BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস বিকৃতির কারণ বিদ্বেষ-বিষ

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫২ | আপডেট: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫২
যুক্তিকে ধ্বংসের ভয়ানক প্রক্রিয়া বর্তমান সময়ের সমাজ ও রাজনীতির উপর বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। কেন্দ্র সরকার নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করেছে। হিন্দুত্ববাদের সুবিধা করে দেওয়ার লক্ষ্যে বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে পাঠক্রমে। এছাড়াও সার্বিকভাবে প্রচার করা হচ্ছে অসত্য ও বিশেষ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি। ফলে কীভাবে সত্যের বিকৃতি ঘটছে, তা ইতিহাসের একটি বড় বিষয়। অতীতেও ইতিহাসের বিকৃতি ঘটেছে, তবে বর্তমান সময়ে এই চেষ্টা ব্যাপক এবং ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

ড. রাম পুনিয়ানি:যুক্তিকে ধ্বংসের ভয়ানক প্রক্রিয়া বর্তমান সময়ের সমাজ ও রাজনীতির উপর বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। কেন্দ্র সরকার নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করেছে। হিন্দুত্ববাদের সুবিধা করে দেওয়ার লক্ষ্যে বিকৃতি ঘটানো হচ্ছে পাঠক্রমে। এছাড়াও সার্বিকভাবে প্রচার করা হচ্ছে অসত্য ও বিশেষ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি। ফলে কীভাবে সত্যের বিকৃতি ঘটছে, তা ইতিহাসের একটি বড় বিষয়। অতীতেও ইতিহাসের বিকৃতি ঘটেছে, তবে বর্তমান সময়ে এই চেষ্টা ব্যাপক এবং ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

আরও পড়ুন:

কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমনাথ মন্দির বিষয়ে কিছু কথা বলেন। তিনি বলেন, মাহমুদ গজনি সোমনাথ মন্দিরে লুটপাট চালায় এবং মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করে। সুতরাং মামুদ গাজনি হিন্দু ধর্মের অবমাননা করেছে। অর্থাৎ ইতিহাসের ওই ঘটনাটি ইসলামের হাতে হিন্দু ধর্মের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। কিন্তু মামুদ গজনি মধ্য এশিয়া থেকে সোমনাথ মন্দিরে এসে হিন্দুদের অপমান করতে চেয়েছেন — এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, মামুদ গাজনি একজন আদর্শ মুসলিম ছিলেন এবং সেই কারণেই তিনি ইসলাম ধর্ম মোতাবেক পুণ্য অর্জনের জন্য হিন্দু মূর্তি ধ্বংস করেন। প্রচারিত ধারণাটি এরকম যে, জান্নাতে যাওয়ার বাসনাতেই তিনি মূর্তিপূজার বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। এটাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্দেশ্য!

আরও পড়ুন:

এমন ব্যাখ্যাকে যুক্তি দিয়ে বিচার করে দেখা যাক। মামুদ মধ্য এশিয়ার মানুষ। যদি হিন্দু ধর্মের ভগবানের মূর্তি ধ্বংস করাই তাঁর আসল উদ্দেশ্য হত, তাহলে মধ্য এশিয়ার গজনি অর্থাৎ আফগানিস্তান থেকে সোমনাথ মন্দিরে আসার কি প্রয়োজন পড়ত? উনি তো রাস্তার দু-ধারে কিছু মন্দির ধ্বংস করলেই জান্নাত বা স্বর্গ লাভের উপযুক্ত পুণ্য অর্জন করতে পারেতন। এতদূর আসার প্রয়োজন হত কি? আসলে তিনি সোমনাথ মন্দিরে এসেছিলেন, কারণ সোমনাথ মন্দিরের সম্পদের উপর গজনির তীব্র লালসা ছিল। উনি সেই ধন-সম্পদকে লুট করতে চেয়েছিলেন। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, ওই সময় প্রায় কুড়ি হাজার সোনার দিনারের সমতুল্য সম্পদ ছিল সোমনাথ মন্দিরে।

আরও পড়ুন:

এবার যদি আমরা রাজা মামুদ গাজনির বিষয়ে জানার চেষ্টা করি, তাহলে দেখা যাবে ওনার বারো জন সেনাপতি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন ছিলেন হিন্দু, সাতজন মুসলিম। সুতরাং, এটা বলাই যায় যে, তাঁর সেনাবাহিনীতে হিন্দু ও মুসলমান উভয় ধর্মের মানুষই ছিলেন। তাহলে সোমনাথ মন্দিরে যে ধ্বংসলীলা চলেছিল, তাতে কি শুধু মুসলমানরাই শামিল ছিল, নাকি হিন্দুরাও শামিল ছিল? প্রকৃতপক্ষে ধর্মের জন্য, নাকি ধন-সম্পদের লোভ ছিল সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করার কারণ?

আরও পড়ুন:

তর্কের খাতিয়ে যদি ধরেও নেওয়া হয়, মামুদ গজনবি শুধুমাত্র ধর্মের জন্যই সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করেছিলেন, তাহলেও কি বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এ নিয়ে হিংসা বিদ্বেষ ছড়ানো বা দাঙ্গা উচিত? ইতিহাসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বদলা কি বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে নেওয়া যায়? এমন ইচ্ছা প্রকাশ কি উচিত কাজ?

আরও পড়ুন:

যখন রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে আসীন কেউ ইতিহাসের বদলা নেওয়ার কথা বলেন, তখন তা সমাজের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে ওঠে। গণতন্ত্রে একটি সহজ কথা প্রচলিত আছে, ‘অপরাধীকে সাজা দাও এবং নির্দোষকে রক্ষা কর।’ কিন্তু বর্তমান ভারতে ইতিহাসকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে সমাজের মধ্যে মানুষের মধ্যে হিংসা বা দ্বেষভাব ছড়ানো হচ্ছে, যার একটি উদাহরণ হল সোমনাথ মন্দিরের ঘটনা।

আরও পড়ুন:

আরেকটি ঘটনা হল আকবর ও মহারানা প্রতাপের মধ্যে হওয়া হলদিঘাটের যুদ্ধ। এটা কখনোই হিন্দু বনাম মুসলিমের দ্বন্দ্ব ছিল না। ওই সময় যুদ্ধক্ষেত্রে একদিকে রানা প্রতাপের সেনাবাহিনী এবং অন্যদিকে মোঘল সেনাবাহিনী মুখোমুখি থাকলেও সেই বাহিনীতে আকবর স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন না। আকবরের বদলে সেই সময় তাঁর সেনাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন রাজা মান সিং। তাহলে বলুন, আকবরের সেনাবাহিনীতে শুধুমাত্র মুসলমান, নাকি হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের মানুষই ছিলেন?

আরও পড়ুন:

উল্টোদিকে মহারানা প্রতাপ নিজের ঘোড়া চেতক-এর ওপর বসে সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাঁরও দু’জন মহাশক্তিশালী সেনাপতি ছিলেন। তার মধ্যে একজনের নাম রাম সিং এবং অপরজন হাকিম খান সুরি। তাহলে, রানা প্রতাপের সেনাবাহিনীতে শুধু হিন্দু নাকি হিন্দু মুসলমান উভয় ধর্মের মানুষ ছিলেন? যদি দুই সেনাবাহিনীতেই হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মের মানুষ থেকে থাকেন, তাহলে তাকে কি হিন্দু-মুসলিম লড়াই বলা যায়? নাকি এই লড়াই রাজার বিরুদ্ধে রাজার? এই যুদ্ধ শুধুমাত্র ধর্মের জন্য ছিল, নাকি রাজত্বের জন্য? বর্তমানে হলদিঘাটের যুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে মানুষের মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

মহারাষ্ট্রের খুবই শক্তিশালী রাজা ছিলেন ছত্রপতি শিবাজী। তিনি নিজে রাজ্যে বিস্তার ঘটাচ্ছিলেন। ছত্রপতি শিবাজীর বাবা কোনও মহারাজা ছিলেন না। এই রাজ্যবিস্তার ঘটানোর সময় প্রথমেই এক হিন্দু রাজা চন্দ্ররাও মোরের উপর তিনি আক্রমণ করেন। এবং সেখান থেকেই সম্পত্তি অধিকার করে তিনি তার সেনাবাহিনীকে মজবুত করেন। এরপর তিনি এক একটি জায়গায় গিয়ে রাজ্যগুলির উপর নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতেন। সেই সময় শিবাজীর এহেন রাজ্য বিস্তার দেখে বিজাপুরের রাজা আদিল শাহ নিজের রাজ্য রক্ষা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তখন তিনি নিজের এক শক্তিশালী সেনাপতিকে পাঠালেন শিবাজীকে হারানোর জন্য। সেই সেনাপতি হলেন আফজল খাঁ।
তিনি প্রথমেই শিবাজীকে সন্ধি প্রস্তাব পাঠান এবং সেখানে একটি শর্তের উল্লেখ করেন। সেই শর্তে বলা হয়, শিবাজী যখন আসবেন, তিনি কোন হাতিয়ার নিয়ে আসতে পারবেন না। শিবাজী সেই সমঝোতা প্রস্তাবে রাজি হয়ে কোন অস্ত্র না নিয়ে আফজল খাঁর সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর এক সেনা গুপ্তঅস্ত্র ‘বাঘনখ’ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেন শিবাজীকে। ওই সেনার নাম ছিল রুস্তমের জামান। তিনি একজন মুসলমান ছিলেন। এরপর শিবাজি যখন গেলে আফজাল খাঁ তার ওপর আক্রমণ করেন এবং শিবাজী সেই গুপ্ত অস্ত্র বাঘনখ দিয়েই আফজল খাঁকে প্রতিহত করেন। আফজল খাঁ মারা গেলে তাঁর এক সেনাপতি তরোয়াল নিয়ে শিবাজীর ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেন। সেই সেনাপতির নাম ছিল কৃষ্ণজি ভাস্কর কুলকার্নি। তিনি ছিলেন হিন্দু। সুতরাং এটা হিন্দু বনাম মুসলমানের যুদ্ধ, নাকি এক রাজার বিরুদ্ধে আরেক রাজার যুদ্ধ?

আরও পড়ুন:

রাজায় রাজায় সংঘটিত যুদ্ধকে ধর্মের রং দেওয়া হয়েছে পরবর্তীকালে। সর্বপ্রথম এই কাজ করে ইংরেজ ইতিহাসবিদরা। ভারতের ইতিহাসকে বিভিন্ন রকম দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা হয়েছে। মহাত্মা গান্ধী তার ‘হিন্দু স্বরাজ’ বইতে লিখেছেন, ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে মিলেমিশে থাকে। মহাত্মা গান্ধীর যোগ্য শিষ্য জহরলাল নেহরুও বলেছেন, ভারতবর্ষে যখনই কোন নতুন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষ এসেছেন, তাঁরা আগে থেকে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মানুষের উপর কোন রকম আঘাত না করে মিলেমিশে একসঙ্গে থেকেছে। তারা এক সঙ্গে থেকেই সভ্যতা-সংস্কৃতি এবং শিল্পকলার বিকাশ ঘটিয়েছে। এভাবেই মহাত্মা গান্ধী, জহরলাল নেহরু, সুভাষ চন্দ্র বোস প্রমুখ এক ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে ভারতের ইতিহাসকে দেখেছেন।
এর বিপরীত দিকে ইংরেজ ইতিহাসবিদরা অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারতবর্ষের ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন এবং সেই ব্যাখ্যার পিছনেও কিছু উদ্দেশ্য ছিল। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হিন্দু-মুসলমান একযোগে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, যা ইংরেজ সরকারের মধ্যে ভীতি ধরিয়েছিল। তখন ইংরেজরা ভারতবর্ষে নিজেদের শাসন-শোষণ বজায় রাখতে বিভেদকামী নীতির প্রয়োগ করেছিল। তাই ইংরেজি ইতিহাসবিদরা যখন ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁরা রাজাদের সঙ্গে তাদের ধর্মকে জুড়ে দিয়েছেন। সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তারা ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন এবং এর জন্য ইংরেজ ইতিহাসবিদরা সংশ্লিষ্ট রাজার ধর্মের চশমা দিয়েই গোটা ইতিহাস ব্যাখ্যা করেছেন। আর ইতিহাসের সেই ব্যাখ্যা, একদিকে মুসলিম লীগ এবং অপরদিকে আরএসএস গ্রহণ করেছিল।

আরও পড়ুন:

ভারতের সবচেয়ে বেশি হিন্দুবিরোধী রাজা বলা হয় ঔরঙ্গজেবকে।‌ ঔরঙ্গজেব কাশী বিশ্বনাথের মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। এটা তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি নাকি অসংখ্য মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। তবে বাস্তবে রিচার্ড ইটন নামে এক আর্কিওলজিস্ট ইতিহাসবিদ জানিয়েছেন, ঔরঙ্গজেব দশটি মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। বিশ্বম্ভর নাথ নামে এক ইতিহাসবিদের লেখায় পাওয়া যায়, ঔরঙ্গজেব দশটি মন্দির ধ্বংস করলেও তার বদলে প্রায় ৫০ মন্দির দান করেছিলেন। যেমন কামাখ্যা মন্দির।

আরও পড়ুন:

ঔরঙ্গজেবের মতো মুসলিম রাজার পাশাপাশি হিন্দুরাও যে মন্দির ধ্বংস করেছেন, তার উল্লেখ আছে কাশ্মীরের কলহনের লেখা ‘রাজতরঙ্গিনী’তে। একাদশ শতাব্দীর কাশ্মীরের রাজা হর্ষদেব শুধুমাত্র মন্দির ধ্বংসের জন্যই একদল বিশেষ সেনা নিযুক্ত করেছিলেন। যাদের ‘দেবত উৎপাটন নায়ক’ বলা হত। মানে, যারা দেবতাদের মূর্তি ধ্বংস করেন। আর এদের নিয়োগকর্তা ছিলেন একজন হিন্দু রাজা। এই হিন্দু সেনারা এমন কাজ করেছিলেন। কারণ, রাজা নিজে বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য রাজকোষ শূন্য করে ফেলেছিলেন। ওই সেনাদের মূল কাজ ছিল, যে সমস্ত মন্দিরে রাখা সোনা বা মূল্যবান ধাতুর যেসব মূর্তি রয়েছে, তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে রাজকোষে জমা দেওয়া। সবথেকে বেশি মন্দির ধ্বংস করেন রাজা হর্ষদেব। যদি যুক্তি দিয়ে বিচার করি, তাহলে বলুন ধর্ম, নাকি রাজার ক্ষমতা প্রদর্শনের সঙ্গে মন্দির ধ্বংসের ঘটনা বেশি সম্পর্কযুক্ত?

আরও পড়ুন:

একদিকে নয়া শিক্ষানীতির পাঁচ বছর পূর্ণ হল। অপরদিকে স্কুলপাঠ্য ইতিহাস বই থেকে মোঘল আমলকে বাদ দেওয়া হল। এর মধ্য দিয়ে আসলে সমাজের মধ্যে বিভেদ, বিদ্বেষ ও বিভাজনের মানসিকতা ঢুকিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে, যাতে ধর্মের নামে চলা রাজনীতি, এক সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আরেক সম্প্রদায়ের মানুষের মনে বিদ্বেষ তৈরি করা যেতে পারে। ইতিহাসকে যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা দরকার। ভারতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর দিক হল সর্বধর্ম সমন্বয়ের ইতিহাস, যা আমাদের দেশকে প্রগতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder