:

 

বিজেপি জানে, দলে দলে মুসলমানরা বাংলাদেশ থেকে এদেশে ঢুকে পড়েনি। কিন্তু অনেক হিন্দু ঢুকেছে, এটা সত্যি। কিন্তু তবুও বিজেপি মুখে কেবলই মুসলমানদের বিরুদ্ধে বলছে, বলবে। আসামের এনআরসি’র মতো পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এ যদি আসলে হিন্দুদের নাম বেশি বাদ পড়ে, তাতেও বিজেপি’র কিছু যায় আসে না। বিজেপি’র আসল উদ্দেশ্য হল, এক তীব্র ঘৃণা বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি করা। হিন্দু-মুসলিম যত বিভাজন হবে, তত বিজেপি’র লাভ। তৃণমূলেরও তাতে লাভ। ওরা দু’জনেই হিন্দু ও মুসলমানের পারস্পরিক ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করতে চায়। এত দুর্নীতি, এত বেকারত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এত বেশি… এসব ভুলে গিয়ে মানুষ হিন্দু-মুসলমান বিভাজনে মেতে থাকুক, এতেই এই দুই দলের সুবিধা। দেশের উন্নয়নে কাজ করার প্রয়োজন নেই, এনআরসি, এসআইআর, ইউসিসি, সিএএ এরকম ইস্যু দিয়েই ভোট বাক্স ভরে যাচ্ছে, যাবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder